প্রচ্ছদ    বিশেষ নিবন্ধ   ব্রিটিশদের ইতিহাস বিকৃতির অন্তরালে ভাস্কো...

ব্রিটিশদের ইতিহাস বিকৃতির অন্তরালে ভাস্কো দা গামার অন্য রূপ এবং মোপলা বিপ্লব

১৪ জুন ২০১৫ ১২:০৫ পিএম
বজ্রশক্তি ডেস্ক

রাকিব আল হাসান:

ভারতবর্ষের ইতিহাসে মুসলিমদেরকে বৈদেশিক আগ্রাসনকারী জাতি হিসাবে চিত্রিত করা হয়। এই ইতিহাস বিকৃতি ব্রিটিশদের একটি ষড়যন্ত্র যার হিংস্র রূপ আমরা ইতপূর্বে তুলে ধরতে চেষ্টা করেছি। ব্রিটিশ শাসকরা চেষ্টা করেছে ভারতবর্ষে তাদের শাসনকে দৃঢ়মূল করার জন্য মুসলিম জাতিকে একটি পরসম্পদলোভী, অত্যাচারী, বর্বর জাতি হিসাবে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে। এজন্য তারা নিজেরা শত শত বিকৃত ইতিহাস গ্রন্থ রচনা করেছে, অনেক ভারতীয় বুদ্ধিজীবীকে দিয়েও তারা ইতিহাস রচনা করিয়েছে যেসব ইতিহাসে দিনকে রাত রাতকে দিন করা হয়েছে। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা সেটাই শিখছে। ফলে তারাও ‘ডিভাইড এন্ড রুল’ নামক বিষফল ভক্ষণ করে জাতির মধ্যে সাম্প্রদায়িক অনৈক্যকে পুষে রেখেছে। আলেকজান্ডার ভারত আক্রমণ করেছিলেন বিদেশির মতই এবং রক্তপাতের ভিতর দিয়েই তা হয়েছিল, কিন্তু আলেকজান্ডারের উপর কোন ঐতিহাসিকের এ রকম রাগ, দুঃখ, ঘৃণা নেই যেমন মুসলিম শাসকদের উপর আছে। একইভাবে পর্তুগীজ নাবিক ভাস্কো দা গামার উপরও জনসাধারণের কোন ক্রোধ, দুঃখ বা ঘৃণা নেই। কিন্তু তার মাধ্যমেই ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের লুটপাটের দুয়ার খুলেছিল এই চরম সত্য কি কেউ অস্বীকার করতে পারেন?
ভারতের কেরালা ও মালাবার অঞ্চলে বাণিজ্যিক কারণে মুসলিম জাতি সেখানে বসতি স্থাপন করে। তাদের চরিত্রগত সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ওয়াদারক্ষা, সততা প্রভৃতি গুণাবলীর কারণে সে অঞ্চলের বাজারের নিয়ন্ত্রণ অনেকাংশেই মুসলিমদের হাতে চলে আসে। এই মুসলমানদের একটি নাম ছিল মোপলা। তারা রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামাতেন না। ব্যবসা আর চাকরি ছাড়া তাদের আর কোন চিন্তা ছিল না। তবে তারা অত্যন্ত সাহসী, তেজস্বী, একরোখা, সৎ আর কষ্টসহিষ্ণু ছিলেন। তাই হিন্দু জামোরিন রাজারা তাদের সৈন্য হিসাবে মোপলাদের ব্যবহার করতেন। রাজাদের শক্তির উৎস ছিল তখন মুসলমান মোপলা। তাছাড়াও মালাবারের প্রত্যেক হিন্দুরাজা এ মোপলাদের সৈন্য, দেহরক্ষী অথবা পরামর্শদাতা হিসাবে চাকুরি দিয়ে রাখতেন এবং তাদেরকে ছেলের মত ভালোবাসতেন। মোপলা শব্দটির এসেছে মহা পোলাহ থেকে যার অর্থ বড় ছেলে। এসব মোপলারা ভারতীয়দের সাথে অত্যন্ত মধুর ব্যবহার করতেন। তাদের বীরত্ব ও চরিত্র মাধুর্যে তারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন, অস্ত্র বা ভয় দেখিয়ে নয়।
পশ্চিমা আগ্রাসন ও লুটপাটের সূচনা:
১৪৯৭ খ্রিস্টাব্দে পর্তুগালের রাজা ‘ইমানুয়েল’-এর পৃষ্ঠপোষকতায় ‘ভাস্কো-দা-গামা’ ইউরোপ থেকে ভারতবর্ষে আসার সমুদ্রপথ আবিষ্কার করতে পর্তুগাল থেকে পাড়ি জমান। এর শত শত বছর আগে থেকেই আরব নাবিকরা নৌপথে ভারতের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করে আসছিলেন। ভাস্কো দা গামা উত্তমাশা অন্তরীপ পাড়ি দেওয়ার পর রাস্তা হারিয়ে ফেলেন এবং আরব নাবিকদের কাছে সাহায্য চান। অবশেষে বিজ্ঞ আরব নাবিকদের সাহায্যে তিনি ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দের ২০ মে ভারতবর্ষের পশ্চিম উপকূলে কালিকট বন্দরে উপস্থিত হন। পর্তুগীজরা জলদস্যুতার জন্য কুখ্যাত ছিল। ভাস্কো দা গামার এই আবির্ভাবের উদ্দেশ্যও ছিল ঐ লুটপাট এবং ভারতে পর্তুগীজ উপনিবেশ স্থাপন। এজন্য তিনি গোলমরিচ ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন। কালিকটের রাজা গোলমরিচের নতুন খরিদ্দার হিসাবে তাকে স্বাগত জানান। সেখানকার রাজাদের ধারণা ছিল এরাও মুসলমানদের মত ব্যবসা করবেন এবং তাদের সাথে সহযোগিতা করবেন। এ সময় বিচক্ষণ মুসলমানরা তাদের চালচলন ও কার্যক্রম দেখে রাজাকে সাবধান করেন যে, এই ক্যাথেলিক খ্রিস্টানদের উদ্দেশ্য কেবল ব্যবসা বা খ্রিস্টধর্মের অমীয় বাণী প্রচার নয়, আসল উদ্দেশ্য রাজনৈতিক ক্ষমতা হাসিল ও লুটতরাজ। রাজা তাদের কথা বিশ্বাস করেন এবং সাবধান হন। ভাস্কো দা গামা একই বছর ২৯ আগস্ট এ দেশের মানচিত্র এবং নানা সংবাদ ও তথ্য নিয়ে স্বদেশ রওয়ানা হলেন। ভাস্কো দা গামার স্বদেশ ফেরা সম্ভব হত না যদি না একজন বড় রাজকর্মচারী ব্রাহ্মণের সীমাহীন প্রীতি ও পক্ষপাতিত্ব না পেতেন। ভাস্কো দা গামা সে ব্রাহ্মণকে জাহাজে ডেকে পাঠালেন। ব্রাহ্মণ পুরোহিত বিনা দ্বিধায়, হয়তো পুরস্কারের আশায় সাক্ষাত করতে গেলেন। অতঃপর ভাস্কো দা গামা তার হাত দু’টি ও কান দু’টি কেটে একটি বাক্সে ভরে রাজা জামোরিনকে একটি চিঠিতে লিখে পাঠালেন — ভাস্কো দা গামার অনুরোধ, রাজা যেন এ মাংস রান্না করে খান (ভারতবর্ষ ও ইসলাম- শ্রীদাসগুপ্ত, পৃষ্ঠা ২১)।
ঠিক দুই বছর পরে ১৫০০ খ্রিস্টাব্দের ১৩ সেপ্টেম্বর পেড্রো আল ভারেজ কাব্রাল তেরটি নৌ-বহর নিয়ে ভারতবর্ষে আসেন এবং সামরিক কুঠি স্থাপন করেন। এসেই তারা মুসলিম বণিকদের মাল বোঝাই জাহাজ দখল করতে থাকে। ফলে মুসলিমরাও বীর বিক্রমে তাদের কুঠি আক্রমণ করেন। কুঠির অধ্যক্ষ আইরস কোরিয়াকে খতম করেন। ফলে বহু মানুষ আহত ও নিহত হয়। তারপর মি. কাব্রাল কোচিনে এসে সেখানকার রাজাকে কালিকটেরও রাজা করে দেওয়ার লোভ দেখালেন। এরপর ভাস্কো দা গামা ১৫০২ সনে ভারতে সামরিক নৌ-বহর নিয়ে এসে যা করলেন তা জানলে চমকে যেতে হয়। তিনি কালিকটে পৌঁছে রাজা জামোরিনকে আদেশ দিলেন ‘সমস্ত মুসলমানকে দেশ হতে বের করে দিতে হবে’। অবশ্য ন্যায়পন্থী রাজা তা অস্বীকার করেন। ফলস্বরূপ ভাস্কো দা গামার জাহাজ থেকে গোল মরিচের পরিবর্তে অবিরাম গোলা বর্ষণ হতে দেখা গেল। বহু নিরপরাধ মানুষ ভাস্কো দা গামার গোলায় মৃত্যু পর্যন্ত পৌঁছে গেল। এরপর তিনি মক্কাগামী হজযাত্রীদের জাহাজও লুট করেন। তিনি গোটা শহরটা শ্বশ্মান করে ছাড়লেন। এরপর আরও কয়েকজন রাজার সঙ্গে মৈত্রীচুক্তি করে মি. কাব্রাল কোচিনে নিরাপদ দুর্গ ও গীর্জা তৈরি করলেন। এটাই বোধ হয় ‘এক হাতে অস্ত্র আর অন্য হাতে শাস্ত্র’ নিয়ে শাসনের ভিত্তি। ক্যাথেলিক খ্রিস্টানরা গুপ্তচর দিয়ে খবর নিতে লাগলেন কোন সময় রাজা জামোরিন বাইরে যান। ১০ বছর পর সময় উপস্থিত হল। ১৫১০ খ্রিস্টাব্দের ৩ জানুয়ারি কালিকটে হামলা চালালো পর্তুগীজ বাহিনী। শহরবাসী রুখে দাঁড়ালো এবং প্রধানত মুসলমান বণিক ও মোপলাদের বীরত্বের ফলেই পর্তুগীজদেরকে পালিয়ে প্রাণ বাঁচাতে হলো। এই ঘটনাগুলিকে বিকৃত করে ইংরেজদের লিখিত ইতিহাসগুলিতে বলা হয়েছে যে, ধর্মান্ধ মুসলমান মোপলাদের নিষ্ঠুর আক্রমণে পর্তুগীজরা বিতাড়িত হয় এবং পর্তুগীজদের বিরুদ্ধে মোপলাদের এই পদক্ষেপের একমাত্র কারণ হচ্ছে ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বীতা (উইকিপিডিয়া)। অথচ ঐতিহাসিক শ্রীদাসগুপ্ত লিখেছেন, ‘(ইউরোপীয়রা) নিজেদের চরিত্র নিষ্কলঙ্ক রাখার জন্য ভারতীয় ও আরবদের এ সম্মিলনকে ধর্মান্ধতার ভিত্তিতে দাঁড় করিয়েছে এবং যে অভিযোগের অনুক্ত তাৎপর্য হল নিজেদের ইউরোপীয় সাধুতা প্রমাণ করা।”
কলিকট থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর খ্রিস্টানরা বুঝতে পারলেন মুসলমানদের না হটালে তাদের ব্যবসা ও ক্ষমতার প্রসার কোনটাই সম্ভব নয়। তাই এর পর থেকে তারা মুসলমানদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে শুরু করলেন এবং ভারতীয়দের সঙ্গে কিছু কিছু বৈবাহিক সম্বন্ধ স্থাপন করলেন। এদিকে ১৫২৪ সনে ভাস্কো দা গামা মারা গেলেন। তার এত বড় কাণ্ড মোটামুটি গোপনই আছে। তার উপর কু-ধারণা জন্মানোর কোন প্রয়োজন ইংরেজদের হয় নি। শুধু মুসলমানদের চরিত্রে কলঙ্ক লেপন করে হিন্দু মুসলমানের মধ্যে বিভেদের প্রাচীর তুলে রাখা তাদের খুবই প্রয়োজন হয়েছিল, ভারতবর্ষকে শোষণ করার জন্য।
মোপলা বিপ্লব:
মোপলাদের বড় দোষ অথবা গুণ হচ্ছে, তারা বরাবর ইংরেজ বিরোধী। তাঁরা ছোট বড় অসংখ্য বিদ্রোহ ও বিপ্লবের সৃষ্টি করেছেন। তার মধ্যে পাঁচটি বিদ্রোহ ‘বিপ্লবের’ দাবীদার। ১৮৫৭ এর বিপ্লবের পরেও তাঁদের এ বিদ্রোহগুলো যথাক্রমে হয়েছিল ১৮৭৩, ১৮৮৫, ১৮৯৪, ১৮৯৬, ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে।
বিপ্লবীদের একশ ভাগই ছিলেন মুসলমান। আর যেহেতু সেখানকার রাজা-মহারাজা-জমিদাররা বারে বারে ইংরেজদের সাহায্য করে এসেছেন, তাই বিপ্লবী মোপলা বাহিনী হিন্দু বিত্তবানদেরও শত্র“ মনে করতে দ্বিধা করে নি। উপেক্ষিত শোষিত অনুন্নত নিুশ্রেণির অমুসলমানরা প্রতিবারেই মোপলাদের সাথে যোগ দেয়ার ইচ্ছা করলেও নেতৃস্থানীয় মধ্যবিত্তদের কৌশলময় প্রচারের দ্বারা তাদের বোঝান সম্ভব হয়েছে যে ওটা হিন্দু-মুসলমানদের লড়াই। তাই অনেক ক্ষেত্রে ধর্মের অপব্যবহারের ফলে নীল বিদ্রোহের মত হিন্দু-মুসলমান একত্রিত হতে পারে নি। ইংরেজ সরকার সারা ভারতে যা করেনি তা করেছে মোপলাদের মালাবারে। তাঁরা সভা-সমিতি ও সম্মেলন করতে পারতেন না, কারণ কঠোরভাবে তা নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু তাতেও বিপ্লবকে দমানো যায় নি, বরং আগুনে পেট্রোল ঢালা হয়েছে। ফল হিসাবে ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে মোপলারা মালাবারকে স্বাধীন বলে ঘোষণা করেন এবং স্বাধীনতার পতাকা উড়িয়ে দেন। সৈন্যদের সাথে মুসলমান মোপলাদের ভয়াবহ সংগ্রাম শুরু হয়। একদিকে শোষক ও শাসক ইংরেজ ও তাদের ধামাধরা স্তাবকের দল, অন্য দিকে শাসিত শোষিত ভগ্নদেহ মৃত্যু পথযাত্রী বিপ্লবীর দল। ইংরেজ সৈন্যদের হাত হতে ওয়ালুতানাদ ও এরনাদ নামক দু’টি স্থান ছিনিয়ে নেয়া হলে যুদ্ধ আরো জোরদার হয়।
তাছাড়া, সে সময় এ এলাকার বাইরে চিঠিপত্র, টেলিগ্রাম ইত্যাদির যোগাযোগ বন্ধ রাখা হয়। আর বাইরে থেকে আসা প্রত্যেকটি চিঠি পরীক্ষা করে তবে বিলি করা হত। সামান্য ক্ষতির গন্ধ থাকলে তা বিনষ্ট করা হত। তবে সরকারি খবরাখবর আদান প্রদান অব্যাহত ছিল। মোপলা বাহিনী ইংরেজের সাহায্যকারী কিছু ভারতীয় নেতাদের এ সময় নিহত করেন। চতুর ইংরেজরা দ্রুত গতিতে সফলতার সঙ্গে প্রচার করে দিল ‘মুসলমান কর্তৃক হিন্দু আক্রান্ত’। ইংরেজের এ সমস্ত কুকীর্তি সরকারিভাবে গোপন রাখার চেষ্টা করা হলেও কিন্তু ভারতীয় নেতৃমহলে তা পৌঁছে যায়। সাথে গান্ধীজী, মাওলানা মহাম্মদ আলী ও মাওলানা শওকত আলী মোপলা হত্যা এবং নকল সাম্প্রদায়িকতার খেলা বন্ধ করতে মালাবারে প্রবেশ করতে উদ্যত হলে, ইংরেজ তাঁদের মালাবারে ঢুকতে না দিয়ে এবং জানিয়ে দেয়া হয়, কাউকে এখন মালাবারে ঢুকতে না দেয়ার আইন চালু রয়েছে (আমাদের মুক্তি সংগ্রাম, পৃষ্ঠা ২৩০-১)। এবার ব্রিটিশ সরকার মালাবারে হাজার হাজার সৈন্য নানা ধরণের ট্যাঙ্ক, কামান, বোমা কতকগুলো গানবোট এবং রণতরী নিয়ে আসে। তার আগে ইংরেজি কায়দায় অপপ্রচার হয়েই ছিল। সুতরাং হিন্দুরা বিপ্লবী মুসলমানদেরকে তাদের জাতীয় শত্র“ মনে করে লড়াইয়ে নেমে পড়েন। একদিকে ইংরেজ শক্তি তো আছেই, অন্যদিকে বাড়িতে পল্লীতে হিন্দু-মুসলমান লড়াই এক বীভৎস রূপ নিল। যুদ্ধ চলল একমাস। তারপর একদিন ইংরেজরা আকাশ হতে বোমা বর্ষণ, রণতরী হতে শেল বর্ষণ, ট্যাঙ্ক ও কামান হতে গোলা বর্ষণ করে মোপলাদের ঘর-বাড়ি, দোকান পাট, ভষ্ম¯ূ—পে পরিণত করে। যুদ্ধ শেষে মোপলা বাহিনীর দশ হাজার পুরুষ নারীর মৃতদেহ পাওয়া যায়। আর জীবন্ত যাদের পাওয়া যায় তাদের বন্দী করে বিচারের’ জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। বিচারের পূর্বেই অনেক পুরুষ ও শিশুকে হত্যা এবং নারীদের উপর লজ্জাষ্কর পাপাচার করা হয়। বাকী বেঁচে থাকা আসামীদের বিচার-ফল এমন দাঁড়ায়-এক হাজার জনের ফাঁসি, দু’ হাজার লোকের দ্বীপান্তর অর্থাৎ সে আন্দামানে শ্রমসহ নির্বাসন আর আট হাজার লোকের পাঁচ হতে দশ বছর সশ্রম কারাদণ্ড। শাস্তির কি সুষম বণ্টন! যাদেরকে ফাঁসি দেওয়া হয় তাদেরকে প্রকাশ্য স্থানে গাছের ডালে ফাঁসি দেওয়া হয়। এত বড় ঘটনাও ব্রিটিশদের কারসাজিতে ইতিহাস বইগুলির পাতায় ঠাঁই পায় না।
এ অত্যাচারের ইতিহাসে আর একটি মর্মন্তুদ ঘটনা ঘটে। জীবন্ত বিপ্লবীদের মধ্যে যাঁরা শিক্ষিত ও নেতৃস্থানীয় ছিলেন তাদের মধ্যে বাছাই করা আশিজনকে ট্রেনের একটা ছোট্ট কামরায় দরজা জানালা বন্ধ করে কালিকটে নিয়ে যাওয়া হয়। পথে তৃষ্ণায় কাতর হয়ে বন্দী বিপ্লবীরা পানির জন্য চিৎকার করেন এবং পানি ভিক্ষা চান। কিন্তু সে আর্তনাদে নিষ্ঠুরদের প্রাণবিগলিত হয়নি। যখন ট্রেন কালিকটে পৌঁছাল তখন দেখা গেল অধিকাংশই মৃত্যুবরণ করেছেন। আরও দেখা গেল, একজন অপর জনের জিভ চুষে পিপাসা মেটাবার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সে শুষ্ক রসনা ততটুকু রস দিতে পারেনি বা তাঁদের বাঁচাতে পারত। এতবড় একটা কাণ্ড ঘটিয়েও ইংরেজরা একে হিন্দু-মুসলিম রায়ট বলে চালিয়ে দেয় এবং ভারতের রাজনৈতিক নেতারা এই দুঃখজনক ঘটনার আদ্যোপান্ত জেনেও নিশ্চুপ থাকে। খেলাফত কমিটির নেতা মাওলানা মহাম্মদ আলী এটা নিয়ে হৈ চৈ করতে গিয়ে পার্টির নেতাদের থেকে বাধা পেয়ে খুব আঘাত পান এবং কংগ্রেসের উপর আস্থা হারান (আমাদের মুক্তি সংগ্রাম, পৃষ্ঠা ২৩১-২৩৩)।
‘মুসলিমরা এই উপমহাদেশে সাত শতাব্দী ধরে শাসন প্রশাসন চালিয়েছে। এত দীর্ঘ সময়ে হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে কোথাও একটিও দাঙ্গা হলো না, আর ব্রিটিশ শাসনামলেই হিন্দুরা কেন মুসলমানদের জাতশত্র“তে পরিণত হলো’ — এই রক্তøাত প্রশ্নবোধক চিহ্নটি ভারতবর্ষের আকাশে বাতাসে আজও হাহাকার করে ফিরছে। কিন্তু দুঃখ এখানেই শেষ নয়। আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে সেই ব্রিটিশদের রেখে যাওয়া গোলামি শিক্ষাই সরকারীভাবে দেওয়া হচ্ছে; যে শিক্ষা শিখে আমাদের এই জাতিটি না জানছে তাদের গৌরবময় অতীত, সাহসী পূর্বপুরুষদের বিক্ষোভজ্বালা, না জানছে সভ্যতার মুখোসধারী নরপশুদের তৈরি করা ইতিহাসের নির্মম নিষ্ঠুরতা কালো অধ্যায় বরং উল্টো তারা পরিণত হচ্ছে সেই পাশ্চাত্য প্রভুদের পা-চাটা গোলামে।

Photocard
টাইটেল সাইজ
লাইন স্পেস
অ্যাকশন
বামে বা ডানে সোয়াইপ করুন

ফেনীতে লালপোলে স্টার লাইন কাউন্টারের সামনে থেকে ৭ কেজি গাঁজাসহ ২ নারী গ্রেফতার

ফেনীতে লালপোলে স্টার লাইন কাউন্টারের সামনে থেকে ৭ কেজি গাঁজাসহ ২ নারী গ্রেফতার
ফেনী প্রতিনিধি: ফেনী সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭ কেজি গাঁজাসহ দুই নারী মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর…
 ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬    চট্টগ্রাম

দেশের বাজারে ফের বাড়লো স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে ফের বাড়লো স্বর্ণের দাম
দেশের বাজারে টানা তিন দফা স্বর্ণের দাম কমার পর এবার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ৫…
 ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬    অর্থনীতি

ইফার মউশিক প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত

ইফার মউশিক প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত
ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা) পরিচালিত ‘নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ (মউশিক) প্রকল্পের পরিচালক (যুগ্মসচিব) এস এম তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সম্প্রতি একটি…
 ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬    জাতীয়

মাদারীপুরে একাধিক মানবপাচার মামলার আসামি এনামুল গ্রেফতার, পলাতক ভাইয়ের খোঁজে তল্লাশি

মাদারীপুরে একাধিক মানবপাচার মামলার আসামি এনামুল গ্রেফতার, পলাতক ভাইয়ের খোঁজে তল্লাশি
মাদারীপুর প্রতিনিধি: মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার বদরপাশা এলাকা থেকে একাধিক মানবপাচার মামলার আসামি এনামুল মাতুব্বরকে গ্রেফতার করেছে মাদারীপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট)…
 ১৫ আগস্ট ২০২৬    ঢাকা

​প্রধানমন্ত্রীর নিকট হেফাজতের অন্যায্য দাবির তীব্র প্রতিবাদ ও প্রত্যাখ্যান হেযবুত তওহীদের

​প্রধানমন্ত্রীর নিকট হেফাজতের অন্যায্য দাবির তীব্র প্রতিবাদ ও প্রত্যাখ্যান হেযবুত তওহীদের
​ঢাকা: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিকট হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ কর্তৃক হেযবুত তওহীদকে নিষিদ্ধ করার অন্যায্য ও অগণতান্ত্রিক দাবির তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও তা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান…
 ১০ আগস্ট ২০২৬    জাতীয়

মাদারীপুরের আলোচিত গৃহবধূ লামিয়া হত্যা মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার

মাদারীপুরের আলোচিত গৃহবধূ লামিয়া হত্যা মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার
মাদারীপুর জেলার আলোচিত গৃহবধূ লামিয়া হত্যা মামলার তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মাদারীপুর জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)…
 ২১ জুলাই ২০২৬    ঢাকা

মাদারীপুর সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের ঘোষণা এমপি জাহান্দার আলীর

মাদারীপুর সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের ঘোষণা এমপি জাহান্দার আলীর
মাদারীপুর সরকারি কলেজের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে…
 ১৪ জুলাই ২০২৬    ঢাকা

শ্রীপুরে পোশাক কারখানায় হঠাৎ অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ, ছুটি ঘোষণা

শ্রীপুরে পোশাক কারখানায় হঠাৎ অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ, ছুটি ঘোষণা
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি এলাকায় অবস্থিত ‘কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড কারখানায় প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় কর্তৃপক্ষ আজ কারখানার…
 ৭ জুলাই ২০২৬    ঢাকা

টাঙ্গাইলে পরিত্যক্ত কূপে ছাগলছানা বাঁচাতে গিয়ে বাবা-ছেলেসহ চারজনের মৃত্যু

টাঙ্গাইলে পরিত্যক্ত কূপে ছাগলছানা বাঁচাতে গিয়ে বাবা-ছেলেসহ চারজনের মৃত্যু
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত কূপে পড়ে যাওয়া ছাগলছানা উদ্ধার করতে গিয়ে একই পরিবারের ও প্রতিবেশীদের চারজন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার (২০…
 ২০ জুন ২০২৬    ঢাকা

কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক জিতলেন পটুয়াখালীর নুর-ই-জান্নাত

কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক জিতলেন পটুয়াখালীর নুর-ই-জান্নাত
পটুয়াখালী প্রতিনিধি: ঢাকার শহীদ নূর হোসেন জাতীয় ভলিবল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘শিহান হুমায়ুন কবির জুয়েল মেমোরিয়াল ৫ম কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬’-এ স্বর্ণপদক জিতেছেন পটুয়াখালীর মেয়ে নুর-ই-জান্নাত। শুক্রবার (১৯…
 ২০ জুন ২০২৬    বরিশাল

বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থার ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থার ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন
বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত এই কমিটিতে শওকত সরদারকে সভাপতি, সোলায়মান পলাশকে সাধারণ সম্পাদক…
 ১৯ জুন ২০২৬    জাতীয়

মহাখালীতে সাবেক ছাত্রনেতাদের আলোচনা ও দোয়া মাহফিল

মহাখালীতে সাবেক ছাত্রনেতাদের আলোচনা ও দোয়া মাহফিল
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের সাফল্য কামনা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য নাজিমুদ্দিন আলমের সুস্থতা কামনায় আলোচনা ও দোয়া…
 ১৯ জুন ২০২৬    ঢাকা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক: যা থাকছে ১৪ দফার চুক্তিতে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক: যা থাকছে ১৪ দফার চুক্তিতে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত এবং কার্যকর হয়েছে। ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ এলাকায় অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট…
 ১৮ জুন ২০২৬    আন্তর্জাতিক

কুমিল্লায় কোদালের কোপে বড় ভাইকে হত্যা, ছোট ভাই গ্রেফতার

কুমিল্লায় কোদালের কোপে বড় ভাইকে হত্যা, ছোট ভাই গ্রেফতার
কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে বড় ভাইকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার আপন ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে উপজেলার জগতপুর…
 ১৮ জুন ২০২৬    চট্টগ্রাম

বিশ্ববাজারে আবার ঊর্ধ্বমুখী স্বর্ণের দাম, নেপথ্যে যে কারণ

বিশ্ববাজারে আবার ঊর্ধ্বমুখী স্বর্ণের দাম, নেপথ্যে যে কারণ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ কমার ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্বর্ণের বাজার। আজ…
 ১৮ জুন ২০২৬    অর্থনীতি