টেস্ট ক্যারিয়ারের মাত্র তৃতীয় ম্যাচেই ব্যাট হাতে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশের তরুণ ব্যাটার তৌহিদ হৃদয়। সিলেটের মাঠে অসাধারণ ধৈর্য, সাহসিকতা ও লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তিনি। দলের চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যে এক প্রান্ত আগলে রেখে ২০৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন এই ব্যাটার। তার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে একাধিক রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন তিনি।
ম্যাচের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য মোটেও স্বস্তিদায়ক ছিল না। মাত্র ২২ রানেই দলের দুই উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ব্যাট হাতে ক্রিজে আসেন তৌহিদ হৃদয়। অথচ এই ম্যাচের আগে চার ইনিংসে তার সংগ্রহ ছিল মাত্র ৫৪ রান। টেস্ট ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্য প্রমাণের বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে তিনি উপহার দেন ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাসে ভরপুর এক অসাধারণ ইনিংস।
একদিকে নিয়মিত বিরতিতে সতীর্থদের উইকেট হারানো, অন্যদিকে প্রতিপক্ষ বোলারদের গতিময় বোলিং—সব প্রতিকূলতা সামলে ব্যাটিং চালিয়ে যান হৃদয়। এর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার জেইডেন সিলসের একটি দ্রুতগতির লাফিয়ে ওঠা বল তার পাঁজরে আঘাত করে। শারীরিক যন্ত্রণা সত্ত্বেও দমে যাননি তিনি। বরং পরিস্থিতি বুঝে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি সুযোগ পেলেই খেলেছেন দৃষ্টিনন্দন আক্রমণাত্মক শট।
এমবাপেকে ঘিরে চীনে তোলপাড়, ক্ষমা চেয়েও কাটছে না বিতর্ক!

ইনিংসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়া গড়ে তোলেন হৃদয়। ওভারের শেষ দিকে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে স্ট্রাইক নিজের কাছে রেখে সতীর্থদের ওপর চাপ কমিয়েছেন। তার এই কৌশলী ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের ইনিংস নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়।
অষ্টম উইকেটে তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তোলেন গুরুত্বপূর্ণ শতরানের জুটি। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এই পজিশনে এটি তৃতীয় শতরানের জুটি। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দুজনের এই লড়াই দলকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে নেয়।
ব্যক্তিগত ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পাশাপাশি সিলেটের মাঠে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড গড়েছেন হৃদয়। একই সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে মাত্র তৃতীয় টেস্টেই তৌহিদ হৃদয়ের এমন অবিশ্বাস্য ইনিংস বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। দলের কঠিন সময়ে একাই লড়াই করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন এই তরুণ ব্যাটার।
প্রতিবেদন তৈরির সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ৩৪০ রান। তৌহিদ হৃদয় ২০৮ এবং তাসকিন আহমেদ ২ রান নিয়ে ক্রিজে ছিলেন।
















