প্রচ্ছদ    বিশেষ নিবন্ধ   ঈমানহীন আমল অর্থহীন

ঈমানহীন আমল অর্থহীন

২১ জুন ২০২৪ ১২:০২ পিএম
বজ্রশক্তি ডেস্ক

রাকীব আল হাসান:
রসুলাল্লাহ (সা.) বলেছেন, “পাঁচটি স্তম্ভের উপর ইসলামের ভিত্তি স্থাপিত। (১) এ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ (হুকুমদাতা, বিধানদাতা, সার্বভৌমত্বের মালিক) নেই ও মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রসুল, (২) সালাত (নামাজ) কায়েম করা, (৩) যাকাত আদায় করা, (৪) হজ পালন করা এবং (৫) রমজান মাসের সিয়াম পালন করা।” [সহিহ্ বুখারী ৮, মুসলিম ১৬, তিরমিযি ২৬০৯, নাসায়ী ৫০০১, আহমাদ ৬০১৫]। এই হাদিস থেকে এটা স্পষ্ট হলো যে, ইসলামের প্রথম বুনিয়াদ বা স্তম্ভই হচ্ছে ঈমান এবং পরবর্তী স্তম্ভগুলো আমল। অর্থাৎ আগে ঈমান অপরিহার্য, তারপর আমল প্রয়োজন। বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবার জন্য কোর’আনের এই আয়াতগুলো লক্ষ করুন-

আল্লাহ বলেছেন, “যারা ঈমান আনে ও আমলে সালেহ করে তাদেরকে সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্য আছে জান্নাত যার নিম্নদেশে নহর প্রবাহিত।” (সুরা বাকারা-২৫)।

“হে ঈমানদারগণ, তোমাদের উপর সওম (রোজা) ফরজ করা হলো…” (বাকারা-১৮৩)।

আরও পড়ুন

যোদ্ধাজাতির পাঠ: বাঁচতে হলে মরতে শিখো -এম আর হাসান

যোদ্ধাজাতির পাঠ: বাঁচতে হলে মরতে শিখো  এম আর হাসান

“যারা ঈমান আনে, আমলে সালেহ করে, সালাত কায়েম করে এবং যাকাত আদায় করে তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের নিকট সওয়াব নির্ধারিত আছে।” (বাকারা-২৭৭)।

“যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে তাদের প্রতি আল্লাহ ওয়াদা করেছেন যে, তাদের জন্য রয়রেছ ক্ষমা ও মহা পুরস্কার।” (মায়িদা-৯)। “যারা ঈমান এনেছে, হেজরত করেছে, আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ করেছে আর যারা তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছে, সাহায্য-সহযোগিতা করেছে তারাই প্রকৃত মো’মেন। তাদের জন্য আছে ক্ষমা আর সম্মানজনক জীবিকা।” (আনফাল-৭৪)।
“তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও আমলে সালেহ করে, আল্লাহ তাদেরকে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তাদেরকে অবশ্যই পৃথিবীতে শাসনকর্তৃত্ব দান করবেন।” (সুরা নূর ৫৫)।

এমন আরও অনেক আয়াত রয়েছে যার উল্লেখ করতে গেলে লেখার কলেবর বড় হয়ে যাবে। যাইহোক, উপরোক্ত আয়াতগুলো থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, মহান আল্লাহ যেখানেই কোনো আমলের কথা বলেছেন সেখানেই সর্বপ্রথম ইমানের কথা বলেছেন। জান্নাতের প্রতিশ্রুতি, ক্ষমার প্রতিশ্রুতি, বিজয়ের আশ্বাস, কর্তৃত্ব দানের অঙ্গীকার, পুরস্কারের সুসংবাদ, উপদেশ, নির্দেশ এগুলো কেবল মো’মেনদেরকেই বলেছেন।

নবি করিম (সা.) এর নবুয়াতের ২৩ বছরের জীবনে ১৩ বছর শুধু ঈমানের, তওহীদের ডাক দিয়েছেন। আজকে এই ঈমানেরই সংকট। এটা নিয়েই এই লেখা।

এই মুহূর্তে পৃথিবীর প্রায় ১১ কোটি মানুষ উদ্বাস্তু যার মধ্যে ৮ কোটিরও বেশি মুসলমান। আমরা যেই মুহূর্তে ঈদ আনন্দে মেতে উঠলাম, ধুমধাম করে উৎসবের আয়োজন করলাম ঠিক তখন উদ্বাস্তু মুসলমানেরা নতুন কাপড় তো দূরের কথা সামান্য খাবারও অনেকের মুখে ওঠেনি। ফিলিস্তিনের মুসলমানদের জীবনে ঈদ আসেনি, কেবল আহাজারির শব্দে তাদের আকাশ, বাতাস ভারী হয়ে আছে। রক্তমাখা লাশ, বিকলাঙ্গ স্বজন আর ক্ষুধার্ত শিশুর কান্না যাদের প্রতিদিনের সঙ্গী তাদের জীবনে আর কিছুতেই আনন্দ বয়ে আনবে না। কেবল ফিলিস্তিনি মুসলমান নয়, সারা পৃথিবীতে আজ মুসলমানরা লাঞ্ছিত, অপমানিত, নির্যাতিত, নিগৃহীত। আমরা কিছুই করতে পারছি না। কিন্তু এই পরিণতি কেন? মহান আল্লাহ তো বলেছেন, “তোমাদেরকে শ্রেষ্ঠ জাতি হিসাবে উত্থান ঘটানো হয়েছে…।” (ইমরান-১১০)। কেন শ্রেষ্ঠ জাতি আজ অন্য জাতির গোলাম, কেন অন্য সকল জাতির পায়ে ফুটবলের মতো লাথি খাচ্ছে?

এর কারণ প্রধানত দুইটা। মুসলিম দাবিদার এই জাতির প্রকৃতপক্ষে ঈমান নেই এবং ইসলামের প্রকৃত আকিদা নেই। আমরা অনেকেই মনে করি, যেহেতু আমরা আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস রাখি কাজেই আমাদের ঈমান আছে। তাছাড়া আমরা তো নামাজ পড়ি, রোজা রাখি, সামর্থ্য থাকলে হজ করি, যাকাত দিই, জিকির-আসগার, তসবি-তাহলিল করি কাজেই আমরা তো পাক্কা মো’মেন। কিন্তু না, এখানেই আমাদের ভুল। এমন বিশ্বাস কিন্তু মক্কার কাফেরদেরও ছিল, তারাও আল্লাহর এবাদত করত, হজ করত, কোরবানি করত। মক্কার কাফের-মোশরেকরা যে আল্লাহতে বিশ্বাস করত তার স্বাক্ষ্য স্বয়ং আল্লাহই দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “(হে নবী) তুমি যদি তাদেরকে (কাফের-মুশরিকদেরকে) জিজ্ঞাসা কর- আকাশ ও জমিন কে সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে- ওগুলো প্রবল পরাক্রমশালী মহাজ্ঞানী আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন।” (সুরা যুখরুফ-৯)। আল্লাহ আছেন সেটা যেমন তারা বিশ্বাস করত, তেমনি আল্লাহ যে মহাজ্ঞানী, মহা পরাক্রমশালী সেটাও তারা বিশ^াস করত। তবুও রসুলাল্লাহ (সা.) তাদেরকে ডাক দিলেন কলেমার দিকে, তওহীদের দিকে। তাহলে তাদের সমস্যাটা কোথায় ছিল? তারা আসলে আল্লাহকে বিশ^াসও করত, তাঁর এবাদতও করত কিন্তু তারা তাদের সমাজ আল্লাহর হুকুম-বিধান দ্বারা পরিচালনা করত না, বরং তারা তাদের পূর্বপুরুষদের থেকে পাওয়া গোত্রীয় রীতি-নীতি, প্রথা বা সুন্নাহ দ্বারা তাদের সমাজ, তাদের সংস্কৃতি, তাদের অর্থ-ব্যবস্থা, তাদের বিচার-আচার ইত্যাদি পরিচালনা করত আর তাদের ধর্মীয় কাজেও তারা পূর্বপুরুষদের থেকে পাওয়া রীতি অনুসারে মূর্তিপূজা করত। এজন্য রসুলাল্লাহ (সা.) তাদেরকে ডেকে বললেন, তোমরা আমার একটি কথা মেনে নাও, তোমরা বলো- “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রসুলাল্লাহ”। এর ফলও তিনি বলে দিলেন, এটা মেনে নিলে দুনিয়াতে সফলকাম হবে, পৃথিবী পায়ের নিচে আসবে আর পরকালে জান্নাতে যাবে।
তাহলে এই তওহীদ- ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর মানে কী?

‘লা ইলাহ ইল্লাল্লাহ’- এর অর্থ হচ্ছে আল্লাহ ছাড়া কোনো হুকুমদাতা, বিধানদাতা নেই। এক কথায় সার্বভৌমত্ব, সর্বময় কর্তৃত্ব, নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে- আল্লাহর হাতে নাকি মানুষের হাতে? বর্তমানে এই কলেমার ইলাহ শব্দের অর্থ মা’বুদ করা হয়। কিন্তু মা’বুদ আরবি শব্দ, ইলাহও আরবি শব্দ। দুটো শব্দই কোর’আনে আল্লাহ ব্যবহার করেছেন। মাবুদ অর্থ উপাস্য, তিনি সেই সত্তা যার এবাদত, উপাসনা করতে হবে (He who is to be worshiped)।

আর ইলাহ শব্দের অর্থ তিনি সেই সত্তা যার হুকুম, আদেশ মানতে হবে (He who is to be obeyed)। আল্লাহ ইলাহ এবং মাবুদ উভয়ই। কিন্তু কলেমায়, তওহীদে কেবল ইলাহ হিসাবে মেনে নেওয়ার জন্য দাবি করা হয়েছে। আল্লাহকে ইলাহ হিসাবে মানার অর্থ হচ্ছে আল্লাহর সাথে বান্দার একটি চুক্তি যে বান্দা তার ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, জাতি, অর্থনীতি, আইন-কানুন, দণ্ডবিধি কোনো ক্ষেত্রে আর কারো আধিপত্য, হুকুম মানবে না। যদি মানে তাহলে সেটা হবে শেরক, অংশীবাদ। আর যদি আল্লাহর হুকুম সম্পূর্ণ অস্বীকার করে সেটা হবে কুফর (প্রত্যাখ্যান)।

আল্লাহর অসংখ্য গুণাবলী যেমন তিনি সৃষ্টিকর্তা, রেজেকদাতা, উপাস্য ইত্যাদি সব স্বীকার করেও যদি কেউ তাঁর হুকুম না মানে, অর্থাৎ তাঁকে ইলাহ বলে না মানে তাহলে সে যত আমল করুক সব ব্যর্থ হবে। সে জান্নাতে যেতে পারবে না। এজন্য ইসলামের সমস্ত বিষয়টিকে প্রধানত দুইভাগে ভাগ করা যায়। ঈমান ও আমল। যে ঈমান আনল তার জন্য আমল। এই ঈমান কিসের উপর? আল্লাহর অস্তিত্বে নয় কেবল, আল্লাহর হুকুমের উপর, আল্লাহর সার্বভৌমত্বের উপর ঈমান। এটা যে আনবে তার জন্য নামাজ, রোজা, হজ্বসহ অন্যান্য আমল প্রযোজ্য হবে।

যখনই আমি আল্লাহকে ইলাহ হিসাবে মেনে নিব তখন থেকে আমি আল্লাহর আদেশ-নিষেধের বিপরীতে আর কারও আদেশ-নিষেধ মানতে পারব না। কিন্তু মুসলিম দাবিদার এই জাতি আজ মেনে চলছে কার হুকুম? কার বিধান? কার আইন? আমরা আসলে আল্লাহর হুকুম-বিধান বাদ দিয়ে মেনে চলছি ইহুদি-খ্রিষ্টানদের অনুকরণে তৈরি করা মানবরচিত আইন-কানুন, হুকুম-বিধান। এ কারণে আমরা ঈমান থেকে, কলেমা থেকে বের হয়ে কার্যত কাফের-মুশরিক হয়ে গেছি। আল্লাহ পাক বলেছেন, “যারা আমার নাজেল করা বিধান (কোরানের আইন) অনুযায়ী বিচার-ফায়সালা করে না তারা কাফের।” (মায়েদা-৪৪)। তাহলে যেই কারণে আরবের কাফের-মুশরিকদের আল্লাহর প্রতি বিশ^াস থাকা সত্ত্বেও, অনেক ইবাদত করা সত্ত্বেও তারা কাফের ছিল, মুশরিক ছিল সেই একই কারণে আমরাও ইসলাম থেকে খারজি হয়ে কার্যত কাফের-মুশরিক হয়ে গেছি। এখন এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য আমাদেরকে আবার কলেমার উপর ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, আল্লাহর সাথে নতুন করে চুক্তি করতে হবে।

যুগে যুগে আল্লাহ সকল নবী-রসুলকে দিয়ে এই একটি বাক্যই পাঠিয়েছেন, এই একটি দাবিই মানুষের কাছে আল্লাহ করেছেন, সেটা হলো আল্লাহকে ইলাহ হিসাবে মেনে নেওয়ার দাবি। যেমন আল্লাহ বলেছেন, “আমি তোমার পূর্বে এমন কোনো রসুলই পাঠাইনি যার প্রতি আমি এই ওয়াহি করিনি যে, আমি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। কাজেই তোমরা আমারই ইবাদত কর।” (আম্বিয়া-২৫)। অর্থাৎ যুগে যুগে নবী-রসুলগণ (আ.) এসে মানুষের কাছে এই একই কলেমার দাওয়াত দিয়েছেন। তাঁরা আল্লাহর সাথে মানুষের একটি চুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। যারা ঈমান আনবে, তওহীদের ঘোষণা দিবে তাদের সাথে মূলত আল্লাহর একটা চুক্তি হবে। অর্থাৎ বান্দার পক্ষ থেকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে আল্লাহর হুকুম-বিধান, আইন-কানুন মেনে নেওয়ার আর আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি হয়েছে জান্নাতের। যেমন রসুলাল্লাহ (সা.) পরিষ্কারভাবে বলেছেন, আল্লাহর সাথে তার বান্দার চুক্তি এই যে, বান্দা তার পক্ষ থেকে যদি এই শর্ত পালন করে যে, সে আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ইলাহ অর্থাৎ বিধাতা বলে স্বীকার করবে না- তবে আল্লাহও তার পক্ষ থেকে এই শর্ত পালন করবেন যে, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন (হাদীস- মুয়ায রা. থেকে বোখারী, মুসলিম, মেশকাত)।

এর গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে আল্লাহর রসুল কী বলেছেন খেয়াল করুন। তিনি একদিন আবুজর গেফারিকে (রা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি এই ঘোষণা দিল যে আল্লাহ ছাড়া কোনো হুকুমদাতা নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করল।” আবুজর (রা.) বিস্মিত হলেন। জিজ্ঞেস করলেন, “রসুলাল্লাহ! যদি সে চুরি করে এবং ব্যভিচার করে?” রসুলাল্লাহ বললেন, “হ্যাঁ, যদি সে চুরি ও ব্যভিচার করে তবুও জান্নাতে দাখিল হবে।” আবুজর (রা.) বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। তাই তিনি নিশ্চিত হওয়ার জন্য বার বার একই প্রশ্নই করতে থাকলেন। চারবার একই উত্তর দেওয়ার পর, রসুলাল্লাহ বললেন, “হ্যাঁ, সে জান্নাতে যাবে যদি সে চুরি করে, যদি সে ব্যভিচার করে এমন কি যদি মাটিতে আবু যারের নাক ঘসেও দেয়।” (আবুজর গেফারি রা. থেকে বোখারি)।

অপর হাদীসে এসেছে- যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে “আল্লাহ ছাড়া কোনো হুকুমদাতা (ইলাহ) নেই এবং মোহাম্মদ (সা.) তাঁর প্রেরিত” তার জন্য জাহান্নাম হারাম হয়ে যাবে। (ওবাদাহ বিন সাবেত থেকে মুসলিম, মেশকাত)।

আবার মহান আল্লাহ বলেছেন, “নিশ্চয় আল্লাহ শিরকের পাপ ক্ষমা করবেন না, এ ব্যতীত অন্য সব পাপ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন।” (নিসা-৪৮)। তওহীদের বিপরীত হলো শিরক। এই শিরক আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। অর্থাৎ আমল করার পূর্বে আমাকে শিরকমুক্ত ঈমানের অধিকারী হতে হবে। ঈমান আগে, আমল পরে। আজ বিশ্বময় আমলের ওয়াজ হচ্ছে কিন্তু ঈমান নিয়ে আলোচনা নেই। কিন্তু এখন আমাদেরকে ঈমান নিয়ে আলোচনা করতে হবে, ঈমানে ফিরে আসতে হবে, তওহীদে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।

এখন প্রশ্ন হলো- ঈমান আনার পর অর্থাৎ তওহীদের উপর ঐক্যবদ্ধ হবার পর আমাদের কাজ কী হবে? মহান আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয় মো’মেন তারা যারা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের উপর ঈমান আনে, অতঃপর কোনো সন্দেহ পোষণ করে না, জীবন ও সম্পদ দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ (সর্বাত্মক সংগ্রাম) করে, তারাই সত্যনিষ্ঠ।” (সুরা হুজুরাত- ১৫)। এই আয়াতে আল্লাহ মো’মেনের সংজ্ঞা দিয়েছেন। অর্থাৎ মো’মেন হতে হলে ঈমান আনার পর আরও একটি কাজ অবশ্যই করতে হবে আর সেটা হলো- জীবন ও সম্পদ দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ করা। অর্থাৎ তওহীদের উপর ঐক্যবদ্ধ হবার পর আমাদেরকে জীবন ও সম্পদ দিয়ে আল্লাহর দেওয়া সত্যদীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, জেহাদ করতে হবে। দীন মানে হলো জীবনব্যবস্থা। যেমন গণতন্ত্র একটা দীন, সমাজতন্ত্র একটা দীন। ঠিক একইভাবে ইসলামও একটা আলাদা দীন বা জীবনব্যবস্থা।

এই দীন দুই প্রকার- আল্লাহর দেওয়া দীন ও মানুষের তৈরি করা দীন। মানুষও দুই প্রকার- কাফের ও মো’মেন (সুরা তাগাবুন-২)। যারা আল্লাহর দেওয়া দীন গ্রহণ করবে তারা মো’মেন আর যারা মানুষের তৈরি করে নেওয়া দীন গ্রহণ করে নেবে তারা কাফের। মানুষের সামনে কিন্তু রাস্তাও দুইটা- হেদায়াহ ও দালালাহ। হুকুম হবে দুইটা- আল্লাহর হুকুম ও ইবলিসের হুকুম। আনুগত্যও দুই ধরনের হবে- আল্লাহর আনুগত্য ও ইবলিসের আনুগত্য। দুনিয়ার পরিস্থিতিও দুই ধরনের হবে- শান্তি, সুবিচার ও অবিচার, অশান্তি। এখন আমরা যদি হেদায়াতে উঠতে চাই তাহলে আল্লাহর হুকুম মানতে হবে, আল্লাহর আনুগত্য করতে হবে। তাহলে সমাজে ন্যায়, সুবিচার, শান্তি আসবে। আর এর পরিণতি স্বরূপ আল্লাহ আখেরাতে দান করবেন জান্নাত।

আর এগুলোর জন্য লাগবে দীন প্রতিষ্ঠা করা। কারণ দীন প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া সম্পূর্ণভাবে মানা সম্ভব নয়। যেমন আল্লাহ বলেছেন, “হে মো’মেনগণ, তোমাদের উপর কেসাস ফরজ করা হলো…”। (বাকারা-১৭৮)। এখন আপনি কি চাইলেই কেসাসের বিধান মানতে পারবেন? আবার আল্লাহ বলেছেন, “ হে মো’মেনগণ তোমরা সুদ খেয়ো না…।” (আল ইমরান- ১৩০)। এখন এই সুদভিত্তিক অর্থনীতি কি আপনি বাদ দিতে পারবেন? এজন্য আল্লাহর দেওয়া দীনকে পূর্ণাঙ্গরূপে মানতে হলে, দীনের পূর্ণাঙ্গ সুফল পেতে হলে অবশ্যই দীন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আর দীন প্রতিষ্ঠার করার নীতি আল্লাহ দিয়ে দিয়েছেন পবিত্র কোর’আনে। সেটা হলো- জেহাদ ও কেতাল। এবং যারা এই দীন প্রতিষ্ঠার জেহাদ করবে না তারা মো’মেনও হতে পারবে না। আল্লাহ মো’মেনের সংজ্ঞার মধ্যেই দীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম তথা জেহাদের শর্ত জুড়ে দিয়েছেন (হুজুরাত-১৫)।

জান্নাতে যাবে মো’মেন, সালাহ কায়েম করবে মো’মেন, যাকাত দেবে মো’মেন। আল্লাহ সাহায্য করবেন মো’মেনকে। মো’মেনের উপর সমস্ত রহমত বর্ষিত হবে। আজ এই দীনের মধ্যে মুসলমানরা নাই। তওহীদেও নাই, দীন প্রতিষ্ঠায়ও নাই। মাঝখানে নামাজ পড়ছে, রোজা রাখছে। সহিহ আমল করে যাচ্ছে। কিন্তু যার ঈমান নাই তার হাজার আমল করেও কোনো লাভ নাই।

এখন মুক্তির একটাই উপায় যেটা আল্লাহর রসুল আরববাসীর সামনে তথা মানবজাতির সামনে উপস্থাপন করেছিলেন। সেটা হচ্ছে তওহীদের চুক্তিতে ফিরে আসা। সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং সকল ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। এতে করে তারা দুই দিকে লাভবান হবে; প্রথমত তারা দুনিয়াতে শ্রেষ্ঠত্ব পাবে, পারস্পরিক শত্রুতা ভুলে ভাই ভাই হতে পারবে, তাদের সমাজ শান্তিময় হবে। দ্বিতীয়ত তাদের সমস্ত ব্যক্তিগত অপরাধ আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়ে চিরস্থায়ী জান্নাতে দাখিল করাবেন।

[লেখক: শিক্ষাবিদ। যোগাযোগ: ০১৬৭০১৭৪৬৪৩, ০১৭১১০০৫০২৫, ০১৭১১৫৭১৫৮১]

Photocard
টাইটেল সাইজ
লাইন স্পেস
অ্যাকশন
বামে বা ডানে সোয়াইপ করুন

মহেশপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত: র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

মহেশপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত: র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:ঝিনাইদহের মহেশপুরে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলা…
 ৭ নভেম্বর ২০২৬    খুলনা

গলাচিপায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

গলাচিপায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত
গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:পটুয়াখালীর গলাচিপায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসনিক হলরুমে দিবসটি…
 ৭ নভেম্বর ২০২৬    বরিশাল

কাউনিয়ায় রতন হত্যা মামলার আসামিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

কাউনিয়ায় রতন হত্যা মামলার আসামিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন
কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি:রংপুরের কাউনিয়ায় এনজিও কর্মী ফখরুল আলম রতন হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও দ্রুত ফাঁসি কার্যকরের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন…
 ৭ নভেম্বর ২০২৬    রংপুর

জিয়া পরিবারের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে: যুবদল নেতা নয়ন

জিয়া পরিবারের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে: যুবদল নেতা নয়ন
জিয়া পরিবারের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়ন। তিনি বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের…
 ৭ নভেম্বর ২০২৬    নির্বাচিত

কুড়িগ্রামে যুবকের ছুরিকাঘাতে টাউন হলের কেয়ারটেকার নিহত, স্ত্রী আহত

কুড়িগ্রামে যুবকের ছুরিকাঘাতে টাউন হলের কেয়ারটেকার নিহত, স্ত্রী আহত
শাহ আলম, কুড়িগ্রাম:কুড়িগ্রাম পৌর টাউন হল মিলনায়তন চত্বরে এক যুবকের ছুরিকাঘাতে টাউন হলের কেয়ারটেকার নিহত এবং তার স্ত্রী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার…
 ৭ নভেম্বর ২০২৬    রংপুর

আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের আগে অতীতের অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে হবে: হাসনাত

আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের আগে অতীতের অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে হবে: হাসনাত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, আওয়ামী লীগের অতীত শাসনামলে সংঘটিত অপরাধের বিচার নিশ্চিত না করে দলটিকে রাজনীতিতে…
 ৭ নভেম্বর ২০২৬    নির্বাচিত

মিঠাপুকুরে নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু, শ্বশুরবাড়ির তিন সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

মিঠাপুকুরে নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু, শ্বশুরবাড়ির তিন সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ
রংপুর,প্রতিনিধি: রংপুরের মিঠাপুকুরে শিরিনা আক্তার (১৯) নামে এক নববধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নিহতের শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার…
 ৭ নভেম্বর ২০২৬    রংপুর

বরিশালে হেযবুত তওহীদের নারী বিভাগের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

বরিশালে হেযবুত তওহীদের নারী বিভাগের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
আজিজুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার: “জড়তা, অন্ধত্ব, সংকীর্ণতা, ধর্মব্যবসা ও বাড়াবাড়ির বিরুদ্ধে নারীকেই জাগতে হবে, জাগাতে হবে”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বরিশাল জেলায় হেযবুত তওহীদের নারী বিভাগের…
 ৭ নভেম্বর ২০২৬    বরিশাল

ঢাকা থেকে রিয়াদ-দাম্মামের ১৮০ ফ্লাইট বাতিল, আটকা ২৩ হাজার যাত্রী!

ঢাকা থেকে রিয়াদ-দাম্মামের ১৮০ ফ্লাইট বাতিল, আটকা ২৩ হাজার যাত্রী!
ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামগামী ১৮০টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন হাজারো যাত্রী। এসব ফ্লাইটের যাত্রী হিসেবে মোট ২৩ হাজার ৮৫ জন আটকা…
 ৭ নভেম্বর ২০২৬    জাতীয়

সাংবাদিকদের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান থেকে বাদ পরীমনি!

সাংবাদিকদের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান থেকে বাদ পরীমনি!
সাংবাদিকের সঙ্গে সাম্প্রতিক বিরোধের জেরে চট্টগ্রামের একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান থেকে চিত্রনায়িকা পরীমনিকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আয়োজকরা। গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণের অভিযোগে চট্টগ্রামে কর্মরত সাংবাদিকদের…
 ৭ নভেম্বর ২০২৬    বিনোদন

‘হাসিনা দেশে ফিরবেন হাতকড়া পরে’: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

‘হাসিনা দেশে ফিরবেন হাতকড়া পরে’: তথ্য প্রতিমন্ত্রী
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে হাতকড়া পরেই ফিরতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অপরাধের অভিযোগের বিচার করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও…
 ৭ নভেম্বর ২০২৬    ময়মনসিংহ

এক দিনেই ২১৩ রান হৃদয়ের, সাকিবের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস!

এক দিনেই ২১৩ রান হৃদয়ের, সাকিবের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস!
সিলেট টেস্টে ব্যাট হাতে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশের তাওহিদ হৃদয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। এক দিনেই…
 ৭ নভেম্বর ২০২৬    খেলাধুলা

পরাজিত শক্তি আবারও মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পরাজিত শক্তি আবারও মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারবিরোধী শক্তিগুলো আবারও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি…
 ৭ নভেম্বর ২০২৬    জাতীয়

তাহসিফ হত্যা মামলা: তিন দফায় রিমান্ড শেষে কারাগারে দীপ!

তাহসিফ হত্যা মামলা: তিন দফায় রিমান্ড শেষে কারাগারে দীপ!
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তার বন্ধুস্থানীয় ছোটভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।…
 ৭ নভেম্বর ২০২৬    জাতীয়

৭ কিলোমিটার হেঁটে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান!

৭ কিলোমিটার হেঁটে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান!
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আয়োজিত শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার পথ হেঁটেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির…
 ৭ নভেম্বর ২০২৬    জাতীয়