কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ১ হাজারে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন মিলনায়তনে (অডিটোরিয়াম) ইন্টার্ন সমাপনী অনুষ্ঠান (কুম-২৯) ও চিকিৎসক পুনর্মিলনী ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে এতে বক্তব্য দেন।
মন্ত্রী বলেন, মেডিকেল কলেজের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহের ক্ষেত্রে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বরাদ্দের বিষয়ে দ্রুত স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
প্রথমবার প্রকাশ্যে গণনা, লালনের মাজারের দানবাক্সে মিলল ৬ লাখ টাকা!

চিকিৎসা সরঞ্জামের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সরকারি মেডিকেল কলেজের যন্ত্রপাতি যাতে দ্রুত নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যত্নবান হতে হবে। বেসরকারি হাসপাতাল বা চিকিৎসকদের চেম্বারে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির মতো সরকারি মেডিকেল কলেজের যন্ত্রপাতিরও নির্ধারিত মেয়াদকাল পর্যন্ত কার্যকর থাকা নিশ্চিত করতে হবে।
চিকিৎসকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, “রোগী যখন চিকিৎসকের কাছে যান, তখন তিনি চান চিকিৎসক তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবেন, শারীরিক সমস্যা সম্পর্কে বিস্তারিত জানবেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। রোগীকে যথেষ্ট সময় দেওয়া এবং তার সমস্যাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনার মাধ্যমে চিকিৎসক রোগীর মধ্যে মানসিক স্বস্তি ও আস্থা তৈরি করতে পারেন। চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীর প্রতি আন্তরিকতা ও মানবিক আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে পরিবেশদূষণ এবং খাদ্যের গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এসব বিষয় মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করছে। মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ক্ষতিকর কীটনাশক নিয়ন্ত্রণে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
রোগীদের ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি কীভাবে সুস্থ থাকা যায়, সে বিষয়েও সচেতন করার জন্য চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানান মন্ত্রী। বিশেষ করে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে পরামর্শ দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
নতুন চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, চিকিৎসা পেশায় প্রবেশের পর মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। রোগীদের প্রতি আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মাছুম হাছানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু। অনুষ্ঠানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

















