ফরিদপুরের সালথায় প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে একটি ভাঙাচোরা সেতুর ওপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছিল। উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কাগদী বাজার সংলগ্ন এই সেতুটি প্রায় তিন যুগ আগে নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমানে এটি স্থানীয়দের জন্য এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত করুণ। এর রেলিংয়ের কিছু অংশ শূন্যে ঝুলে আছে, আবার অনেক জায়গায় কোনো রেলিংই নেই। বাজারের দিকের অংশে স্থানীয়রা বাঁশের কঞ্চি ও ডালপালা দিয়ে অস্থায়ী রেলিং তৈরি করেছেন। সেতুর প্লাস্টার খসে গিয়ে রড বেরিয়ে গেছে এবং সেগুলোতে মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। মাঝখানের পাটাতন ক্ষয়ে নিচে পড়ে যাওয়ায় সেখানে কাঠ দিয়ে কোনোমতে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঝের পিলারগুলো দেবে যাওয়ায় সেতুটি ঢেউয়ের মতো আকার ধারণ করেছে। পিলারের প্লাস্টার খসে গিয়েও রড বেরিয়ে পড়েছে। সেতুর উপরিভাগ খানাখন্দে ভরা থাকায় ছোটখাটো দুর্ঘটনা সেখানে প্রতিদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিকল্প কোনো পথ না থাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও বিভিন্ন ধরণের যানবাহন এই জরাজীর্ণ সেতুটি দিয়েই পারাপার হচ্ছিল। সেতুটি এতটাই সরু যে একটি ভ্যান পার হওয়ার সময় বিপরীত পাশের যানবাহনকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। কোনো ছোট গাড়ি পার হলেও পুরো সেতুটি থরথর করে কেঁপে ওঠে। স্থানীয়দের ভয়, যেকোনো সময় এটি ধসে পড়ে বড় কোনো বিপর্যয় ঘটতে পারে। তাই সেখানে দ্রুত একটি নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
নদীভাঙনে ছোট হচ্ছে বরিশালের মানচিত্র: বছরে বাস্তুহারা লক্ষাধিক মানুষ

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও কাগদী গ্রামের বাসিন্দা মো. হাবিবুর রহমান জানান, ১৯৮৮ সালের বন্যার পর এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এটি গত ১০ বছর ধরে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, অত্র এলাকার মানুষ সবসময় আতঙ্কে থাকেন কখন এটি ধসে পড়ে। বড় কোনো যানবাহন এই সেতু দিয়ে পার হতে পারে না। কেউ এই সেতু পার হলে মনে হয় তিনি নতুন জীবন পেলেন।
স্থানীয়রা জানান, কাগদী বাজার সংলগ্ন এই সেতুটি ব্যবহার করে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী স্কুল, মাদ্রাসা ও কিন্ডারগার্টেনে যাতায়াত করে। এছাড়া বাজার, মসজিদ, মন্দির, ভূমি অফিস ও ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়ার জন্য দুই পাড়ের মানুষের কাছে এটিই একমাত্র মাধ্যম। বিশেষ করে হাটের দিন কৃষিপণ্য নিয়ে বাজারে যেতে কৃষকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। মাঝেমধ্যে সরকারি কর্মকর্তারা এসে মাটি পরীক্ষা করে গেলেও নতুন সেতুর কাজ শুরু হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এর ওপর সেতুর গোড়ায় বাজারের বর্জ্য ফেলায় পরিবেশও দূষিত হচ্ছিল। কোনো কোনো সচেতন মানুষ বড় দুর্ঘটনা এড়াতে এই সেতুর ওপর দিয়ে যান চলাচল বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
সালথা উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবু জাফর মিয়া জানান, তিনি সেতুটির বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন এবং এটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। তিনি বলেন, সেতুর পাটাতন ও রেলিং খসে পড়েছে এবং এটি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। তিনি আরও জানান যে সেখানে একটি নতুন সেতু নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়া গেলেই দ্রুত নতুন সেতুর কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। বর্তমানে এলাকাবাসী এক অজানা আতঙ্ক নিয়ে প্রতিদিন এই সেতু পারাপার হচ্ছেন। তারা চান দ্রুত এই মরণফাঁদ অপসারণ করে একটি নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।

















