সিয়াম রহমান, ঈশ্বরদী-পাবনাঃ
পাবনার ঈশ্বরদীতে নিজ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিয়ের অভিযোগে শিক্ষক মোশাররফ হোসেন মুসাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
দৈনিক দেশের পত্রসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার মানিকনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ফেনীতে কার্গোভ্যান আটকে ৪০ লাখ টাকার শুঁটকি লুট, আন্তজেলা চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তসলিম আরিফ তুষার। তিনি জানান, বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষিকা আয়েশা আক্তারকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিলন কাজী ও মান্নান হোসেন এবং অভিভাবক সদস্য টিটু ফকির ও সানাউল্লাহ।
ঈশ্বরদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মানিকনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক মোশাররফ হোসেন মুসার সঙ্গে একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ছাত্রীর বয়স ১৪ বছর। একপর্যায়ে বিয়ের দাবিতে তিনি শিক্ষকের বাড়িতে যান। পরে গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মধ্যরাতে গোপনে তাঁদের বিয়ে হয় বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিয়ের পর ওই ছাত্রীকে শিক্ষকের বাড়ি থেকে তাঁর বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বুধবার সকালে অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়ে গেলে প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকরা তাঁকে প্রবেশ করতে বাধা দেন। পরে কোনো ক্লাস না নিয়েই বিদ্যালয় ত্যাগ করেন তিনি।
এদিকে, ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবক। তাঁদের ভাষ্য, শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের কাছে সন্তানের মতো। একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এ বিষয়ে জানতে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইবের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, একাধিক শিক্ষক নেতার তদবিরে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ইউএনওর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
















