দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে দুই জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিল এবং বাকি আট জনের শরীরে এই রোগের উপসর্গ ছিল। এই নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হামে মোট ৫৭৫ জন শিশুর মৃত্যু হলো। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯০ জন শিশু এবং উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ৪৮৫ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৩২ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৫৮ জন নিশ্চিত রোগী এবং ৬৭৪ জন সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত দেশে ৮ হাজার ৯৪৩ জন নিশ্চিতভাবে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে এবং উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে মোট ৬৮ হাজার ৫৭৯ জন।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সংক্রমণের এই ধরন এখনো বেশ উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত কয়েক মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে দেশে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৫৭টিরও বেশি শিশু মারা যাচ্ছে। বিশেষ করে মে মাসের মাঝামাঝি থেকে শেষ সপ্তাহে মৃত্যুর হার ঊর্ধ্বমুখী ছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের সব জেলায় এই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে।
সুন্দরবন, মোংলা বন্দর ও এলএনজি টার্মিনাল, বৃহস্পতিবার খুলনা সফরে প্রধানমন্ত্রী!

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই প্রাদুর্ভাবের পেছনে বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করেছেন। তাদের মতে, ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শিশুদের সময়মতো টিকা না দেওয়া, পুষ্টির ঘাটতি এবং ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কর্মসূচি না হওয়ার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যদিও গত এপ্রিল মাস থেকে দেশব্যাপী টিকাদান শুরু হয়েছে, তবুও সংক্রমণের ধরন এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
যুক্তরাজ্যের কেইল ইউনিভার্সিটির জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ নাজমুল হায়দার জানান, প্রাদুর্ভাবের গতিবিধি বোঝার জন্য মৃত্যুর হার একটি বড় সূচক। বর্তমানে বাংলাদেশে মৃত্যুর যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তাতে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ এখনো মেলেনি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেনের মতে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা দেওয়ার পুরনো নিয়মটি বজায় না রাখায় সংক্রমণের হার কমানো সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া শুধু টিকা দেওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং আক্রান্ত শিশুদের সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপরও জোর দিতে হবে।
আইইডিসিআর-এর সাবেক পরিচালক মাহমুদুর রহমান জানান, এমন মহামারির সময়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য ব্যাপক প্রচারণা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। সচেতনতার অভাব পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
ঈদের ছুটিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াত করছেন। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে এর ফলে হাম আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সুস্থ শিশুরা বেশি সংক্রমিত এলাকায় গিয়ে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ৫৪ হাজার ৭৯৮ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং ৫১ হাজার ৫১১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে আক্রান্তদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অধিদপ্তর জানিয়েছে।

















