শরীয়তপুরের জাজিরায় পিঠের ফোঁড়ার চিকিৎসা নিতে গিয়ে পল্লি চিকিৎসকের ইনজেকশন দেওয়ার পর সামিয়া আক্তার (৪) নামের এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত পল্লি চিকিৎসক পলাতক রয়েছেন।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের পাচুখার কান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সামিয়া একই ইউনিয়নের মেহেরখার কান্দি এলাকার মালয়েশিয়াপ্রবাসী হান্নান ফকির ও লায়লা আক্তার দম্পতির মেয়ে। পারিবারিক বিরোধের কারণে প্রায় ছয় মাস ধরে সামিয়ার মা-বাবা আলাদা থাকছেন। এ সময় সামিয়া তার দাদা-দাদির সঙ্গে থাকত। হান্নান ও লায়লা দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
প্রথমবার প্রকাশ্যে গণনা, লালনের মাজারের দানবাক্সে মিলল ৬ লাখ টাকা!

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সামিয়ার পিঠে ১০ থেকে ১২ দিন ধরে একটি ফোঁড়া হয়েছিল। বিভিন্ন ওষুধ খাওয়ানোর পর ফোঁড়াটি কিছুটা নরম হলে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে বিলাসপুর ইউনিয়নের পাচুখার কান্দি বাজারে পল্লি চিকিৎসক মনির মাদবরের ‘নুসরাত ফার্মেসি’তে নিয়ে যান তার দাদি কাঞ্চন মালা। সেখানে ফোঁড়ার চিকিৎসার জন্য মনির মাদবর শিশুটিকে পাঁচ থেকে ছয়টি ইনজেকশন দেন। এরপর সামিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনেরা তাকে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সামিয়ার দাদি কাঞ্চন মালা বলেন, “ইনজেকশন দেওয়ার পর আমার নাতনির অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আমি আমার নাতনির হত্যার বিচার চাই।”
অভিযুক্ত মনির মাদবর জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর ইউনিয়নের চোকদার কান্দি এলাকার তৈয়ব আলী মাদবরের ছেলে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
সরেজমিনে পল্লি চিকিৎসক মনিরের বাড়িতে গেলে তার স্ত্রী জানান, গতকাল থেকে তার স্বামী বাড়িতে নেই। শিশুটির মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়েও মানুষের মৃত্যু হয়, শিশুটির মৃত্যু কপালে ছিল।
এদিকে শিশুটির মৃত্যুর পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে। তবে ইনজেকশন দেওয়ার সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুর চিকিৎসাগত সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহমেদ বলেন, “প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, শিশুটির পিঠে একটি ফোঁড়া হওয়ায় সেটি অপসারণের জন্য তাকে এক পল্লি চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। সেখানে ইনজেকশন দেওয়ার পর শিশুটি অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তাকে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তদন্ত করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “শিশুটির দাদা এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযুক্ত পল্লি চিকিৎসককে গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
















