জন্ম থেকেই দুই হাত নেই মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা দমাতে পারেনি তাঁর অদম্য ইচ্ছাশক্তি। পা দিয়ে লিখে পড়াশোনা শেষ করার পর নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তুলেছেন একটি বিদ্যালয়। বর্তমানে সেখানে পড়াশোনা করছে ১৪৫ শিক্ষার্থী, শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। তাঁর জীবনসংগ্রাম ও উদ্যোগের কথা শুনে বিদ্যালয়টির জন্য নতুন ভবন নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আলতাফ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় আরও সাক্ষাৎ করেন বুয়েট থেকে পাস করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ এবং ভোলার রেজাউল কিবরিয়া বাবুল, যিনি নিজের উদ্যোগে প্রায় তিন দশক ধরে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন।
তিনজনের জীবনসংগ্রাম, ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ও সমাজের জন্য অবদানের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তাঁরা। তাঁদের কাজের প্রশংসা করে নিজ নিজ উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন সরকারপ্রধান।
ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলো হাসানুল হক ইনুকে!

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’
পা দিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা করেন আলতাফ
জন্ম থেকেই দুই হাত না থাকলেও পা দিয়ে লেখা শেখেন মো. আলতাফ হোসেন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল। নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থ দিয়ে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়ে লেখার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমও পরিচালনা করেন তিনি।
আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও শিক্ষার প্রসারে তাঁর অবদানের কথা শুনে বিদ্যালয়টির জন্য নতুন ভবন নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শিশুদের শিক্ষায় নায়লার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়াশোনা শেষ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন নায়লা শারাফ। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।
সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়াশোনা সহজ করতে নিজেই তৈরি করেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।
প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগাচ্ছেন বাবুল
ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুল মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম দিয়ে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন। পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে গড়ে তোলেন একটি নার্সারি। সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ করেন তিনি। তাঁর লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তিনজনের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে। এ সময় তিনি তাঁদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে উৎসাহ দেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।














