শফিকুল ইসলাম, কালিয়াকৈর:
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম, বাজার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে তীব্র বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৭ থেকে ৮ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ না মেলায় তীব্র সংকটে এ অঞ্চলের প্রায় ১০ লাখ মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিন ও রাতে গড়ে ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা করে লোডশেডিং হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ, সেখানে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে।
পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি ১ ও পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২০০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে মৌচাক, তেলিরচালা ও চন্দ্রা এলাকার হরিতকিতলা, আমতলা এবং মাইওয়ান মোড়সহ বিভিন্ন এলাকার গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল কারখানার চাহিদাই ১২০ মেগাওয়াটের বেশি। তবে জাতীয় গ্রিডে ঘাটতি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে সংকটের কারণে মাত্র ৬০ থেকে ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। এতে শিল্প, কৃষি, স্বাস্থ্য ও নির্মাণ খাতসহ দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। কালিয়াকৈর পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, চাহিদার মাত্র ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ মেলায় রেশনিং করে সংযোগ সচল রাখা হচ্ছে।
আজ শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে কালিয়াকৈর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায় এক করুণ চিত্র। বিদ্যুৎ না থাকায় ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী এবং তাদের স্বজনরা তীব্র গরমে হাতপাখা ও ফাইল দিয়ে বাতাস করছেন। হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সাদিয়া তানসিম আক্তার মুনমুন বলেন, “লোডশেডিংয়ের কারণে জরুরি বিভাগ প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। গর্ভবতী নারীদের সিজারিয়ান অপারেশন, রোগীদের নেবুলাইজার, আইসিইউর অক্সিজেন কনসেনট্রেটর, এক্স-রে ও প্যাথলজি পরীক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। প্রাক্কলিত জ্বালানির অভাবে জেনারেটরও সীমিত সময়ের বেশি চালানো যাচ্ছে না।”
বাবা নেই, মায়ের স্বপ্ন পূরণে ১৩ মাসে হাফেজ হলেন নাঈম!

এদিকে বিদ্যুৎ সংকটে মৌচাক ও চন্দ্রার হরিতকিতলা এলাকার বিভিন্ন গার্মেন্টসে শতাধিক তৈরি পোশাক কারখানার উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। বিজিএমইএর স্থানীয় নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে লাখ লাখ ডলারের রপ্তানি সমস্যা হবে এবং কারখানাগুলোতে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া গভীর নলকূপ ও পাম্প বন্ধ থাকায় সেচ দিতে পারছেন না আমন চাষিরা এবং বাসাবাড়িতে দেখা দিয়েছে তীব্র সুপেয় পানির সংকট। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কম্পিউটার ল্যাব বন্ধ থাকার পাশাপাশি রাতে অন্ধকারে এলাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এমনকি মসজিদে নামাজের সময়ও বিদ্যুৎ থাকছে না।
বিদ্যুতের এমন চরম ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ হয়ে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

















