মস্তিষ্কে টিউমার শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসকের কাছ থেকে নিজের আয়ু নিয়ে ভয়াবহ কথা শুনেছিলেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি। এমনকি একপর্যায়ে লাইফ সাপোর্টেও থাকতে হয়েছিল তাঁকে। দীর্ঘ নয় মাসের বিরতি ও কঠিন চিকিৎসা শেষে আবারও অভিনয়ে ফিরেছেন এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অসুস্থতা, মৃত্যুর আশঙ্কা এবং জীবনের কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন তিনি।
প্রায় নয় মাস বিরতির পর ইকসান রনির গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় নির্মিত ‘অংশীদার’ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে কাজে ফিরেছেন তানিয়া বৃষ্টি। সম্প্রতি নাটকটির দৃশ্যধারণের কাজও শেষ হয়েছে। এর আগে একই পরিচালকের ‘বাবাও মানুষ’ নাটকে অভিনয় করেছিলেন তিনি, যা দর্শকের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়েছিল। নতুন নাটকটিতে সম্পত্তির ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় একজন নারীর সংগ্রামের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অসুস্থতার শুরু নিয়ে তানিয়া জানান, গত ডিসেম্বরে শুটিংয়ের সময় বারবার মাথাব্যথা হচ্ছিল তাঁর। টানা চার দিন মাথাব্যথা নিয়েই কাজ করেন। পঞ্চম দিনে বমি শুরু হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন সন্ধ্যায় পরীক্ষার প্রতিবেদনে মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ে।
শরিফুল রাজকে আইনি নোটিশ, ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম প্রযোজকের!

প্রথমে ভেবেছিলেন, অস্ত্রোপচার করলেই সুস্থ হয়ে উঠবেন। কিন্তু ভারতের চেন্নাইয়ের এমজিএম হাসপাতালে চিকিৎসার সময় একজন ক্যানসার বিশেষজ্ঞ তাঁকে জানান, তিনি আর সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর বাঁচবেন। চিকিৎসকের মুখে এমন কথা শুনে জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা খান বলে জানান অভিনেত্রী।
তানিয়া বলেন, চিকিৎসকের এমন কথা শোনার পর প্রচণ্ড কান্না করেছিলেন তিনি। ঢাকায় প্রথম অস্ত্রোপচারের আগে মাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছিলেন। সহকর্মীদের কাছেও বিদায় নেওয়ার মতো করে বলেছিলেন, ‘ভালো থাইকো’।
অভিনেত্রী জানান, ঢাকায় তাঁর প্রথম অস্ত্রোপচার প্রায় আড়াই ঘণ্টায় সম্পন্ন হয়। তবে চেন্নাইয়ে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের সময় মানসিক ও শারীরিকভাবে সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন তিনি। একপর্যায়ে তাঁকে লাইফ সাপোর্টেও নিতে হয়েছিল।
সেই সময়ের কথা স্মরণ করে তানিয়া জানান, তখন তাঁর নিজের কোনো অনুভূতি ছিল না। পরে পরিবারের কাছ থেকে জানতে পারেন, সারারাত তাঁর মা কান্না করেছেন এবং নামাজ পড়ে মেয়ের সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করেছেন। পরিবারের জন্য সেটিই ছিল সবচেয়ে কঠিন সময়।
অসুস্থতার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে মৃত্যুর গুজবও ছড়িয়ে পড়েছিল। এ বিষয়ে তানিয়া বলেন, প্রথমে এসব খবর দেখে খারাপ লাগলেও পরে বুঝেছেন, কিছু মানুষ শুধু ভিউ পাওয়ার জন্য মিথ্যা তথ্য ছড়ায়। এখন আর এসব খবরকে গুরুত্ব দেন না তিনি।
অসুস্থতার পুরো সময়টায় সহকর্মী ও মিডিয়া অঙ্গনের অনেকেই তাঁর খোঁজখবর নিয়েছেন। মোশাররফ করিম, নিলয়, প্রযোজক আলী বশীরসহ বিভিন্ন সহকর্মী ও পরিচালক ফোন ও বার্তার মাধ্যমে পাশে ছিলেন।
তবে কঠিন সময়ে সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন তাঁর মা ও বোন। তানিয়া জানান, বাবা না থাকায় তাঁর মা সারারাত মাথার পাশে জেগে বসে থাকতেন। মেয়ের অসুস্থতার চিন্তায় মাও অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। মা ও বোনের ভালোবাসা, সাহস ও যত্নই তাঁকে সেই কঠিন সময় পার করতে সাহায্য করেছে।
















