প্রচ্ছদ    বিশেষ নিবন্ধ   রসুল (সা.) এর তৈরি সামরিক...

রসুল (সা.) এর তৈরি সামরিক জাতির ইতিহাস

১০ জুন ২০২৫ ০৭:২৭ পিএম
বজ্রশক্তি ডেস্ক

ওবায়দুল হক বাদল:
যারা ইসলামের ইতিহাস পড়েছেন তারা ভালোভাবেই জানেন- রসুল (সা.) ছিলেন এমন একজন যোদ্ধা নবী, যিনি মাত্র ১০ বছরে ৭৮টা যুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন। যুদ্ধের মাধ্যমে তিনি আরব উপদ্বীপের সাড়ে বারো লক্ষ বর্গমাইল এলাকা বিজয় করেছিলেন। তিনি যে জাতিটা তৈরি করেছিলেন সেটাও ছিল দুর্ধর্ষ এক যোদ্ধা জাতি। যারা তৎকালীন পরাশক্তি (সুপার পাওয়ার) রোমান সাম্রাজ্য ও পারস্য সাম্রাজ্যকে একইসাথে আক্রমণ করে তুলার মতো উড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং মাত্র ৬০/৭০ বছরের মধ্যে পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক এলাকা বিজয় করেছিলেন।

ঐ জাতির সদস্যদেরকে যখন প্রশ্ন করা হতো- তোমরা কী চাও? তারা বলতেন- ক্ষুধা নিবারণের জন্য একটুখানি খাবার, আর লজ্জা নিবারণের জন্য এক প্রস্ত কাপড় ছাড়া আমাদের আর কিছুই চাই না। আমরা তো বেঁচেই আছি আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করার জন্য। প্রশ্ন হলো- কেন? কেন রসুল (সা.) এরকম একটা দুর্ধর্ষ সামরিক জাতি সৃষ্টি করেছিলেন? কেন পবিত্র কোর’আনের শত শত আয়াত শুধু যুদ্ধ সংক্রান্ত? কেন রসুল (সা.) এর হাদিসগ্রন্থগুলোর বড় অংশজুড়ে থাকে শুধু যুদ্ধের হাদিস? কেন রসুল (সা.) এর সিরাতগ্রন্থের পাতায় পাতায় শোভা পায় শুধুই যুদ্ধের বিবরণ? কেন এই যুদ্ধ? পাঠক, আজকের লেখায় অতি সংক্ষেপে আমরা এই প্রশ্নটির উত্তর জানার চেষ্টা করব যে- রসুল (সা.) কেন এমন একটা সামরিক জাতি সৃষ্টি করেছিলেন?

বর্তমানে আমাদের সমাজে যে ইসলামটা চলছে, মানে আমাদের মসজিদ মাদ্রাসা দরগা মাজার কিংবা ওয়াজ মাহফিলে যে ইসলামটা অনুশীলন করা হচ্ছে, এই ইসলামের মাধ্যমে মোটামুটি তিন ক্যাটাগরির মানুষ তৈরি হচ্ছে। যেমন মাদ্রাসার মাধ্যমে তৈরি হচ্ছেন মুফতী মাওলানা, দরগা মাজার ইত্যাদির মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে পীরের মুরিদ, এবং ইসলামী দল বা ইসলামী রাজনীতির মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে কোটি কোটি ভোটার। কিন্তু রসুল (সা.) এর ইসলামের ইতিহাস দেখুন- ঐ ইসলাম থেকে মুফতী মাওলানাও তৈরি হত না, পীরের মুরিদও তৈরি হত না, এমনকি ইসলামী দলের ভোটারও তৈরি হত না। ঐ ইসলাম থেকে শুধু এবং শুধুমাত্র তৈরি হত যোদ্ধা বা সৈনিক। আপনি সাহাবীদের ইতিহাস পড়ুন। দেখতে পাবেন রসুল (সা.) ও তাঁর সাহাবীদের প্রত্যেকের জীবন কেটেছে রণাঙ্গনে। নারী থেকে পুরুষ, যুবক থেকে বৃদ্ধ, এমনকি শিশুরা পর্যন্ত রণাঙ্গনে ছুটে যেতেন রসুল (সা.) এর সঙ্গী হয়ে। এক কথায় পুরো উম্মাহটাই ছিল এক দুর্ধর্ষ সেনাবাহিনী। প্রশ্ন হলো, সেই সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্য কী ছিল?

আরও পড়ুন

যোদ্ধাজাতির পাঠ: বাঁচতে হলে মরতে শিখো -এম আর হাসান

যোদ্ধাজাতির পাঠ: বাঁচতে হলে মরতে শিখো  এম আর হাসান

রসুল (সাঃ) এর বাহিনীর উদ্দেশ্য কী ছিল
যারা ইসলামের শত্রু, ইসলামের কোনোকিছুই যাদের ভালো লাগে না, তারা বলে থাকেন- রসুল (সা.) নাকি পররাজ্য দখলের জন্য ও পরসম্পদ লুট করার জন্য এই দুর্ধর্ষ সেনাবাহিনী গড়ে তুলেছিলেন। (নাউজুবিল্লাহ)

যদিও ইতিহাস বলে ভিন্ন কথা। পরসম্পদ লুট করার জন্যই যদি রসুল (সা.) সাহাবীদের নিয়ে এই সামরিক জাতি তৈরি করতেন, তাহলে তিনি যখন ইন্তেকাল করলেন, তখন তার বিশাল বড় একটা রাজপ্রাসাদ থাকার কথা, এবং প্রাসাদভর্তি রাশি রাশি ধন-ভান্ডার থাকার কথা ছিল। অথচ রসুল (সা.) এর ইন্তেকালের পর তাঁর ছোট্ট কুটিরঘর থেকে কী কী সম্পদ পাওয়া গিয়েছিল খেয়াল করুন- একটি চাটাই, খেজুরের ছাল দিয়ে ভর্তি একটি বালিশ, কয়েকটি মশক, ৯টি তরবারী, ৫টি বর্শা, একটি তীরকোষ, ছয়টি ধনুক, সাতটি লৌহবর্ম, তিনটি যুদ্ধের জোব্বা, একটি কোমরবন্ধ, একটি ঢাল এবং তিনটি পতাকা। (সূত্র: সিরাতুন্নবী- মাওলানা শিবলী নোমানী) আর এ থেকেই প্রমাণিত হয় পার্থিব ধন-সম্পদ অর্জনের জন্য তাঁর এই সংগ্রাম ছিল না।

আবার দেখুন রসুল (সা.) এর মেয়ের জামাতা ও অন্যতম সাহাবী আলী (রা.) এর সম্পদের তালিকা। তিনি যখন রসুলের কন্যাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন, তখন রসুল (সা.) তাকে জিজ্ঞেস করলেন- “হে আলী, তোমার কাছে কী আছে? বিয়েতে কিছু খরচ হবে তো।” আলী (রা.) বললেন- “ইয়া রসুলাল্লাহ, তেমন কিছুই তো নেই, থাকার মধ্যে আছে শুধু একটি ঘোড়া, একটি তলোয়ার ও একটি লোহার বর্ম।” তখন আল্লাহর রসুল আলী (রা.) কে লোহার বর্মটি বিক্রি করে বিয়েতে খরচ করতে বললেন। তবে তরবারি বিক্রি করতে বললেন না, কারণ তরবারি বিক্রি করলে আলী (রা.) আর যুদ্ধ করতে পারতেন না কিন্তু বর্ম ছাড়াও যুদ্ধ করা যায়।

বন্ধুরা খেয়াল করুন- আলী (রা.) কে ছিলেন? তিনি ছিলেন রসুল (সা.) এর অন্যতম সেনা কমান্ডার। তারই ব্যক্তিগত সম্পত্তির যদি এই দশা হয়, তাহলে অন্যদের কী অবস্থা ছিল তা বুঝতে আর বাকি থাকে কী? তার মানে শুধু রসুলই (সা.) নয়, তাঁর সঙ্গী-সাথীদেরও পার্থিব সম্পদ বলতে কিছুই ছিল না। শুধুই ছিল যুদ্ধের উপকরণ।
পাঠক! এ কেমন যুদ্ধ! তারা একের পর এক যুদ্ধ করছেন, লক্ষ লক্ষ মাইল এলাকা বিজয় করছেন, শাসন করছেন, কিন্তু কোনো সম্পদ লুণ্ঠন করছেন না, অন্যদের মতো সাম্রাজ্যবাদী উদ্দেশ্যও হাসিল করছেন না। তাহলে কীসের লক্ষ্যে এই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রণাঙ্গনে পড়ে থাকা?

কী সেই হারিয়ে যাওয়া লক্ষ্য?
আসলে তাদের লক্ষ্য ছিল একটাই- সারা পৃথিবীতে আল্লাহর সত্যদ্বীন প্রতিষ্ঠা। আর এই লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন আর কেউ নন- স্বয়ং আল্লাহ রব্বুল আলামিন। পবিত্র কোর’আনের তিনটি আয়াত- তওবা ৩৩, ফাতাহ ২৮ ও সফ ৯। এই তিন আয়াতেই আল্লাহ একই কথার পুনরাবৃত্তি করেছেন এবং বলেছেন- ‘আমি রসুলকে হেদায়াহ ও সত্যদ্বীন দিয়ে এই জন্য প্রেরণ করেছি যাতে তিনি অন্য সমস্ত দ্বীনের উপর আল্লাহর দেওয়া দ্বীনকে জয়যুক্ত করতে পারেন।’ পাঠক- এই আয়াতটি পবিত্র কোর’আনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়াত কেননা এখানেই আল্লাহ তাঁর রসুলের মিশন নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আর তাহলো- সমস্ত পৃথিবী থেকে অন্য সকল জীবনব্যবস্থা বা সিস্টেমকে পরাজিত করে আল্লাহর দেওয়া সিস্টেম বা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। প্রতিষ্ঠা করলে কী হবে? পৃথিবী থেকে সকল ফেতনা-ফাসাদ নির্মূল হয়ে যাবে, দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার বন্ধ হবে, দরিদ্রের উপর ধনীর বঞ্চনা বন্ধ হবে, শাসিতের উপর শাসকের জুলুম বন্ধ হবে, সরলের উপর ধূর্তের প্রতারণা বন্ধ হবে।

একবার কল্পনা করুন তো। সারা পৃথিবীর মানুষ সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে গেছে। সকল অন্যায় অবিচার নির্মূল হয়ে গেছে। একজন নেতার নেতৃত্বে পুরো মানবজাতি আল্লাহর হুকুম বিধান মোতাবেক পরিচালিত হচ্ছে এবং শান্তিতে বসবাস করছে। বিষয়টা কল্পনা করাও কত কঠিন- তাই না? অথচ আপনি যা কল্পনাও করতে পারছেন না, সেটাই বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব ছিল আল্লাহর রসুলের। আল্লাহর রসুল ভালোভাবেই জানতেন- এই মিশন এক বৈপ্লবিক মিশন। সারা পৃথিবীতে আল্লাহর দেয়া জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে যাবতীয় অন্যায় অবিচার নির্মূল করতে হলে অবশ্যই সারা পৃথিবীর রাষ্ট্রশক্তি অর্জন করতে হবে, আর রাষ্ট্রশক্তি কেউই স্বেচ্ছায় ছেড়ে দেয় না, দিবেও না। ওটা জান দিয়ে মাল দিয়ে লড়াই করেই অর্জন করতে হয়। আর সেজন্যই আল্লাহর রসুলের প্রয়োজন পড়েছিল দুর্ধর্ষ একটি সামরিক জাতির। যাদের নারীরাও হবে যোদ্ধা, পুরুষরাও হবে যোদ্ধা। যাদের কোনো মৃত্যুভয় থাকবে না, বরং রণাঙ্গনে জীবন দেওয়াকেই যারা জীবনের সফলতা জ্ঞান করবে। মূলত এরকম এক দুর্ধর্ষ সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার জন্য যা যা করার দরকার, রসুল (সা.) তাই করেছেন পুরো নবুয়্যতি জীবনজুড়ে। তিনি সাহাবীদের নিয়ে একসাথে সালাহ কায়েম করেছেন, সেটারও লক্ষ্য ছিল সামরিক। তিনি সওম করেছেন, হজ্ব করেছেন, যাকাত আদায় করেছেন, কুরআন তেলাওয়াত করেছেন, এক কথায় যা কিছু করেছেন, সবকিছুই ছিল যুদ্ধমুখী (ব্যাটেল ওরিয়েন্টেড)। যদি পাণ্ডিত্য দিয়ে বিজয় অর্জন সম্ভব হতো, তাহলে হয়ত আল্লাহর রসুল সামরিক বাহিনী গঠন না করে বরং মাদ্রাসা স্থাপন করতেন এবং সেখান থেকে মুফতী মাওলানা তৈরির কাজে মনোনিবেশ করতেন। যদি লক্ষ লক্ষ মুরিদ দিয়ে লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হতো তাহলে হয়ত আল্লাহর রসুল আরব উপদ্বীপ জুড়ে হাজার হাজার দরগাহ তৈরি করতেন, খানকাহ তৈরি করতেন, আর তাতে আধ্যাত্মিক ছবক দিয়ে লক্ষ লক্ষ মুরিদের দল তৈরি করতেন। কিন্তু আল্লাহর রসুল ওসবের একটাও করেননি। তিনি তাঁর সাহাবীদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে, নেতৃত্ব দিয়ে, এক দুর্ধর্ষ নির্ভিক সামরিক জাতি হিসেবে তৈরি করেছেন, যেই জাতির প্রত্যেকটা সদস্য ছিল যোদ্ধা। যাদের মধ্যে একজনকেও হয়ত খুজে পাওয়া যেত না যার গায়ে অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল না। যাদের প্রায় ৯০%ই লিখতে ও পড়তেই জানতেন না, কিন্তু জানতেন কীভাবে লড়াই করে শত্রুকে পরাজিত করতে হয়। সেই সামরিক জাতিকে আল্লাহ পবিত্র কোর’আনে নির্দেশ দিয়ে বললেন- ‘কিতাল চালিয়ে যাও যতক্ষণ না ফেতনা পুরোপুরি নির্মূল হয়ে যায় (আনফাল: ৩৯)।’ আরও বললেন- ‘তোমাদের কি হল যে, তোমরা যুদ্ধ করবে না আল্লাহর পথে এবং অসহায় নরনারী ও শিশুদের জন্য, যারা বলে, হে আমাদের রব! এ জনপদ-যার অধিবাসী যালিম, তা-থেকে আমাদেরকে বের করুন; আর আমাদের জন্য আপনার পক্ষ থেকে কাউকে অভিভাবক করুন এবং আপনার পক্ষ থেকে কাউকে আমাদের সহায় করুন।’ (নিসা: ৭৫)

কাজেই রসুলের হাতে গড়া সেই উম্মতে মোহাম্মদী জাতি ভালোভাবেই জানতেন এই সংগ্রামের মধ্যেই রয়েছে তাদের সাফল্য ও সার্থকতা। কোনো স্বার্থের লোভে নয়, কোনো ক্ষমতার লোভে নয়, কোনো অর্থের লোভে নয়, কারো প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষের বশবর্তী হয়ে নয়, তাদেরকে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে শুধুই আল্লাহর জন্য, পৃথিবী থেকে ফেতনা নির্মূলের জন্য ও মজলুমদেরকে উদ্ধার করার জন্য। যতদিন পুরো পৃথিবী ন্যায়, শান্তি ও সুবিচারে পরিপূর্ণ না হবে, ততদিন তাদের এই সংগ্রাম বন্ধ করার কোনো সুযোগ নেই। সেটা করলে তারা আর মুহাম্মদের জাতি বা উম্মতে মোহাম্মদী থাকতে পারবে না।
পাঠক! সাহাবীরা রসুল (সাঃ) এর মিশন বাস্তবায়নের জন্য জান-মাল দিয়ে সংগ্রাম করেছেন বলেই অর্ধপৃথিবীতে আল্লাহর হুকুম বিধান প্রতিষ্ঠা হয়েছিল এবং সেই বিশাল এলাকায় বসবাসকারী মুসলিম, হিন্দু, ইহুদি, খ্রিস্টান, নারী, পুরুষ নির্বিশেষে সকল মানুষ অকল্পনীয় ন্যায়, শান্তি ও সুবিচার পেয়েছিল। কিন্তু আমরা এখন কী করছি?

বর্তমানে সেই সামরিক জাতি কোথায়?
পাঠক, বর্তমানে সেই সামরিক জাতির অস্তিত্ব আর নেই। সাহাবীরা পৃথিবী থেকে চলে যাবার পর এই উম্মাহ দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বন্ধ করে দেয়। ফলে সেই সামরিক জাতিও বিলুপ্ত হয়ে যায়। কীভাবে এতবড় দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটলো সেই বিস্তারিত আলোচনায় আজ যাচ্ছি না, তবে সেটার ফল কী হলো সেটা সংক্ষেপে বলছি। রসুল (সা.) ও সাহাবীগণ একে একে পৃথিবী থেকে চলে যাবার পর যখন দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বন্ধ করে দেয়া হলো, অর্থাৎ উম্মাহর আসল কাজটাই যখন বাদ দেওয়া হলো, তখন আর তারা কী করবে? তলোয়ার ফেলে দিয়ে এই উম্মাহর একদল খাতা-কলম নিয়ে কুরআন হাদিসের চুলচেরা ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের কাজে লেগে পড়লেন, আরেকদল তলোয়ার ফেলে দিয়ে তসবিহ নিয়ে আধ্যাত্মিক সাধনায় মনোনিবেশ করলেন। প্রাকৃতিক সূত্র মোতাবেক এর পরিণতিও সামনে এসে দাঁড়ালো। কুরআন হাদিস নিয়ে ফকিহ, মুফাসসির ও মোহাদ্দিসদের চুলচেরা বিশ্লেষণের ফলে বিভিন্ন বিষয়ে মতভেদ তৈরি হতে লাগলো, ফলে জাতির ঐক্য ভেঙে টুকরা টুকরা হয়ে গেল, আর সেই টুকরা টুকরা হয়ে যাওয়া অংশগুলোও যাতে কোনোদিন সংগ্রামের পথে ফেরত যেতে না পারে সেজন্য সুফি দরবেশরা তাদেরকে বোঝালেন আত্মার বিরুদ্ধে জেহাদই হলো বড় জেহাদ। ব্যাস! দ্বীন প্রতিষ্ঠার জেহাদ ছেড়ে দিয়ে, ঐক্য নষ্ট করে, এই উম্মাহর সদস্যরা মসজিদে, মাদ্রাসায় ও খানকায় বসে যখন তসবিহ জপায় (তথাকথিত বড় জিহাদ) ব্যস্ত, ঠিক তখন অন্যান্য জাতিগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের শক্তি বাড়িয়ে ও জ্ঞান বিজ্ঞান প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে, সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে এদেরকে দখল করে নিলো। এই জাতি একের পর এক শত্রুর আক্রমণে পরাজিত হতে লাগলো, কিন্তু তখনও সেই পরাজিত জনগোষ্ঠীর সুফি দরবেশরা খানকায় বসে আত্মার বিরুদ্ধে নিরাপদ জেহাদ চালাতে থাকলেন এবং আলেমরা মাদ্রাসায় বসে বাহাস-মুনাজারা চালাতে থাকলেন। গত ১৩০০ বছর ধরে এভাবে চলার পর, আজকের চূড়ান্ত পরিণতি হলো এই যে- আমরা এখন ফুটবলের মতো সারা পৃথিবীতে অন্যান্য জাতিগুলোর লাথি খাচ্ছি, অপমানিত হচ্ছি, গণহত্যার শিকার হচ্ছি, আমাদের শিশুরা বেঘোরে প্রাণ হারাচ্ছে, নারীরা ধর্ষিতা হচ্ছে, আমাদের দেশগুলো একটার পর একটা মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে। একটা ভূখণ্ড রক্ষার সামর্থও আমাদের নাই। যে মানবরচিত দ্বীনকে পরাজিত করে আল্লাহর দেওয়া দ্বীনকে পৃথিবীময় প্রতিষ্ঠা করার কথা ছিল, সেই মানবরচিত ব্যবস্থা দিয়েই এখন পরিচালিত হচ্ছে মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্রগুলো। আর ব্যক্তিগতভাবে মাথায় টুপি পরে, থুতনিতে কিছু দাড়ি রেখেই আমরা পাক্কা উম্মতে মোহাম্মদী হয়ে যাবার স্বপ্ন দেখছি।

কিন্তু না পাঠক, যতদিন আমরা একজন নেতার পেছনে তওহীদের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পুনরায় রসুল (সা.) এর দেয়া মিশন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংগ্রামে অবতীর্ণ না হবো, ততদিন আর যাই হোক রসুল (সা.) আমাদেরকে তাঁর উম্মত বলে গ্রহণ করবেন না। মনে রাখতে হবে- রসুল (সা.) এর লক্ষ্য অর্জনে যারা সংগ্রাম করবে, একমাত্র তারাই নিজেদেরকে রসুলের উম্মত বলে দাবি করতে পারবে। কেয়ামতের দিন রসুল (সা.) একমাত্র তাদেরকেই তাঁর উম্মত বলে গ্রহণ করবেন। আর আমাদের মতো পাক্কা নামাজী, পাক্কা হাজিসাহেব, ইসলামী দলের ভোটার ও কামেল পীরের মুরিদদেরকে হয়ত বলবেন- আমি আমার সারাজীবন যেই সংগ্রামে ব্যয় করলাম, আমার সাহাবীগণ যে সংগ্রামে তাদের ঘরবাড়ি স্ত্রী পুত্র পরিজন সবকিছু উৎসর্গ করলো, সেই সংগ্রামটাই যখন তোমরা বাদ দিয়েছো, তারপর আর রইলো কী? সুতরাং আমার সুন্নাহ যারা বাদ দিয়েছো, তোমরা আমার কেউ নয়, আমিও তোমাদের কেউ নই।

Photocard
টাইটেল সাইজ
লাইন স্পেস
অ্যাকশন
বামে বা ডানে সোয়াইপ করুন

শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিন, বিলম্বে ক্ষতি বাড়বে: জামায়াত আমির!

শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিন, বিলম্বে ক্ষতি বাড়বে: জামায়াত আমির!
পোশাকশ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, শ্রমিক বাঁচলে শিল্প…
 ৪ নভেম্বর ২০২৬    নির্বাচিত

চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি!

চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি!
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ভাঙচুরের মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনির জামিন বাতিল করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বুধবার (৪…
 ৪ নভেম্বর ২০২৬    বিনোদন

রিপাবলিকানদের নির্বাচনী বিপর্যয়, ‘স্পেস লেজার’ নিয়ে মাস্কের ব্যঙ্গ!

রিপাবলিকানদের নির্বাচনী বিপর্যয়, ‘স্পেস লেজার’ নিয়ে মাস্কের ব্যঙ্গ!
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের বড় পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ ঘিরে প্রচলিত ‘স্পেস লেজার’…
 ৪ নভেম্বর ২০২৬    আন্তর্জাতিক

জীবননগরে রেলপথ অবরোধ, ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম!

জীবননগরে রেলপথ অবরোধ, ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম!
জীবননগর, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ‎‎চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আনসারবাড়ীয়া রেলস্টেশনের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু, স্টেশন মাস্টারসহ প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ এবং আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে ট্রেন থামিয়ে রেলপথ অবরোধ করেছেন…
 ৪ নভেম্বর ২০২৬    খুলনা

আদালত প্রাঙ্গণে মামলার বাদীকে মারধর, জামিন বাতিল করে কারাগারে নারী!

আদালত প্রাঙ্গণে মামলার বাদীকে মারধর, জামিন বাতিল করে কারাগারে নারী!
জামালপুরে নাশকতার মামলার বাদীকে আদালত প্রাঙ্গণে মারধরের অভিযোগে জান্নাতুল হুমায়রা ওরফে জেমি নামে এক নারীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার মামলার শুনানি শেষে বাদীকে…
 ৪ নভেম্বর ২০২৬    ময়মনসিংহ

তাহসিফ হত্যা মামলা: ফের ৩ দিনের রিমান্ডে তরুণী দিশা!

তাহসিফ হত্যা মামলা: ফের ৩ দিনের রিমান্ডে তরুণী দিশা!
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার জেরিকা তাসনীম দিশাকে আবারও তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। নিহত তাহসিফের সঙ্গে ঘটনার…
 ৪ নভেম্বর ২০২৬    জাতীয়

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার আশিক সাঈদ!

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার আশিক সাঈদ!
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) নতুন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন উপপুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. আশিক সাঈদ। তিনি সদ্য সাবেক কমিশনার ইসরাইল হাওলাদারের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩…
 ৪ নভেম্বর ২০২৬    জাতীয়

গাজীপুরে তৌফিকের গায়েবানা জানাজায় পুলিশের ধাওয়া, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ!

গাজীপুরে তৌফিকের গায়েবানা জানাজায় পুলিশের ধাওয়া, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ!
গাজীপুরে পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় গায়েবানা জানাজার আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা। তবে নগরীর চান্দনা চৌরাস্তা মোড়ে কর্মসূচি চলাকালে তাদের ধাওয়া দিয়ে…
 ৪ নভেম্বর ২০২৬    ঢাকা

আমির হামজার হলফনামায় সম্পদের তথ্যে অসংগতি, তদন্ত চেয়ে ইসিতে আবেদন!

আমির হামজার হলফনামায় সম্পদের তথ্যে অসংগতি, তদন্ত চেয়ে ইসিতে আবেদন!
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. আমির হামজার নির্বাচনী হলফনামা, আয়কর রিটার্ন ও আর্থিক তথ্যে একাধিক অসংগতির অভিযোগ উঠেছে। নগদ অর্থ, ব্যাংক জমা, কৃষিজমি, আবাসিক…
 ৪ নভেম্বর ২০২৬    নির্বাচিত

‘আমাদের লোকেরা ভোট দিলেই বিপুল ভোটে জিতব’, বললেন ট্রাম্প!

‘আমাদের লোকেরা ভোট দিলেই বিপুল ভোটে জিতব’, বললেন ট্রাম্প!
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পক্ষে ভোট দিতে সমর্থকদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, দলের সমর্থকেরা যদি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন,…
 ৪ নভেম্বর ২০২৬    আন্তর্জাতিক

শ্রমিক আন্দোলনে হামলার ভিডিও করতে গিয়ে প্রাণ হারানো তৌফিকের মরদেহ পৌঁছাল গাইবান্ধায়!

শ্রমিক আন্দোলনে হামলার ভিডিও করতে গিয়ে প্রাণ হারানো তৌফিকের মরদেহ পৌঁছাল গাইবান্ধায়!
গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের সময় হামলার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে মারধরের শিকার তৌফিক শেখের (২২) মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকার…
 ৪ নভেম্বর ২০২৬    রংপুর

মিরপুরে বাস-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ, নারীসহ নিহত ৪!

মিরপুরে বাস-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ, নারীসহ নিহত ৪!
রাজধানীর মিরপুর বেড়িবাঁধে যাত্রীবাহী বাস ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শাহ আলী থানার নবাবেরবাগ…
 ৪ নভেম্বর ২০২৬    রাজধানী

শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি ও অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগে ৩ শ্রমিক নেতা আটক!

শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি ও অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগে ৩ শ্রমিক নেতা আটক!
পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে চলমান আন্দোলনে উসকানি দিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগে তিন শ্রমিক নেতাকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।…
 ৪ নভেম্বর ২০২৬    ঢাকা

রাফিনিয়ার জোড়া গোলে অ্যাস্টন ভিলাকে উড়িয়ে বার্সেলোনার দাপুটে জয়!

রাফিনিয়ার জোড়া গোলে অ্যাস্টন ভিলাকে উড়িয়ে বার্সেলোনার দাপুটে জয়!
চ্যাম্পিয়নস লিগে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা অ্যাস্টন ভিলার জয়ের ধারায় ছেদ টানল বার্সেলোনা। নিজেদের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে ইংলিশ ক্লাবটিকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে কাতালান জায়ান্টরা।…
 ৪ নভেম্বর ২০২৬    খেলাধুলা

গার্মেন্টসে মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনের ভিডিও করায় মারধর, চিকিৎসাধীন শ্রমিকের মৃত্যু!

গার্মেন্টসে মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনের ভিডিও করায় মারধর, চিকিৎসাধীন শ্রমিকের মৃত্যু!
গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে সহকর্মীদের হামলার শিকার হন ২১ বছর বয়সী পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে…
 ৪ নভেম্বর ২০২৬    ঢাকা