গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি এলাকায় অবস্থিত ‘কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড কারখানায় প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় কর্তৃপক্ষ আজ কারখানার সকল শ্রমিকের জন্য ১ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে।
মঙ্গলবার(৭ জুলাই) সকালে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি এলাকায় অবস্থিত ‘কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড’ কারখানায় এ ঘটনাটি ঘটে।
অসুস্থ শ্রমিকদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের ধারণা শ্রমিকেরা ‘প্যানিক অ্যাটাক’-এ আক্রান্ত হয়েছেন।
টাঙ্গাইলে পরিত্যক্ত কূপে ছাগলছানা বাঁচাতে গিয়ে বাবা-ছেলেসহ চারজনের মৃত্যু

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, প্যানিক অ্যাটাক হলো কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ তীব্র ভয় ও আতঙ্কের অনুভূতি, যার সাথে শরীর কাঁপতে থাকা, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় করা এবং মৃত্যুর মতো ভয় যুক্ত থাকে। সাধারণত কয়েক মিনিটের মধ্যে এই লক্ষণগুলো চরম আকার ধারণ করে।
শ্রমিকদের দাবি, একটি ফ্লোরে হঠাৎই একে একে শ্রমিকেরা বমি, মাথা ঘোরা ও শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করতে শুরু করেন। অনেকেই মেঝেতে পড়ে যান। ঘটনার পর কারখানাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে
আকলিমা নামে এক শ্রমিক জানান, কিছুদিন আগে একই ফ্লোরে লিজা বেগম নামে এক শ্রমিক মারা যান। এবারও ওই ফ্লোরে অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
অসুস্থ শ্রমিক মাহবুব আলম বলেন, ‘কাজ করার সময় হঠাৎ মাথা ঘুরতে শুরু করে। এরপর পেটে ব্যথা ও বমি বমি ভাব দেখা দেয়। পরে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।’
অসুস্থ শ্রমিকদের মাওনা চৌরাস্তার আল-হেরা হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। আল-হেরা হাসপাতাল সূত্রে জানা যায় ৩৫-৪০ জন শ্রমিককে এই হাসপাতালে নেওয়া হয়। এদের মধ্যে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অনেকেই বাসায় চলে গেছেন। তবে আরও অসুস্থ শ্রমিক আসছেন।
আলহেরা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আবুল হোসাইন বলেন, অসুস্থ শ্রমিকদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বেশির ভাগ শ্রমিকের বমি ও মাথা ঘোরার উপসর্গ রয়েছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর আলম বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। সেখানে প্রথমে কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর আরও অনেকে অসুস্থ হন। এ ঘটনায় কারখানা কর্তৃপক্ষ আজ ছুটি ঘোষণা করেছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলমান।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঁইঞা বলেন, ঘটনার পরপরই অসুস্থ শ্রমিকদের দেখতে হাসপাতালে যাই। অসুস্থ শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

















