ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হামলার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়েছে। হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানকে দায়ী করে দেশটির কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তবে তেহরান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সাম্প্রতিক এই সংঘাতের শুরু হয়েছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে। ইরান জানিয়েছিল, বৈরুতের দক্ষিণে ইসরায়েলি হামলার জবাব দিতেই তারা ইসরায়েলের কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলও ইরানের তেহরান, ইসফাহান ও তাবরিজসহ বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উভয় পক্ষ হামলা বন্ধের ঘোষণা দেয়। ইরান জানায়, তাদের সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও সাময়িকভাবে হামলা স্থগিতের কথা জানান। তবে ভবিষ্যতে নতুন হামলার কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি তিনি দিয়ে রেখেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতের পেছনে কেবল সামরিক প্রতিশোধ নয় বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান আলোচনাও একটি বড় কারণ ছিল। গত কয়েক মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইরানের আটকে থাকা সম্পদ নিয়ে আলোচনা চলছিল। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে এবং দ্রুতই একটি সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নদীভাঙনে ছোট হচ্ছে বরিশালের মানচিত্র: বছরে বাস্তুহারা লক্ষাধিক মানুষ

ইরানি বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি নতুন বার্তা দেওয়া। তারা স্পষ্ট করেছে, লেবাননে তাদের মিত্রদের ওপর হামলা হলে তারা সরাসরি ব্যবস্থা নেবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র একটি বড় আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়াতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছিল।
এদিকে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীও এই সময়ে নতুন করে সক্রিয় হয়েছে। তারা ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পাশাপাশি লোহিত সাগরে ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমানে সরাসরি যুদ্ধ থেমে গেলেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো বেশ নাজুক। পারমাণবিক আলোচনা ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর ভূমিকার ওপর নির্ভর করবে এই শান্তির ধরন কতদিন টিকে থাকে। মূলত পারস্পরিক আস্থার অভাবই এই উত্তেজনার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

















