সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিল তৈরিতে ব্যস্ত এক দম্পতির পাশে সমুদ্রের ঢেউয়ে পড়ে বিপদে পড়ে একটি শিশু। শিশুটি পানিতে ছটফট করলেও দম্পতি ভিডিও ধারণে ব্যস্ত ছিলেন বলে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে। পরে এক পথচারী এগিয়ে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, সমুদ্রসৈকতে হাঁটতে হাঁটতে নিজেদের ভিডিও ধারণ করছেন এক নারী ও পুরুষ। এ সময় নারীকে শিশুটির হাত ধরে পানির কাছ দিয়ে হাঁটতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর শিশুটি পিছলে বালুর ওপর পড়ে যায়। এরপর সাগরের ঢেউ এসে শিশুটিকে এদিক-সেদিক ঠেলে দিতে থাকে।
এ সময় নারীকে একবার পেছনে ফিরে তাকাতে দেখা গেলেও পরে তিনি আবার ক্যামেরার সামনে পোজ দিতে থাকেন। অন্যদিকে, পুরুষটি ভিডিও ধারণ অব্যাহত রাখেন। ভিডিও দেখে ধারণা করা হচ্ছে, রিল তৈরিতে ব্যস্ত থাকায় তাঁরা শিশুটির বিপদের বিষয়টি খেয়াল করেননি। পরে পাশেই থাকা এক ব্যক্তি দ্রুত এগিয়ে এসে শিশুটিকে পানি থেকে উদ্ধার করেন।
অস্ট্রেলিয়ার নারী এমপির এক পা কাটার পর বিচ্ছিন্ন করতে হলো অন্যটিও!

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মারিয়াম নামের এক ব্যবহারকারী ভিডিওটি শেয়ার করেন। তাঁর দাবি, স্বামীর সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে গিয়ে তিনি ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, দম্পতি রিল তৈরিতে এতটাই মগ্ন ছিলেন যে, তাঁদের সন্তান বিপদের মধ্যে পড়লেও বিষয়টি বুঝতে পারেননি। এক পথচারী সময়মতো এগিয়ে না এলে শিশুটি আরও বড় বিপদে পড়তে পারত বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
ঘটনাটি তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরির প্রতি মানুষের অতিরিক্ত আসক্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মারিয়াম। তাঁর বক্তব্য, রিল তৈরির ব্যস্ততা কি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে যে, নিজের সন্তানের নিরাপত্তার বিষয়টিও উপেক্ষিত হচ্ছে?
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই শিশুটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও তৈরি কিংবা আকর্ষণীয় মুহূর্ত ধারণের চেয়ে শিশুর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, কোনো রিল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মুহূর্তই একটি শিশুর জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলার মতো মূল্যবান নয়।
আরেক ব্যবহারকারী লেখেন, একটি রিল অল্প সময়ের জন্য থাকে, কিন্তু একটি শিশুর জীবনের বিকল্প নেই। সময়মতো ওই ব্যক্তি এগিয়ে আসায় শিশুটি রক্ষা পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে ভিডিওটি নিয়ে সমালোচনার পাশাপাশি এর সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন, এটি ভিউ পাওয়ার উদ্দেশ্যে সাজানো হতে পারে। এনডিটিভি জানিয়েছে, ভিডিওটির সত্যতা এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। ঘটনাটি ঠিক কোথায় ও কবে ঘটেছে, তা-ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ওই দম্পতির পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনাটি জনসমাগমপূর্ণ স্থানে শিশুদের প্রতি অভিভাবকদের সতর্ক নজরদারির গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। বিশেষ করে সমুদ্রসৈকতের মতো ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মুহূর্তের জন্যও অসতর্ক না থাকার বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অনেকে।
সূত্র: এনডিটিভি
















