সংসার, সন্তান ও পারিবারিক দায়িত্ব সামলেও যে স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব, তার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার গৃহিণী রীতি খাতুন। দীর্ঘ ১৫ বছর পড়াশোনার বাইরে থাকার পর আবারও শিক্ষাজীবনে ফিরে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন তিনি। তাঁর এই সাফল্যে পরিবার-পরিজন থেকে শুরু করে পুরো এলাকায় আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
রীতি খাতুন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার নশিরপুর গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসএসসি পাসের পর পারিবারিক নানা কারণে তাঁর পড়াশোনায় ছেদ পড়ে। এরপর বিয়ে, সংসারের দায়িত্ব এবং কন্যাসন্তানের লালন-পালন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। তবে দীর্ঘ বিরতির পরও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন কখনো ছেড়ে দেননি রীতি।
একপর্যায়ে স্বামীর আন্তরিক উৎসাহ ও সহযোগিতায় আবারও পড়াশোনা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সংসারের যাবতীয় কাজ সামলানোর পাশাপাশি নিয়মিত পড়াশোনায় সময় দিতে থাকেন। একদিকে পরিবারের দায়িত্ব, অন্যদিকে পরীক্ষার প্রস্তুতি—দুই দিক সামলে শেষ পর্যন্ত অংশ নেন এইচএসসি পরীক্ষায়।
৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ, পুলিশ বক্সে আগুন!

সম্প্রতি ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, দীর্ঘ ১৫ বছরের বিরতি পেরিয়ে পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন রীতি। এমন ফলাফলে আনন্দে ভাসছেন তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। স্বজনদের পাশাপাশি এলাকার মানুষও তাঁর এই অর্জনে অভিনন্দন জানাচ্ছেন।
রীতির এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং সংসার ও সন্তান সামলে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাওয়া নারীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পারিবারিক দায়িত্বের কারণে যাঁদের শিক্ষাজীবন থেমে গেছে, তাঁদের কাছে রীতির গল্প নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাতে পারে।
স্থানীয়দের মতে, বয়স কিংবা দীর্ঘ শিক্ষাবিরতি স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হতে পারে না। প্রবল ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় এবং পরিবারের সহযোগিতা থাকলে যেকোনো সময় নতুন করে পড়াশোনা শুরু করে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। রীতি খাতুনের জিপিএ-৫ অর্জন যেন সেই কথাই আবারও প্রমাণ করল।
















