দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। উভয় পক্ষের মধ্যে আপসের কথা জানিয়ে জামিন চাওয়া হলেও আদালত বলেছেন, ‘এ ধরনের অনাপসযোগ্য মামলায় একটা আপসনামার ওপরে ভিত্তি করে জামিন দিলে সমাজে ন্যায়বিচার নিয়ে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হবে।’ ফলে আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে গাজী নজরুলকে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে গাজী নজরুলের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী মাহাবুবুর রহমান।
শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান, মামলার বাদী ও মরিয়ম আক্তারের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে আসামিদের সমঝোতা হয়েছে। বাদীপক্ষেরও জামিনে কোনো আপত্তি নেই বলে দাবি করেন তিনি। এ কারণে গাজী নজরুলের জামিন মঞ্জুরের আবেদন করা হয়।
ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবার কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

তবে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও দাখিল করা আপসনামা পর্যালোচনা করে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। আদালত বলেন, এ ধরনের অনাপসযোগ্য মামলায় শুধু একটি আপসনামার ভিত্তিতে জামিন দেওয়া হলে সমাজে ন্যায়বিচার নিয়ে বিরূপ ধারণা তৈরি হতে পারে।
এর ফলে গাজী নজরুল ইসলামকে আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।
এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর একই মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন আবেদন করা হয়েছিল। সেদিন আদালত মাকছুদাকে জামিন দিলেও গাজী নজরুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।
মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়। মামলা হওয়ার পরদিন গাজী নজরুলের চার দিনের এবং মাকছুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গাজী নজরুলের আরও এক দফা রিমান্ড মঞ্জুর হয়। দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
















