বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিমান যোগাযোগ এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও বাড়ানোর বিষয়ে জার্মানির আগ্রহের কথা জানিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের বর্তমান বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশে জার্মান কোম্পানিগুলোর আগ্রহও বাড়ছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন জার্মান রাষ্ট্রদূত।
সাক্ষাৎকালে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান রুডিগার লোটজ। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও জার্মানির দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবার কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

বৈঠকে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতা বাড়ানো, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশে নির্বাচন-পরবর্তী স্থিতিশীলতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে জার্মান রাষ্ট্রদূত বলেন, দেশের বর্তমান বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের প্রতি জার্মান কোম্পানিগুলোর আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে জার্মান বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা আরও বাড়ার সম্ভাবনার কথাও উঠে আসে আলোচনায়।
অন্যদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বাংলাদেশের উন্নয়নে জার্মানির দীর্ঘদিনের সহযোগিতা ও অবদানের প্রশংসা করেন। ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু কার্যক্রম, সংস্কৃতি এবং অভিবাসন ও চলাচলের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশ-জার্মানি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়েও উভয় পক্ষ নিজেদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করে, বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ দুই দেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে আরও গতিশীল করবে।
















