পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তুলতে জয়পুরহাটের কালাই পৌর এলাকায় বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১১টায় পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রশাসনের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্কাউট সদস্য, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
অভিযানে অংশ নিয়ে জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী বলেন, “দেশ আমাদের, দেশকে ভালো করার দায়িত্বও আমাদের। নিজের এলাকা পরিষ্কার রাখতে হলে অন্যের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না, সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে এগিয়ে আসতে হবে।”
তিনি বলেন, একটি এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকলে পরিবেশ যেমন সুন্দর হয়, তেমনি ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিও কমে। তাই শুধু একটি দিনের কর্মসূচি পালন করলেই হবে না, পরিচ্ছন্নতার এই কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চালিয়ে যেতে হবে।
গলাচিপায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকারের উৎসব, মৎস্য বিভাগের অভিযান নিয়ে প্রশ্ন

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তিন মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রতি শনিবার বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর উপজেলার হাটবাজার, সড়কের পাশের ঝোপঝাড়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং বসতবাড়ির আশপাশ পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কালাই পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে পৃথক দল গঠন করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্কাউট, বিডি ক্লিন, সামাজিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও এতে যুক্ত হয়েছেন।
আবদুল বারী বলেন, ময়লা-আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ে। তাই নিজের বাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের জায়গা পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করা, নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ধর্মীয় নেতাদের ভাতা, বৃক্ষরোপণ ও খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়; এটি প্রত্যেক নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সামাজিক সংগঠন ও গণমাধ্যমসহ সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মিণী নাজমা আরা বেগম, জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া, কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সল আহমেদ এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মাহবুবসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী, বিডি ক্লিন, স্কাউট ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন ফকির, যুগ্ম আহ্বায়ক মওদুদ আলম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম টুকু চৌধুরী, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সাজ্জাদুর রহমান সোহেল তালুকদার, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আলিম, জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমির তাইফুল ইসলাম ফিতা ও সেক্রেটারি খায়রুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।















