ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে নতুন করে সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অবশিষ্ট স্থাপনাগুলোতে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই হামলা চালাতে সক্ষম মার্কিন বাহিনী। এদিকে, ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং তেহরানের সঙ্গে চলমান আলোচনাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। এ সময় তিনি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর বিষয়ে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা ও সম্ভাব্য পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। এ তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের এমন এক বা দুটি পারমাণবিক স্থাপনা এখনো অবশিষ্ট রয়েছে, যেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এর মধ্যে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনও রয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে এসব স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে। এ বিষয়ে তাদের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
অর্ণবের রেশ কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে নতুন ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা!

ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তেহরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে শেষ পর্যন্ত কী হয়, তা দেখার বিষয়। তার দাবি, আলোচনা ভালোভাবে এগোলেও ইরানের ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখা কঠিন। কারণ, দেশটি আগে চুক্তিতে পৌঁছালেও পরবর্তী সময়ে অবস্থান পরিবর্তন করেছে। এবার তারা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে কি না, সেটিই দেখার বিষয়।
এর আগে ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। একই সময়ে ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে নতুন হামলার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
এদিকে, ইরানে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মধ্যপ্রাচ্যে বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম বাড়ানোর পাশাপাশি সম্ভাব্য পাল্টা হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটির নিরাপত্তাও জোরদার করা হচ্ছে। এ ছাড়া নতুন করে হামলা হলে ইরান যাতে মার্কিন ও মিত্রদেশগুলোর স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ওয়াশিংটন।
তবে ইরানে হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ট্রাম্প এখনো নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ থাকলে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার পথেও এগোতে আগ্রহী। অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন সংঘাত এড়াতে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।
এ পরিস্থিতির মধ্যে আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে জ্বালানির বাজার, তেলের দাম এবং মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে নির্বাচনের পর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো সম্ভাবনার পর্যায়েই রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির সামরিক প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে ইরানের অবশিষ্ট পারমাণবিক স্থাপনায় ১০ মিনিটের মধ্যে হামলা চালানোর সক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোয়, নাকি আবারও সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত নেয়।
















