একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে তিনি দুর্নীতি, বৈষম্য ও ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থ, সাম্য, ন্যায্যতা ও গণতন্ত্রকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। এ উপলক্ষে তিনি দেশের সব নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী বীর সেনানী ও দেশপ্রেমিক জনতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে এক অবিস্মরণীয় দিন। দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এই সন্ধিক্ষণে সিপাহি ও জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পথ সুগম হয়। সেই সময়ে দেশ নানা ধরনের অপশাসন, দুর্নীতি, নৈরাজ্য ও আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি ছিল। এমন পরিস্থিতিতে সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে আসে। এ সময় স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন এবং জনগণের সমর্থনে রাষ্ট্র পরিচালনা ও জাতীয় সংকট উত্তরণের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
গায়ের জোরে ক্ষমতায় আছে বিএনপি, বেশিদিন টিকতে পারবে না: নাহিদ ইসলাম

তিনি আরও বলেন, সিপাহি ও জনতার ঐতিহাসিক সংহতি ছিল স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত এক অভূতপূর্ব জাগরণ। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী সব সময় ঐক্য ও সংহতির পরিচয় দিয়েছে। একই চেতনার পুনর্জাগরণ ঘটে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও। ছাত্র-ছাত্রী, নারী-পুরুষ, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যসহ সর্বস্তরের মানুষের সুদৃঢ় ঐক্যের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ষোলো বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে বলে বাণীতে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতীয় জীবনে ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতির গুরুত্ব অপরিসীম। এর ধারাবাহিকতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন, বাক্স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তি, সামাজিক শান্তি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। বাংলাদেশকে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থেকে বের করে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ষড়যন্ত্র হয়েছে। গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং ফ্যাসিবাদী শাসনের কবলে পড়েছে দেশ। তবে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আবারও গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে।
এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর মতে, জাতীয় ঐক্য, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই একটি মানবিক, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
















