সাত বছরের দাম্পত্য জীবনে সন্তান না হওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অবহেলা, নির্যাতন ও মানসিক যন্ত্রণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন নরসিংদীর মাধবদীর ইতি। তার দাবি, চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, যথাযথ চিকিৎসা ও আইভিএফ পদ্ধতিতে মা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তার। এমনকি চিকিৎসার খরচ জোগাতে নিজের শখের জমি বিক্রি করতেও রাজি হয়েছিলেন তার বাবা। কিন্তু এরপরও স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মন গলাতে পারেননি তিনি। সংসার টিকিয়ে রাখতে আরও ছয় মাস সময় চেয়েও শেষ পর্যন্ত রক্ষা হয়নি সাত বছরের দাম্পত্য জীবন। গত তিন মাস ধরে স্বামীর সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই।
ইতি জানান, প্রায় সাত বছর আগে নরসিংদীর মাধবদীর রনি খানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর বেশ কয়েক বছর পার হলেও তাদের ঘরে সন্তান আসেনি। এ কারণে সন্তান নেওয়ার আশায় বিভিন্ন চিকিৎসকের পরামর্শ নেন তারা। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানান, সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে তার মা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আইভিএফ (ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) পদ্ধতি গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। এই চিকিৎসার জন্য প্রায় পাঁচ লাখ টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলেও জানান চিকিৎসকেরা।
ইতির ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে তার বাবা চিকিৎসার পুরো খরচ বহনের উদ্যোগ নেন। এমনকি প্রয়োজন হলে নিজের শখের জমি বিক্রি করতেও রাজি ছিলেন তিনি। কিন্তু স্বামীর পরিবার চিকিৎসার বিষয়ে আগ্রহ দেখায়নি। বরং চিকিৎসকেরা তাকে কখনো মা হতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন—এমন কথা বলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে অপমান ও মানসিকভাবে হেয় করতে থাকেন বলে অভিযোগ ইতির।
কুড়িগ্রামে হেযবুত তওহীদের নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

তিনি জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সংসার বাঁচাতে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের কাছে বারবার অনুরোধ করেছেন। অন্তত ছয় মাস সময় চেয়েছিলেন, যাতে চিকিৎসার মাধ্যমে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। কিন্তু তার সেই আকুতিতে কেউ সাড়া দেননি। উল্টো নানা ধরনের নির্যাতন ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে তাকে। এরপরও সংসার টিকিয়ে রাখার আশায় আরও প্রায় আড়াই মাস স্বামীর বাড়িতে থাকার চেষ্টা করেন তিনি।
একপর্যায়ে কোনো উপায় না পেয়ে থানার দ্বারস্থ হন ইতি। তবে সেখানেও প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ তার। তার দাবি, বিষয়টি নিয়ে সালিশের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক (এসআই) বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ না নিয়ে উল্টো তাকেই দোষারোপ করেন। তার অভিযোগ, পুলিশ কর্মকর্তা আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নিলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার বিরোধের সমাধান করে সংসারটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা সম্ভব ছিল।
ইতি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশের সঙ্গে কথা বলার পর স্বামীর পরিবারের আচরণে পরিবর্তন আসে। তার ধারণা, তাকে স্বামীর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে অন্য কোনো পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
তিনি জানান, একবার বাবার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পর স্বামীর বাড়িতে ফিরে দেখেন, তার স্বামীকে বাসা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে শ্বশুরের কাছে কান্নাকাটি করেন তিনি। এমনকি তার পা ধরে সংসারটি টিকিয়ে রাখার অনুরোধও জানান। স্বামীর কাছেও বারবার ফিরে যাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন। কিন্তু কারও কাছ থেকেই ইতিবাচক সাড়া পাননি বলে দাবি তার।
ইতির অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে স্বামীর সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই। একসঙ্গে বসবাসও হচ্ছে না। যে সংসারকে ঘিরে সাত বছর ধরে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই সংসার ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তার।
সন্তান না হওয়ার মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয়কে কেন্দ্র করে সাত বছরের দাম্পত্য জীবনের এমন পরিণতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ইতির করা অভিযোগের বিষয়ে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।
















