প্রচ্ছদ    বিশেষ নিবন্ধ   যোদ্ধাজাতির পাঠ: বাঁচতে হলে মরতে...

যোদ্ধাজাতির পাঠ: বাঁচতে হলে মরতে শিখো -এম আর হাসান

২ নভেম্বর ২০২৬ ০৪:৩৯ পিএম
বজ্রশক্তি ডেস্ক

দ্বিতীয় হিজরির রমজান মাস। মদিনা থেকে কিছুটা পথ পেরিয়ে মুসলিম বাহিনী যাত্রাবিরতি করেছে ‘বুয়ুতুস সুকয়া’ প্রান্তরে। সুকয়ার কূপে তাঁবু ফেলে রাসুলুল্লাহ (সা.) এক এক করে পুরো দলটিকে পরখ করছিলেন। যাঁদের বয়স কম কিংবা যুদ্ধেও উপযোগী নয়, তাঁদের বাছাই করে মদিনায় ফেরত পাঠানোই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। ঠিক সে সময় সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা.) খেয়াল করলেন, তাঁর ভাই বালক উমায়ের অন্যদেও আড়ালে গুটিসুটি মেরে নিজেকে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।

সা’দ জিজ্ঞেস করলেন, “কী ব্যাপার তোমার, ভাই?”
উমায়েরের চোখে তখন পানি। ধরা গলায় সে বলল, “আমার ভয় হচ্ছে, আল্লাহর রাসুল (সা.) যদি আমাকে দেখে ফেলেন, তবে বয়সে ছোট ভেবে আমাকে ফেরত পাঠিয়ে দেবেন। অথচ আমি অভিযানে বের হতে চাই, হয়তো আল্লাহ আমাকে শাহাদাত নসিব করবেন!” [আল-মুস্তাদরাক আলাস সহিহাইন, ইমাম হাকিম, হাদিস নং: ৪৩৩৪; আল-ইসাবাহ ফি তাময়িজিস সাহাবাহ, ইবনে হাজার আসকালানী]।

উমায়েরের আশঙ্কাই সত্যি হলো। সৈন্যদলটি ঘুরে দেখার সময় রাসুলুল্লাহর (সা.) চোখ এড়াল না; তিনি তাকে ছোট দেখে বাড়ি ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাধারণত ১৫ বছর পূর্ণ না হলে কাউকে যুদ্ধযাত্রার অনুমতি দিতেন না। কিন্তু রাসুলুল্লাহর সিদ্ধান্ত শুনে বালক উমায়ের এমন বুকফাটা কান্না জুড়ে দিল যে, শেষ পর্যন্ত রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে আর ফেরাতে পারলেন না, বাহিনীতেই রেখে দিলেন। উমায়ের এতটাই ছোট ছিল যে তার কোমরে তরবারি ঝুলাতে তার আগা মাটিতে ঠেকে যাচ্ছিল। ফলে তার হাঁটতে অসুবিধা হচ্ছিল। এটা দেখে সা’দ (রা.) ছোট ভাইয়ের তলোয়ারের চামড়ার বেল্টে একটা শক্ত গিঁট দিয়ে তা ঝুলিয়ে দিলেন, যাতে তরবারি একটু উঁচুতে থাকে আর দৌড়ানোর সময় পায়ে না বাঁধে।

আরও পড়ুন

আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ডাক -রিয়াদুল হাসান

আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ডাক  রিয়াদুল হাসান

এরপর বদরের রণাঙ্গনে যখন কুরাইশদের সঙ্গে মুসলিম বাহিনীর প্রচণ্ড লড়াই শুরু হলো, তখন ছোট্ট উমায়ের একটুও ঘাবড়ালো না। বরং সে তার ভাইয়ের পাশে পাশে থেকে মুসলিম বাহিনীর সম্মুখ সারিতে দাঁড়িয়ে তরবারি চালাতে লাগলো। যুদ্ধের একপর্যায়ে সে কোরায়েশদের পক্ষের শক্তিশালী যোদ্ধা আমর ইবনে আবদুল উজ্জার মুখোমুখি হয়। বয়সের ফারাক আর অসম লড়াই সত্ত্বেও সে একচুল পিছপা না হয়ে বুক চিতিয়ে লড়াই করতে থাকে। এক পর্যায়ে সে আমরের তরবারির আঘাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে [আস-সিরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ, ইবনে হিশাম; আত-তাবাকাতুল কুবরা, ইবনে সা’দ]। বদরের প্রান্তরে নিজের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে অর্জন করে সেই কাঙ্ক্ষিত শাহাদাত। বদরের প্রান্তরে শাহাদাতবরণকারী চৌদ্দজন সৌভাগ্যবানের তালিকায় মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সী এই উমায়ের (রা.)-ই ছিলেন সবার চেয়ে ছোট। 

আজকের এই নাগরিক সভ্যতায় বসে সেই বালকের আত্মত্যাগের কথা ভাবলে হয়তো আমরা শিউরে উঠব। মনে খটকা লাগতেই পারে- এতটুকু ছেলেকে এমন এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে নামিয়ে দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত ছিল? জীবনকে চিনে ওঠার আগেই কেন তার কোমরে তরবারি বেঁধে দেওয়া হলো? কিন্তু এটাই ছিল জীবনের নির্মম বাস্তবতা; মানব ইতিহাসের ভাঙা-গড়ার প্রতিটি বাঁকেই লুকিয়ে আছে এই অমোঘ সত্য।

প্রকৃতির দিকে তাকালে আমরা দেখি ডিম ফুটে ছানা বের হওয়া অবধি মা পাখি বুকের ওম দিয়ে তাকে আগলে রাখে। কিন্তু একটু ডানা গজাতেই শুরু হয় বাসা ছেড়ে বের করে দেওয়ার তাগিদ। ছানা খানিকটা বড় হতেই মা ঈগল বাসার নরম পাতা আর তুলো ফেলে দিয়ে সূঁচালো কাঁটাগুলো আলগা করে দেয়, যাতে বাসাটি আর আরামের না থাকে। একসময় গভীর খাদের ওপর থেকে মা ঈগল ছানাটিকে শূন্যে ফেলে দেয়। বাঁচার তাড়নায়, নিচে আছড়ে পড়ার ভয় থেকেই প্রাণপণে ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতে ওড়ার শক্তি পেয়ে যায় ছানাটি। একইভাবে বাঘিনী বা সিংহীও শাবককে বেশি দিন আগলে রাখে না; একটু শক্তপোক্ত হতেই সরাসরি শিকারের পাঠ দিতে শুরু করে। কারণ সন্তানকে চিরকাল আগলে রাখলে একসময় সে অন্যের সহজ শিকারে পরিণত হবে – প্রকৃতির সকল প্রাণি এই সত্য খুব ভালো করেই জানে। 

মানবসমাজের জন্যও এ সত্য চিরন্তন। মানুষ যেভাবে দেখে ও শেখে, তার স্বভাব গড়ে ওঠে ঠিক সেভাবেই। কুমোরের ঘরে বড় হয়ে ছেলেটি চেনে মাটির ঘ্রাণ, মাঝির সন্তান নদীকে বানিয়ে নেয় আজন্ম দোসর, আর চাষার ছেলে শেখে মাটির বুক চিরে ফসল ফলাতে। আর যে জাতির ব্রতই ছিল জমিন থেকে যাবতীয় অন্যায়-অবিচার নির্মূল করে আল্লাহর দ্বীন কায়েমের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, তাদের নারী, শিশু, বৃদ্ধ সকলেই যে রণাঙ্গনমুখী হবে- এটাই তো স্বাভাবিক। লড়াই তো কেবল প্রান্তরের সীমানায় আটকে থাকে না; কখনো তা নগরের ফটক ভেঙে অন্দরেও ঢুকে পড়ে। তখন ঘরের কোণে মায়ের কোলে বসে থাকা অবোধ শিশুরও নিস্তার মেলে না। তাই জাতির প্রতিটি সদস্যের যুদ্ধের পাঠ নেওয়া উম্মতে মুহাম্মদির কাছে কোনো শৌখিন বিলাসিতা ছিল না; তা ছিল সত্যদীন প্রতিষ্ঠার দায়বন্ধতা এবং টিকে থাকার অনিবার্য শর্ত। এ কারণেই আল্লাহ মো’মেনদের নির্দেশ দিয়েছেন “তাদের মোকাবিলার জন্য সাধ্যমতো শক্তি আর অশ্বারোহী বাহিনী প্রস্তুত রাখো…” (সুরা আনফাল ৮:৬০)। তাই এ জাতির জন্য সমরবিদ্যা (ডধৎভধৎব) কোনো পুঁথিগত বিদ্যা নয়, এটাই জীবনের লক্ষ্য অর্জনের একমাত্র উপায়। তাই তো ওমর (রা.) যখন ঘরে ঘরে মায়েদেরকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন, “সন্তানদের সাঁতার, তীরন্দাজি আর ঘোড়সওয়ারি শেখাও”। তিনি চেয়েছেন শিশুকালের দুর্বলতা ও ভীরুতাকে শৈশবেই ভেঙে ফেলার জোর চেষ্টা চালাতে। তাই বদর বা উহুদের ময়দানে কিশোরদের যুদ্ধে যাওয়ার যে ব্যাকুলতা, তা হঠাৎ করে আকাশ থেকে পড়েনি; বাড়ি আর মসজিদের উঠোনে বর্শা আর তীরন্দাজির মহড়া দেখতে দেখতেই জীবনের মানে তারা বুঝে নিয়েছিল। 

আমাদের আজকের রাষ্ট্রব্যবস্থায় অস্ত্র ধরার অধিকার সীমিত থাকে কেবল বেতনভুক্ত সামরিক বাহিনীর হাতে; বাকি গোটা সমাজ সেখানে পুরোপুরি বেসামরিক ও নিরস্ত্র। কিন্তু অতীতে কখনোই এমন ছিল না। নিজেদের অস্তিত্বের স্বার্থেই সাধারণ মানুষকে অস্ত্র হাতে নিতে হতো; আর সেই লড়াইয়ের প্রস্তুতিও শুরু হতো একেবারে শৈশব থেকেই।

 গ্রিসের স্পার্টা ও ‘আগোগে’র নির্মম প্রশিক্ষণ: স্পার্টান সমাজে কোনো ছেলে সাত বছরে পা দিলেই তাকে পরিবার থেকে সরিয়ে রাষ্ট্রীয় সামরিক শিবিরে নিয়ে যাওয়া হতো। হাড়কাঁপানো শীতে তাদের গায়ে থাকত স্রেফ একটি পাতলা চাদর। খালি পায়ে দৌড়াতে হতো রুক্ষ পাথুরে জমিনে। খাবার দেওয়া হতো এতই সামান্য যে পেট ভরত না। উদ্দেশ্য ছিল, তীব্র ক্ষুধার জ্বালায় টিকে থাকতে তারা যেন বুদ্ধি খাটিয়ে খাবার ছিনিয়ে আনতে শেখে। কিন্তু চুরি করতে গিয়ে কেউ হাতেনাতে ধরা পড়লে অসতর্কতার দায়ে পিঠে পড়ত চাবুকের নির্মম মার। অথচ সেই তীব্র যন্ত্রণাতেও মুখ দিয়ে টুঁ শব্দটুকু করার কোনো সুযোগ ছিল না। সাহসিকতা আর ক্ষিপ্রতা যাচাই করতে সেখানে একদল শিশুর বিরুদ্ধে আরেকদলকে রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে নামিয়ে দেওয়া হতো। শৈশবেই ব্যথার অনুভূতিকে এভাবে ভোঁতা করে দিয়ে তিলে তিলে তাদের গড়ে তোলা হতো দুনিয়ার সেরা ‘হপলাইট’ বা পদাতিক যোদ্ধা হিসেবে।

 ক্ষত্রিয় পরম্পরা ও যুদ্ধমুখী পাঠ: প্রাচীন ভারতে ক্ষত্রিয় সমাজের প্রতিটি সন্তানকে বড় করাই হতো যুদ্ধের ছাঁচে। সাধারণ যোদ্ধা তো বটেই, এমনকি রাজপুত্রদেরও রাজপ্রাসাদের বিলাসিতা ছেড়ে শৈশবেই চলে যেতে হতো গুরুর আশ্রমে। সেখানে রাজপুত্র আর সাধারণের কোনো ভেদ ছিল না; সবার শিক্ষার শুরুই হতো ধনুর্বিদ্যা, অসিচালনা, ঘোড়া নিয়ন্ত্রণ আর রথ চালানোর কঠিন কসরত দিয়ে। প্রাচীন মহাকাব্যগুলোর পরতে পরতেই ছড়িয়ে আছে এই বিদ্যাভ্যাসের প্রমাণ। রামায়ণে কিশোর বয়সেই রাম ও লক্ষ্মণকে গভীর অরণ্যে পাঠানো হয়েছিল ভয়ঙ্কর দানবদের বিরুদ্ধে কঠিন রণপরীক্ষায়। আবার মহাভারতে দেখা যায় মাত্র ষোলো বছর বয়সের অভিমন্যুকে, যিনি কুরুক্ষেত্রের দুর্ভেদ্য চক্রব্যূহে একা ঢুকে কৌরবদের বাঘা বাঘা মহারথীদের পর্যুদস্ত করে ফেলেছিলেন। ক্ষত্রিয় সংস্কৃতিতে শৈশব থেকেই রণক্ষেত্রকে সম্মানের সর্বোচ্চ জায়গা আর সম্মুখসমরে নিহত হয়ে ‘বীরগতি’ লাভ করাকে জীবনের পরম গৌরব হিসেবে তাদের অন্তরে গেঁথে দেওয়া হতো।

* জাপানের সামুরাই ও ‘বুশিদো’: যে বয়সে শিশুদের পুতুল নিয়ে খেলার কথা, সে বয়সেই সামুরাই পরিবারগুলোতে সন্তানদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হতো ‘বোকেন’ বা কাঠের তলোয়ার। পাঁচ-ছয় বছর বয়সেই শুরু হতো কঠোর নিয়মানুবর্তিতা। তাদের রক্তে মিশিয়ে দেওয়া হতো ‘বুশিদো’ বা যোদ্ধার নীতি- যেখানে সম্মানের চেয়ে বড় কিছু ছিল না। এমনভাবে তাদের গড়ে তোলা হতো, যাতে খোলা তরবারির সামনে দাঁড়িয়েও বুক না কাঁপে।

* প্রাচীন চীনের অনুশাসন ও রণপ্রস্তুতি: প্রাচীন চীনে অভিজাত যোদ্ধা বা ‘শি’ শ্রেণির সন্তানদের শৈশব থেকেই ‘ছয়টি মৌলিক বিদ্যা’র (ঝরী অৎঃং) তালিম নিতে হতো, যার প্রধান শর্তই ছিল দশ-বারো বছর বয়সে ধনুর্বিদ্যা ও রথচালনায় সিদ্ধহস্ত হওয়া। পরবর্তীকালে যুদ্ধরত রাজ্যসমূহের যুগে এবং ছিন ও হান সাম্রাজ্যে সেই ধারা গোটা সমাজে ছড়িয়ে পড়ে; সাম্রাজ্যের সুরক্ষায় কিশোর বয়স পেরোতেই প্রতিটি সক্ষম সাধারণ নাগরিকের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ ও সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়। পারিবারিক আরাম ছেড়ে কৈশোরেই রণক্ষেত্রের ধূলোবালি মাখার এই সংস্কৃতি থেকেই উঠে এসেছিলেন হান সাম্রাজ্যের কিংবদন্তি সেনাপতি হুও চবিং। মাত্র সতেরো বছর বয়সে মাত্র আটশো অশ্বারোহী নিয়ে তিনি গোবি মরুভূমির গভীরে দুর্র্ধষ যাযাবর শিয়ংনুদের ডেরায় হানা দেন এবং বিশ বছর পেরোনোর আগেই ঐতিহাসিক ‘হেক্সি করিডোর’ মুক্ত করে সাম্রাজ্যের সীমা বাড়িয়ে দেন। 

* মোঙ্গল ও স্তেপ অঞ্চলের যাযাবর রণকৌশল: মধ্য এশিয়ার মোঙ্গল সমাজে জীবন ও সমরবিদ্যা ছিল সমার্থক। হাঁটতে শেখার আগেই দুই-তিন বছর বয়সে শিশুদের ভেড়ার পিঠে বেঁধে দিয়ে ভারসাম্য ও লাগাম ধরার কসরত শুরু হতো, আর হাতে ধরিয়ে দেওয়া হতো কাঠ বা হাড়ের তৈরি ছোট কম্পোজিট ধনুক। পাখি ও কাঠবিড়ালি শিকারের মধ্য দিয়ে চলত শৈশবের সেই নিশানা সাধনা। দশ-বারো বছর হতে না হতেই তারা চলন্ত ঘোড়ার পিঠে দাঁড়িয়ে দুই হাত সম্পূর্ণ মুক্ত রেখে তীব্র গতিতে চতুর্দিকে নিখুঁত তীর ছুড়তে পারত। শিকারের ঐতিহ্যবাহী বার্ষিক মহড়া ‘নের্গে’ (ঘবৎমব)- যেখানে বিশাল স্তেপ জুড়ে শত মাইলব্যাপী পশু ঘিরে ফেলার জীবন্ত চক্রব্যূহ তৈরি হতো- কৈশোরেই তাদের ভেতরে ঢুকিয়ে দিত দলবদ্ধ রণকৌশল, শৃঙ্খলা ও নিখুঁত নজরদারির পাঠ। ফলে আলাদা করে তাদের সৈনিক বানানোর দরকার হতো না; স্তেপের সেই প্রতিটি শিশুই বেড়ে উঠত এক অজেয় ভ্রাম্যমাণ অশ্বারোহী বাহিনীর অংশ হয়ে।

প্রাচীন স্পার্টা থেকে শুরু করে মধ্যযুগের বহু সভ্যতায় টিকে থাকার একটাই শর্ত ছিল- শারীরিক শক্তি আর আপসহীন সামরিক শৃঙ্খলা। শৈশব থেকেই সেখানে সন্তানদের নামিয়ে দেওয়া হতো প্রতিকূলতার মুখোমুখি। রোদের উত্তাপ, শীতের কামড়, দীর্ঘ পথচলা কিংবা অনাহারের কষ্ট সহ্য করতে শিখিয়েই তাদের গড়ে তোলা হতো। প্রতিকূলতা জয় করার এই ব্যবহারিক পাঠই তাদের অপরাজেয় যোদ্ধা হিসেবে গড়ে তুলেছিল।

শৈশব থেকে প্রতিকূলতার এই কঠিন পাঠ পেয়েছিল বলেই বিশ্ব-ইতিহাসের পাতায় পাতায় এমন সব অবিশ্বাস্য তরুণ সেনাপতির দেখা মেলে, যাঁদের বয়স আর রণনৈপুণ্য আজও বিস্ময় জাগায়। মেসিডোনিয়ার আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট মাত্র ষোলো বছর বয়সেই কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন রাজ্য পরিচালনার ভার (৩৪০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ), আর আঠারোতে পা দিতে না দিতেই কায়রোনিয়ার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে গ্রিকদের পরাস্ত করে মেসিডোনিয়াকে এনে দিয়েছিলেন ঐতিহাসিক বিজয় (৩৩৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দ)। কার্থেজের হানিবল বার্কার গল্প তো আরও রোমাঞ্চকর; মাত্র নয় বছর বয়সে বাবার সাথে শপথ নিয়ে পা রেখেছিলেন যুদ্ধশিবিরে (২৩৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দ), আর কৈশোরের পুরোটা রণাঙ্গনে কাটিয়ে ছাব্বিশ বছর বয়সে আল্পসের বরফাবৃত চূড়া ডিঙিয়ে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিলেন খোদ পরাক্রমশালী রোমান সাম্রাজ্যের বুকে (২১৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দ)। আবার প্রাচ্যের মাটিতে মাত্র সতেরো বছর বয়সে এক দুঃসাহসী সামরিক অভিযান পরিচালনা করে সুদূর সিন্ধু ও মুলতান জয় করে নিয়েছিলেন তরুণ সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিম (৭১১–৭১২ খ্রিস্টাব্দ)।

হিন্দুস্তানের মসনদেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি- পিতার আকস্মিক মৃত্যুতে মাত্র তেরো-চৌদ্দ বছর বয়সে পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে কঠিন বিপর্যয়ের মুখে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত শক্ত করেছিলেন তরুণ আকবর (১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ)। প্রাতিষ্ঠানিক রণশিক্ষার কোনো সুযোগ না পেয়েও মাত্র সতেরো বছরের এক গ্রাম্য কিশোরী জোয়ান অব আর্ক যেভাবে শতবর্ষব্যাপী যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে ফরাসি বাহিনীকে নেতৃত্ব দিয়ে ইংরেজদের কবল থেকে নিজ দেশ ফ্রান্সকে মুক্ত করার পথ তৈরি করেছিলেন (১৪২৯ খ্রিস্টাব্দ), তা সমর ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। ইসলামের ইতিহাসেও দেখা যায়, মাত্র আঠারো-উনিশ বছর বয়সী তরুণ উসামা ইবনে যায়িদকে (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.) রোমানদের মতো প্রবল শক্তির বিরুদ্ধে পুরো মুসলিম সেনাদলের সর্বাধিনায়ক বানিয়েছিলেন (৬৩২ খ্রিস্টাব্দ / ১১ হিজরি), যাঁর পতাকাতলে উম্মাহর শীর্ষস্থানীয় ও জ্যেষ্ঠ সাহাবিরাও সাধারণ সৈনিক হিসেবে শামিল হয়েছিলেন।

শত শত বছর ধরে টিকে থাকা পূর্ব রোমান (বাইজেন্টাইন) সাম্রাজ্যের অহংকার ও দুর্ভেদ্য প্রাচীর ভেঙে মাত্র একুশ বছর বয়সে ঐতিহাসিক কনস্টান্টিনোপল- বর্তমান ইস্তাম্বুল বিজয়ের ইতিহাস লিখেছিলেন অটোমান সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদ আল-ফাতিহ (১৪৫৩ খ্রিস্টাব্দ)। তেমনি উত্তর ইউরোপের বরফে মোড়া রণাঙ্গনে সুইডেনের আঠারো বছরের তরুণ রাজা দ্বাদশ চার্লস নার্ভার যুদ্ধে রাশিয়ার সম্রাট (জার) পিটার দ্য গ্রেটের চার গুণ বড় বাহিনীকে স্রেফ রণকৌশলের জোরে তছনছ করে দিয়েছিলেন (১৭০০ খ্রিস্টাব্দ)। শৈশবের কঠোর রণশিক্ষা আর সামরিক শৃঙ্খলা ছাড়া এত অল্প বয়সে মানচিত্র বদলে দেওয়ার এমন দুঃসাহস কখনোই সম্ভব হতো না।

অথচ আজ সন্তান মানুষ করার নামে আমরা বেছে নিয়েছি এক আত্মঘাতী পথ। অতি আদরের ঘেরাটোপে আটকে রেখে সন্তানদের বাস্তব জীবনের রুক্ষতার মুখোমুখি হতে দিচ্ছি না; সাহসের জায়গায় অবচেতনেই ঢুকিয়ে দিচ্ছি ভয়। সামান্য হোঁচট খাওয়া, রোদে পোড়া, বৃষ্টিতে ভেজা কিংবা জীবনের ছোটখাটো চাপ সামলাতে না পেরে গড়ে উঠছে এক ভঙ্গুর, অতি-সংবেদনশীল প্রজন্ম। যে বয়সে বুক চিতিয়ে প্রতিকূলতার সঙ্গে যুঝতে শেখার কথা, সে বয়সে তাদের একটাই সবক দেওয়া হচ্ছে: সব বিপদ এড়িয়ে যাও, চোখ বুজে নিরাপদ দূরত্বে থাকো আর স্রেফ স্কুলের সিলেবাসটা শেষ করো। আমাদের কাছে ‘হিরো’ মানে আজ আর রণক্ষেত্রের কোনো অপরাজেয় নায়ক নয়, বড়জোর সিনেমার নায়িকার মনোরঞ্জনে ব্যস্ত এক চটুল প্রেমিক। শৌর্যকে অপ্রয়োজনীয় আর লড়াইকে নিছক সহিংসতা ভেবে এই যে অতিরিক্ত আগলে রাখা – এতে বীরত্ব তো দূরের কথা, আমরা সন্তানদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর মেরুদণ্ডটাই ভেঙে দিচ্ছি।

সন্তানদের এই অতিরিক্ত সুরক্ষার আড়ালেই লুকিয়ে আছে আজকের ভূরাজনীতির এক রূঢ় বাস্তবতা। পিছিয়ে পড়া দেশগুলো যখন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যুদ্ধবিমুখ ও আয়েশি করে তুলছে, পরাশক্তি কিংবা অস্তিত্ব বিষয়ে সচেতন প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো কিন্তু শক্তির নীতি থেকে একচুলও সরেনি। তারা ভালো করেই জানে- বীরভোগ্যা বসুন্ধরা। তাই চীন ও রাশিয়ার মতো পরাশক্তিগুলো ছাত্রজীবন থেকেই রাইফেল চালানো, মার্চিং আর ড্রোন পরিচালনার মতো সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করেছে। এমনকি ইসরায়েল, দক্ষিণ কোরিয়া বা সিঙ্গাপুরের মতো ছোট দেশগুলোও প্রতিটি তরুণকে নির্দিষ্ট মেয়াদে সেনাবাহিনীতে পাঠিয়ে অস্ত্র চালানো আর যুদ্ধের পাঠ নেওয়া আইন করে বাধ্যতামূলক রেখেছে।

অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সেনাবাহিনীতে যাওয়া বাধ্যতামূলক না হলেও, তাদের সমাজটাই গড়ে উঠেছে অস্ত্র আর শক্তির জোরের ওপর। সেখানে সাধারণ হাইস্কুলেই সরকারি খরচে সামরিক কায়দায় প্যারেড, নিয়মানুবর্তিতা আর অস্ত্র চালনা শেখানো হয়। এর সাথে যুক্ত হয়েছে তাদের উন্মুক্ত অস্ত্র সংস্কৃতি। সংবিধানে অস্ত্র রাখার অধিকার থাকায় পরিবারের হাত ধরেই শিশুরা ছোটবেলা থেকে শিকারে যায়, নিজের হাতে বন্দুক আর সেমি-অটোমেটিক রাইফেল চালাতে শেখে। ফলে পোশাকে বেসামরিক হলেও, এই পরাশক্তিগুলো ঘরের ভেতরেই প্রতিটি নাগরিককে যুদ্ধের জন্য তৈরি রাখে।

অথচ ভোগবাদী সংস্কৃতি আর চটুল প্রচারের মাধ্যমে বাকি দুনিয়ার তরুণদের চোখে আয়েশ, মাদকতা আর সস্তা বিনোদনের মোহ ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যে জাতি নিজের সন্তানদের লড়তে না শিখিয়ে ভীরু ও আপসকামী করে তোলে, পরাশক্তিগুলো খুব সহজেই তাদের মাটি, সম্পদ আর স্বাধীনতার ওপর ছড়ি ঘোরাতে পারে। কারণ শক্তি ছাড়া কোনো জাতি নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারে না; দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কোনো না কোনো পরাশক্তি তার কাঁধে এসে চেপে বসবেই।

প্রকৃতি, ইতিহাস কিংবা আজকের ভূরাজনীতি- সবখানেই সত্য একটাই: প্রতিকূল হাওয়ায় না উড়লে পাখির ডানায় জোর আসে না, ঝড়বৃষ্টি না সইলে গাছের শিকড় মাটির গভীরে নামে না। তাই ছোট ভাই উমায়েরের তরবারির খাপে বড় ভাইয়ের গিঁট বেঁধে দেওয়ার পেছনে কোনো অন্ধ আবেগ ছিল না, আর বালকের জোর করে যুদ্ধের ময়দানে নেমে পড়াও কোনো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ছিল না। বরং ওটাই ছিল উম্মাহর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চিরন্তন পথ- বাঁচতে হলে মরতে শিখো। দুনিয়ায় কেউ চিরকাল বাঁচে না। কিন্তু সত্যের জন্য জীবন দিয়ে মানুষ যেমন ইতিহাসে অমর হয়ে থাকে, তেমনি পরমাত্মার কাছেও পায় অনন্ত জীবন। তাদের শৌর্যকে সম্মান জানিয়ে খোদ সৃষ্টিকর্তাই ঘোষণা করেছেন: তাদের মৃত বলো না; তারা জীবিত এবং তাদের রবের তরফ থেকে রিজিকপ্রাপ্ত (সুরা ইমরান ১৬৯)।
[লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট; যোগাযোগ: ০১৭১১০০৫০২৫, ০১৬৭০১৭৪৬৪৩]
 

Photocard
টাইটেল সাইজ
লাইন স্পেস
অ্যাকশন
বামে বা ডানে সোয়াইপ করুন

যোদ্ধাজাতির পাঠ: বাঁচতে হলে মরতে শিখো -এম আর হাসান

যোদ্ধাজাতির পাঠ: বাঁচতে হলে মরতে শিখো -এম আর হাসান
দ্বিতীয় হিজরির রমজান মাস। মদিনা থেকে কিছুটা পথ পেরিয়ে মুসলিম বাহিনী যাত্রাবিরতি করেছে ‘বুয়ুতুস সুকয়া’ প্রান্তরে। সুকয়ার কূপে তাঁবু ফেলে রাসুলুল্লাহ (সা.) এক এক করে…
 ২ নভেম্বর ২০২৬    বিশেষ নিবন্ধ

আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ডাক -রিয়াদুল হাসান

আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ডাক -রিয়াদুল হাসান
আজকের দিনে সাধারণ মানুষের কাছে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি কিংবা জীবনযাত্রার হালচাল জানতে চাইলে অধিকাংশের মুখ থেকেই শোনা যাবে এক গভীর সংকটের বিবরণ। কেউ বলবেন অর্থনৈতিক…
 ২ নভেম্বর ২০২৬    বিশেষ নিবন্ধ

সৌদি-হুতি সংঘাত: কার স্বার্থে জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য, মূল্য দিচ্ছে কারা? -হাসান মাহদী

সৌদি-হুতি সংঘাত: কার স্বার্থে জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য, মূল্য দিচ্ছে কারা? -হাসান মাহদী
মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মানবিক সংকট। এই অঞ্চলে দশকের পর দশক ধরে সংঘাত ও যুদ্ধ চলমান। কখনো ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, ফিলিস্তিন, আবার…
 ২ নভেম্বর ২০২৬    বিশেষ নিবন্ধ

সরকার তুমি কার, জনগণের না আমলার? -কথক দা

সরকার তুমি কার, জনগণের না আমলার? -কথক দা
সরকার কি কেবল সরকারি কর্মচারীদের? সরকারি কর্মচারীরাই কি কেবল জনগণ? অন্যান্য শ্রমিকরা কি এদেশের সিটিজেন নয় নাকি তারা মানুষই নয়? -এই প্রশ্নগুলো পুরনো হলেও নতুন…
 ২ নভেম্বর ২০২৬    বিশেষ নিবন্ধ

‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ এর কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্বোধন

‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ এর কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্বোধন
ওবায়দুল হক বাদল:রাজধানী ঢাকায় অরাজনৈতিক ও অসাম্প্রদায়িক সামাজিক সংগঠন ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের শুভ সূচনা ও কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) বিকাল…
 ২ নভেম্বর ২০২৬    জাতীয়

আন্দোলন নয়, বিরোধী দলকে সংসদে এসে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান চিফ হুইপের!

আন্দোলন নয়, বিরোধী দলকে সংসদে এসে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান চিফ হুইপের!
বিরোধী দলকে রাজপথে আন্দোলনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদে এসে নিজেদের বক্তব্য ও দাবি তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেছেন, গণতান্ত্রিক…
 ২ নভেম্বর ২০২৬    জাতীয়

তোশকের নিচে হেরোইন রেখে ধর্মীয় নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ পুলিশের এএসআইয়ের বিরুদ্ধে!

তোশকের নিচে হেরোইন রেখে ধর্মীয় নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ পুলিশের এএসআইয়ের বিরুদ্ধে!
ভারতের পাঞ্জাবে এক ধর্মীয় নেতাকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) বিরুদ্ধে। বাড়িতে স্থাপন করা গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে…
 ২ নভেম্বর ২০২৬    আন্তর্জাতিক

ভারতে আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন অভিনেতা ইমরান খান!

ভারতে আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন অভিনেতা ইমরান খান!
ভারতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন বলিউড অভিনেতা ইমরান খান। সোমবার (২ নভেম্বর) বোম্বে হাইকোর্টের তিরস্কারের…
 ২ নভেম্বর ২০২৬    আন্তর্জাতিক

নোয়াখালীতে নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান, মজুত ৯৭.৬৯ বিলিয়ন ঘনফুট!

নোয়াখালীতে নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান, মজুত ৯৭.৬৯ বিলিয়ন ঘনফুট!
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় নতুন একটি গ্যাসকূপের সন্ধান পেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। সুন্দলপুর সাউথ-১ নামের এ কূপের দুটি জোনে মোট ৯৭…
 ২ নভেম্বর ২০২৬    চট্টগ্রাম

প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমান ৭ বার রক্ত দিয়েছেন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমান ৭ বার রক্ত দিয়েছেন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বেচ্ছায় রক্তদানে মানুষকে আরও বেশি উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, রক্তদানে শরীরের ক্ষতি হয়—এমন ভুল ধারণা…
 ২ নভেম্বর ২০২৬    জাতীয়

শাহরাস্তিতে চোরাই মোটরসাইকেলসহ যুবক গ্রেফতার

শাহরাস্তিতে চোরাই মোটরসাইকেলসহ যুবক গ্রেফতার
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে মোটরসাইকেল চুরি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ইমরান হোসেনকে (৩৬) চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার (১ নভেম্বর) শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশের একটি দল অভিযান…
 ২ নভেম্বর ২০২৬    চট্টগ্রাম

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে চিঠি!

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে চিঠি!
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ৩ হাজার ২৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে…
 ২ নভেম্বর ২০২৬    জাতীয়

শৈলকুপায় মুদি দোকানের পেছন থেকে ২৫ বস্তা বিএডিসি সার উদ্ধার

শৈলকুপায় মুদি দোকানের পেছন থেকে ২৫ বস্তা বিএডিসি সার উদ্ধার
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় অভিযান চালিয়ে একটি মুদি দোকানের পেছনের কক্ষ থেকে ২৫ বস্তা বিএডিসি সার উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার (১ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার…
 ২ নভেম্বর ২০২৬    খুলনা

করিমগঞ্জে সমাজসেবক শিহাব উদ্দিন ভূঁইয়ার স্মরণে ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

করিমগঞ্জে সমাজসেবক শিহাব উদ্দিন ভূঁইয়ার স্মরণে ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ অঞ্চলের বিশিষ্ট সমাজসেবক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শিহাব উদ্দিন ভূঁইয়ার স্মরণে এক ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১ নভেম্বর) বিকেল ৩টায়…
 ২ নভেম্বর ২০২৬    ঢাকা

বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধার প্রতিবাদে গাইবান্ধায় মানববন্ধন

বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধার প্রতিবাদে গাইবান্ধায় মানববন্ধন
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনকাজে বাধা দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গাইবান্ধায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার…
 ২ নভেম্বর ২০২৬    রংপুর