নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গিয়াস উদ্দিন (৪৮) ও আতিক উল্ল্যাহ (৫৫) নামের দুই ব্যক্তির ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে নাটেশ্বর বড় হাজী বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে দুই ভাই বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী রোজিনা আক্তার বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাইমুড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন একই বাড়ির মো. সোহাগ (৩০), মো. সবুজ (২৮), মো. বাবু (৩৫), আব্দুর রহিম (৪১), মো. আহাদ (৩৫), সোলেমান (৩২), শাহিনুর আক্তার (৪০) এবং রহিমা বেগম (৬০)। তারা সবাই নাটেশ্বর বড় হাজী বাড়ির বাসিন্দা।
অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তদের সাথে বাদীর পরিবারের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন সকালে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দলবদ্ধ হয়ে গিয়াস উদ্দিনের জমির সীমানার পিলার তুলে ফেলেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে সোহাগ ও তার সহযোগীরা দলবদ্ধ হয়ে অতর্কিত হামলা চালান। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র যেমন দা, ছেনি, লোহার রড ও লাঠি নিয়ে বাদীর স্বামী ও স্বজনদের ওপর চড়াও হন।
গলাচিপায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকারের উৎসব, মৎস্য বিভাগের অভিযান নিয়ে প্রশ্ন

আক্রমণকারীরা গিয়াস উদ্দিন ও আতিক উল্ল্যাহকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপ ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন। এ সময় তাদের বাঁচাতে আতিক উল্ল্যাহর স্ত্রী শাহানাজ আক্তার ছুটে এলে তার ওপরেও হামলা ও শ্লীলতাহানি করা হয়। এ সময় শাহানাজ আক্তারের গলায় থাকা ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদী রোজিনা আক্তার জানান, স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অবস্থার অবনতি হলে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে গিয়াস উদ্দিনের মাথায় ১৪টি সেলাই ও আতিক উল্ল্যাহর মাথায় ৮টি সেলাই দিতে হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।
এসব অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হলে অভিযুক্তদের একজন আকরাম হোসেন বাবু ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “তাদের জমিতে থাকা গাছ গিয়াস উদ্দিন কেটে নিয়ে গেছেন। এই বিষয়ে জানতে চাইলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়।” এ ছাড়া মামলার বিষয়টি তিনি অবগত আছেন বলেও জানান।
সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। থানা সূত্রে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ চলমান রয়েছে।
















