প্রচ্ছদ    বিশেষ নিবন্ধ   ইসলামের মতলবী অপব্যাখ্যার অপর নাম...

ইসলামের মতলবী অপব্যাখ্যার অপর নাম রাজনৈতিক ইসলাম

২৯ জুন ২০১৮ ০৯:০৫ এএম
বজ্রশক্তি ডেস্ক

রিয়াদুল হাসান
উপনিবেশ যুগ সমাপ্ত হলে ইসলামিক রাজনৈতিক দলগুলোর পুরোধাগণ দেখলেন, এই সময়ে সরকার গঠন করতে হলে ব্রিটিশদের রেখে যাওয়া ধাপ্পাবাজির রাজনীতি (যা ব্রিটিশরা নিজেদের দেশে কোনোদিন অনুসরণ করে নি, এদেশেও করে নি। তারা শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্র নয় বরং বন্দুকের জোরেই শাসন চালিয়ে গেছে) যাকে ব্রিটিশরা নাম দিয়েছে ‘নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতি’ সেটা অনুসরণ করেই ক্ষমতায় যেতে হবে। তারা সেই পথেই পা বাড়ালেন। আল্লাহর রসুল হেঁটেছেন আল্লাহর দেখানো পথে, আর রাজনৈতিক ইসলামিক দলগুলো হাঁটতে লাগলেন ব্রিটিশদের দেখানো পথে। এরপর তাদের জন্য অনিবার্য হয়ে উঠল প্রচলিত গণতন্ত্রের সাথে, আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার সাথে ইসলামের সমীকরণ মেলানো। তারা প্রথমেই ব্রিটিশদের গোলাম মুসলমান জাতিকে এটা বললেন যে, “শোনো, ব্যক্তিগত উপাসনায় ব্যস্ত মুসলিমরা। ইসলামে কিন্তু রাজনীতি আছে, আল্লাহর রসুল রাজনীতি করেছেন। সুতরাং মুসলিমরা, তোমরা আমাদেরকে ভোট দিলে তোমাদের সওয়াব হবে, তোমরা জান্নাতে যাবে। আর আমাদের বিপরীত অবস্থানে থাকা অনৈসলামিক দলগুলোকে ভোট দিলে তোমরা জাহান্নামে যাবে।”
এখানে আরেকটি জটিল প্রশ্ন প্রাসঙ্গিকভাবেই চলে আসে। নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত ইসলামি দলও আবার শত শত। তাদের প্রত্যেকের আলাদা মার্কা, আলাদা কর্মসূচি, আলাদা ইশতেহার, আলাদা পতাকা। তারা একদল আরেকদলের এমন বৈরী যে রীতিমত সাপে নেউলে সম্পর্ক। তারা সবাই ধর্মবিশ্বাসী ভোটারদেরকে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন। তাহলে এত এত ইসলামী দলের মধ্যে কোন দলের ভোটাররা জান্নাতে যাবেন?
প্রকৃত সত্য হচ্ছে, জান্নাতে যাবে কেবল মো’মেন (আল কোর’আন, সুরা মোহাম্মদ ১২, সুরা তওবা ৭২), আর মো’মেনরা তো হবে এক দলভুক্ত, একটি দেহের ন্যায় (আল হাদিস- মেশকাত), তারা হবে ভাই ভাই (কোর’আন, সুরা হুজরাত ১০) তাদের কর্মসূচি থাকবে একটি (আল হারিস আল আশয়ারী (রা.) থেকে আহমদ, তিরমিযি, বাব উল এমারাত, মেশকাত), তাদের নেতা হবে একজন, তাদের সবার লক্ষ্য হবে একদিকে। কোনো মসজিদে একই সাথে যেমন দুটো জামাত চলতে পারে না তেমনি একই সাথে পৃথিবীতে মুসলমানদের একাধিক ফেরকা, মাজহাব, তরিকা থাকতে পারে না। সালাতের সময় যেমন একজন মাত্র এমামের তাকবির সকল মুসল্লি মানতে বাধ্য থাকেন তেমনি মুসলিম জাতির মধ্যেও একজন মাত্র এমাম (নেতা) থাকবেন যার হুকুম সবাই মানতে বাধ্য থাকবে। সালাতের সময় যেমন প্রত্যেক মুসল্লির কেবলা (লক্ষ্য) থাকে একটি অর্থাৎ আল্লাহর ঘর ক্বাবার দিকে, তেমনি বাস্তব জীবনেও মুসলিম জাতির জীবনের লক্ষ্য হবে একটি, তা হলো মানবজীবনে আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে শান্তি আনয়ন করা।
কাজেই সফল তারাই হবে, জান্নাতে তারাই যাবে যারা দীন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আল্লাহ ও রসুলের তরিকা (পথ, কর্মসূচি) মোতাবেক চলবে। নিজেদের আবিষ্কৃত বা ব্রিটিশ খ্রিষ্টানদের প্রদর্শিত পথে চলে জান্নাতে যাওয়া যাবে এমন কোনো অঙ্গীকার আল্লাহ দেন নি। “ইসলামে রাজনীতি আছে” এ কথাটি প্রতারণামূলক অর্ধসত্য। ইসলাম যেহেতু সামগ্রিক জীবনব্যবস্থা তাই তার একটি রাষ্ট্রনীতি তো থাকতেই হবে কিন্তু ব্রিটিশদের রচিত রাজনৈতিক পদ্ধতি কি আল্লাহর রসুলের পদ্ধতি? আল্লাহর রসুল কি এই ধান্ধাবাজি আর প্রতারণার রাজনীতি করেছেন? কক্ষণো নয়। তারা স্রফে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ভোট নিশ্চিত করার জন্য প্রচলিত রাজনীতিকে ইসলামের রূপ দিয়েছে। তাদের চিন্তাবিদ ও আলেমগণ নানা ক‚টকৌশল (তাদের ভাষায় হেকমত) অবলম্বন করে কোর’আন, হাদিসের বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্ত উক্তি এবং রসুলের জীবনের নানা ঘটনার মতলবি ব্যাখ্যা দিয়ে প্রমাণ করতে চেষ্টা করেছেন যে তাদের সকল রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সিদ্ধান্তগুলো ইসলামসম্মত। এভাবে ‘ইসলামে রাজনীতি আছে’ এই শ্লোগানটি দিয়ে ব্রিটিশের রাজনৈতিক পদ্ধতিকে জায়েজ করে ফেলা হলো। রসুলাল্লাহ বলেছেন, ‘যুদ্ধ মানেই হেকমত, কৌশল’। এই হাদিসকে নীতি হিসাবে গ্রহণ করে তারা রাজনৈতিক স্বার্থে সর্বপ্রকার মিথ্যা, শেরক ও কুফরের সাথে আপসও করে চলেছেন এবং নিজেরাও সেসবে লিপ্ত হচ্ছেন।
তারা জনগণকে বুঝ দেওয়ার জন্য বললেন যে, মদিনা ছিল একটি ‘ইসলামিক রাষ্ট্র’ যদিও জাতিরাষ্ট্রের বর্তমান ধারণা ১৪শ’ বছর আগে ছিলই না। ইসলামে নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের সীমানা বা নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ধারণাই নেই। তারা আল কোর’আনকে আধুনিক যুগের ভাষায় শুধুমাত্র ‘সংবিধান’ বলতে চান, কারণ এখন সব দেশে সংবিধান আছে। কোর’আন আর বর্তমানের সংবিধানের মধ্যে যে আসমান জমিন ফারাক সেটা তারা নিজেরা জানলেও জনগণকে সে বিষয়ে বলেন না। কোর’আন কোনো বিজ্ঞানের বই নয়, যদিও এতে বহু বৈজ্ঞানিক সত্য ও তত্ত্ব উল্লেখ করা হয়েছে, কোর’আন দণ্ডবিধি বা শরিয়তের বই নয়, যদিও এতে বেশকিছু দণ্ডবিধি সন্নিবেশিত হয়েছে। কোর’আন কোনো ইতিহাসের বই নয়, যদিও এতে বহু ঐতিহাসিক ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। কোর’আন সত্য ও মিথ্যার ফারাককারী এক মহা অলৌকিক ও বিস্ময়কর গ্রন্থ, একে আল্লাহ স্বয়ং বলেছেন উপদেশগ্রন্থ। এতে মানুষের আধ্যাত্মিক শুদ্ধতা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, অর্থনৈতিক, সামরিক, বিচারিক অর্থাৎ সামগ্রিক জীবনে শান্তিলাভের মূলনীতিগুলো রয়েছে। সেই চিরন্তন মূলনীতিগুলো পাল্টে ফেললে সেটা আর ইসলাম থাকে না। যুগের সাথে পোশাক পাল্টাতে পারে, যানবাহন পাল্টাতে পারে, প্রযুক্তি পাল্টাতে পারে কিন্তু দীনের মূলনীতিগুলো পাল্টাতে পারে না। তারা মদিনা সনদকে ‘গঠনতন্ত্র’ বলতে চান যেটা আসলে ছিল একটা নিরাপত্তা চুক্তি। এসব পরিভাষা তারা ব্যবহার করে ইসলামকে ঐ ব্রিটিশ রাজনীতির কাঠামোয় ফেলতে চান, জনগণের কাছে নিজেদেরকে ইসলামের খেদমতকারী হিসাবে প্রকাশ করতে চান। তারা যেহেতু মার্কা নিয়ে নির্বাচন করছেন, নির্বাচনকে বলেন জেহাদ আর ব্যালটকে বলেন সেই জেহাদের বুলেট। আল্লাহর রসুল (সা.) বা তাঁর সাহাবিরা কোনো মার্কা নিয়ে নির্বাচন করেন নি। ধর্মব্যবসা হারাম জেনেও এর বিরুদ্ধে তারা মুখ খোলেন না। ধর্মব্যবসায়ী ইমামদের পেছনেই নামাজ পড়েন, তাদেরকে হাতে রাখার চেষ্টা করেন। কারণ একটাই- তাদের ভোট দরকার আর ধর্মব্যবসায়ীরা জনগণের ধর্মানুভূতির উপর প্রভাবশালী। এখানে সত্য-মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায় কোনো বিষয় না। আল্লাহ সুদ হারাম করেছেন। সুতরাং সুদমুক্ত কোনো ব্যাংকিং পদ্ধতি চালু করা গেলে ধর্মানুরাগীরা সেখানে টাকা গচ্ছিত রাখবেন। তাই তারা কায়দা করে এমন একটি ব্যাংকিং পদ্ধতি চালু করল যাকে জনগণের সামনে ইসলামসম্মত ও হালাল বলে প্রচার করা হলো। ইসলামে যে পুঁজিবাদই হারাম আর ব্যাংক যে পুঁজিবাদেরই কার্যালয় সেটা আর কেউ জনগণকে স্মরণ করিয়ে দিল না। তারা নিজেরা বৈশ্বিক সুদব্যবস্থার সাথে লেনদেন বজায় রাখলেন (এটা ছাড়া উপায়ও নেই), আবার জনগণকেও ইসলামিক ‘পুঁজিবাদ’ ধরিয়ে দিলেন। মানুষের ঈমানকে, ধর্মপ্রিয় মানসিকতাকে ব্যবহার করে তারা এভাবেই স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল ইত্যাদি বহুপ্রকার ব্যবসা করেন। এগুলো তারা করতে পারবেন ঠিকই, আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারবেন ঠিকই, কিন্তু মানুষ কোনোদিন ইসলাম পাবে না। কারণ এগুলোও ধর্মব্যবসার একটি রূপ যা দ্বারা মানবজাতি কেবল প্রতারিতই হয়, ক্ষতিগ্রস্তই হয়।
একটি উদাহরণ দিলে ইসলাম ও রাজনৈতিক ইসলামের পার্থক্যটা হয়তো সুস্পষ্ট হবে। ধরুন দুই ঠিকানায় অবস্থিত সম্পূর্ণ ভিন্ন ধাঁচের দু’টো বাড়ি। এর একটি হচ্ছে ইসলাম আরেকটি হচ্ছে বর্তমানের জাতিরাষ্ট্র। যারা প্রচলিত রাজনৈতিক তরিকায় ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে চান তারা কী করছেন? তারা পশ্চিমাদের দেখানো পথ বেয়ে তাদের বাড়িতেই প্রবেশ করতে চাচ্ছেন। নিয়ত হচ্ছে, একবার ক্ষমতায় যাই। তারপর একটা একটা করে সেই বাড়ির ইট, কাঠ, জানালা, কামরা (বিধিবিধান, নীতিমালা) পাল্টে ফেলব। তারা বুঝতেই পারছেন না যে নতুন বাড়ি নির্মাণ করতে হলে পূর্বের বাড়ির ভিত্তিসহ চ‚র্ণ করতে হয়।
আল্লাহর বাড়িও আলাদা, আল্লাহর বাড়ির পথও আলাদা। অন্যের বাড়ির পথ দিয়ে আল্লাহর বাড়িতে ঢোকা যাবে না। পরের জমিতে বাড়ি বানালে সেই বাড়ি রক্ষা করা যায় না। আল্লাহ সত্যদীন দিয়েছেন, সেই দীন প্রতিষ্ঠার পথ দিয়েছেন, আলাদা কর্মসূচিও দিয়েছেন। সেগুলো সব বাদ দিয়ে পশ্চিমাদের তৈরি করা পথে ও প্রক্রিয়ায় আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠা হবে না। তারা দুই একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশে জনগণকে মিষ্টি কথায় ভুলিয়ে, স্বপ্ন দেখিয়ে, তাদের ভোটব্যাংক ব্যবহার করে যদিও বা ক্ষমতায় বসতে পারেন, তাদেরকে তিউনিশিয়ার আন নাহ্দার মতো সংস্কারের মাধ্যমে নিজেদের মূল কাঠামোরই পরিবর্তন করতে হবে, প্রচলিত রাষ্ট্রব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক নীতিমালাই মেনে চলতে হবে। আজ যেমন বহু কট্টর বামপন্থী দল ভোল পাল্টে গণতান্ত্রিক হয়েছে, তেমনি বহু ইসলামিক দলকেও ভোল পাল্টে সেক্যুলার সাজতে হচ্ছে। একটা পর্যায়ে তারা ইসলামও মানতে পারবে না, আল্লাহর সার্বভৌমত্বও প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না। আর যদি একটুও এদিক সেদিক করে তাহলে পাশ্চাত্য তরিকায় গড়ে ওঠা দেশীয় সেনাবাহিনী আছে, তারা যেভাবে মিশরের ইখওয়ানুল মুসলিমিনকে এক বছরের ব্যবধানে গদিচ্যুত করে নেতাদের গণহত্যা করেছে, ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে তেমনটাই করবে। তারা কেউ ক্ষমতায় গিয়ে ‘খলিফা’ পদবি ধারণ করতে পারলেও গলার কাঁটা হয়ে থাকবে বিরোধীদলগুলো যারা নানা ইস্যুতে জ্বালাও পোড়াও করে ‘খলিফা’র ঘুম হারাম করে দেবে, জনপ্রিয়তা নষ্ট করার চেষ্টা করবে। জনপ্রিয়তা নষ্ট হলে পাঁচ বছর পরে ‘খেলাফত’ শেষ। আবার মার্কা নিয়ে নির্বাচনের জন্য রাজপথে বসে অপেক্ষা। এমন ভঙ্গুর ব্যবস্থা, বানরের মতো পিচ্ছিল বাঁশে আরোহণের ব্যবস্থা তো আল্লাহর ‘ইসলাম’ হতে পারে না।
আল্লাহর রসুল যেহেতু একজন রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন তিনি আমাদের জন্য আদর্শ হিসাবে রাষ্ট্রনীতিও রেখে গেছেন। তাঁর মূল নীতি ছিল সর্বদা সত্যের উপর সরল পথে অটল থাকা এবং পরিণতি যা-ই হোক সেটা আল্লাহর উপর সোপর্দ করে দেওয়া। তাতে সম্পত্তির ক্ষতি হয় হোক, জনপ্রিয়তা বাড়ুক বা কমুক সেটা নিয়ে তিনি কখনও চিন্তিত হন নি। কোনো প্রলোভনের কাছেই তিনি আত্মবিক্রয় করেন নি। যেনতেনভাবে রাষ্ট্রশক্তি অর্জনের চিন্তা যদি তাঁর থাকতো তাহলে মক্কায় থাকতে তো তাঁকে মক্কার শাসক, সুলতান হওয়ার প্রস্তাব করাই হয়েছিল। তিনি তো এটা ভাবতে পারতেন যে, আগে ক্ষমতাটা হাসিল করি, পরে আমার মনের মধ্যে যা আছে সেটা সুযোগ বুঝে বাস্তবায়ন করব। কিন্তু না, তিনি হেকমতের নামে ঐ বক্র পথে হাঁটেন নি। তিনি আল্লাহর হুকুমের পক্ষে যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলেছেন। সেখানে প্রতিটি নাগরিকই ছিল রাষ্ট্রের ও ধর্মের পাহারাদার। আলাদা কোনো সামরিক বাহিনী ছিল না, আলাদা পুলিশ বাহিনী ছিল না। তিনি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কাউকে কোনোদিন মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেন নি। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি নিজের কসম (ওয়াদা) দ্বারা কোন মুসলমানদের সম্পদ কুক্ষিগত করতে চায়, সে নিজের জন্য জাহান্নাম অবধারিত ও জান্নাত হারাম করে ফেলে। এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রসুল (স.) যদি তা খুব নগণ্য জিনিস হয় তবুও? তিনি বললেন, যদি একটা গাছের ডালও হয় তবুও (মুসলিম, নাসায়ী, ইবনে মাযাহ)।
ইসলামের নামে চলমান রাজনীতিতে ইশতেহারের মধ্যে প্রদত্ত শত শত অঙ্গীকার ক্ষমতায় গেলে ভুলে যাওয়া হয়, মনে থাকলেও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। সিস্টেমের কারণে চাইলেও অনেক কিছু করা যায় না। তাদের দলীয় নেতৃত্ব কর্মীদেরকে জেহাদের আয়াত, হাদিস ইত্যাদি বলে উদ্বুদ্ধ করেন কিন্তু নিজেরা কর্মীদের মতো কষ্ট করতে চান না। তারা আরাম-আয়েশের মধ্যে জৌলুসপূর্ণ জীবনযাপন করতে ভালোবাসেন। তারা নিজেদের ছেলে মেয়েদেরকে বিদেশে পড়ান। আন্দোলনের চেয়ে আর্থিক সমৃদ্ধি, চাকুরি, ব্যবসা ইত্যাদিই তাদের ব্যস্ততা ও চিন্তার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু আল্লাহ বলেছেন, নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর নামে অঙ্গীকার করে ও কসম খেয়ে (ওয়াদা) তার বিনিময়ে তুচ্ছ পার্থিব স্বার্থ হাসিল করে, পরকালে তাদের কিছুই থাকবে না, আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে দৃষ্টি দেবেন না, এবং তাদেরকে পবিত্রও করবেন না। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (আল কোর’আন: সুরা আল ইমরান ৭৮)। [লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট, ফেসবুক: riyad.hassan.ht]

Photocard
টাইটেল সাইজ
লাইন স্পেস
অ্যাকশন
বামে বা ডানে সোয়াইপ করুন

রোববার ঢাকায় আসতে পারেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো!

রোববার ঢাকায় আসতে পারেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো!
আগামীকাল রোববার বাংলাদেশে আসতে পারেন বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ভুটানের রাজধানী থিম্পু সফরে যাওয়ার পথে স্বল্প সময়ের জন্য ঢাকায় ট্রানজিট নেওয়ার…
 ১৭ অক্টোবর ২০২৬    খেলাধুলা

শ্রীল্লভপুর ঘোষপাড়া শ্রীশ্রী কালী মন্দির পরিদর্শনে কৃষিমন্ত্রী আমিনুর রশিদ ইয়াসিন

শ্রীল্লভপুর ঘোষপাড়া শ্রীশ্রী কালী মন্দির পরিদর্শনে কৃষিমন্ত্রী আমিনুর রশিদ ইয়াসিন
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার শ্রীভল্লভপুর ঘোষপাড়া শ্রীশ্রী কালী মন্দির পরিদর্শন করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াসিন। পরিদর্শনকালে তিনি মন্দির প্রাঙ্গণে সনাতন…
 ১৭ অক্টোবর ২০২৬    চট্টগ্রাম

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা আরও বাড়ানো হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা আরও বাড়ানো হবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করতে ভাতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায়…
 ১৭ অক্টোবর ২০২৬    জাতীয়

বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের ৫৪তম বার্ষিক সাধারণ সভা

বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের ৫৪তম বার্ষিক সাধারণ সভা
বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের ৫৪তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের সভাপতি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের…
 ১৭ অক্টোবর ২০২৬    ঢাকা

সাদুল্লাপুরে ব্রিজের নিচের পানিতে ভাসছিল অজ্ঞাত নারীর মরদেহ

সাদুল্লাপুরে ব্রিজের নিচের পানিতে ভাসছিল অজ্ঞাত নারীর মরদেহ
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় একটি ব্রিজের নিচের পানিতে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত নারীর আনুমানিক বয়স ৪০ থেকে ৪৫ বছর।…
 ১৭ অক্টোবর ২০২৬    রংপুর

ইপিডিএবি -এর বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

ইপিডিএবি -এর বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত
ইলেকট্রনিক্স পণ্য পরিবেশক সমিতি বাংলাদেশ তথা ইলেকট্রনিক্স প্রোডাক্টস ডিস্ট্রিবিউটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইপিডিএবি)-এর বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মাধ্যমে সংগঠনটির পথচলায় এক…
 ১৭ অক্টোবর ২০২৬    ঢাকা

ফুলবাড়ীতে বিএনপির সদ্যঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ

ফুলবাড়ীতে বিএনপির সদ্যঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় বিএনপির সদ্যঘোষিত আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন দলটির একাংশের নেতাকর্মীরা। কমিটিতে ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা…
 ১৭ অক্টোবর ২০২৬    রংপুর

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে জেলের জালে ৯০ কেজির বাঘাইড় মাছ

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে জেলের জালে ৯০ কেজির বাঘাইড় মাছ
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের পুটিমারী এলাকায় স্থানীয় এক জেলের জালে ৯০ কেজি ওজনের একটি বিশালাকার বাঘাইড় মাছ ধরা পড়েছে। আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) মাছটির ছবি…
 ১৭ অক্টোবর ২০২৬    রংপুর

রৌমারীতে ট্রাক ও ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৫

রৌমারীতে ট্রাক ও ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৫
শাহ আলম, কুড়িগ্রাম:কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার কর্তিমারী এলাকায় ডিসি সড়কে মালবোঝাই ট্রাক ও ইজিবাইকের সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর)…
 ১৭ অক্টোবর ২০২৬    রংপুর

শিশু হাসপাতালে কক্ষে ধূমপান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বরখাস্ত চিকিৎসক!

শিশু হাসপাতালে কক্ষে ধূমপান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বরখাস্ত চিকিৎসক!
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আকস্মিক পরিদর্শনে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের নিজ কক্ষে ধূমপান করতে দেখা যায় সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে। এ সময় কক্ষের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশও…
 ১৭ অক্টোবর ২০২৬    জাতীয়

কালিয়াকৈর ঔষধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন

কালিয়াকৈর ঔষধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন
মোঃ শফিকুল ইসলামকালিয়াকৈর ( গাজীপুর) প্রতিনিধিগাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুরস্থইবনে সিনা  ফার্মাসিটিক্যাল লিমিটেড  এর হারবাল শাখায় শনিবার বিকেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ওষুধের মেশিন ও গোডাউনে…
 ১৭ অক্টোবর ২০২৬    ঢাকা

নুডলস খাওয়ার পর একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু, রয়েছে ৩ শিশুও!

নুডলস খাওয়ার পর একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু, রয়েছে ৩ শিশুও!
ভারতের গ্রেটার নয়ডায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃতদের মধ্যে রয়েছে তিন শিশুও। শুক্রবার রাতে নুডলস খাওয়ার পর ঘুমাতে যান পরিবারের সদস্যরা।…
 ১৭ অক্টোবর ২০২৬    আন্তর্জাতিক

আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের, জাহাজ চলাচলে কঠোর হুঁশিয়ারি!

আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের, জাহাজ চলাচলে কঠোর হুঁশিয়ারি!
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সাম্প্রতিক সময়ে এই নৌপথে…
 ১৭ অক্টোবর ২০২৬    আন্তর্জাতিক

কক্সবাজারে রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, স্ত্রীসহ পরিবারের ৬ সদস্যকে হারানোর শঙ্কায় আশিকুল!

কক্সবাজারে রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, স্ত্রীসহ পরিবারের ৬ সদস্যকে হারানোর শঙ্কায় আশিকুল!
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রীসহ পরিবারের ছয় সদস্যকে হারানোর শঙ্কায় ভেঙে পড়েছেন আশিকুল ইসলাম। আনন্দঘন ভ্রমণে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে…
 ১৭ অক্টোবর ২০২৬    চট্টগ্রাম

পানামায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ৭৪৬ আফটারশক, উপকূলে উদ্বেগ!

পানামায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ৭৪৬ আফটারশক, উপকূলে উদ্বেগ!
মধ্য আমেরিকার দেশ পানামায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ৭৪৬টি পরকম্পন বা আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ৯ অক্টোবরের ভূমিকম্পের পর দেশটির…
 ১৭ অক্টোবর ২০২৬    আন্তর্জাতিক