দেশে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি ও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টার পেছনে পলাতক স্বৈরাচারী শক্তি অর্থ সরবরাহ করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ কাজে দেশের আরেকটি পক্ষ যুক্ত রয়েছে দাবি করে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, দেশের কয়েকটি কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী শক্তি সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করছে এবং দেশের একটি পক্ষ সেই অর্থের সহায়তায় অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের টিকিট বিক্রির চেষ্টা করা পক্ষগুলোর সঙ্গে তাদের যোগসাজশ রয়েছে। এদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ডিসেম্বরে প্রথম ইউএনও সম্মেলন, ডিসি সম্মেলন জানুয়ারিতে!

নির্বাচনের আগে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তখন ফ্যামিলি কার্ড বন্ধ হয়ে গেলে মা-বোনেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে প্রচার করা হয়েছিল। এখন সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন ও কৃষক কার্ডের মতো কর্মসূচি চালু রাখা হবে কি না।
তিনি বলেন, এসব কর্মসূচি চালু রাখার পক্ষে জনগণের অবস্থান থাকলে আগামী পাঁচ বছরও বিএনপিকে সমর্থন দিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে—এমন রাজনৈতিক দলগুলোর বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের আগে শত শত মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। তাঁদের স্মরণে গত সোমবার ঢাকায় একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। বিএনপি একাত্তর ও চব্বিশের চেতনাকে ধারণ করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনে আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সরকার কাজ করছে।
তারেক রহমান বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে যেসব দল চব্বিশের আন্দোলনের চেতনা ধারণ করার কথা বলে, তাদের কোনো প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনাকে ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের আন্দোলন নিয়ে ওই দলগুলোর ভূমিকার সঙ্গে তুলনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
















