গাজীপুর প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের জন্য আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় জাপানের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ‘হিরাটা প্ল্যানিং কোম্পানি লিমিটেডে’ সরাসরি চাকরির জন্য প্রথম জাপানি ভাষা দক্ষতা ব্যাচের মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বাহিনীর চারজন প্রশিক্ষিত ভিডিপি সদস্য।
জাপানি নিয়োগকর্তাদের মূল্যায়নে তাদের এই সাফল্য বাহিনীর দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বাহিনীর ৪৬তম সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনকালে ওই সদস্যরা ভাষা প্রশিক্ষণরত ছিলেন এবং অনুপ্রাণিত হয়ে দীপ্ত অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলেন।
জাপানি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক হিরাটা তোমোহিরো এবং মার্কেটিং ম্যানেজার হাসেগাওয়া মিনোরু জব ট্রেনিংয়ের দুই বাংলাদেশি প্রতিনিধিকে সঙ্গে নিয়ে গাজীপুরের সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমি পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা সরাসরি নিয়োগের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও ভাষাগত দক্ষতা যাচাই কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
কুড়িগ্রামে হেযবুত তওহীদের নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

একাডেমির শহীদ এলাহী বক্স অডিটোরিয়ামে আয়োজিত বিশেষ ভাইবা বোর্ডে জাপানি নিয়োগকর্তা ও আনসার বাহিনীর পরিচালক (প্রকল্প-প্রশিক্ষণ) মো. মইনুল ইসলামসহ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রশিক্ষণার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি কারিগরি জ্ঞান ও জাপানি ভাষায় যোগাযোগের দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়।
সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণকারী সদস্যরা ইতোমধ্যে জাপানি ভাষার এন-৫ পর্যায়ে তিন মাস এবং এন-৪ পর্যায়ে তিন মাসের প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদের বিশেষ উদ্যোগে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী এসব প্রশিক্ষণার্থীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং চাকরির সাক্ষাৎকারে অত্যন্ত কম সময়ে অধিকতর দক্ষতার সঙ্গে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে বিশেষ বিবেচনায় বাংলাদেশ আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে বর্তমানে ‘জাপানিজ ভাষা শিক্ষা ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ এবং ‘মোটর ড্রাইভিং অ্যান্ড মেকানিক্স’ বিষয়ে নিবিড় ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা, কারিগরি জ্ঞান ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের কারিগরি জ্ঞান, শৃঙ্খলাবোধ, কর্মনিষ্ঠা এবং বিশেষ করে জাপানি ভাষায় যোগাযোগের দক্ষতা, শিষ্টাচার ও ব্যবহারে সন্তোষ প্রকাশ করেন জাপানি প্রতিনিধিরা। তাদের যোগ্যতা ও প্রস্তুতিতে সন্তুষ্ট হয়ে চারজন প্রশিক্ষণার্থীকে তাৎক্ষণিকভাবে নিজ প্রতিষ্ঠানে সরাসরি চাকরির প্রস্তাব দেন তারা।
চাকরির প্রস্তাবপ্রাপ্ত চার কৃতী আনসার-ভিডিপি সদস্য হলেন ময়মনসিংহের হোসনে মোকাম্মেল জিহাদ, সাতক্ষীরার মো. ইমানুর রহমান খান, বগুড়ার মো. রিফাত আলী এবং ফেনীর রফিকুল ইসলাম রবিন। জাপানে সরাসরি চাকরির প্রস্তাব পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন চার সদস্য। এ অর্জনের জন্য তারা আনসার-ভিডিপি কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকের দূরদর্শী পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনায় আগামীতে বাহিনীর এক লাখ সদস্যকে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার একটি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা ও উপযোগিতা বিবেচনায় রেখে প্রশিক্ষণার্থীদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রত্যাশার আলোকে যুগোপযোগী কারিগরি প্রশিক্ষণ কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে।
পাশাপাশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যদের বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসনের মাধ্যমে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দালালমুক্ত অভিবাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাহিনীর নিজস্ব রিক্রুটিং এজেন্সি ‘প্রান্তিক শক্তি লিমিটেড’ এর অনুকূলে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স গ্রহণ করা হয়েছে। দক্ষতা উন্নয়ন, ভাষা শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সদস্যদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। জাপানের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে চার সদস্যের সরাসরি চাকরির প্রস্তাব পাওয়া এই বৃহৎ কর্মপরিকল্পনার উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু সদস্যদের জন্য সম্মানজনক বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগই সৃষ্টি হবে না, বরং তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির অবস্থান সুদৃঢ় করতেও বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
















