যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর হ্রাস, আমদানিতে বাড়তি শুল্ক আরোপ ও দেশে উৎপাদন বাড়ানোর নীতিতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগ বাড়লেও কমেনি দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি। বরং গত আগস্টে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার কোটি ডলারে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কমা, বিদেশি বিনিয়োগ হ্রাস এবং সরকারি ঋণের বোঝা বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
জার্মানির অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডব্লিউর (IW) এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) গবেষণাটির প্রতিবেদন বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হাতে আসে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতিতে মিশ্র ফল পাওয়া গেছে। কর কমানো, আমদানির ওপর শুল্ক বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগের ফলে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ভালো অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতেও বিনিয়োগ বেড়েছে।
যমুনায় ডুব দিয়ে নদীকে ‘দূষণমুক্ত’ ঘোষণা বিজেপি এমপির!

তবে অর্থনীতির ইতিবাচক কিছু সূচকের বিপরীতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি আগের সরকারের তুলনায় কমেছে। মূল্যস্ফীতিও এখনো যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে।
গবেষণার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, ব্যাপক হারে আমদানি শুল্ক আরোপের পরও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমেনি। গত আগস্টে দেশটির পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি বেড়ে ১৩ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা দুই বছর আগের একই সময়ের তুলনায় বেশি।
তবে বাণিজ্য ঘাটতিতে বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মোট বাণিজ্য ঘাটতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশ ছিল ২০ শতাংশ। গত আগস্টে তা কমে ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। একইভাবে চীনের অংশও কমেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে চীনের অংশ ছিল ২৯ শতাংশ, যা গত আগস্টে কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ শতাংশে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া উদ্যোগও এখন পর্যন্ত প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ ৮ দশমিক ২ শতাংশ কমে ২৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গড় বিনিয়োগের তুলনায় এই পরিমাণ ১৮ শতাংশ কম।
এ ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে দেশটির সরকারি ঋণের বোঝা আরও বাড়ছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঋণের সুদের হারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ৪০ লাখ কোটি ডলার। বিপুল এই ঋণের বোঝা কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, তা নিয়ে ঋণদাতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতিতে প্রবৃদ্ধি ও এআই খাতে বিনিয়োগ বাড়লেও বাণিজ্য ঘাটতি, কর্মসংস্থান, বিদেশি বিনিয়োগ এবং সরকারি ঋণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে বলে উঠে এসেছে গবেষণায়।

















