প্রচ্ছদ    বিশেষ নিবন্ধ   মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ষড়যন্ত্র

মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ষড়যন্ত্র

১৯ মে ২০১৫ ০৭:০৫ পিএম
বজ্রশক্তি ডেস্ক

একে ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা দ্বারা প্রতিস্থাপিত করতে হবে। সব ধর্মেই ধর্মব্যবসা নিষিদ্ধ। প্রকৃতপক্ষে মানুষের শান্তি চাইলে ধর্মব্যবসা বন্ধ করতে হবে। কীভাবে এটা করা সম্ভব সে উপায় আমাদের কাছে আছে।
এটা ইতিহাস যে, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকরা নিজেদের শাসনকে নিষ্কণ্টক ও দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য ভারত উপমহাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলেও একটি বিশেষ ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থা চালু করেছিল যা একান্তভাবে তাদেরই স্বার্থরক্ষা করবে। এ শিক্ষাব্যবস্থার সিলেবাস ও কারিকুলাম তারাই প্রস্তুত করেছিল অর্থাৎ মুসলমানদেরকে ইসলামের কী কী বিষয় শিক্ষা দেওয়া যাবে আর কী কী দেওয়া যাবে না এটা ব্রিটিশ পণ্ডিতরাই ঠিক করেছিল। ১৭৮১ সনে কলকাতায় ওয়ারেন হেস্টিং- প্রতিষ্ঠিত আলিয়া মাদ্রাসায় পরবর্তী ১৪৬ বছরে ২৭ জন খ্রিস্টান প্রিন্সিপাল ছিলেন। এই শিক্ষা ব্যবস্থায় কর্মমুখী পদ্ধতি না থাকায় শিক্ষার্থীরা জীবিকার বিভিন্ন উপায়ে ধর্মকেই জীবিকার মাধ্যমে পরিণত করতে বাধ্য হয়। এই মানহীন শিক্ষার (Bellow Standard Education) পরিণামে দেশের বিরাট একটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সৃষ্টি হয় হীনম্মন্যতা, অপূর্ণাঙ্গতা। এক কথায় তাদের মধ্যে ধর্মব্যবসা ছাড়া আর কোনো যোগ্যতাই গড়ে ওঠে না, প্রকারান্তরে তারা দেশ ও জাতির বোঝায় পরিণত হয়। অধিক উপার্জনের জন্য তারা বিভিন্ন প্রকার প্রতারণারও আশ্রয় নেয় কিন্তু সবই ধর্মের নাম ভাঙ্গিয়ে। এটা হচ্ছে মাদ্রাসা শিক্ষার সামাজিক ক্ষতি। ধর্মব্যবসায়ীরা নিজেদের হীন স্বার্থে ধর্মকে ব্যবহার করে। ফলে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদের মত সমস্যাগুলোর সৃষ্টি হয়। তাছাড়া ধর্ম ব্যবসায়ীরাই ধর্মকে রাজনীতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে। স্বভাবতই মাদ্রাসাশিক্ষিতরা ধর্মের বিষয়ে অধিক প্রতিক্রিয়াশীল হয় এবং তাদেরকে ধর্মের দ্বারা সহজেই ভুল পথে চালিত করা সম্ভব হয়। তাই জঙ্গিবাদের প্রচার ও প্রসারে যারা জড়িত তাদের অধিকাংশই মাদ্রাসা শিক্ষিত।
মানবজাতি তার সুদীর্ঘ অতীতকালে ধর্মের দ্বারাই শাসিত হয়েছে এবং প্রতিটি ধর্মেরই একটি সোনালি ইতিহাস রয়েছে যখন ধর্মের শাসনে মানুষ অনাবিল সুখ, শান্তি, নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার লাভ করেছে। কিন্তু পরবর্তীতে ধর্ম বিকৃত হয়ে গেলে সেই সুখ-শান্তি-ন্যায়বিচারও হারিয়ে যায় এবং ধর্মই হয়ে দাঁড়ায় অত্যাচার ও শোষণের হাতিয়ার। ফলে মানুষ ধর্মের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ধর্মের এই বিকৃতি সাধন করেছে ধর্মেরই পুরোহিত শ্রেণি যারা ধর্মকে তাদের রুটি রুজির মাধ্যমে পরিণত করেছিল। সব ধর্মেই এদের অস্তিত্ব ছিল এবং আছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ধর্ম কোনো বিশেষ শ্রেণির এখতিয়ারভুক্ত নয়, ধর্ম সব মানুষের সম্পদ, মানুষের কল্যাণের জন্যই ধর্মের আবির্ভাব। কোনো ধর্মই ধর্মব্যবসাকে বৈধতা দেয় না বরং কঠোরভাবে নিষেধ করে। পবিত্র কোর’আনে ধর্মের পার্থিব বিনিময় গ্রহণকে আল্লাহ আগুন খাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন (সুরা বাকারা ১৭৪)। আল্লাহ ধর্মব্যবসায়ীদের অনুসরণ করতেও কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন (সুরা ইয়াসীন ২১)। ধর্মব্যবসা কীভাবে মানবসমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায় তা আল্লাহ জানেন এবং এ পরিণাম থেকে মানুষকে রক্ষা করার জন্যই তিনি এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। কিন্তু আমরা ধর্মব্যবসার সেই ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নই। এজন্য প্রচলিত মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ধর্মব্যবসায়ী সৃষ্টি করে যাচ্ছি এবং ধর্মব্যবসার সব পথ খুলে রেখে সমাজ ও দেশকে শান্তিময় করতে চাচ্ছি। আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, ধর্মব্যবসায়ীরা তাদের মিথ্যা, উদ্দেশ্যমূলক ফতোয়া দ্বারা শুধু এদেশেই নয়, পৃথিবীর সকল দেশেই সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে ঘৃণা বিস্তার করে, দাঙ্গা সৃষ্টি করে, বিভিন্ন ব্যক্তিকে বা গোষ্ঠীকে কাফের-নাস্তিক ফতোয়া দিয়ে দেশকে নাজুক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেয়। আজও প্রায় শতভাগ মানুষের মধ্যে ধর্মীয় অনুভূতি বিরাজ করে এবং এই অনুভূতির সুতো ধরা আছে ধর্মব্যবসায়ীদের হাতে। এটা আমাদের সবার জন্য একটি বিরাট ঝুঁকির বিষয়। আমরা মনে করি, মানুষকে ধর্মের নামে যারা ভুল বুঝিয়ে উত্তেজিত করে সহিংসতামূলক কাজে লিপ্ত করে তারা মানবতার শত্র“, ধর্মেরও শত্র“। এদের মুখোস খুলে দেওয়া আশু প্রয়োজন। সাধারণ মানুষের সামনে যদি এটা প্রমাণ করে দেওয়া যায় যে, ধর্মব্যবসা ইসলামে নিষিদ্ধ, এরা নিজেরাই জাহান্নামি অথচ মানুষকে জান্নাতের পথ দেখায়, এদের দ্বারা ’৭১ সালেও ধর্মের বিরাট অপব্যবহার সাধিত হয়েছে, এখনও হচ্ছে। এভাবে যদি গণসচেতনতা সৃষ্টি করা যায় তবে ধর্মব্যবসায়ীরা আর দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে না। এটা করার জন্যও যথেষ্ট ধর্মীয় প্রমাণাদি আমাদের কাছে।

Photocard
টাইটেল সাইজ
লাইন স্পেস
অ্যাকশন
বামে বা ডানে সোয়াইপ করুন

শ্রীপুরের সাবেক মেয়র আনিছুর রহমানের মৃত্যু, শোকে মারা গেলে ছোট বোন

শ্রীপুরের সাবেক মেয়র আনিছুর রহমানের মৃত্যু, শোকে মারা গেলে ছোট বোন
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র আনিছুর রহমান ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। রোববার দুপুরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ…
 ৭ জুন ২০২৬    ঢাকা

সড়কে বর্জ্য দেখে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী, দুই সিটি কর্মকর্তা বরখাস্ত

সড়কে বর্জ্য দেখে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী, দুই সিটি কর্মকর্তা বরখাস্ত
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর বর্জ্য ও ময়লা জমে থাকায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শুক্রবার…
 ৩০ মে ২০২৬    জাতীয়

দেশে হামে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৫৭৫

দেশে হামে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৫৭৫
দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে দুই জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিল এবং বাকি…
 ৩০ মে ২০২৬    জাতীয়

কোরবানির দুই দিনে আহত হয়ে ঢামেকে ২৭২ জনের চিকিৎসা

কোরবানির দুই দিনে আহত হয়ে ঢামেকে ২৭২ জনের চিকিৎসা
কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার সময় আহত হয়ে ঈদের দিন ও পরের দিন মিলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ২৭২ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের…
 ৩০ মে ২০২৬    জাতীয়

রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ৬ শিশুর মৃত্যু

রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ৬ শিশুর মৃত্যু
রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে এই হৃদয়বিদারক খবরটি জানাজানি হওয়ার পর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি…
 ২৭ মে ২০২৬    জাতীয়

মৃদু ভূমিকম্পে কাঁপল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল

মৃদু ভূমিকম্পে কাঁপল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আজ মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৪১ মিনিটের দিকে এই ভূকম্পন হয়। হঠাৎ হওয়া এই কম্পনের ফলে সাধারণ…
 ২৬ মে ২০২৬    জাতীয়

সাভারে শিল্পাঞ্চলে ছুটি শুরু: বাড়তি ভাড়ায় নাজেহাল ঘরমুখো মানুষ

সাভারে শিল্পাঞ্চলে ছুটি শুরু: বাড়তি ভাড়ায় নাজেহাল ঘরমুখো মানুষ
পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় ছুটি শুরু হয়েছে। সোমবার দুপুরের পর থেকেই নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের ভিড় বাড়তে…
 ২৫ মে ২০২৬    জাতীয়

পশ্চিমবঙ্গে পশুর হাটে মন্দা ও কোরবানি নিয়ে আতঙ্ক

পশ্চিমবঙ্গে পশুর হাটে মন্দা ও কোরবানি নিয়ে আতঙ্ক
পবিত্র ঈদুল আযহা ঘনিয়ে আসলেও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পশুর হাটগুলোতে কেনাবেচা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কলকাতার উপকণ্ঠে অবস্থিত বিশাল ধুলাগড় গরুর হাটে গিয়ে দেখা গেছে,…
 ২৫ মে ২০২৬    আন্তর্জাতিক
ভুয়া নওমুসলিম তৈরির গডফাদার

ধর্ম ও আবেগকে পুঁজি করে ভাইরাল সিদ্দিকের কোটি টাকার প্রতারণা!

ধর্ম ও আবেগকে পুঁজি করে ভাইরাল সিদ্দিকের কোটি টাকার প্রতারণা!
সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ভাইরাল সিদ্দিক’ নামে পরিচিত আবু বকর সিদ্দিকের অন্ধকার জগতের নানা তথ্য সামনে এসেছে। ধর্মের লেবাস এবং মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে তিনি গত কয়েক…
 ২৩ মে ২০২৬    অন্যান্য

ভ্যাপসা গরমে নাকাল জনজীবন: বৃষ্টির জন্য আরও কয়েক দিনের অপেক্ষা

ভ্যাপসা গরমে নাকাল জনজীবন: বৃষ্টির জন্য আরও কয়েক দিনের অপেক্ষা
গত কয়েক দিন ধরে অসহনীয় ভ্যাপসা গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল। গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া তাপপ্রবাহের কারণে বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষের দুর্ভোগ অনেক বেড়েছিল।…
 ২৩ মে ২০২৬    জাতীয়
প্রধানমন্ত্রী

রামিসার হত্যাকারীদের এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ শাস্তি

রামিসার হত্যাকারীদের এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ শাস্তি
মিরপুরের শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের বিচার দ্রুত শেষ করে এক মাসের মধ্যেই সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভবিষ্যতে কেউ…
 ২৩ মে ২০২৬    জাতীয়

শ্রীপুরে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার

শ্রীপুরে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে শাকিলা আক্তার নামের সাত মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় তার স্বামী রাজু আহাম্মদকে জিজ্ঞাসাবাদের…
 ২৩ মে ২০২৬    ঢাকা

হাম ও উপসর্গে মৃত্যু বেড়ে ৫০০ ছুঁই ছুঁই

হাম ও উপসর্গে মৃত্যু বেড়ে ৫০০ ছুঁই ছুঁই
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে এই রোগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৪৯৯ জনে…
 ২২ মে ২০২৬    জাতীয়

ফিলিস্তিনের বেদনাহত ইতিহাস

ফিলিস্তিনের বেদনাহত ইতিহাস
২০২৩ সালের পর এখন পর্যন্ত, গাজায় প্রায় ১ লক্ষ মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশাই শিশু ও নারী। আহত হয়েছে দেড় লাখের অধিক ফিলিস্তিনি। গাজার প্রায়…
 ২২ মে ২০২৬    বিশেষ নিবন্ধ

খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বিইআরসির কারিগরি কমিটির

খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বিইআরসির কারিগরি কমিটির
খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম গড়ে ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। বৃহস্পতিবার রাজধানীর কেআইবি…
 ২১ মে ২০২৬    জাতীয়