ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা) পরিচালিত ‘নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ (মউশিক) প্রকল্পের পরিচালক (যুগ্মসচিব) এস এম তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সম্প্রতি একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদকে চরম পক্ষপাতদুষ্ট, অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন তরিকুল।
গত ২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত উক্ত সংবাদটির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রকল্প পরিচালক এস এম তরিকুল ইসলাম বলেন, “প্রতিবেদনে আমার পদায়নকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অপপ্রচারের শামিল। আমি ২০তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের একজন পেশাদার সরকারি কর্মকর্তা। ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’ অনুযায়ী রাষ্ট্রের যেকোনো পদায়নে অর্পিত দায়িত্ব পেশাদারিত্ব ও সততার সাথে পালন করা আমার আইনি ও নৈতিক বাধ্যবাধকতা। একজন সিভিল সার্ভেন্টের নিয়মানুগ স্বাভাবিক বদলি ও পদায়নকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া বা রাজনৈতিক ট্যাগ দেওয়া পেশাদারি প্রশাসনের মূল কাঠামোগত নীতি ও নিরপেক্ষতার চরম অবমাননা।”
কর্মী হেনস্তা, বরখাস্ত কিংবা অনৈতিক সুবিধার অভিযোগ শতভাগ কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ইসলামিক ফাউন্ডেশন কিংবা এই হাজার কোটি টাকার বৃহৎ প্রকল্পে নিয়োগ, বদলি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কোনো একক ব্যক্তির ইচ্ছায় হয় না। সব সিদ্ধান্ত নির্ধারিত প্রশাসনিক বোর্ড প্রচলিত আইন-কানুন অনুসরণ করেই নেয়। উদাহরণস্বরূপ, খুলনার অপ্রীতিকর ঘটনাটি জানার পরপরই প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত কাজ বিঘ্নহীন করতে প্রচলিত বিধি মেনে সংশ্লিষ্ট ফিল্ড অফিসারকে বদলি করা হয়েছে। একটি স্বাভাবিক ও তদন্তাধীন প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে বিকৃত করে কর্মী হেনস্তার গল্প সাজানো অত্যন্ত দুঃখজনক ও অসাধু সাংবাদিকতা।”
প্রধানমন্ত্রীর নিকট হেফাজতের অন্যায্য দাবির তীব্র প্রতিবাদ ও প্রত্যাখ্যান হেযবুত তওহীদের

প্রেস কাউন্সিল আচরণ-সংহতির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “প্রকাশিত সংবাদে গণমাধ্যমের নীতিমালার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। কোনো নিরপেক্ষ ও সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যপ্রমাণ ছাড়া কেবল মনগড়া অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর সংবাদ প্রকাশ সংবাদপত্র নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন। ভিত্তিহীন তথ্যের ওপর নির্ভর করে সুদীর্ঘ পেশাগত সুনাম ও সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন করা প্রচলিত আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।”
সংশ্লিষ্ট পত্রিকা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট জানান, “আমরা ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট পত্রিকার সম্পাদককে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদলিপি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই প্রতিবাদলিপিটি প্রাপ্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের মূল পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে সমগুরুত্বে প্রকাশ করতে হবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদনটি প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায়, পেশাগত ভাবমূর্তি ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষার্থে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৯ ও ৫০০ ধারা (মানহানি), দেওয়ানি আইন এবং ‘দ্য প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট, ১৯৭৪’ অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”















