গাইবান্ধা শহরের বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যার পর প্রকাশ্যে মদপান, ছিনতাই ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শহরের প্রধান কিছু পয়েন্টে অসামাজিক কাজের ধরণ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শহরের পোস্ট অফিস মোড়, স্টেডিয়ামের পেছন, কাচারি বাজার, কাউয়া চত্বর, সরকার পাড়া রেললাইন এবং নতুন ব্রিজ সংলগ্ন বাঁধের পাশে প্রতিনিয়ত মদের আড্ডা ও বিশৃঙ্খল আচরণ লক্ষ্য করা গেছে। সন্ধ্যার পর এসব জায়গায় বখাটেদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ পথচারীদের চলাচল বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ ছিল, এই মদের আড্ডাগুলোকে কেন্দ্র করেই এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। এর ফলে নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষরা সন্ধ্যার পর জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছিলেন। সচেতন মহলের মতে, মাদকের সহজলভ্যতার কারণে এলাকার তরুণদের একটি বড় অংশ এই বিপথে যাচ্ছে, যা পুরো সমাজের জন্য একটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দুষ্টের দমনে সাংবাদিকদের কলমকে তরবারির মতো ব্যবহারের আহ্বান

গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, শহরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালিয়েছে। অপরাধের ধরণ বুঝে অনেক এলাকায় নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। তিনি আরও জানান যে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নাগরিকদের কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য থাকলে দ্রুত থানায় জানানোর অনুরোধ করেছেন তিনি।
শহরের সচেতন নাগরিকরা অপরাধ দমনে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত পুলিশি টহল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, যথাযথ তদারকি ও সামাজিক সচেতনতাই পারে শহরের এই পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে। মূলত বখাটেদের উৎপাত বন্ধ না হলে সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।















