চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে সাংবাদিকদের ওপর বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর অব্যাহত অসদাচরণ, মারধর, লাঞ্ছনা ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রতিবাদে উপজেলার বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব সভা-সমাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মসূচির সংবাদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ফরিদগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিকরা ও ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাব।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক জরুরি প্রতিবাদ সভা থেকে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সাবেক ও বর্তমান কমিটির নেতাসহ স্থানীয় কর্মরত সাংবাদিকরা।
আক্কেলপুরে হেযবুত তওহীদের উঠান বৈঠকে উগ্রবাদীদের হামলার চেষ্টা, অনুষ্ঠান স্থগিত

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ফরিদগঞ্জে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কয়েকদিন আগে ফরিদগঞ্জ বাজারে প্রকাশ্যে ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি সহকারী অধ্যাপক মো. মহিউদ্দিনের ওপর হামলা চালায় কতিপয় বিএনপি কর্মী। পরে স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন হারুনুর রশিদের অনুরোধ ও হস্তক্ষেপে বিষয়টি সমঝোতার পর্যায়ে পৌঁছায়। তবে সেই রেশ কাটতে না কাটতেই গত মঙ্গলবার রাতে আবারও সাংবাদিক মো. মহিউদ্দিনকে গালাগালি ও খোঁজাখুঁজি করে তারা। এ সময় সেখানে উপস্থিত সাংবাদিক শিমুল হাছানকে মারধর করতে উদ্যত হয় তারা এবং প্রেসক্লাবভুক্ত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে সরাসরি হুমকি-ধমকি দেয়।
এ ছাড়া বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দালাল চক্রের তথ্য সংগ্রহ, উপজেলা পরিষদে টেন্ডার সংক্রান্ত সংবাদ কাভারেজ এবং থানা এলাকায় কাজ করতে গিয়ে একাধিকবার সাংবাদিকরা হুমকি, গালাগাল ও কুপিয়ে জখম করার হুমকির মুখে পড়েছেন।
সমাপনী বক্তব্যে প্রেসক্লাব সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, আমাদের সহকর্মীদের ওপর অব্যাহত হামলা, লাঞ্ছনা ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে বিএনপি ও তাদের সহযোগী সংগঠনের সব সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার অনির্দিষ্টকালের জন্য বর্জনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো। বুধবার (২৮ অক্টোবর) থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।
তিনি আরও জানান, ফরিদগঞ্জে বিএনপির কোনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকলেও দলের দায়িত্বে থাকা নেতারা যদি নিজ উদ্যোগে সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করেন এবং এসব ন্যক্কারজনক ঘটনার স্থায়ী সমাধান করতে পারেন, তবে প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে।
















