খুলনা থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার শিল্পকারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালী মোড় এলাকায় আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার গঠন করতে পারলে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করবে। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মিল-কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
ফেনীতে কার্গোভ্যান আটকে ৪০ লাখ টাকার শুঁটকি লুট, আন্তজেলা চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার

তিনি বলেন, একসময় খুলনা শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত ছিল। এ অঞ্চলে অসংখ্য মিল-কারখানা ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন কারণে সেগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। সরকার চায়, বাগেরহাট, খুলনা, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা থেকে শুরু করে উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড় পর্যন্ত হাজার হাজার শিল্পকারখানা গড়ে উঠুক। এতে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সমস্যা সমাধান, শিল্পের প্রসার এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নে সরকার দিনরাত কাজ করছে। তবে গত কয়েক দিন ধরে ঢাকার কিছু এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া রয়েছে। এসব দাবি পর্যালোচনার জন্য সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে, যা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণ করা হবে।
শ্রমিকদের দাবি-দাওয়াকে কেন্দ্র করে একটি মহল দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, কোনো শ্রমজীবী মানুষ নিজের কর্মস্থল বা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করতে পারেন না। অথচ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেখা গেছে, কিছু লোক কারখানায় গিয়ে ভাঙচুর করছে এবং গাড়ি ও যন্ত্রপাতি ধ্বংস করছে।
তিনি আরও বলেন, গত প্রায় ৫০ বছরে দেশে গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্প গড়ে উঠেছে। এসব শিল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। কিন্তু একটি মহল নিজেদের স্বার্থে এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করতে চায়। যারা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিল এবং দেশের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছিল, তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরও সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিল-কারখানাগুলো দেশের, দেশের মানুষের এবং শ্রমিকদের সম্পদ। এসব কারখানা ধ্বংস হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিকেরা। এর প্রভাব পড়বে তাঁদের সন্তানদের ভবিষ্যতের ওপরও।
বাগেরহাট জেলা বিএনপির নেতা ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে পথসভায় উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র নজরুল ইসলাম মঞ্জু, ফকিরহাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ কামরুল ইসলাম গোরা, বিএনপি নেতা কপিল কৃষ্ণ মন্ডল, সোমনাথ দে প্রমুখ।
















