ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে জাতীয় সংসদে কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার বাজেট অধিবেশনে বিরোধী দলীয় নেতার আনা একটি নোটিশের ওপর আলোচনায় তিনি ব্যাংকটির বিভিন্ন অনিয়ম ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে ব্যাংকটি দখলের সময় যে ধরন বা পন্থা অবলম্বন করা হয়েছিল, এখন তা হাতছাড়া হওয়ার সময় একই যাতনা অনুভূত হওয়াটাই স্বাভাবিক।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ের অনিয়মের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান যে ব্যাংকটির আরডিএস নামক প্রকল্পে নির্বাচনের খরচ জোগাতে নিয়ম বহির্ভূতভাবে আরও ১১ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া নাবিল গ্রুপকে এলসির বিপরীতে দেওয়া ৭০০ কোটি টাকা ঋণ এখনো ফেরত আসেনি। এই অর্থ কোনো একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী তহবিলে যাওয়ার গুঞ্জন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মন্ত্রী জানান যে নাবিল গ্রুপের মোট ১৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ দায়ের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হবে।
কর্মকর্তা নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়ে অনিয়মের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে নিয়ম ভেঙে ৯ হাজার কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এবং একটি বিশেষ রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে ৬ হাজার জনকে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১৩ হাজার কর্মীকে নিয়মবহির্ভূতভাবে একাধিক পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। সিএসআরের নামে ঢাকা-কক্সবাজার রুটের বিমানের টিকিটসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত ব্যয় ব্যাংক থেকে মেটানোর মতো বিষয়গুলোও তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানান।
ইরানের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা, নিহত ৮

ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে বর্তমানে একটি নির্দিষ্ট গ্রুপের হাতে ব্যাংকের ৮১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। তিনি ঘোষণা দেন যে সব শেয়ারহোল্ডারের প্রকৃত পরিচয় সামনে আনা হবে এবং বৈধ মালিকদের কাছে শেয়ার ফিরিয়ে দেওয়ার যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে ওঠা লক্ষ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগসহ বিদেশে অর্থ পাচারের প্রতিটি ঘটনার তদন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে ওঠা বিতর্কের জবাবে মন্ত্রী জানান যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তবে ভবিষ্যতে নতুন কোনো অভিযোগ এলে তা অবশ্যই তদন্ত করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যে ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং আর্থিক অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকারের অনড় অবস্থানের প্রতিফলন ঘটেছে।

















