জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরসঙ্গী হওয়া নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমালোচনার জবাব দিয়েছেন আমজনতার দলের সদস্য সচিব মো. তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি দাবি করেছেন, তাকে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, আন্দোলনে অংশগ্রহণ, আটক ও গুমের অভিজ্ঞতা এবং মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মজা করে বলছিলেন, তারেক তুমি আবার যাবা আমার সঙ্গে। ওরা জ্বলতে থাকুক।’
স্ট্যাটাসে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সমালোচনা করে তারেক রহমান অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান সফরে যাওয়ায় তাকে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তার দাবি, বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়ার বিষয়টিও দল দুটি সহজভাবে নিতে পারছে না। তবে তাদের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিরোধ নেই; বরং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে মতপার্থক্য রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে স্ট্যাটাসে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেননি।
আইজিপি সহজ-সরল মানুষ, অসতর্কতাবশত বলে ফেলেছেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজের রাজনৈতিক জীবনের আর্থিক সংকটের কথাও তুলে ধরেন আমজনতার দলের এই নেতা। তিনি জানান, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেকেই শুভাকাঙ্ক্ষীদের আর্থিক সহযোগিতায় চলেছেন। তিনিও প্রবাসীদের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে খাবার, গাড়িভাড়া ও বাসাভাড়ার খরচ মেটাতেন। পরবর্তী সময়ে এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে নিজে কাজ করে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করেন। এ জন্য ফল ও মধুর ব্যবসাও করেছেন বলে স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন তিনি।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিবরণ দিতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, ২০১৮ সালের আন্দোলন, মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ভারতীয় পণ্য বর্জনের কর্মসূচির জন্য লিফলেট তৈরিতে তিনি ভূমিকা রেখেছেন। এসব আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে একাধিকবার আটক ও গুমের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
নিজের স্ট্যাটাসে আটক ও গুমের কয়েকটি ঘটনার তারিখও উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ রমনা থানায় প্রথম আটক হন তিনি। একই বছরের ১৪ জুলাই ডিজিএফআইয়ের হাতে গুম হওয়ার দাবি করেন। এরপর ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে এবং ২০২৪ সালের ২২ জুলাই আবারও ডিজিএফআইয়ের হাতে আটক হওয়ার কথা জানান তিনি। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন। এসব ঘটনার বিষয়ে স্ট্যাটাসে নিজের বক্তব্য তুলে ধরলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সেখানে উল্লেখ করা হয়নি।
মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলা যাবে না—এমন বক্তব্যের বিরোধিতা করেছিলেন তিনি। তার মতে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে বড় লড়াই। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর ভারত-সম্পর্কিত অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বিএনপিতে কারও পদায়নে জামায়াতে ইসলামী সন্তুষ্ট হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা ও অবস্থান নিয়ে আরও খোঁজখবর নেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান। পাশাপাশি জুলাইয়ের আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট মামলায় কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা কারাগারে থাকলে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাকে জামিন দেওয়ার দাবি করেন তিনি। তবে জামিনে মুক্ত থাকার পর দোষী প্রমাণিত হলে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারের পক্ষেও মত দেন এই নেতা।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিক দল, বিদেশে শাখা নেই—এমন দল এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সহযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী তাকে জাপান সফরের সফরসঙ্গী করায় তার প্রতিও ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
















