প্রচ্ছদ    বিশেষ নিবন্ধ   মাদ্রাসা শিক্ষাক্ষেত্রে ঔপনিবেশিক ষড়যন্ত্র

মাদ্রাসা শিক্ষাক্ষেত্রে ঔপনিবেশিক ষড়যন্ত্র

২৬ আগস্ট ২০১৫ ০৫:০৩ পিএম
বজ্রশক্তি ডেস্ক

মাননীয় এমামুযযামানের লেখা থেকে সংকলিত:
মহান আল্লাহ তাঁর শেষ রসুলকে হেদায়াহ ও সত্যদীন ইসলাম দিয়ে প্রেরণ করেছিলেন সারা দুনিয়ার সকল জীবনব্যবস্থার উপর ইসলামকে বিজয়ী হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য (সুরা তওবাহ ৩৩, সুরা ফাতাহ ২৮, সুরা সফ ৯)। মহানবী ও তাঁর আসহাবরা কঠিন সংগ্রাম করে অর্ধ পৃথিবীতে আল্লাহর প্রকৃত ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আল্লাহ কোর’আনে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন যে, এই জাতি যদি তাদের মূল কাজ অর্থাৎ দীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ছেড়ে দেয় তাহলে আল্লাহ তাদেরকে কঠিন শাস্তি দিবেন এবং তাদের উপর অন্য জাতি চাপিয়ে দিবেন (সুরা তওবা ৩৮-৩৯)। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত রসুলাল্লাহর চলে যাওয়ার ৬০/৭০ বছর পরেই এই জাতি  পৃথিবীময় ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ছেড়ে দিল।  তখনও এই শেষ জীবনব্যবস্থা তাদের জাতীয় ও ব্যক্তিগত জীবনে কার্যকরী ছিল। কিন্তু দীন নিয়ে বাড়াবাড়ি করার ফলে এবং বিকৃত সুফী মতবাদের প্রভাবে এই জাতি ঐক্যহীন একটি স্থবির প্রাণহীন জনসংখ্যায় পরিণত হলো যেটা শত্রুর আক্রমণের মুখে সহজেই ভেঙ্গে পড়ল। ইউরোপের খ্রিষ্টান জাতিগুলো সামরিক শক্তিবলে পৃথিবীর প্রায় সবক’টি মুসলিম অধ্যুষিত দেশ অধিকার করার পর এরা যাতে আর ভবিষ্যতে কোনদিন তাদের ঐ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে না পারে সেজন্য তারা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিল। এই পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান পদক্ষেপ হলো শিক্ষা ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করা, কারণ শিক্ষা ব্যবস্থা এমন এক বিষয় যে এর মাধ্যমে মানুষকে যা ইচ্ছা তাই করা যায়; চরিত্রবান মানুষও তৈরি করা যায় আবার দুশ্চরিত্র মানুষেও পরিণত করা যায়; কী শিক্ষা দেয়া হচ্ছে তারই ওপর নির্ভর করে সে কেমন মানুষ হবে। তাই দখলকারী শক্তিগুলো তাদের অধিকৃত মুসলিম দেশগুলোতে মাদ্রাসা স্থাপন করল। উদ্দেশ্য- পদানত মুসলিম জাতিটাকে এমন একটা ইসলাম শিক্ষা দেয়া যাতে তাদের চরিত্র প্রকৃত পক্ষেই একটা পরাধীন দাস জাতির চরিত্রে পরিণত হয়, তারা কোনদিন তাদের প্রভুদের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়াবার চিন্তাও না করে। খ্রিষ্টানদের মধ্যে Orientalist (প্রাচ্যবিদ) বলে একটা শিক্ষিত শ্রেণি ছিল ও আছে যারা ইসলামসহ প্রাচ্যের বিভিন্ন ধর্ম, কৃষ্টি, ইতিহাস ইত্যাদির ওপর গবেষণা করে থাকেন। এদের সাহায্য নিয়ে খ্রিষ্টানরা মাদ্রাসায় শিক্ষা দেবার জন্য তাদের মন মত Syllabus (কি শিখানো হবে তার তালিকা) ও Curricullum (কি প্রক্রিয়ায় শেখানো হবে) তৈরি করে তা শিক্ষা দেবার জন্য তাদের অধিকৃত সমস্ত মুসলিম দেশগুলোতে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করল। আমাদের কৃতকর্মের জন্য আল্লাহ কোর’আনে সুরা তওবার ৩৮-৩৯নং আয়াতে দেয়া প্রতিশ্রুতি মোতাবেক আমাদের ব্রিটিশদের গোলামে পরিণত করে দিয়েছিলেন। এই উপমহাদেশের ভাইসরয় (Viceroy) বা বড়লাট লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৮০ সনে তদানীন্তন রাজধানী কোলকাতায় আলীয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে শেষ নবীর মাধ্যমে আল্লাহর দেওয়া দীনুল ইসলাম নয়, তাদের প্রাচ্যবিদদের (Orientalist) দ্বারা তৈরি করা একটি বিকৃত ইসলাম শিক্ষা দিতে আরম্ভ করলেন। খ্রিষ্টান প্রাচ্যবিদদের দ্বারা তৈরি করা এই ইসলামে প্রথমে কালেমার অর্থ বিকৃতি করা হলো; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-র প্রকৃত অর্থ ‘আল্লাহ ছাড়া আদেশদাতা নেই’ কে বদলিয়ে করা হলো আল্লাহ ছাড়া উপাস্য নেই, যেটাকে আরবীতে ভাষান্তর করলে হয় লা মা’বুদ ইল্লাল্লাহ। এটা করা হলো এই জন্য যে, আল্লাহকে একমাত্র আদেশদাতা হিসাবে নিলে এ জাতিতো ব্রিটিশদের আদেশ মানবে না, মুসলিম থাকতে হলে আল্লাহর আদেশ মানতে হবে। আর কালেমার মধ্যে ইলাহ শব্দের অর্থ বদলিয়ে যদি উপাস্য বা মা’বুদ শেখানো যায় তবে এ জাতির লোকজন ব্যক্তিগতভাবে আল্লাহর উপাসনা, নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত, দান-খয়রাত ইত্যাদি নানা উপাসনা করতে থাকবে এবং জাতীয় জীবনে ব্রিটিশ প্রভুদের আদেশ পালন করতে থাকবে; তাদের অধিকার ও শাসন দৃঢ় ও স্থায়ী হবে। এই উদ্দেশ্যে ঐ বিকৃত ইসলামে নামাজ, রোজা,
হজ্ব, যাকাত, আত্মার পরিচ্ছন্নতার জন্য নানারকম ঘষামাজা, আধ্যাত্মিক উন্নতির ওপর গুরুত্ব ও প্রাধান্য দেয়া হলো। কারণ এরা ঐ এবাদত, উপাসনা নিয়ে যত বেশি ব্যস্ত থাকবে ব্রিটিশরা তত নিরাপদ হবে।
(খ) ব্রিটিশ শাসকরা এই মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার (Syllabus) মধ্যে প্রধানতঃ বিতর্কিত বিষয়গুলোর প্রাধান্য দিল, যেগুলো অতি আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল এমামদের এবং তাদের অনুসারীদের মধ্যে, কোর’আনের আয়াতের ব্যাখ্যা নিয়ে। এগুলোকে প্রাধান্য ও প্রয়োজনীয় শিক্ষণীয় বিষয় বলে (Syllabus) এর অন্তর্ভুক্ত করার উদ্দেশ্য হলো এই যে এই মাদ্রাসায় শিক্ষিতরা যেন ঐগুলো নিয়েই ব্যস্ত থাকে, তর্কাতর্কি, এমনকি মারামারি করতে থাকে, শাসকদের দিকে তাদের দৃষ্টি দেবার সময় না থাকে।
(গ) খ্রিষ্টানদের প্রাচ্যবিদদের তৈরি ঐ ইসলামে কোর’আনের গুরুত্ব একেবারে কমিয়ে দিয়ে সেখানে হাদিসের প্রবল প্রাধান্য দেয়া হলো। কারণ এই যে কোর’আন চৌদ্দশ’ বছর আগে যা ছিল আজও ঠিক তাই-ই আছে, এর একটা শব্দ নয় একটা অক্ষরও কেউ বদলাতে বা বাদ দিতে পারে নাই, কারণ এর রক্ষা ব্যবস্থা আল্লাহ তার নিজের হাতে রেখেছেন (কোর’আন- সুরা হেজর ৯) কিন্তু হাদিস তা নয়। বহু হাদিস মানুষ তার উদ্দেশ্য সাধনের জন্য তৈরি করেছে, খেলাফতের পরে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর উমাইয়া, আব্বাসীয়া, ফাতেমী ইত্যাদি খেলাফতের নামে আসলে রাজতন্ত্রের রাজারা তাদের যার যার সিংহাসন রক্ষার জন্য অজস্র মিথ্যা হাদিস তৈরি করে আল্লাহর রসুলের নামে চালিয়েছে। সুন্নীরা তাদের মতবাদের পক্ষে, শিয়ারা তাদের মতবাদের পক্ষে মিথ্যা হাদিস তৈরি করে নিয়েছে যার যার মতবাদকে শক্তিশালী করার জন্য। আরও বিভিন্নভাবে হাদিস বিকৃত হয়েছে। কোর’আনের গুরুত্ব কমিয়ে দিয়ে হাদিসের ওপর এত জোর এবং গুরুত্ব দেয়ার উদ্দেশ্য হলো বিতর্ক, বিভেদ শুধু জিইয়ে রাখা নয় ওটাকে শক্তিশালী করা।
(ঘ) তারপর তারা যে কাজটি করল তা সাংঘাতিক এবং যার ফল সুদূর প্রসারী। তারা তাদের প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসায় তাদের তৈরি করা বিকৃত ইসলামে যে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করল তাতে মাদ্রাসার শিক্ষা শেষ করে বেরিয়ে এসে তাদের রুজি-রোজগার করে খেয়ে বেঁচে থাকার কোন শিক্ষা দেয়া হলো না। অংক, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, ভূগোল, ইতিহাস, বিজ্ঞান, দর্শন, অর্থ-বিজ্ঞান, জীব-বিদ্যা ইত্যাদির কোন কিছুই ঐ সব মাদ্রাসার সিলেবাসে (Syllabus) রাখা হলো না। খ্রিষ্টানরা এটা এই উদ্দেশ্যে করল যে, তাদের মাদ্রাসায় শিক্ষিত এই মানুষগুলো যেন ওখান থেকে বেরিয়ে যেয়ে তাদের শেখানো বিকৃত ইসলামটাকে বিক্রি করে পয়সা উপার্জন করা ছাড়া আর কোন পথে উপার্জন করতে না পারে; কারণ ঐ মানুষগুলোর মধ্য থেকে ব্যতিক্রম হিসাবে যদি কেউ বুঝতে পারে যে তাদের শিক্ষা দেয়া ঐ ইসলামটা প্রকৃতপক্ষে নবীর মাধ্যমে আল্লাহর দেয়া সত্য ইসলাম নয়, ওটা বিকৃত, তাহলেও যেন সে বাধ্য হয় ওটাকেই বিক্রি করে উপার্জন করতে, কারণ তাকে এমন আর কিছুই শিক্ষা দেয়া হয়নি যে কাজ করে সে টাকা পয়সা উপার্জন করে খেতে পারে। মূর্খ জনসাধারণ ধর্ম সম্বন্ধে জানার জন্য, ফতোওয়া নেবার জন্য স্বভাবতই এদের কাছেই যেতে বাধ্য এবং তারা অবশ্যই ব্রিটিশ-খ্রিষ্টানদের তৈরি করা ঐ প্রাণহীন, আত্মাহীন, বিতর্ক-সর্বস্ব ইসলামটাই তাদের শিক্ষা দেবে ; এবং এই ভাবেই ঐ বিকৃত ইসলামই সর্বত্র গৃহীত হবে, চালু হবে। খ্রিষ্টানরা তাদের অধিকৃত সমস্ত মুসলিম দেশগুলোতে এই নীতিই কার্যকরী করেছে এবং সর্বত্র তারা একশ’ ভাগ (১০০%) সফল হয়েছে। ১৭৮০ সনে কোলকাতায় আলীয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে খ্রিষ্টান শাসকরা এর পরিচালনার ভার অর্পণ করল এ দেশীয় একজন মোল্লার হাতে যিনি খ্রিষ্টানদের বেঁধে দেওয়া শিক্ষাক্রম (Curricullum) অনুযায়ী মুসলমান ছাত্রদেরকে তাদেরই বেঁধে দেওয়া পাঠ্যসূচি (Syllabus) অর্থাৎ ইসলাম শিক্ষা দিবেন। কিন্তু এ মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণ তারা সম্পূর্ণভাবে তাদের নিজেদের হাতে রাখলো। তারা অর্ধশতাব্দীর অধিক সময় এ পদ্ধতিতে শিক্ষা প্রদান চালু রাখলো। অর্ধশতাব্দীর পর্যবেক্ষণের পর তারা যখন দেখলো যে এ থেকে তাদের আশানুরূপ ফল আসছে না, তখন মুসলিম বলে পরিচিত এই জাতিটাকে নিজেদের তৈরি বিকৃত ইসলামের মাধ্যমে চিরদিনের জন্য পঙ্গু, অথর্ব করে নিজেদের শাসন দীর্ঘদিনের জন্য পাকাপোক্ত করার এই জঘন্য পরিকল্পনা যাতে বিঘিœত না হয় সেজন্য ১৮৫০ সালে ব্রিটিশ খ্রিষ্টান শাসকরা তাদের প্রতিষ্ঠিত আলীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ (Principal) পদটিও নিজেদের হাতে নিয়ে নিল। প্রথম অধ্যক্ষ নিযুক্ত হলেন ডঃ ¯িপ্রংগার (Springer)। তারপর একাধিক্রমে ২৬ জন খ্রিষ্টান ৭৬ বৎসর (১৮৫০-১৯২৭) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পদে আসীন থেকে এই মুসলিম জাতিকে ইসলাম শিক্ষা দিলেন।
খ্রিষ্টানদের গোলাম, দাস হবার আগেই আল্লাহ-রসুলের প্রকৃত ইসলাম বিকৃত হয়ে গিয়েছিল তা না হলে তো আর গোলাম হতে হতো না, কিন্তু ওটার যা কিছু প্রাণ অবশিষ্ট ছিল খ্রিষ্টানদের তৈরি এই ইসলামে তা শেষ হয়ে গেল এবং এটার শুধু কংকাল ছাড়া আর কিছুই রইল না। দীর্ঘ ১৪৬ বছর (১৭৮০ সালে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে ১৮৫০ সাল পর্যন্ত ৭০ বছর মুসলিম নামধারী মোল্লাদেরকে অধ্যক্ষ পদে রেখে এবং ১৮৫০ থেকে ১৯২৭ সাল পর্যন্ত ৭৬ বছর খ্রিষ্টান পণ্ডিতরা নিজেরা সরাসরি অধ্যক্ষ পদে অধিষ্ঠিত থেকে) এ খ্রিষ্টান ইসলাম শিক্ষা দেবার পর ব্রিটিশরা যখন নিশ্চিত হলো যে, তাদের তৈরি করা বিকৃত ইসলামটা তারা এ জাতির হাড়-মজ্জায় ঢুকিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে এবং আর তারা কখনও এটা থেকে বের হতে পারবে না তখন তারা ১৯২৭ সনে তাদের আলীয়া মাদ্রাসা থেকেই শিক্ষিত মওলানা শামসুল ওলামা কামাল উদ্দিন আহমেদ (এম.এ.আই.আই.এস) এর কাছে অধ্যক্ষ পদটি ছেড়ে দিল। তাদের নিজেদের প্রতিষ্ঠিত আলীয়া মাদ্রাসার (Syllabus) ও Curricullum শুধু ঐ মাদ্রাসায় সীমিত না রেখে ব্রিটিশ শাসকরা তা বাধ্যতামূলকভাবে এই উপমহাদেশের সর্বত্র বেশির ভাগ মাদ্রাসায় চালু করল [দেখুন- আলীয়া মাদ্রাসার ইতিহাস, মূল- আ: সাত্তার, অনুবাদ- মোস্তফা হারুণ, ইসলামী ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ এবং Reports on Islamic Education and Madrasah Education in Bengal by Dr. Sekander Ali Ibrahimy (Islami Foundation Bangladesh)।
উপমহাদেশ ভাগ হয়ে পাকিস্তান হবার পর ঐ আলীয়া মাদ্রাসা উভয় পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পরে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবার পরও খ্রিষ্টানদের তৈরি বিকৃত ইসলামের সেই পাঠ্যক্রমই চালু থাকে; শুধু ইদানীং এতে কিছু বিষয় যোগ করার চেষ্টা হচ্ছে যাতে মাদ্রাসায় শিক্ষিত দাখেল, ফাযেল ও আলেমরা দীন বিক্রি করে খাওয়া ছাড়াও ইচ্ছা হলে অন্য একটা কিছু করে খেতে পরতে পারে। অর্থাৎ মুসলিম বলে পরিচিত পৃথিবীর জনসংখ্যাটি যাতে কোনদিন মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে সেজন্য খ্রিষ্টানরা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে তাদের তৈরি যে প্রাণহীন, আত্মাহীন বিকৃত ইসলামটা ১৪৬ বৎসর ধরে শিক্ষা দিয়েছিল সেই বিকৃত, আত্মাহীন ইসলামটাকেই প্রকৃত ইসলাম মনে করে আমরা প্রাণপণে তা আমাদের জীবনে কার্যকরী করার চেষ্টায় আছি।
এই শিক্ষাব্যবস্থার সিলেবাসে অংক, ভূগোল, বিজ্ঞান, অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষা ইত্যাদির কোন কিছুই রাখা হলো না, যেন মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে এসে আলেমদের রুজি-রোজগার করে খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য এই দীন, ধর্ম বিক্রি করে রোজগার করা ছাড়া আর কোন পথ না থাকে। খ্রিষ্টানরা এটা এই উদ্দেশ্যে করল যে তাদের মাদ্রাসায় শিক্ষিত এই মানুষগুলো যাতে বাধ্য হয় দীন বিক্রী করে উপার্জন করতে এবং তাদের ওয়াজ নসিহতের মাধ্যমে বিকৃত ইসলামটা এই জনগোষ্ঠীর মন-মগজে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। তাদের এই পরিকল্পনায় তারা শতভাগ সফল হয়েছে। ব্রিটিশরা চলে গেছে কিন্তু আজও পৃথিবীর সমস্ত মাদ্রাসাগুলোতে খ্রিষ্টানদের তৈরি করা এবং তাদের শেখানো ঐ আর্থহীন, হেদায়াহহীন, জেহাদহীন ইসলামটাই শেখানো হচ্ছে এবং আমরা ওটাকেই প্রকৃত ইসলাম মনে করে প্রাণপণে তা পালন করার চেষ্টা করছি। তাই আমাদের ওপরে আল্লাহর দেয়া এই আযাব চলছে।
এক আল্লাহ, এক রসুল, এক দীন অথচ ইসলামের এমন একটি বিষয় খুঁজে পাওয়া মুশকিল যে বিষয়ে মতবিরোধ নেই। প্রতিটি বিষয় নিয়ে মাসলা মাসায়েল আর ফতোয়ার দুর্বোধ্য জাল সৃষ্টি করেছে এই জনগোষ্ঠীর এমাম, আলেমগণ। তাদের প্রতিটি সিদ্ধান্তের সমর্থনে আবার সৃষ্টি হয়েছে সমর্থকগোষ্ঠী বা অনুসারী। এইভাবে বিভক্ত হতে হতে জাতি আজ অসংখ্য মাযহাব, ফেরকা, দল, উপদল, তরিকায় বিভক্ত। এই দলগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে এতটাই শত্র“ ভাবাপন্ন যে একদল আরেক দলকে কাফের ফতোয়া দিতে এক মুহূর্ত দ্বিধা করে না। তারা একে অপরের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ করেন, হত্যা করেন, অন্য দলের উপাসনাগৃহে হামলা করেন। এই যে ধর্মীয় কোন্দলে মুসলিম নামক জনগোষ্ঠীটি আজ লিপ্ত হয়ে আছে এর বীজ রোপিত হয়েছে ঔপনিবেশিক আমলের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার সময়। তাদের Divide and rule বা “ঐক্যহীন করে শাসন কর” নামক শাসননীতির একটি অংশ হিসাবে তারা মাদ্রাসা শিক্ষার সিলেবাসেই রেখে দিয়েছেন মাযহাব, ফেরকা নিয়ে, দীনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম মাসলা মাসায়েল নিয়ে তর্ক করার শিক্ষা। এই বিকৃত ইসলাম যতদিন না এই জাতি ত্যাগ করবে এবং প্রকৃত ইসলাম গ্রহণ না করবে ততদিন তারা আর ঐক্যবদ্ধ হতে পারবে না এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
বর্তমানে সারা পৃথিবীতে ইসলামের নামে যা চলছে তার সঙ্গে যে আল্লাহর রসুলের ইসলামের দূরতম সম্পর্কও নেই। আল্লাহর তওহীদ ভিত্তিক যে সত্যদীন আল্লাহ রসুলাল্লাহকে অর্পণ করেছিলেন, যা রসুলাল্লাহ ও তাঁর উম্মাহ অর্ধেক পৃথিবীতে কঠোর সংগ্রামের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করে মানবজাতিকে অতুলনীয় শান্তি ও নিরাপত্তার স্বর্ণযুগ উপহার দিয়েছিলেন, সেই প্রকৃত ইসলাম গত ১৩০০ বছরের কালপরিক্রমায় বিকৃত হতে হতে বর্তমানে একেবারে বিপরীতমুখী হয়ে গেছে। সেই সব বিকৃতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে খ্রিষ্টান শাসকরা। এটা আল্লাহর ইসলাম নয়, কেননা ইসলাম শব্দের আক্ষরিক অর্থই শান্তি। অর্থাৎ যারা ইসলামের অনুসারী হবে তারা শান্তিতে থাকবে। কিন্তু বাস্তব অবস্থা ঠিক এর বিপরীত। যারা এই অবস্থা থেকে মুক্তির পথ খোঁজেন তাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ হচ্ছে, সেই হারিয়ে যাওয়া প্রকৃত ইসলাম মহান আল্লাহ আবার দয়া করে টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী পন্নী পরিবারের সন্তান এমামুযযামান, The Leader of the Time জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নীকে বুঝিয়ে দিয়েছেন। তাঁর পক্ষ থেকে হেযবুত তওহীদ মানবজাতিকে বলছে, “এই অশান্তিময় অবস্থা ও আসন্ন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে আল্লাহকে জীবনের একমাত্র ইলাহ, হুকুমদাতা হিসাবে মেনে নেওয়া ছাড়া আর বিকল্প নাই। অর্থাৎ মানবজাতি যদি তাদের জাতীয় ও সামষ্টিক জীবনে দাজ্জাল অর্থাৎ ইহুদি খ্রিষ্টান ‘সভ্যতা’র তৈরি তন্ত্র, মন্ত্র, ইজম বা মতবাদ ইত্যাদি পরিত্যাগ করে আল্লাহর দেওয়া সত্য জীবনব্যবস্থা গ্রহণ করে নেয় তবেই বিশ্বময় চলমান সঙ্কট থেকে মানবজাতি উদ্ধার পাবে।

Photocard
টাইটেল সাইজ
লাইন স্পেস
অ্যাকশন
বামে বা ডানে সোয়াইপ করুন

শিশু রামিসাকে নৃশংস হত্যার ঘটনায় বেরিয়ে এলো নতুন তথ্য

শিশু রামিসাকে নৃশংস হত্যার ঘটনায় বেরিয়ে এলো নতুন তথ্য
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল। এই নৃশংস অপরাধে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানার সঙ্গে আরও একজন জড়িত ছিলেন বলে…
 ২০ মে ২০২৬    জাতীয়

১৯ দিনে এলো ২৪৮ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

১৯ দিনে এলো ২৪৮ কোটি ডলার রেমিট্যান্স
চলতি বছরের মে মাসের প্রথম ১৯ দিনে দেশে ২৪৮ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৩০…
 ২০ মে ২০২৬    অর্থনীতি

গাইবান্ধা শহরে সন্ধ্যার পর বাড়ছে অপরাধ, আতঙ্কে সাধারণ পথচারীরা

গাইবান্ধা শহরে সন্ধ্যার পর বাড়ছে অপরাধ, আতঙ্কে সাধারণ পথচারীরা
গাইবান্ধা শহরের বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যার পর প্রকাশ্যে মদপান, ছিনতাই ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শহরের প্রধান…
 ২০ মে ২০২৬    রংপুর

সালথায় মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে তিন যুগের পুরোনো সেতু

সালথায় মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে তিন যুগের পুরোনো সেতু
ফরিদপুরের সালথায় প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে একটি ভাঙাচোরা সেতুর ওপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছিল। উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কাগদী বাজার সংলগ্ন…
 ২০ মে ২০২৬    ঢাকা

টিকা সংকট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে ১৫ বার সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ

টিকা সংকট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে ১৫ বার সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ
দেশে সম্ভাব্য টিকা সংকট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অন্তত পাঁচটি চিঠি দিয়ে সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ। এছাড়া ১০টি পৃথক বৈঠকেও সরকারের কর্মকর্তাদের এই বিষয়ে সচেতন…
 ২০ মে ২০২৬    আন্তর্জাতিক

গাজীপুরে অনলাইন ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে এক ব্যক্তি গ্রেফতার

গাজীপুরে অনলাইন ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে এক ব্যক্তি গ্রেফতার
গাজীপুর সংবাদদাতা: গাজীপুরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অনলাইন ক্যাসিনো জুয়া পরিচালনার অভিযোগে শাহিদুজ্জামান নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার রাতে মহানগরীর পশ্চিম…
 ১৯ মে ২০২৬    রাজধানী

চৌদ্দগ্রামে ফার্নিচারের দোকানে মিলল ১৪৮ কেজি গাঁজা, বিজিবির অভিযান

চৌদ্দগ্রামে ফার্নিচারের দোকানে মিলল ১৪৮ কেজি গাঁজা, বিজিবির অভিযান
কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম সীমান্তে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গাঁজা জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার সকালে উপজেলার সপুয়া বাজার এলাকা থেকে এই মাদক…
 ১৯ মে ২০২৬    চট্টগ্রাম

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিকে পুড়িয়ে হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেফতার

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিকে পুড়িয়ে হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেফতার
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে মাদক বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে তৃতীয় লিঙ্গের এনামুল হক শিশিরকে (২৯) পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি জহির ইসলামকে গ্রেফতার…
 ১৯ মে ২০২৬    চট্টগ্রাম

গাজীপুরে হেযবুত তওহীদ সদস্যের ওপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

গাজীপুরে হেযবুত তওহীদ সদস্যের ওপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
গাজীপুর সংবাদদাতা: গাজীপুরের শ্রীপুরে হেযবুত তওহীদের এক সদস্যের ওপর হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ ও জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে সংগঠনটির গাজীপুর জেলা শাখা। মঙ্গলবার (১২…
 ১২ মে ২০২৬    জাতীয়
পারমাণবিক উত্তেজনা কমাতে মস্কোর বিশেষ উদ্যোগ

ইরানের ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় রাখার প্রস্তাব দিলেন পুতিন

ইরানের ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় রাখার প্রস্তাব দিলেন পুতিন
ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে সংরক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শনিবার মস্কোতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা…
 ১০ মে ২০২৬    আন্তর্জাতিক

চীনের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

চীনের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বৈধ নথিবিহীন চীনা নাগরিকদের ফেরত নিতে গড়িমসি করায় চীনের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের এক…
 ৫ মে ২০২৬    আন্তর্জাতিক

কলাবাগান থানার এসআই নিখোঁজের ৮ দিন, শ্রীপুরের বাড়িতে পরিবারের আহাজারি

কলাবাগান থানার এসআই নিখোঁজের ৮ দিন, শ্রীপুরের বাড়িতে পরিবারের আহাজারি
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:রাজধানীর কলাবাগান থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হাসান সরকার শুভ (৩২) নিখোঁজ হওয়ার ৮ দিন পার হলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।…
 ৪ মে ২০২৬    ঢাকা

শ্রীপুরে সরকারি জায়গায় নির্মিত বিএনপির সব কার্যালয় উচ্ছেদের নির্দেশ

শ্রীপুরে সরকারি জায়গায় নির্মিত বিএনপির সব কার্যালয় উচ্ছেদের নির্দেশ
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:গাজীপুরের শ্রীপুরে মহাসড়কের পাশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জমি দখল করে তৈরি করা বিএনপির সব অস্থায়ী কার্যালয় এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ…
 ৩ মে ২০২৬    ঢাকা

শ্রীপুরে স্কুলের অফিস কক্ষে চুরি

শ্রীপুরে স্কুলের  অফিস কক্ষে চুরি
গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রাথমিক  বিদ্যালয়ে অফিস কক্ষে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার  (১মে) রাতে  উপজেলার  তেলিহাটি ইউনিয়নের…
 ২ মে ২০২৬    ঢাকা

মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা

মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা
বর্তমানে উন্নত কি অনুন্নত- সমগ্র পৃথিবীতেই এক চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর উপর শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো আধিপত্য বিস্তার করছে, হামলা করছে, দখল করছে; আর রাষ্ট্রগুলোর…
 ২ মে ২০২৬    বিশেষ নিবন্ধ