পবিত্র ঈদুল আযহা ঘনিয়ে আসলেও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পশুর হাটগুলোতে কেনাবেচা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কলকাতার উপকণ্ঠে অবস্থিত বিশাল ধুলাগড় গরুর হাটে গিয়ে দেখা গেছে, বিক্রির জন্য প্রচুর পশু থাকলেও ক্রেতার দেখা নেই। ব্যবসায়ীরা অলস সময় পার করছেন এবং বড় ধরণ এর লোকসানের আশঙ্কা করছেন। সোমবার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হাটে কয়েকশ গরু প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকলেও কোনো ক্রেতা আসছে না। পূর্ব মেদিনীপুর থেকে আসা এক হিন্দু বিক্রেতা জানান, তিনি চড়া সুদে ঋণ নিয়ে গরুগুলো হাটে এনেছিলেন। সাধারণত এই সময়ে পশ্চিমবঙ্গে পশুর বাজার বেশ জমজমাট থাকে। কিন্তু বর্তমানে মানুষের মনে এক ধরণের ভয় কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দশকের পর দশক ধরে এই হাটে হিন্দু বিক্রেতা ও মুসলিম ক্রেতাদের সমাগম ছিল স্বাভাবিক একটি বিষয়। ১৯৫০ সালের একটি আইনে প্রকাশ্যে গরু জবাই নিষিদ্ধ থাকলেও আগে তা কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়নি। তবে বর্তমানে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই আইন কঠোরভাবে পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি সনদ ছাড়া কোনো পশু জবাই করা যাবে না এবং পশুর বয়স অন্তত ১৪ বছর হওয়া বাধ্যতামূলক। এছাড়া কেবল নির্ধারিত কসাইখানায় জবাই করার নিয়ম করা হয়েছে।
সাভারে শিল্পাঞ্চলে ছুটি শুরু: বাড়তি ভাড়ায় নাজেহাল ঘরমুখো মানুষ

মাংস বিক্রেতা ও রেস্তোরাঁ মালিকরা জানান, গত কয়েক সপ্তাহে পরিস্থিতির ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। কলকাতার জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ ‘দ্য বার্গার শপ’ তাদের বিফ বার্গার বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। রেস্তোরাঁটির ব্যবস্থাপক জানান, গরুর মাংস সরবরাহকারীরা ভয়ের কারণে দোকান বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া নিউ মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, আগে রাত পর্যন্ত দোকান খোলা থাকলেও এখন নিরাপত্তার অভাবে তারা দুপুরেই কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।
ধুলাগড় হাটের ব্যবসায়ীরা তাদের আর্থিক ক্ষতির কথা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এক মুসলিম ব্যবসায়ী জানান, তিনি মায়ের গয়না বন্ধক রেখে ১০ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। গত বছর তিনি প্রায় ১০০টি গরু বিক্রি করলেও এবার তার একটি পশুও বিক্রি হয়নি। বিক্রি না হওয়া প্রতিটি গরুর জন্য তাকে প্রতিদিন বড় অংকের লোকসান দিতে হচ্ছে।
বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা কেবল পুরনো আইনগুলোই কঠোরভাবে কার্যকর করছে। তবে প্রাণী অধিকার বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপগুলো কেবল পশু কল্যাণের জন্য নয়, বরং রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের সাথে জড়িত। এই পরিস্থিতির কারণে রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতি ও মাংস ব্যবসার সাথে জড়িত সাধারণ মানুষ চরম সংকটে পড়েছেন। মূলত আইনি কড়াকড়ি এবং সাম্প্রদায়িক উত্তজনা সাধারণ ক্রেতাদের হাট থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে।

















