প্রচ্ছদ    বিশেষ নিবন্ধ   রসুল (সা.) ছিলেন সত্যের মূর্তপ্রতীক,...

রসুল (সা.) ছিলেন সত্যের মূর্তপ্রতীক, নায়েবে নবী দাবিদারদের চরিত্রের এ কি দশা! -ওবায়দুল হক বাদল

১১ অক্টোবর ২০২৬ ০১:২৭ পিএম
বজ্রশক্তি ডেস্ক

আমাদের শেষ নবী, আখেরি নবী রহমাতাল্লিল আলামিন হুজুরে পাক আহমদে মোস্তফা (সা.) ছিলেন সত্যের মূর্তপ্রতীক। তাঁর জীবদ্দশায় একটি মিথ্যা শব্দ উচ্চারণের নজির নেই। নিজের ব্যক্তিস্বার্থ তো অনেক দূরের কথা জাতির স্বার্থে, ইসলামের স্বার্থেও তিনি কখনো মিথ্যা বলেননি। এমনকি সত্য-মিথ্যার সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে চুপও থাকেননি। চুপ থাকলে নিজের লাভ হবে অথবা শত্রুর ক্ষতি হবে এমতাবস্থায়ও কখনো চুপ থাকেননি। নিজের ক্ষতি হবে জেনেও সত্যিটা তুলে ধরেছেন অকপটে। কারণ তিনি জানতেন যে, মিথ্যা দিয়ে কখনো সত্যকে প্রতিস্থাপন করা যায় না। 

রসুলের (সা.) আসহাবদের চরিত্রেও আমরা তেমনি ছাপ দেখি। সত্যের প্রশ্নে তাঁরা ছিলেন অটল। কিন্তু ১৪০০ বছর পরে এসে নবীর উত্তরসূরী নায়েবে নবী দাবিদার তথাকথিত এক শ্রেণির আলেমদের মিথ্যাচারিতা, গুজবপ্রবণতা, কূটিলতা দেখে অবাকই হতে হয়। রসুলের (সা.) অনুসারীদের এমন কূট, মিথ্যাচারী হবার তো কথা নয়। রসুল (সা.) ও তাঁর আসহাবদের শিক্ষার ছিঁটেফোটাও যাদের মধ্যে রয়েছে তাদের মুখে নির্জলা মিথ্যাচার মানুষকে বিভ্রান্তিতে ফেলে দিচ্ছে, ইসলাম বিদ্বেষীদের ইসলামের পবিত্রতার দিকে আঙুল তোলার সুযোগ করে দিচ্ছে।  

  1. আমরা প্রায়ই দেখি, ওয়াজ-মাহফিলে এক আলেম আরেক আলেমের বিরুদ্ধে গিবত করছে, অবলিলায় কাফের-মুরতাদ ফতোয়া দিয়ে হত্যার রায় দিয়ে দিচ্ছে। মসজিদের মিম্বরে বসে এক আলেম আরেক আলেমের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করছে, গীবত করছে। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে, শত্রুকে পরাস্থ করতে, হেনস্থা করতে, ভিন্নমতকে দমন করতে হেন কূট পন্থা নেই যা তারা এপ্লাই কুণ্ঠিত হয়। 

    কুৎসা রটনা করে পরস্পরকে হেয় প্রতিপন্ন করতে তারা খুবই উৎসুক। অন্য ফেরকা-মাজহাবের লোকদের কাফের ফতোয়া দিয়ে হত্যা জায়েজ করার রায় দিতে তাদের এতটুকু বাধে না। মিথ্যা-বানোয়াট গুজব রটিয়ে তা ছড়িয়ে দিয়ে হুজুগ তুলে ফেৎনা তৈরি করতে তারা বেশ পটু। তৌহিদী জনতার নামে মব তৈরি করে সকল ফেৎনা জায়েজ করার উপায়ও তারা বের করে নিয়েছেন। এমনকি নিজেদের কওমের লোকেরা তাদের পরস্পরের কাছে নিরাপদ নয়। এসবকে আবার হেকমত বলে জয়েজ করে নিচ্ছে অনেকে।  
    যথাপুঙ্খানুপুঙ্খ লেবাসসর্বস্ব ওয়ায়েজ, মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসা শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ইসলামি দলের নেতাদের মুখে মিথ্যা আজগুবি গল্প বানিয়ে বলে তাকে অলৌকিকতার চাদরে আবৃত করে জনসম্মুখে প্রচার করতে দেখা যায়।

    আরও পড়ুন

    পুলিশকে রাতে একা চলাচলে নিষেধ, কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাপত্তা? – কথক দা

    পুলিশকে রাতে একা চলাচলে নিষেধ, কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাপত্তা? – কথক দা

    ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলো ধর্মকে তাদের রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে নিয়েছে। একেক দল ভোটের বিনিময়ে ভোটারের কাছে একেক রঙের একেক ক্লাসের জান্নাতের টিকিট বিক্রি করছে। 

    এই তথাকথিত লেবাসধারী এক শ্রেণির ভণ্ড আলেমদের হাত থেকে রেহাই পায়নি হেযবুত তওহীদও। ধর্মের কাজ করে বিনিময় নেওয়াকে আল্লাহ হারাম করেছেন; গোপন করে রাখা এই সত্যকে কোরআন হাদিস থেকে তুলে ধরায় আধাজল খেয়ে তারা নেমেছে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে। যদিও তাদের মুখোশ উন্মোচন করা ছিল আল্লাহর অভিপ্রায়। 

    তাদের মুখোশ উন্মোচিত হওয়ায় তারা হেযবুত তওহীদকে প্রতিপক্ষের জায়গায় দাঁড় করিয়ে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে লেগেছে। হেযবুত তওহীদকে আদর্শিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে তারা এমন এমন ডাহা মিথ্যা প্রচার করতে শুরু করে যা হেযবুত তওহীদ বলে না, করে না; যা হেযবুত তওহীদের আকিদা নয়। 

    অপপ্রচারের কিছু নমুনা তুলে ধরা হলো- হেযবুত তওহীদ কালো কাফন পরিয়ে দাফন করে। হেযবুত তওহীদ ইহুদিদের দালাল। হেযবুত তওহীদ খ্রিস্টানদের থেকে টাকা পায়। হেযবুত তওহীদ পর্দা করে না। হেযবুত তওহীদ নামাজ পড়ে না। হেযবুত তওহীদের ইমমা নবী দাবি করেছেন ইত্যাদি ইত্যাদি ডাহা মিথ্যা প্রচার করে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে হেযবুত তওহীদকে বাজেভাবে উপস্থাপনের হেন প্রচেষ্টা তারা চালিয়ে আসছে। 

    হেযবুত তওহীদকে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের সামনে বাতিল ফেরকা হিসেবে প্রমাণ করতে উঠে পড়ে লেগেছে তারা। কখনো মসজিদে-মসজিদে, পাড়ায়-পাড়ায় বেনামে মিথ্যা তথ্য সম্বলিত হ্যান্ডবিল প্রচার করে সাধারণ মানুষকে হেযবুত তওহীদের উপর ক্ষেপিয়ে তুলছে। কখনো কখনো প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে সোস্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য, গুজব ছড়িয়ে হেযবুত তওহীদের চরিত্র হরনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

    * অপপ্রচারের কিছু নমুনা: 

    ১. মাদারীপুরের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আলগী উচ্চ বিদ্যালয়ের ইসলাম শিক্ষা বিভাগের শিক্ষক স্কুলের মডেল টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নীকে নিয়ে মিথ্যাচার করে প্রশ্নপত্র জালিয়াতি করে। ‘হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম বায়াজীদ খান পন্নী’ নিজেকে নবী দাবি করেছেন এমন মিথ্যাচার প্রশ্নপত্রে যুক্ত করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনে বিদ্বেষ ঢোকানোর অপচেষ্টা চালান। যদিও তার মুখে দাড়ি, মাথায় টুপি। পরবর্তীতে তার নামে মামলা করা হলে আদালত তাকে দণ্ডিত করেন এবং তিনি এজলাসে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। 

    ২. ভারতের কেরালা রাজ্যের একটি সম্প্রদায়ের একটি নামাজের দৃশ্যে দেখা যায়, একজন নারী পুরুষদের নামাজে জামাতের ইমামতি করছেন। সেখানে একজন পুরুষ মুসল্লির জায়গায় হেযবুত তওহীদের এমামে মাথা কেটে এডিট করে বসিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ছবিটি হেযবুত তওহীদের বলে সোস্যাল মিডিয়ায় প্রচার করে ভাইরাল করে শফিকুল আলম নামের একজন আলেম। 

    ৩. ফরিদপুরে একটি আবাসিক হোটেল থেকে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অভিযোগে ৩০ নারী-পুরুষকে আটক করে পুলিশ। সংবাদটি কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সেই ছবি ডাউনলোড করে ‘আবাসিক হোটেল থেকে অসামাজিক কার্যকলাবের অভিযোগে হেযবুত তওহীদের নারী গ্রেফতার’- এই বলে হুদহুদ মিডিয়া নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে গুজব ছড়ায় আলেম নামধারী গোষ্ঠীটি। পরবর্তীতে ফ্যাক্টচেকাররা প্রকৃত সত্য উদঘাটন করেন।

    ৪. ভারতের একটি অশ্লীল ভিডিওর স্ক্রিনশট নিয়ে হেযবুত তওহীদের এমামের নামে সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয় মুফতী উবায়দুর রহমান হুযাইফী নামের একজন মাওলানা। পোস্টটি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়। এতে লক্ষ লক্ষ মানুষ হেযবুত তওহীদের এমামকে নিয়ে বিভ্রান্ত হয়। যদিও পরবর্তীতে বিভিন্ন মিডিয়া ও ফ্যাক্ট চেকারদের বদৌলতে প্রমাণিত হয় বিষয়টি ছিল গুজব। 

    লেবাসধারী ঐ গোষ্ঠীটি হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে এমন সব জঘন্য ধরনের গুজব সৃষ্টি করে সেগুলোকে সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে মানুষের মনে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা করে আসছে। এগুলোকে দীনের কাজ মনে করে তাদের লেবাসধারী রুহানি শিক্ষার্থীরা এগুলো লাইক, কমেন্ট, শেয়ার করে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এভাবেই তারা সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের ঈমানি সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগিয়ে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলছে। এতে  প্রায়ই সফল হচ্ছে তারা। হেযবুত তওহীদকে গুণতে হচ্ছে কড়া মাশুল। সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ তাদের অপপ্রচারে বিশ্বাস করে প্রায়ই হেযবুত তওহীদের সদস্যদের উপর হামলা চালাচ্ছে। শত শত বার আক্রান্ত হয়েছে নিরপরাধ হেযবুত তওহীদ সদস্যরা। ৫ জন সদস্য শহীদ হয়েছে। অসংখ্যবার হেযবুত তওতহীদের সদস্যদের বাড়িঘর ভাংচুর, লুটপাট করে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিমের বাড়িতে ৪ বার হামলা করা হয়েছে। তাকে প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। 

    তথাকথিত আলেম নামধারী এই ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীটি প্রতিনিয়ত হেযবুত তওহীদের নামে কুৎসা রটিয়ে সাধারণ মানুষকে উস্কে দিয়ে হেযবুত তওহীদের সদস্যদের হেনস্থার চেষ্টা করে আসছে। বিভিন্ন জায়গায় তারা এই প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। পরবর্তীতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলে তারা ভুল স্বীকার করে মুচলেকা দিচ্ছে। এমন অসংখ্য ঘটনাও রয়েছে। 

    কুমিল্লায় ৩১ আগস্ট ২০১১, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ১০ অক্টোবর ২০২২ ও ১৭ জুন ২০২৪ তারিখে, গাজীপুরে ১০ অক্টোবর ২০১১ তারিখে, মেহেরপুরে ০১ অক্টোবর ২০১২ তারিখে, মেহেরপুরে ২৪ আগস্ট ২০১৯ তারিখে, নেত্রকোণায় ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে, কুড়িগ্রামে ২৪ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে, মাদারীপুরে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে, ময়মনসিংহে ১৪ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে, খুলনায় ০৪ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে, পঞ্চগড়ে ১৫ মে ২০২১ তারিখে, ঝালকাঠিতে ১৫ মে ২০২১ তারিখে, লালমনিরহাটে ১৫ মে ২০২১ তারিখে, খুলনায় ২১ জুলাই ২০২১ তারিখে, কুষ্টিয়ায় ২১ জুলাই ২০২১ তারিখে, চট্টগ্রামে ২২ জুলাই ২০২১ তারিখে,  নোয়াখালীতে ০৭ অক্টোবর ২০২১ তারিখে, চট্টগ্রামে ১৯ মার্চ ২০২২ তারিখে, ঝিনাইদহে ২৪ মে ২০২২ তারিখে, লক্ষ্মীপুরে ১৩ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে, কুমিল্লায় ১৪ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে, সিরাজগঞ্জে ১৪ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে, ঢাকার আশুলিয়ায় ১৩ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে, সাভারে ১৮ জুন ২০২৪ ও ২৩ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে,  ফেনীতে ১৮ জুন ২০২৪ তারিখে, নোয়াখালীতে ১৮ জুন ২০২৪ তারিখে, পাবনায় ১৮ জুন ২০২৪ তারিখে, চাঁদপুরে ১৮ জুন ২০২৪ ও ১৯ জুন ২০২৪ তারিখে, ঢাকার উত্তরায় ০৩ জুন ২০২৪ তারিখে সংগঠনের প্রচারকার্য চালানোর সময় হেযবুত তওহীদের সদস্যদেরকে হেনস্থা করা হয়। এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হরে তারা ক্ষমা চেয়ে এমন বেআইনি কাজ আর করবেনা মর্মে থানায় মুচলেকা দেয়। 

    যে রসুলের (সা.) উত্তরসূরি দাবি করা এই তথাকথিত আলেমরা হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যাচার, অপপ্রচার, গুজব রটনা করে বেড়াচ্ছে সেই রসুলের (সা.) সততার নিদর্শনগুলো কি তারা জানে না? তারা এসব করে আসলে কি প্রমাণ করতে চায়? 

    রসুলে পাক (সা.) কেমন সততা অবলম্বন করতেন তার একটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরছি। 
    আপনারা সকলেই অবগত রয়েছেন যে, মারিয়া আল কিবতিয়ার গর্ভে নবীজি হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়েছিল। পিতৃপুরুষ হযরত ইব্রাহিম (আ.) এর নাম অনুসারে তিনি তাঁর শিশুপুত্রের নাম রেখেছিলেন ইব্রাহিম। মাত্র দুই বছর বয়সে ইব্রাহিম ইন্তেকাল করেন। যেদিন পুত ইব্রাহিমের মৃত্যু হয় সেদিন ঘটে এক বিস্ময়কর ঘটনা। 
    লোকেরা দেখতে পায়, ধীরে ধীরে কি এক অন্ধকার গ্রাস করে নিচ্ছে চারিদিক। অতঃপর আকাশের দিকে তাকিয়ে তারা দেখে, এক অন্ধকার ছায়া গ্রাস করে নিচ্ছে সূর্যকে। লোকেরা চিৎকার করে ওঠে। তারা বলে, নবীজির পুত্র মারা গিয়েছে। তোমরা দেখ, ইব্রাহিমের মৃত্যু সূর্যকে ঢেকে দিয়েছে।

    ঈমানদার ব্যক্তিরা বুঝতে ভুল করে কাফেরদেরকে বললো, নবীপুত্রের মৃত্যুতে প্রকৃতিতে অন্ধকার নেমে এসেছে। তবু কি তোমরা বিশ্বাস করবে না, তিনি আল্লাহর সত্যনবী?
    এঘটনা দেখে কাফেররাও আচানক হয়। অবিশ্বাসীদের কেউ কেউ বলে ওঠে, সত্যিই তিনি আল্লাহর নবী। অর্থাৎ এ ঘটনা দেখে কাফেররাও অনেকে রসুলের (সা.) উপর ঈমান আনতে শুরু করে। 

    সারা মদীনায় ছড়িয়ে পরলো, নবীপুত্রের মৃত্যুর কারণে সূর্য অন্ধকারে ডুবে গেছে। নিশ্চয়ই তিনি আল্লাহর সত্যনবী। মারিয়া আল কিবতিয়ার ঘরে শোকে আচ্ছন্ন নবীজি (সা.) এর কানেও পৌঁছে গেল এই কথা। তিনি তখন নিজ পুত্রের বিয়োগ বেদনায় কাতর। তথাপি তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং নিজেকে চাদরে আবৃত করলেন। অতঃপর তিনি মসজিদে গিয়ে সূর্যের আলো প্রকাশিত হওয়ার আগ পর্যন্ত দু’রাকাত সালাহ কায়েম করলেন। অতঃপর তিনি লোকদেরকে ডেকে বললেন, শোন হে লোক সকল! কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ হয় না। এগুলো আল্লাহর অসংখ্য নিদর্শনের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। কাজেই তোমরা যখনই গ্রহণ হতে দেখবে তখনই সালাহ কায়েম করবে। (সহীহ বুখারী: হাদিস নং- ৯৮৫)

    আল্লাহর নবী ছিলেন সত্যের মূর্তপ্রতীক। কখনো কোনো দিন একটিবারের জন্যও তার মুখ দিয়ে মিথ্যা শব্দ উচ্চারিত হয়নি। তিনি শুনলেন, লোকেরা তার পুত্রের মৃত্যুকে সূর্যগ্রহণের কারণ হিসেবে বর্ণনা করছে। যারা তাঁকে নবী হিসেবে বিশ্বাস করতো না, তাঁর জনম জনমের শত্রু ছিল তারাও ঈমান আনছে। এতে নিঃসন্দেহে এতে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, পরিবেশ তাঁর অনুকূলে যাবে, সমাজে তার অবস্থান আরো দৃঢ় হবে। কিন্তু তিনি জানতেন, তাদের এই বিশ্বাসের ভিত্তি মিথ্যা। তিনি তাঁর সাহাবিদের বললেন, আমার পুত্র মারা গিয়েছে আল্লাহর ইচ্ছায়। আর সূর্যেগ্রহণ আল্লাহ পাকের এক প্রাকৃতিক নিদর্শন। তোমরা এই দুই বিষয়কে একত্রিত করে লোকদের কাছে বর্ণনা করো না, আর তাদেরকে বিভ্রান্ত করো না। মিথ্যার উপর ভিত্তি করে তোমরা আমাকে কিংবা আমার পুত্রকে দেবতার আসনে বসিও না। আমি আল্লাহর সত্যনবী। কিন্তু মিথ্যার উপর ভিত্তি করে কখনো সত্য প্রতিষ্ঠিত হয় না। অতীতেও বহুবার সূর্যগ্রহণ ঘটেছে, ভবিষ্যতেও ঘটবে। এর সাথে কারো জন্ম বা মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক নেই। এমন ছিলেন রহমাতাল্লিল আলামিন। 

    যারা ধর্মের নামে গুজব ও হুজুগ সৃষ্টি করে, মিথ্যা রটিয়ে নিজেদের বৈষয়িক স্বার্থ উদ্ধার করতে চায়, প্রতিপক্ষকে হেনস্থা করতে চায়, ঘায়েল করতে চায় নিঃসন্দেহে নবী মুহাম্মদ (সা.) এর এই ঘটনা, তাদের জন্য শিক্ষা। যারা এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নেয় না তারা যতই লেবাসধারী হোক, যত ইবাদত বন্দেগি করুক, যত কামেল দাবি করুক, যত নায়েবে নবী দাবি করুক তারা রসুল (সা.) এর উম্মত হবারই যোগ্য নয়। তারা নিজেদের চরিত্রহীনতা দ্বারা ইসলামের নামে কালিমা লিপ্ত করছে, রসুলকে (সা.) ইসলাম বিদ্বেষীদের কাছে লজ্জিত করছে। তারা ইসলামের কেউ নয় তারা স্বার্থপর, ভণ্ড, প্রতারক। তারা আল্লাহর রসুল (সা.) বর্ণিত আসমানের নিচে সর্বনিকৃষ্ট জীব।

Photocard
টাইটেল সাইজ
লাইন স্পেস
অ্যাকশন
বামে বা ডানে সোয়াইপ করুন

সংস্কারের নামে মাদ্রাসা শিক্ষার স্বকীয়তা নষ্ট করা যাবে না: বিএমএ

সংস্কারের নামে মাদ্রাসা শিক্ষার স্বকীয়তা নষ্ট করা যাবে না: বিএমএ
সংস্কারের নামে মাদ্রাসা শিক্ষার নিজস্ব স্বকীয়তা নষ্ট করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ মাদ্রাসা অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) নেতারা। আজ রবিবার (১১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জাতীয়…
 ১১ অক্টোবর ২০২৬    জাতীয়

‘লড়াই চলবে, মোদি সরকারের পতন শিগগিরই’: ককরোচ জনতা পার্টি

‘লড়াই চলবে, মোদি সরকারের পতন শিগগিরই’: ককরোচ জনতা পার্টি
ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির নেতারা বলেছেন, তাদের লড়াই থামবে না; বরং…
 ১১ অক্টোবর ২০২৬    আন্তর্জাতিক

বাঙলা কলেজে একাডেমিক কাজে পরিবহন না পেয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

বাঙলা কলেজে একাডেমিক কাজে পরিবহন না পেয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা
রিপোর্ট: আশিকুর রহমান রকিব, ক্যাম্পাস প্রতিনিধিঃ সরকারি বাঙলা কলেজে তিনটি বাস থাকা সত্ত্বেও সিলেবাসভুক্ত বাধ্যতামূলক মাঠকর্ম পরিচালনায় পরিবহন-সুবিধা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভূগোল ও পরিবেশ…
 ১১ অক্টোবর ২০২৬    ঢাকা

পুলিশকে রাতে একা চলাচলে নিষেধ, কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাপত্তা? – কথক দা

পুলিশকে রাতে একা চলাচলে নিষেধ, কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাপত্তা? – কথক দা
একটি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী; যারা সাধারণ মানুষের রক্ষাকবচ, তারা নিজেরাই যখন সমাজে নিরাপদ নয় তখন সেই রাষ্ট্রের সার্বিক নিরাপত্তা অবস্থা কেমন তা সহজেই অনুমান করা…
 ১১ অক্টোবর ২০২৬    বিশেষ নিবন্ধ

রসুল (সা.) ছিলেন সত্যের মূর্তপ্রতীক, নায়েবে নবী দাবিদারদের চরিত্রের এ কি দশা! -ওবায়দুল হক বাদল

রসুল (সা.) ছিলেন সত্যের মূর্তপ্রতীক, নায়েবে নবী দাবিদারদের চরিত্রের এ কি দশা! -ওবায়দুল হক বাদল
আমাদের শেষ নবী, আখেরি নবী রহমাতাল্লিল আলামিন হুজুরে পাক আহমদে মোস্তফা (সা.) ছিলেন সত্যের মূর্তপ্রতীক। তাঁর জীবদ্দশায় একটি মিথ্যা শব্দ উচ্চারণের নজির নেই। নিজের ব্যক্তিস্বার্থ…
 ১১ অক্টোবর ২০২৬    বিশেষ নিবন্ধ

সামাজিক অপরাধ দূরীকরণে ধর্ম -শারমিন সুলতানা চৈতী

সামাজিক অপরাধ দূরীকরণে ধর্ম  -শারমিন সুলতানা চৈতী
  প্রকৃত ধর্মের শিক্ষা এমন এক শক্তি যা পুরো সমাজকে পরিবর্তন করতে পারে। আল্লাহর পক্ষ থেকে যে দীন এসেছে তার মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে মানুষের কল্যাণ…
 ১১ অক্টোবর ২০২৬    বিশেষ নিবন্ধ

রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে আনা হবে রিয়াদে নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ, ৪ জন আইসিইউতে

রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে আনা হবে রিয়াদে নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ, ৪ জন আইসিইউতে
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এ ঘটনায় আহত আরও চার বাংলাদেশি…
 ১১ অক্টোবর ২০২৬    জাতীয়

গরুর মাংসের দাম ২৫০ টাকা করার দাবি, সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ!

গরুর মাংসের দাম ২৫০ টাকা করার দাবি, সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ!
দেশে গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ২৫০ টাকায় নামিয়ে আনার দাবি জানিয়ে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে জীবিত গরু ও প্যাকেটজাত হালাল…
 ১১ অক্টোবর ২০২৬    জাতীয়

হে কাবার মালিক! মক্কা-মদিনাকে হেফাজত করো’: আজহারী

হে কাবার মালিক! মক্কা-মদিনাকে হেফাজত করো’: আজহারী
সৌদি আরবের পবিত্র ভূমিতে হামলা এবং ওমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী। পবিত্র নগরী মক্কা…
 ১১ অক্টোবর ২০২৬    আন্তর্জাতিক

ভয় পাইছে, ভয় পাইছে-সাক্ষীকে উদ্দেশ করে পলক!

ভয় পাইছে, ভয় পাইছে-সাক্ষীকে উদ্দেশ করে পলক!
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার শুনানি চলাকালে সাক্ষীকে উদ্দেশ করে ‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে’ মন্তব্য করেছেন সাবেক মন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এ সময় তাকে…
 ১১ অক্টোবর ২০২৬    জাতীয়

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি ‘ভারতের জন্য লজ্জার’: মুক্তি পেয়েই অভিজিৎ দীপকে

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি ‘ভারতের জন্য লজ্জার’: মুক্তি পেয়েই অভিজিৎ দীপকে
আটক থেকে মুক্তি পেয়েই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি ভারতের জন্য ‘লজ্জার’…
 ১১ অক্টোবর ২০২৬    আন্তর্জাতিক

শপথের পর এক টাকাও দুর্নীতি করিনি: আমির হামজা

শপথের পর এক টাকাও দুর্নীতি করিনি: আমির হামজা
সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর গত সাড়ে ছয় মাসে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ বা দুর্নীতি করেননি বলে দাবি করেছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির…
 ১১ অক্টোবর ২০২৬    নির্বাচিত

দিল্লিতে বিক্ষোভ, চেন্নাইয়ে মোদির রোড শো ও মেট্রো উদ্বোধন!

দিল্লিতে বিক্ষোভ, চেন্নাইয়ে মোদির রোড শো ও মেট্রো উদ্বোধন!
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভ ও ধরপাকড়ের মধ্যেই চেন্নাই সফরে গিয়ে রোড শো করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রোববার (১১ অক্টোবর) চেন্নাইয়ে পৌঁছে ১৩ হাজার কোটি টাকারও…
 ১১ অক্টোবর ২০২৬    আন্তর্জাতিক

ডিগ্রিধারী তরুণদের কর্মসংস্থানে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী

ডিগ্রিধারী তরুণদের কর্মসংস্থানে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী
উচ্চতর ডিগ্রিধারী তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ লক্ষ্যে…
 ১১ অক্টোবর ২০২৬    জাতীয়

‘অনুসরণ করো তাদের যারা বিনিময় প্রত্যাশা করে না’ -রাকীব আল হাসান

‘অনুসরণ করো তাদের  যারা বিনিময় প্রত্যাশা করে না’ -রাকীব আল হাসান
পবিত্র কোর’আনের একটি আয়াতে আল্লাহ বলেন, “অনুসরণ করো তাদের যারা তোমাদের কাছে বিনিময় প্রত্যাশা করে না এবং হেদায়াতে আছে।” [সুরা ইয়াসিন: ২১] কোর’আনের এই আয়াতটিকে আমাদের…
 ১১ অক্টোবর ২০২৬    বিশেষ নিবন্ধ