দেশে সম্ভাব্য টিকা সংকট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অন্তত পাঁচটি চিঠি দিয়ে সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ। এছাড়া ১০টি পৃথক বৈঠকেও সরকারের কর্মকর্তাদের এই বিষয়ে সচেতন করা হয়েছিল। বুধবার বিকেলে রাজধানীর ইউনিসেফ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স জানান, গত বছরের আগস্ট থেকে নভেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ ১৭.৮ মিলিয়ন ডোজ হামের টিকা পেয়েছে। এই পরিমাণটি দেশের মোট চাহিদার মাত্র তিন ভাগের এক ভাগ। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৭০ মিলিয়ন ডোজ টিকার প্রয়োজন হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় রুটিন টিকাদান কর্মসূচি দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাহত হয়েছে।
রুটিন টিকাদানের এই ঘাটতির কারণে অনেক শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে গিয়েছিল। এর ফলে দেশে হাম সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায় এবং এক পর্যায়ে বড় ধরণের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ইউনিসেফ স্পষ্ট করেছে যে, এই সংকট কোনো অর্থ বা তহবিলের অভাবে হয়নি। মূলত কেনাকাটা বা ক্রয় প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে সময়মতো টিকা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
নদীভাঙনে ছোট হচ্ছে বরিশালের মানচিত্র: বছরে বাস্তুহারা লক্ষাধিক মানুষ

তবে বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে বলে রানা ফ্লাওয়ার্স উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ইতোমধ্যে ১ কোটি ৮০ লাখের বেশি শিশু হামের টিকা পেয়েছে এবং বর্তমানে হাম সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ‘হামের প্রাদুর্ভাব এবং চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলা কার্যক্রম’ শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনে রুটিন টিকাদানের ধরণ আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে এমন সংকট এড়ানো জরুরি।

















