এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজের কণ্ঠ ও কনসার্টের ভিডিও ফুটেজের সঙ্গে তৈরি করা ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ নামে একটি অডিও-ভিজ্যুয়ালের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সংগীতশিল্পী তাসরিফ খান। তার দাবি, অনুমতি বা সম্পৃক্ততা ছাড়াই তৈরি করা ভিডিওটি তাকে হয়রানি ও বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শিগগির সাধারণ ডায়েরি করার পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) তাসরিফ খান জানান, ভাইরাল হওয়া গানটি এআই দিয়ে তৈরি বলে তিনি ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ নিশ্চিত। তার দাবি, তার কনসার্টের ভিডিও ফুটেজ ব্যবহার করে এআই-সংশ্লেষিত কণ্ঠ যুক্ত করে গানটি তৈরি করা হয়েছে। এর সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
তাসরিফ বলেন, ‘আমি সম্ভবত আজ বা আগামীকাল একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করব।’ তার ভাষ্য, পুরো বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে হয়রানি করার জন্য করা হয়েছে।
২৪ বছর পর ভাইরাল নায়ক মান্নার সেই বক্তব্য, ‘আমি কোনো অশ্লীল দৃশ্যে অভিনয় করিনি’

ভাইরাল অডিওটি প্রসঙ্গে তাসরিফ বলেন, তিনি প্রায় নিশ্চিত যে এটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। তার দাবি, এটি কোনো শিল্পীর প্রকৃত গান বা সুর নয়। তার কনসার্টের ভিডিও ফুটেজের সঙ্গে কৃত্রিমভাবে কণ্ঠ ও অডিও যুক্ত করে এটি তৈরি করা হয়েছে।
শুধু ব্যক্তিগতভাবে হয়রানি নয়, এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও থাকতে পারে বলে মনে করছেন এই সংগীতশিল্পী। তার দাবি, ভিডিওতে সরকারকে নিয়ে মানহানিকর মন্তব্যের সঙ্গে তার ছবি ও কনসার্টের দৃশ্য যুক্ত করা হয়েছে। ফলে একই সঙ্গে তাকে এবং সরকারকে বিতর্কের মধ্যে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
তাসরিফের ভাষায়, ‘মনে হচ্ছে এক ঢিলে দুই পাখি মারার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে সরকারকে হেয় করা হচ্ছে, আবার আমার ছবি ব্যবহার করে আমাকেও এর সঙ্গে জড়ানো হচ্ছে।’
প্রথমদিকে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তাসরিফ। কিন্তু পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শতাধিক পেজে ভিডিওটি পুনরায় আপলোড করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ফলে প্রচলিত রিপোর্টিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ভিডিওটির বিস্তার ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি তার।
তাসরিফ জানান, ভিডিওটি সরিয়ে নিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচলিত কনটেন্ট রিপোর্টিং ব্যবস্থার সাহায্য নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু বিপুলসংখ্যক পেজে এটি ছড়িয়ে পড়ায় সেই প্রক্রিয়া প্রত্যাশিতভাবে কাজ করছে না।
এ অবস্থায় ভিডিওটির প্রচার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাসরিফ খান। এজন্য শিগগির সাধারণ ডায়েরি করার পাশাপাশি বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

















