২০১১ সালে বিএনপির তৎকালীন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জনসভায় যে ‘আমার দেশ’ পত্রিকার খবর তুলে ধরেছিলেন, সেই পত্রিকার কপি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান ছিঁড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অবস্থানও স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। সংবাদপত্রের সমালোচনার জবাব দিতে পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার পরিবর্তে তথ্য-প্রমাণ দিয়ে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বানও জানিয়েছেন নাসীরুদ্দীন।
রোববার (১ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন তিনি। পোস্টে ২০১১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বরের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে নাসীরুদ্দীন বলেন, ওই দিন বিএনপির তৎকালীন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া একটি জনসভায় ‘আমার দেশ’ পত্রিকার খবর তুলে ধরেছিলেন।
সেই ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রতিক ঘটনার তুলনা করে নাসীরুদ্দীন লেখেন, ‘আজ তার ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান সেই পত্রিকাই ছিঁড়ছেন। মায়ের হাতে সংবাদের সূত্র, ছেলের সহকারীর হাতে ছেঁড়ার বস্তু। ক্ষমতা বদলালে সংবাদপত্রের কদরও কি বদলে যায়?’
শ্রমিক অসন্তোষে শ্রমমন্ত্রীর বিদেশ সফর বাতিল, জরুরি বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী!

তিনি আরও বলেন, কোনো সংবাদ বা প্রতিবেদন ভুল হলে তথ্য-প্রমাণ দিয়ে তা খণ্ডন করা উচিত। প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু পত্রিকা ছিঁড়ে ফেললে কোনো অভিযোগ খণ্ডিত হয় না। একই সঙ্গে এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি।
এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান ফেসবুক লাইভে এসে ‘আমার দেশ’ পত্রিকার একটি কপি ছিঁড়ে ফেলেন। তাকে নিয়ে পত্রিকাটিতে প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে তিনি এমন প্রতিক্রিয়া দেখান। লাইভে প্রকাশিত ভিডিওতে তাকে ক্ষোভ প্রকাশ করে পত্রিকাটির কপি ছিঁড়তে দেখা যায়।
রাশেদ খানের অভিযোগ, পত্রিকাটির প্রতিবেদন দুটির মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। গত ৩১ অক্টোবর ‘এক হয়েছেন হাসিনাপুত্র জয় ও কিছু নব্য বিএনপি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ‘আমার দেশ’। এর আগে গত ১৫ অক্টোবর ‘প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সহকারীরা কী করছেন’ শিরোনামে পত্রিকাটির প্রথম পাতায় আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। উভয় প্রতিবেদনেই রাশেদ খানের নাম উল্লেখ করা হয়।
ফেসবুক লাইভে রাশেদ দাবি করেন, ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাকে ঢালাওভাবে অভিযুক্ত করা হলেও তার দায়িত্ব ও কাজের বিষয়টি যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়েও আপত্তি জানান তিনি। বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পরও কেন তাকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে, সে প্রশ্ন তোলেন রাশেদ।
এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে তার সাম্প্রতিক বক্তব্যের জেরেই ‘আমার দেশ’ প্রতিবেদন দুটি প্রকাশ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। রাশেদের দাবি, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সঙ্গে জ্যেষ্ঠ ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছে। এ অভিযোগের বিষয়ে জামায়াতকে তদন্তের চ্যালেঞ্জও জানান তিনি।
রাশেদ বলেন, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান অথবা দলটির গঠিত তদন্ত কমিটির কাছে এ বিষয়ে প্রমাণ দিতে পারবেন তিনি। তার অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে জামায়াত তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন।
এদিকে, রাশেদ খানের পত্রিকা ছেঁড়ার ঘটনাকে ২০১১ সালে খালেদা জিয়ার জনসভায় ‘আমার দেশ’ তুলে ধরার ঘটনার সঙ্গে তুলনা করে রাজনৈতিক সহকারীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। পাশাপাশি এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বা অবস্থান কী, তা জানতে চেয়েছেন তিনি।

















