নদীবেষ্টিত জেলা বরিশালের চারদিক দিয়ে বয়ে চলেছে কীর্তনখোলা, পদ্মা ও মেঘনাসহ অসংখ্য নদী। এসব নদীর অব্যাহত ভাঙনে প্রতি বছর বদলে যাচ্ছে জেলার মানচিত্র। মাইলের পর মাইল ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী, নদীভাঙনের ফলে বরিশালের ভৌগোলিক এলাকা ক্রমেই সংকুচিত হয়েছে। গত পাঁচ বছরেই জেলাটি থেকে অন্তত ১২০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নদীতে হারিয়ে গিয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গিয়েছে।
বিশেজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ, অবৈধ বালু উত্তোলন এবং নদী শাসনের অভাবই এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের প্রায় ১০২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এই পরিস্থিতির ধরন সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ ও হিজলা উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হিজলার গৌরবদী ইউনিয়নের বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ মোল্লা জানান, গত ৩০ বছরে তার শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত ঘরবাড়ি ও জমি সবকিছুই মেঘনা নদী কেড়ে নিয়েছে। একই এলাকার বাসিন্দা রাবেয়া বেগম জানান, নদী যেভাবে এগোচ্ছে তাতে দ্রুত বাঁধ না দিলে পুরো ইউনিয়নটিই মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা এখন ত্রাণের চেয়ে ভিটেমাটি রক্ষায় স্থায়ী ও টেকসই বাঁধের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
ইসরায়েল-ইরান সংঘাত থামার আগেই শুরু হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নতুন উত্তেজনা

একইভাবে মুলাদী ও বাবুগঞ্জ উপজেলার মানুষও সন্ধ্যা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বাবুগঞ্জ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচটিই এখন ভাঙনের মুখে ছিল। এছাড়া বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ও শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নেও কীর্তনখোলা নদীর তাণ্ডব অব্যাহত ছিল। চরবাড়িয়ার বাসিন্দা আব্দুল ছালাম গাজী জানান, নদী ভাঙনের কারণে তিনি তিনবার নিজের ঘর হারিয়েছেন। বর্তমানে তার শেষ আশ্রয়টুকুও বিলীন হওয়ার পথে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পরিবেশ আন্দোলনের নেতা রফিকুল আলম জানান, অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণেই প্রতি বছর বরিশালে লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুহারা হচ্ছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া জানান, তারা ইতিমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করেছেন। স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য বেশ কিছু বড় প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। তবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ধরন এই সমস্যার সমাধানকে দীর্ঘায়িত করেছে বলে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন। তারা দ্রুত এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

















