আর মাত্র কয়েক দিন পরেই শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ উৎসবকে ঘিরে কুড়িগ্রামে চলছে প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। মাটি, খড় ও বাঁশের কাঠামোয় ধীরে ধীরে ফুটে উঠছে দেবী দুর্গার প্রতিমা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন কারিগরেরা। কোথাও কোথাও দিন-রাত জুড়েই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ।
গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রতিমার চাহিদা কিছুটা বেড়েছে। তবে সময় কম থাকা এবং কাজের চাপের কারণে চাহিদা অনুযায়ী প্রতিমা সরবরাহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। কাঠামোর উচ্চতা, নকশা ও কাজের ধরন অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিমা তৈরিতে খরচ পড়ছে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।
চলতি বছর প্রতিমার চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি দামও কিছুটা বেড়েছে। কারিগরেরা জানান, জিনিসপত্রের দাম বাড়লে প্রতিমার দাম বাড়াটাই স্বাভাবিক। তবে এর পরও এবার ভক্ত-অনুসারীরা বেশ আনন্দিত। তারা যেকোনো মূল্যেই দেবী দুর্গাকে বরণ করে নেওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন।
মায়ের শখ পূরণে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে গেলেন সাকিব!

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বৈদ্যের বাজার এলাকায় এখন প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগর ও মালাকারেরা। জেলার ৯টি উপজেলাসহ রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁও থেকেও ভক্ত-অনুসারীরা প্রতিদিন আসছেন উত্তরবঙ্গের অন্যতম জনপ্রিয় প্রতিমা তৈরির কারখানা বৈদ্যের বাজার এলাকায়। এ ছাড়া সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী, দাশেরহাট ও ঘোগাদহসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে পুরোদমে।
বৈদ্যের বাজার এলাকার কারিগর অতুল চন্দ্র বলেন, “এবার প্রতিমার চাহিদা অনেক বেশি। দিন-রাত কাজ করেও সময় কুলিয়ে ওঠা যাচ্ছে না। যদিও এ বছর শ্রমিকের মজুরি ও জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি, সে অনুযায়ী প্রতিমার দামও গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিমা নিতে কিংবা অর্ডার দিতে আমাদের এখানে আসছেন। আর অল্প সময় বাকি আছে, এর মধ্যেই সব প্রতিমার কাজ শেষ করে তা বুঝিয়ে দিতে হবে।”
এদিকে দুর্গাপূজাকে ঘিরে কোথাও প্রতিমার কাঠামোতে মাটির প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও চলছে রং ও সাজসজ্জার কাজ। লক্ষ্মী, সরস্বতী ও কার্তিকসহ অন্যান্য প্রতিমাগুলোর কাজ প্রায় শেষের পথে। তবে দেবী দুর্গার প্রতিমার কাজ এখনো চলছে, আর কয়েক দিন বাদেই শুরু হবে রঙের কাজ। এজন্য মালাকারেরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অপরদিকে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ভক্ত-অনুসারীরা প্রতিদিন জেলা শহরের মার্কেট ও বিপণি বিতানগুলোতে কেনাকাটার জন্য ভিড় করছেন। গত বছরের তুলনায় কাপড়ের দাম বেশি হলেও ক্রেতা সমাগম অনেক ভালো বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে ক্রেতারা বলছেন, এবার পূজার আনন্দ আরও ভালো হবে, তাই সবাই নিজেদের চাহিদামতো জিনিসপত্র কিনতে আসায় বাজারে ভিড় কিছুটা বেশি।
এবার জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে দুর্গাপূজা পালনের জন্য পূজা উদযাপন পরিষদ যথেষ্ট প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য ফ্রন্টের কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আহ্বায়ক সুভাষ চন্দ্র সরকার বলেন, গত বছর কুড়িগ্রাম জেলায় ৫৩৭টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ বছর জেলায় ৫৬৩টিরও বেশি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে এই উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।

















