প্রচ্ছদ    জাতীয়   গভীর সংকটে জাতিসংঘ, উত্তরণে নেতৃত্ব...

গভীর সংকটে জাতিসংঘ, উত্তরণে নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ!

২৪ অক্টোবর ২০২৬ ০২:০১ পিএম
বজ্রশক্তি ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, রাজনৈতিক বিরোধ, বাজেট সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো নানা চ্যালেঞ্জে কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে জাতিসংঘ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সংস্থাটির সংস্কার, নতুন মহাসচিব নির্বাচন এবং প্রভাবশালী দেশগুলোর স্বার্থের দ্বন্দ্ব। এমন এক সংকটময় সময়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ। শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অবদান, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং আন্তর্জাতিক সংলাপ এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে সংকট উত্তরণে ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের সামনে। আজ ২৪ অক্টোবর, জাতিসংঘ দিবসে বিশ্ব সংস্থাটির সংকট, বাংলাদেশের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে।

জাতিসংঘের সংকট উত্তরণে বাংলাদেশের ভূমিকা কতটা?

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাত নিরসন, আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে জাতিসংঘ। ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংস্থাটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অন্যতম প্রধান মঞ্চ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর কার্যক্রমের পরিধি বাড়লেও বর্তমান বিশ্বপরিস্থিতিতে অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকর ভূমিকা রাখতে না পারার অভিযোগ উঠছে।

আরও পড়ুন

নোট অব ডিসেন্টে পরিবর্তন চাইলে বৈঠকে আসতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নোট অব ডিসেন্টে পরিবর্তন চাইলে বৈঠকে আসতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশেষ করে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে স্বার্থের সংঘাত, বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার জাতিসংঘের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। পাশাপাশি সংস্থাটির প্রশাসনিক সংস্কার, আর্থিক সংকট এবং নতুন মহাসচিব নির্বাচন নিয়েও চলছে নানা আলোচনা।

এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ। গত ২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থী খলিলুর রহমান ৯৯ ভোট পেয়ে সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে পরাজিত করেন। এরপর গত সেপ্টেম্বরে তাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন। ওই অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বক্তব্য দেন।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের এই দায়িত্ব আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আলোচনা ও সহযোগিতা বাড়ানো, বৈশ্বিক সংকট নিয়ে সমঝোতা তৈরি এবং জাতিসংঘের কার্যকারিতা বৃদ্ধির উদ্যোগে বাংলাদেশ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে সংকট উত্তরণে বাংলাদেশের ভূমিকা কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা, বড় শক্তিগুলোর অবস্থান এবং বিভিন্ন উদ্যোগের বাস্তবায়নের ওপর।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব ও অবদান

জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থানকে আরও দৃশ্যমান করেছে। জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশ, স্থলবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশ ও ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল এবং হাই রিপ্রেজেন্টেটিভের দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। অন্যদিকে, ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহা সংস্থাটির ৪০তম সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

এ ছাড়া জাতিসংঘে বাংলাদেশের বর্তমান স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানবাধিকারকর্মী আইরিন খান।

dhakapost

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, জাতিসংঘ বর্তমানে একটি সংকটময় সময় পার করছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব বাংলাদেশের জন্য যেমন সম্মানের, তেমনি বড় দায়িত্বেরও। এই সংকট থেকে উত্তরণে সফলতা এলে বাংলাদেশও তার কৃতিত্বের অংশীদার হবে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, আয়তন ও সামর্থ্যের দিক থেকে বাংলাদেশ তুলনামূলক ছোট দেশ হলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবদান রাখার ক্ষেত্রে দেশটির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় দেশের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির নির্বাচনে বাংলাদেশ যে অঙ্গীকার করেছিল, তার অন্যতম ছিল সংস্থাটির সংকট নিরসনে কাজ করা। নির্বাচনী প্রচারের সময় যুদ্ধ, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের ভূমিকার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছিল।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জাতিসংঘের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চ্যালেঞ্জ এবং জাতিসংঘের সংস্কার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে।

৮০ বছরের জাতিসংঘ, সদস্য এখন ১৯৩ দেশ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের পর বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের যুদ্ধ প্রতিরোধের লক্ষ্য নিয়ে ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে জাতিসংঘ। শুরুতে সংস্থাটির সদস্য ছিল ৫১টি দেশ। বর্তমানে সদস্যরাষ্ট্রের সংখ্যা ১৯৩।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তি, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, মানবাধিকার সংরক্ষণ, দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কাজ করছে সংস্থাটি। তবে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ এবং ভেটো ক্ষমতার প্রয়োগের কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংকটে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭৪ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করে। এরপর থেকে বহুপাক্ষিক কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছে দেশটি।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা, বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ তুলে ধরার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ।

dhakapost

এর আগে ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাজনীতিবিদ হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধির সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

নতুন মহাসচিব নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে জটিলতা

জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা। ফলে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন মহাসচিবের দায়িত্ব গ্রহণের কথা রয়েছে।

আঞ্চলিক রীতি অনুযায়ী, এবার লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে কাউকে নির্বাচিত করার প্রত্যাশা রয়েছে। তবে নতুন মহাসচিব নির্বাচন সহজ হচ্ছে না। প্রভাবশালী দেশগুলোর সমর্থন, আঞ্চলিক ভারসাম্য এবং নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের অবস্থান এই নির্বাচনকে জটিল করে তুলেছে।

প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা তালিকা অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন সাতজন। তাঁরা হলেন কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা গ্রিনস্প্যান, জাতিসংঘে গায়ানার স্থায়ী প্রতিনিধি ক্যারোলিন রদ্রিগেস-বিরকেট, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি, ইকুয়েডরের সাবেক রাষ্ট্রদূত ইভন আ-বাকি, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসা গারসেস, উগান্ডার ওলার ওতুনু এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লানা নুসেইবেহ। সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সাল শুরুতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও পরে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন।

নতুন মহাসচিব নির্বাচনের ক্ষেত্রে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পাঁচ দেশের প্রত্যেকেরই ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। ফলে কোনো প্রার্থী সাধারণ পরিষদের সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সমর্থন পেলেও নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের বিরোধিতার মুখে পড়লে তাঁর নির্বাচিত হওয়ার পথ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দুই মেয়াদেই করোনাভাইরাস মহামারি, বিভিন্ন যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা জাতিসংঘের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করেছে। তাঁর উত্তরসূরিকে এমন একটি সংস্থার দায়িত্ব নিতে হবে, যার সামনে একদিকে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে নিজেদের কার্যকারিতা ও গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখার চাপ রয়েছে।

বাজেট সংকট ও সংস্কারের চাপে জাতিসংঘ

জাতিসংঘের অন্যতম বড় সমস্যা এখন অর্থসংকট। সংস্থাটির বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা, শান্তিরক্ষা মিশন, মানবিক সহায়তা এবং উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন। কিন্তু সদস্যরাষ্ট্রগুলোর আর্থিক দায়বদ্ধতা, অর্থ পরিশোধে বিলম্ব এবং ব্যয় কমানোর চাপের কারণে সংকট আরও গভীর হচ্ছে।

ঐতিহ্যগতভাবে জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় অর্থদাতা যুক্তরাষ্ট্রও সংস্থাটির ব্যয় কমানো এবং কার্যক্রম পুনর্বিন্যাসের ওপর জোর দিচ্ছে। এর ফলে জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচি, প্রশাসনিক কাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের সংস্কার উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংস্থাটির কার্যক্রম আরও দক্ষ করা, প্রশাসনিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, সম্পদের যথাযথ ব্যবহার এবং সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ক্ষেত্রে সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের দায়িত্ব হবে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা এবং সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা।

তবে জাতিসংঘের সংস্কার কেবল প্রশাসনিক পরিবর্তনের বিষয় নয়। সংস্থাটির সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো, নিরাপত্তা পরিষদের ভূমিকা এবং বড় শক্তিগুলোর প্রভাব নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। এসব বিষয়ে অগ্রগতি অর্জন করতে হলে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন।

বিশ্বশান্তির সামনে একাধিক বড় চ্যালেঞ্জ

বর্তমান বিশ্বে একাধিক সংঘাত জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন বাড়িয়ে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত, গাজায় ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ, ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং ইয়েমেনে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া লড়াই আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এসব সংঘাতে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধের কারণে অনেক সময় জাতিসংঘের পক্ষে ঐকমত্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

এর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা, খাদ্যনিরাপত্তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করেছে। এসব চ্যালেঞ্জ কোনো একটি দেশের পক্ষে এককভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ, পারস্পরিক আস্থা এবং কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে খলিলুর রহমান সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংলাপ বাড়ানো এবং বিভিন্ন সংকট নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারেন। তবে সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদ এককভাবে যুদ্ধ বন্ধ করা, নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা কিংবা সব সদস্যরাষ্ট্রকে একই অবস্থানে নিয়ে আসার ক্ষমতা দেয় না। ফলে এই দায়িত্বে সফলতার জন্য কূটনৈতিক দক্ষতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সমর্থনও গুরুত্বপূর্ণ।

dhakapost

বাংলাদেশের সামনে সুযোগ, সঙ্গে বড় দায়িত্ব

জাতিসংঘের বর্তমান সংকট বাংলাদেশের সামনে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি করেছে। শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অবদান, বহুপাক্ষিক সহযোগিতার প্রতি সমর্থন এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ তুলে ধরার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার সেতুবন্ধন তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষ করে যুদ্ধ বন্ধে সংলাপ, মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলা, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষা এবং জাতিসংঘের কার্যক্রমে দক্ষতা বাড়ানোর মতো বিষয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তবে এই দায়িত্ব পালনে প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রাখা জরুরি। জাতিসংঘের সংকট বহু দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। তাই একক কোনো দেশের পক্ষে দ্রুত সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। বরং আলোচনার পরিবেশ তৈরি, মতপার্থক্য কমানো এবং ঐকমত্য গড়ে তোলার মাধ্যমে ধাপে ধাপে অগ্রসর হতে হবে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি খলিলুর রহমানও দায়িত্ব গ্রহণের পর সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও সংলাপকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। তাঁর মতে, বিশ্বের সব সমস্যার দ্রুত ও বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধান সম্ভব না-ও হতে পারে। কিছু সমস্যার সমাধানে সময় লাগবে, আবার কিছু সমস্যা দীর্ঘদিন অমীমাংসিতও থেকে যেতে পারে। তবে যেখানে সমঝোতার সুযোগ রয়েছে, সেখানে চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

সব মিলিয়ে, ৮০ বছরের বেশি সময় ধরে বিশ্বশান্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অন্যতম প্রধান মঞ্চ হিসেবে কাজ করা জাতিসংঘ এখন এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। যুদ্ধ, অর্থসংকট, রাজনৈতিক বিভাজন ও সংস্কারের চাপের মধ্যে সংস্থাটির ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা নির্ভর করছে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর। আর এই সংকটময় সময়ে সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন বাংলাদেশের জন্য যেমন আন্তর্জাতিক মর্যাদার বিষয়, তেমনি বড় কূটনৈতিক পরীক্ষাও। এখন দেখার বিষয়, সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সংকট উত্তরণে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

 

Photocard
টাইটেল সাইজ
লাইন স্পেস
অ্যাকশন
বামে বা ডানে সোয়াইপ করুন

শ্রীপুরে ১২০ পিস ইয়াবাসহ পুলিশ কনস্টেবল গ্রেফতার

শ্রীপুরে ১২০ পিস ইয়াবাসহ পুলিশ কনস্টেবল গ্রেফতার
গাজীপুরের শ্রীপুরে ১২০ পিস ইয়াবাসহ পুলিশের এক কনস্টেবলসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম…
 ২৪ অক্টোবর ২০২৬    সারাদেশ

গণমাধ্যমে প্রচারের জন্যই ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দেন: আইআরজিসি!

গণমাধ্যমে প্রচারের জন্যই ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দেন: আইআরজিসি!
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গণমাধ্যমে প্রচার পাওয়া এবং ইরানের জনগণের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই বারবার ইরানকে সামরিক হামলার হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছে দেশটির…
 ২৪ অক্টোবর ২০২৬    আন্তর্জাতিক

গলাচিপায় মা ইলিশ ধরার দায়ে ৩ জেলের এক মাসের কারাদণ্ড

গলাচিপায় মা ইলিশ ধরার দায়ে ৩ জেলের এক মাসের কারাদণ্ড
পটুয়াখালীর গলাচিপায় ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’ বাস্তবায়নে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অবৈধভাবে মা ইলিশ ধরার দায়ে চারজন জেলেকে আটক করা হয়েছে। পরে আদালত তিনজনকে এক…
 ২৪ অক্টোবর ২০২৬    বরিশাল

কাউনিয়ায় হত্যা মামলায় ইউপি সদস্যকে আসামি করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

কাউনিয়ায় হত্যা মামলায় ইউপি সদস্যকে আসামি করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি:রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের হরিচরণ লস্কর (কুটিরপাড়) এলাকায় একটি হত্যা মামলায় স্থানীয় ইউপি সদস্য হায়দার আলীকে আসামি করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন…
 ২৪ অক্টোবর ২০২৬    রংপুর

কুমিল্লায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটক ২৭৫

কুমিল্লায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটক ২৭৫
কুমিল্লায় মাদক কারবারি, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইবিরোধী বিশেষ অভিযানে ২৭৫ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত জেলার ১৮টি…
 ২৪ অক্টোবর ২০২৬    চট্টগ্রাম

বগুড়ায় হেযবুত তওহীদ ওলামা ফোরামের আলোচনা সভা ও ১৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন

বগুড়ায় হেযবুত তওহীদ ওলামা ফোরামের আলোচনা সভা ও ১৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন
বগুড়া প্রতিনিধি:বগুড়ায় হেযবুত তওহীদ ওলামা ফোরামের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় তওহীদের প্রকৃত শিক্ষা ও আদর্শের ওপর ভিত্তি করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান…
 ২৪ অক্টোবর ২০২৬    রাজশাহী

কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবে বাসসের পরিচালনা পর্ষদ সদস্য প্রকৌশলী রূপম রাজ্জাককে সংবর্ধনা

কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবে বাসসের পরিচালনা পর্ষদ সদস্য প্রকৌশলী রূপম রাজ্জাককে সংবর্ধনা
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) পরিচালনা পর্ষদের নবাগত সদস্য ও কুড়িগ্রামের কৃতী সন্তান প্রকৌশলী রূপম রাজ্জাককে সংবর্ধনা দিয়েছে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাব। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে…
 ২৪ অক্টোবর ২০২৬    রংপুর

নোট অব ডিসেন্টে পরিবর্তন চাইলে বৈঠকে আসতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নোট অব ডিসেন্টে পরিবর্তন চাইলে বৈঠকে আসতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিএনপির দেওয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমতসূচক নোটে পরিবর্তন আনতে চাইলে বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠকে এসে প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি ও…
 ২৪ অক্টোবর ২০২৬    জাতীয়

গভীর সংকটে জাতিসংঘ, উত্তরণে নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ!

গভীর সংকটে জাতিসংঘ, উত্তরণে নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ!
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, রাজনৈতিক বিরোধ, বাজেট সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো নানা চ্যালেঞ্জে কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে জাতিসংঘ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সংস্থাটির সংস্কার, নতুন…
 ২৪ অক্টোবর ২০২৬    জাতীয়

মন্ত্রী-এমপিদের কেনাকাটা অবৈধ টাকায়, তাই বোঝেন না মানুষের কষ্ট: পাটোয়ারী

মন্ত্রী-এমপিদের কেনাকাটা অবৈধ টাকায়, তাই বোঝেন না মানুষের কষ্ট: পাটোয়ারী
বাজারে নিত্যপণ্যের চড়া দামে সাধারণ মানুষ কষ্টে থাকলেও অনেক রাজনৈতিক নেতা সেই দুর্ভোগ উপলব্ধি করতে পারেন না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র…
 ২৪ অক্টোবর ২০২৬    নির্বাচিত

ভারত থেকে অবৈধ টাকা-অস্ত্র এলে সরকারের লাভ কী, প্রশ্ন জামায়াত আমিরের!

ভারত থেকে অবৈধ টাকা-অস্ত্র এলে সরকারের লাভ কী, প্রশ্ন জামায়াত আমিরের!
সরকারের ভালো উদ্যোগে সমর্থন এবং ভুল ও অনিয়মের সমালোচনা করার কথা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন,…
 ২৪ অক্টোবর ২০২৬    নির্বাচিত

‘মনে রেখো, আমি বাংলাদেশ’: হুমকির মুখে বডিবিল্ডার রুমি

‘মনে রেখো, আমি বাংলাদেশ’: হুমকির মুখে বডিবিল্ডার রুমি
শিশু নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নিতে চাপ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বডিবিল্ডার শাহজালাল রুমি। তবে এসব হুমকিতে…
 ২৪ অক্টোবর ২০২৬    জাতীয়

‘চুমু দেওয়া শিক্ষক ও রাজনৈতিক নেতার কাজ নয়’: রাশেদ খাঁন

‘চুমু দেওয়া শিক্ষক ও রাজনৈতিক নেতার কাজ নয়’: রাশেদ খাঁন
শিক্ষক ও রাজনৈতিক নেতাদের শিশুদের চুমু দেওয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। টঙ্গীর একটি মাদরাসায় সাত বছর বয়সী শিশুকে চুমু দেওয়ার…
 ২৪ অক্টোবর ২০২৬    জাতীয়

মাদ্রাসায় বলাৎকার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার: ধর্মমন্ত্রী

মাদ্রাসায় বলাৎকার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার: ধর্মমন্ত্রী
মাদ্রাসায় বলাৎকার ও অশালীন কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসেন কায়কোবাদ। একই সঙ্গে মাদ্রাসার মতো পবিত্র…
 ২৪ অক্টোবর ২০২৬    জাতীয়

এমন বডিবিল্ডার বাবা ঘরে ঘরে হোক’, বললেন তারেক রহমান!

এমন বডিবিল্ডার বাবা ঘরে ঘরে হোক’, বললেন তারেক রহমান!
সন্তানের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব তারেক রহমান। বডিবিল্ডার এক বাবার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেছেন, এমন…
 ২৪ অক্টোবর ২০২৬    নির্বাচিত