প্রাচীন স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন হিসেবে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কসবা গ্রামের ‘আল্লাহর মসজিদ’। নির্মাণের সঠিক সময় জানা না গেলেও স্থাপনাটিকে ঘিরে রয়েছে নানা লোককথা ও রহস্য। স্থানীয়দের বিশ্বাস, মসজিদটি নির্মাণ করেছে জিনেরা। তবে এর পক্ষে ঐতিহাসিক কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। স্থাপত্যশৈলী বিবেচনায় ধারণা করা হয়, মসজিদটি পঞ্চদশ শতাব্দীতে নির্মিত।
মসজিদটির নির্মাণকাল সম্পর্কে কোনো শিলালিপি পাওয়া যায়নি। ফলে এর সঠিক ইতিহাস এখনো অজানা। তবে প্রাচীন স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য এবং স্থানীয়দের মুখে প্রচলিত নানা কাহিনি মসজিদটিকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ বাড়িয়েছে।
মসজিদটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ৩৮ ফুট করে। দেয়ালগুলো প্রায় সাত ফুট পুরু। পাতলা ইট ও চুন-সুরকি দিয়ে নির্মিত এই স্থাপনার পূর্ব দেয়ালে রয়েছে তিনটি প্রবেশপথ। উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে রয়েছে একটি করে প্রবেশপথ। প্রতিটি প্রবেশপথ সরু ও উঁচু খিলানবিশিষ্ট। খিলানের ওপরের প্যানেলে রয়েছে ফুল ও বিভিন্ন নকশার অলংকরণ।
উত্তরায় টানা তৃতীয় দিনেও শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ!

নয়টি গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটির ভেতরে রয়েছে চারটি পাথরের স্তম্ভ। পশ্চিম দেয়ালে তিনটি মিহরাবের মধ্যে মাঝেরটি আকারে বড়। ছাদের চারপাশে থাকা কার্নিশগুলো চার কোণের স্তম্ভের সঙ্গে যুক্ত। স্থাপত্যশৈলীর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যে বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাট গম্বুজ মসজিদের সঙ্গে এর মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
মসজিদটির চারপাশে হাঁটার জন্য রয়েছে প্রশস্ত রাস্তা। কমপ্লেক্সের পূর্ব দিকে রয়েছে বিশাল একটি দীঘি। সেখানে নারী ও পুরুষের গোসল ও অজুর জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। নারীদের নামাজ আদায়ের জন্যও রয়েছে পৃথক ব্যবস্থা।
স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল সরদার, শাকিল খান ও তারেক আলী জানান, মসজিদটি নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নানা লোককথা প্রচলিত রয়েছে। এর প্রাচীন স্থাপত্য ও সৌন্দর্য দেখতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসেন। কেউ কেউ মানত করতেও আসেন। পাশাপাশি ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এখানে নিয়মিত ওয়াক্তের নামাজের পাশাপাশি নফল নামাজ আদায় করেন।
দীর্ঘ ৪৩ বছর ধরে মসজিদের খাদেম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল ফকির। তিনি বলেন, পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে শুনেছেন, প্রায় সাতশ বছর আগে জিনেরা মসজিদটি নির্মাণ করেছিল। তবে মসজিদের নকশা, গম্বুজ ও প্রবেশপথের সঙ্গে বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যশৈলীর মিল রয়েছে। ষাট গম্বুজ মসজিদটি হজরত খান জাহান আলীর (রহ.) আমলে নির্মিত।
বাবুল ফকির আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন। অনেকে পরিবার নিয়ে মানত করতেও আসেন। অনেক আগে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মসজিদটি সংস্কার করেছিল। তবে বর্তমানে স্থাপনাটির আবারও সংস্কার প্রয়োজন।
গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীম বলেন, উপজেলার প্রাচীন স্থাপনাগুলোর মধ্যে ‘আল্লাহর মসজিদ’ অন্যতম। স্থাপনাটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। শিগগিরই উপজেলার প্রাচীন স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করে সংস্কারের জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে অনুরোধ করা হবে।
















