সাতক্ষীরার তালায় এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর হৃদয় সরদার (১৯) নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় মরদেহের পাশ থেকে একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছে। এতে পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে হতাশার পাশাপাশি দায়িত্বরত এক শিক্ষকের ভুলের কথা উল্লেখ করে মা-বাবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ওই শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হৃদয় সরদার তালা উপজেলার ধানদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ সারসা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের রইচউদ্দীন সরদারের ছেলে। সম্প্রতি প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। শনিবার দুপুরের দিকে পরিবারের সদস্যদের অজান্তে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দেন হৃদয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
এদিকে ঘটনাস্থলে মরদেহের পাশ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে নিজের হতাশা ও অনুশোচনার কথা তুলে ধরেছেন হৃদয়। পাশাপাশি পরীক্ষার ফলাফলের জন্য নিজেকে ক্ষমা করতে না পারার কথাও লিখেছেন তিনি।
কড়া নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালান

চিরকুটে মা-বাবার প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে হৃদয় উল্লেখ করেছেন, তার ভালো ফলাফলের জন্য মা-বাবা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তিনিও ভালো ফল করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকের ভুলের বিষয়টিও নিজের চিরকুটে উল্লেখ করেছেন তিনি। সবশেষে মা-বাবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন হৃদয়।
এ ঘটনায় পুরো দক্ষিণ সারসা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দা শেখ ইয়াসিন বলেন, খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো গ্রাম শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে। হৃদয় ভালো ছেলে ছিল। তার এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। মরদেহের পাশ থেকে একটি চিরকুটও পাওয়া গেছে।
পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক তদন্ত ও উদ্ধার করা চিরকুট পর্যালোচনা করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। থানায় অপমৃত্যুর মামলা (ইউডি) দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
















