রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও শিষ্টাচার ভঙ্গের চেষ্টার অভিযোগ ওঠার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহীর শাহমখদুম বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভ্যর্থনা জানানোর সময় এ ঘটনা ঘটে। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊনি-১ শাখার উপসচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক আদেশে বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। তাঁর পরিবর্তে ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রেজাউল আলম সরকারকে। আদেশ পাওয়ার পর ওই দিন রাতেই রাজশাহী ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন ইউসুফ আলী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে রংপুরের কর্মসূচি শেষে সামরিক বিমানে করে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রাজশাহীর শাহমখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সফরসঙ্গীরা। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরের ভিআইপি ফটকের বাইরে উপস্থিত ছিলেন দলীয় নেতাকর্মী ও ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
গাজীপুরের বাসনে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জিএমপি কমিশনার, শান্তিপূর্ণ দুর্গোৎসব উদ্যাপনের আহ্বান

প্রটোকল অনুযায়ী, উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে একে একে হাত মেলাচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলীও তাঁর সঙ্গে হাত মেলান। অভিযোগ রয়েছে, এরপর তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করার চেষ্টা করেন। তবে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে সেই সুযোগ না দিয়ে সামনে এগিয়ে যান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রটোকলের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বিকেলে রাজশাহী ত্যাগ করে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পরপরই ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি নিয়ে অনলাইনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এর পরই সরকারি প্রটোকল ও শিষ্টাচার ভঙ্গের অভিযোগে বিভাগীয় কমিশনারকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও মন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী এক মন্ত্রী জানান, বিভাগীয় কমিশনার একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা। তাঁর সরকারি প্রটোকল সম্পর্কে জানার কথা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাত মেলানোর পর তাঁকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করায় বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার পরপরই তাঁকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয় বলে ওই মন্ত্রী দাবি করেন।
উল্লেখ্য, গত ২০ আগস্ট অতিরিক্ত সচিব মো. ইউসুফ আলীকে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছিল। দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাসের মধ্যেই তাঁকে ওই পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হলো।
তবে এ বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী বা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
















