প্রচ্ছদ    বিশেষ নিবন্ধ   ধর্ম অবমাননার জবাবে ইসলামের শিক্ষা

ধর্ম অবমাননার জবাবে ইসলামের শিক্ষা

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ০৬:০০ পিএম
বজ্রশক্তি ডেস্ক

রাকীব আল হাসান

ইসলাম ধর্মের অবমাননা কোনো মুসলিমই সহজে মেনে নিতে পারবে না এটা স্বাভাবিক। কারণ আমরা মুসলিমরা রসুলকে নিজেদের প্রাণের চেয়েও ভালোবাসি, কোর’আনকে পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে পবিত্র বস্তু বলে বিবেচনা করি। যদি কেউ মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের উদ্দেশ্যে এর অসম্মান করে, তাহলে অবশ্যই তার প্রতিবাদ হওয়া উচিত। আমাদের দেশেও প্রতিবাদ হয়, কিন্তু সেই প্রতিবাদের ভাষা কতটা ইসলাম সম্মত, রসুলাল্লাহর সুন্নাহ সম্মত সেটা আমাদের আজকের আলোচ্য বিষয়।
কিছুদিন পর পর আমাদের দেশে কোর’আন ‘অবমাননা’র অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, দোকানপাটে হামলা করে ভাঙচুর চালায় ক্ষিপ্ত জনতা। সব সময়ে দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন মতাদর্শের স্বার্থবাদী রাজনৈতিক দল ওঁৎ পেতেই থাকে। তারাও সুযোগ পেয়ে এ জাতিয় সন্ত্রাসের আগুনে ঘি ঢালে। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, এগুলো সবই করা হয় ধর্মের নামে। ভারতে হয় হিন্দু ধর্মের নামে, আর বাংলাদেশে ইসলামের নামে। এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়, উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যেই বৃহত্তর শান্তিপ্রিয় শান্তিকামী ধর্মপ্রাণ উপাসকদের বাইরেও বর্তমানে একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠীর প্রাবল্য সৃষ্টি হয়েছে। তারাই নানারকম ইস্যু সৃষ্টি করে, সেগুলো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহৃত হয়। মাঝখান থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ নিরীহ মানুষ। 
উপরন্তু উভয়ধর্মের মধ্যেই পশ্চিমা বস্তুবাদী, নাস্তিকতাবাদী দর্শন দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ধর্মবিদ্বেষী শ্রেণিরও উদ্ভব হয়েছে, যারা প্রতিনিয়ত ধর্মের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে বেড়ায়। তাদের মধ্যে ইসলামবিদ্বেষী যে গোষ্ঠীটি সারা বছর ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ায় তারা এ ধরনের ইস্যুকে ব্যবহার করে নানা ধরনের বক্তব্য, ঘৃণাসূচক পোস্ট অনলাইনে প্রচার করে। ফলে মানবজাতির কাছে ইসলাম সম্পর্কে ভয়ানক নেতিবাচক বার্তা যায় যে, ইসলাম একটি সন্ত্রাসের ধর্ম, ইসলাম পরমতসহিষ্ণু নয়, আধুনিক সভ্যযুগে সভ্য মানবসমাজে ইসলাম খাপ খায় না, মুসলিমরা সন্ত্রাসী, মুসলিমরা জঙ্গি, মুসলিমরা পাশবিক, বর্বর, নৃশংস ইত্যাদি। 
কিন্তু শান্তির ধর্ম ইসলামের নাম ব্যবহার করে যারা এই যে হিংসা ও সন্ত্রাসের চর্চা করে চলছে- তারা কি আদৌ রসুলাল্লাহর অনুসারী? যারা রসুলকে ভালোবাসেন, ইসলামকে ভালোবাসেন তাদের সামনে মহানবীর গৃহীত কর্মনীতি আলোচনা করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। চলুন দেখি তিনি এ জাতিয় ঘটনার ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন।
 

ঘটনা ১।। মসজিদে প্রশ্রাবকারী ব্যক্তির প্রতি আচরণ

আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন, একবার এক বেদুঈন মসজিদে নববীতে পেশাব করে দিল। লোকেরা তা দেখে তেড়ে এল। কিন্তু রসুলাল্লাহ (সা.) তাদেরকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, তাকে তার কাজ শেষ করতে দাও এবং এক বালতি পানি ঢেলে স্থানটি ধুয়ে দাও। মনে রেখ, তোমাদেরকে পাঠানো হয়েছে জীবনকে সহজ করার জন্য, কঠিন করার জন্য নয় (হাদিস- বোখারি, কিতাবুল ওজু ১/৩৫)। এরপর রসুলাল্লাহ লোকটিকে শান্তভাবে বুঝিয়ে বললেন যে মসজিদ আল্লাহর ঘর, এখানে সালাহ কায়েম করা হয়। এটা পবিত্র স্থান। এখানে এই কাজ করা উচিত নয়। আরববাসীর অজ্ঞতা সম্পর্কে রসুলাল্লাহ সচেতন ছিলেন। তাই এ বিষয় নিয়ে অন্যান্য সাহাবিদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়াতে দিলেন না। তিনি সঙ্গে সঙ্গে হস্তক্ষেপ করে সুন্দর ও স্বাভাবিক সমাধান করে দিলেন। 
পক্ষান্তরে আজকে যদি এ ধরনের ঘটনা কেউ ঘটায় তাহলে মসজিদ কর্তৃপক্ষ বা প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ এর সমাধান দেওয়ার আগেই স্বার্থান্বেষী ঐ গোষ্ঠীটি গুজব ছড়িয়ে দিত। ফলে তার কপালে কী ঘটবে তা সহজেই অনুমেয়। প্রমাণ- মাত্র কিছুদিন আগে লালমণিরহাটে জুয়েল নামে একজন নির্দোষ ব্যক্তির উপর কোর’আন অবমাননার অভিযোগ এনে শেষ পর্যন্ত তাকে পিটিয়ে হত্যা তো করাই হয়েছিল, তারপর তার মরদেহ আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল পাশবিক উল্লাসে। কিন্তু বেচারার দোষ ছিল এটাই যে, মসজিদের উঁচু তাক থেকে কোর’আন নামাতে গিয়ে একটি কোর’আন মাটিতে পড়ে গিয়েছিল। বেচারা হাজার বার কোর’আনে চুমু খেয়েও, পায়ে ধরে ক্ষমা চেয়েও রক্তপিপাসু উন্মাদদের হাত থেকে বাঁচতে পারল না। এই মানুষগুলো আসলেই কি সেই নবীর অনুসারী যিনি অজ্ঞ বেদুইনকে মসজিদের ভিতরে অমন কাজ করতে দেখেও বিন্দুমাত্র ক্ষিপ্ত হন নি? তারা কি আসলেই মহানবীর আদর্শ ধারণ করেছেন? রসুলাল্লাহ তো জেহাদ করেছেন সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য, এবং সেই জেহাদের একটা সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও কর্মসূচি ছিল। তাঁর জেহাদ ছিল বহুগুণ শক্তিশালী শক্তির বিরুদ্ধে। তিনি তো দুর্বল অসহায় মানুষের বিরুদ্ধে শক্তিপ্রদর্শন করেন নি।
 

আরও পড়ুন

যোদ্ধাজাতির পাঠ: বাঁচতে হলে মরতে শিখো -এম আর হাসান

যোদ্ধাজাতির পাঠ: বাঁচতে হলে মরতে শিখো  এম আর হাসান

ঘটনা ২।। মোনাফেক সর্দারের দাফন অনুষ্ঠানে রসুলাল্লাহ (সা.)

মক্কায় ইসলামের সবচেয়ে বড় দুশমন ছিল আবু জাহেল আর মদিনায় সবচেয়ে বড় দুশমন ছিল মোনাফেক সর্দার আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সুলুল। এই দুজনের মধ্যে আব্দুল্লাহ বিন উবাই ছিল বেশি ভয়ানক, কারণ সে প্রকাশ্যে নিজেকে মুসলিম বলে দাবি করত, মসজিদে গিয়ে জামাতে সালাহ কায়েম করত, সকল আলোচনার মধ্যেও উপস্থিত থাকতো, এমন কি জেহাদের আয়োজনেও অংশ নিত। কিন্তু এর পাশাপাশি মো’মেনদের একতা আর মনোবলে ভাঙন ধরানোর জন্য সে সারাক্ষণ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকতো। রসুলাল্লাহর হাত থেকে মদিনার নেতৃত্ব কেড়ে নেওয়াই ছিল তার জীবনের একমাত্র স্বপ্ন। ওমর (রা.) সহ অনেক সাহাবি, এমন কি তার নিজের ছেলেও তাকে হত্যা করার জন্য নবীজির কাছে অনুমতি প্রার্থনা করেছেন, কিন্তু রসুলাল্লাহ অনুমতি দেন নি। তিনি ধৈর্য ধারণ করেছেন যাতে করে আব্দুল্লাহ বিন উবাইয়ের ভণ্ডামির মুখোস আপনা থেকেই খসে পড়ে আর তার অনুসারীরা তাদের নেতার কদর্যতার পরিচয় লাভ করতে পারে। তিনি বলেছেন, “যদি আমি তাকে হত্যা করি তাহলে লোকেরা বলবে, দেখ, মোহাম্মদ (সা.) দেখ তার সঙ্গীদেরকে কীভাবে হত্যা করেছে।”
এহেন মোনাফেক সর্দার যখন মারা গেল রসুলাল্লাহ তার দাফনকার্যে যোগ দান করলেন। তিনি যখন সেখানে পৌঁছান ততক্ষণে তাকে কবরে নামানো হয়ে গেছে। তিনি তার লাশ কবর থেকে বের করার নির্দেশ দেন। এরপর তার লাশ স্বীয় হাঁটুর ওপর রাখেন, নিজের মুখের পবিত্র থুথু তার শরীরে লাগিয়ে দেন এবং নিজের পরিধেয় জামা তাকে পরিয়ে দাফন করেন। (হাদিস- বোখারি, কিতাবুল জানাইয ১/১৮২)
এই ছিল রসুলাল্লাহর সহিষ্ণুতার মাত্রা। আজ যারা রসুলাল্লাহর উম্মত দাবি করে ভিন্নধর্মের বা ভিন্নমতের মানুষের উপর পৈশাচিক উন্মত্ততায় হামলে পড়ছে, সর্বোচ্চ ক্ষতিসাধনের জন্য আঘাত হানছে, তাদের সামনে মহানবীর এই সহনশীলতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার উদাহরণ তুলে ধরা অতি জরুরি। 
রসুলাল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা মন্দ ধারণা থেকে বেঁচে থাক। কেননা, তা জঘন্য মিথ্যা। তোমরা একে অন্যের ছিদ্রান্বেষণ করবে না, একে অন্যের দোষ খুঁজে বেড়াবে না, প্রতারণা করবে না, পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ রাখবে না, একে অন্যের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র পাকাবে না; বরং আল্লাহর বান্দা হিসেবে সকলে ভাই ভাইয়ে পরিণত হবে। -হাদিস বোখারী ২/৮৯৬
 

ঘটনা ৩।। ইহুদি ধর্মব্যবসায়ীর দুর্ব্যবহারের জবাব

যায়েদ নামের এক ইহুদি রাব্বাই মহানবীর সাথে একটি অগ্রিম কেনা-বেচা করল। নির্ধারিত সময়ের ২/৩ দিন পূর্বেই সে এসে মাল পরিশোধের দাবি করল। এমনকি চাদর মুবারক টেনে নবীজীর সঙ্গে বেয়াদবি করল। বিকৃত চেহারায় রূঢ় কণ্ঠে নবীজীর দিকে তাকিয়ে বলল, হে মুহাম্মাদ! আমি তোমাকে চিনি। তোমরা আব্দুল মুত্তালিবের বংশধর, বড় টালবাহানাকারী।’ 
সেখানে উপস্থিত ছিলেন ওমর ফারুক (রা.)। নবীজীর সাথে লোকটির এ অশিষ্ট আচরণ দেখে তিনি ক্রোধান্বিত হয়ে তাকে ধমক দিলেন। কিন্তু রসুলাল্লাহ ওমরকে (রা.) বললেন, ওমর! আমি ও এ ব্যক্তি তোমার থেকে অন্যরূপ আচরণ পাবার হকদার ছিলাম। দরকার তো ছিল তুমি আমাকে সত্বর তার প্রাপ্য আদায় করার পরামর্শ দিতে, আর তাকে কথায় ও আচরণে নম্রতা অবলম্বনের তাগিদ দিবে। এরপর তিনি ওমরকে (রা.) প্রাপ্য পরিশোধের নির্দেশ দেন এবং তাকে আরো ২০ সা বেশি খেজুর দিতে বলেন, যা ছিল ওমর (রা.) কর্তৃক লোকটিকে ধমক দেওয়ার বদলা। খেয়াল করুন, ভিন্ন ধর্মের লোককে সামান্য একটা ধমক দেওয়াও রসুলাল্লাহ বরদাশত করলেন না। 
মহানবীর এ সহিষ্ণু আচরণ লোকটির ইসলাম গ্রহণের কারণ হয়। যাওয়ার পথে যায়েদ ওমরকে (রা.) বললেন, হে ওমর! আমি হচ্ছি ইহুদি-আলেম যায়েদ ইবনে সানা। আসলে লেনদেন আমার উদ্দেশ্য ছিল না, বরং মহানবীর ক্ষমা ও সহিষ্ণুতা পরীক্ষা করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। কারণ শেষ নবীর অন্যতম গুণ হবে এই যে, তাঁর ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা ক্রোধের ওপর প্রবল থাকবে। যতই রূঢ় আচরণ করা হবে তার ক্ষমা ততই বৃদ্ধি পাবে। অতএব ওমর! আমি যা চেয়েছি তা পেয়ে গেছি। এরপর তিনি নবীজী সা. এর হাতে খালেসভাবে ঈমান আনেন এবং তাঁর অঢেল সম্পদের অর্ধেক উম্মতের জন্য দান করে দেন। -মুসনাদে আহমদ, ৩/১৫৩, আখলাকুন্নাবী পৃ. ১২৪
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সহনশীলতার চেষ্টা করবে, আল্লাহ তাকে সহনশীলতা অবলম্বনের শক্তি দান করবেন, আর সহনশীলতা থেকে অধিক উত্তম ও ব্যাপক কল্যাণকর বস্তু আর কিছুই কাউকে দান করা হয়নি।’ (হাদিস- বোখারি ও মুসলিম)
 

ঘটনা ৪।। চাচার কলিজা ভক্ষণকারীকে ক্ষমা

হামজা (রা.) ছিলেন রসুলাল্লাহর প্রাণপ্রিয় চাচা এবং অভিভাবক। ইসলামে প্রবেশের পর যিনি অনেক জেহাদে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি ওহুদের যুদ্ধে শাহদাত লাভ করেন। তাঁর শাহদাতের পর রসুলাল্লাহ এত কেঁদেছিলেন যে, অন্য কোনো জানাজায় তাঁকে এমন কাঁদতে দেখা যায়নি। আবু সুফিয়ানের প্রতিহিংসাপরায়ণ স্ত্রী হিন্দা নিজে হামজা (রা.)-এর পেট চিরে তাঁর কলিজা বের করে চিবায়। এমন বর্বর পৈশাচিক কাজ করার পরও রসুলাল্লাহ মক্কা বিজয়ের পর আবু সুফিয়ানের স্ত্রীকে ক্ষমা করে দেন। হিন্দার আগের জীবন এবং কর্ম নিয়ে রসুলাল্লাহ কখনোই তাকে কটাক্ষ করেননি।
রসুলাল্লাহ বলেন, ‘যে তোমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তার সাথে তুমি মিলে যাও, যে তোমার ওপর জুলুম করে তাকে ক্ষমা করে দাও, যে মন্দ আচরণ করে, তার সাথে সদাচরণ কর।’
 

ঘটনা ৫।। বিষ প্রয়োগকারীকে ক্ষমা

খায়বারে ইহুদিদের শোচনীয় পরাজয়ের পর জয়নব বিনতে তাহারাত নামের এক ইহুদি রমণী ভেড়ার গোশত রান্না করে রসুলাল্লাহকে দাওয়াত করেন । রসুলাল্লাহ (সা.) এবং বশির বিন বারা (রা.) খাওয়া শুরু করেন। খাবার মুখে দিয়েই রসুলাল্লাহ (সা.) বিষ দেওয়া হয়েছে বুঝতে পেরে তা ফেলে দেন, কিন্তু বশির (রা.) বিষক্রিয়ায় কয়েকদিন অসুস্থ থাকার পর মৃত্যুবরণ করেন। নবীজি জয়নবকে এ কাজের কারণ জিজ্ঞেস করলে সে বলল, “আপনি রাজা বা বাদশাহ হলে বিষক্রিয়ায় মারা যাবেন আর আমরা মুক্তি পাব, আর যদি নবী হন তাহলে আল্লাহ আপনাকে জানিয়ে দেবেন।”
আল্লাহর রসুল বললেন, “আল্লাহ তোমাকে আমায় হত্যা করার ক্ষমতা দেননি।” রসুলাল্লাহর হৃদয় ক্ষমার বিশালতায় আবৃত, তিনি জয়নবকেও ক্ষমা করে দেন। কিন্তু বশির (রা.)-কে হত্যার অপরাধে জয়নবকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। এ ঘটনায় রসুলাল্লাহ নিজের উপর করা হত্যাচেষ্টার অপরাধকে ক্ষমা করে দেন এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁর সাহাবির হত্যাকারীর ফায়সালা করেন। কিন্তু একজনের অপরাধে পুরো গোত্রকে দোষী সাব্যস্ত করেন নি। 
 

ঘটনা ৬।। কন্যার জীবন বিপন্নকারীকে ক্ষমা

হাব্বার ইবনে আসওয়াদ রসুলাল্লাহর কন্যা জয়নাবকে (রা.) হিজরতের সময় এমন জোরে ধাক্কা মেরেছিল যে তিনি উটের হাওদা থেকে ছিটকে পাথুরে প্রান্তরে গিয়ে পড়ে যান। এতে তার গর্ভপাত হয়ে যায়। মক্কা বিজয়ের পরে হাব্বার ইবনে আসওয়াদ ইসলাম গ্রহণ করেন, রসুলাল্লাহ (সা.) তাকেও ক্ষমা করে দেন।
 

ঘটনা ৭।। বেদুইনের অসভ্য আচরণের প্রতিক্রিয়া

আব্বাাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলাল্লাহ একদিন নাজরানের চাদর পরিহিত ছিলেন, যার প্রান্তদেশ ছিল মোটা। পথে এক বেদুইন আরবের সাথে দেখা হতেই সে নবীজীর চাদর ধরে এত জোরে টান দিল যে তাঁর গলায় দাগ পড়ে গেল। এরপর সে বলল, “আল্লাহর যে মাল আপনার কাছে রয়েছে তা আমাকে দেওয়ার হুকুম দিন।” রসুলাল্লাহ তার দিকে তাকিয়ে হাসলেন এবং তার প্রার্থিত বস্তু তাকে দেওয়ার জন্য বললেন। (হাদিস বোখারী, কিতাবুল জিহাদ)
 

ঘটনা ৮।। মক্কাবিজয়ের দিন সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা

রসুলাল্লাহকে কাফের কোরায়েশদের অত্যাচারে জর্জরিত হয়ে জন্মভূমি মক্কা থেকে হিজরত করতে হয়েছিল। আট বছর পর তিনি আবার ১০ হাজার সাবাবিকে নিয়ে মক্কা অভিমুখে রওনা হন। এ অভিযানে আল্লাহ তাঁকে বিনা যুদ্ধে বিজয় দান করেন। তিনি কাবাঘরে প্রবেশ করে মানব স্রোতের সামনে ভাষণ দেনÑ “আল্লাহ ছাড়া কোনো হুকুমদাতা নেই, তিনি এক অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি তাঁর ওয়াদা সত্যি করে দেখিয়েছেন। তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং তিনি একাই সব বিরুদ্ধশক্তিকে পরাজিত করেছেন।”
এরপর জিজ্ঞেস করলেন, “হে কোরাইশগণ! তোমাদের কী ধারণা, আমি তোমাদের সাথে কেমন আচরণ করব বলে তোমরা মনে করো?”
সবাই বলল, “আপনি ভালো ব্যবহার করবেন এটাই আমাদের ধারণা, আপনি দয়ালু ভাই, দয়ালু ভাইয়ের পুত্র।”
রসুলাল্লাহ (সা.) বললেন, তাহলে আমি তোমাদের সে কথাই বলছি যে কথা ইউসুফ (আ.) তাঁর ভাইদের বলেছিলেন, “আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, তোমরা মুক্ত।” ইতিহাস সাক্ষী হয়ে রইল, যে মানুষটির উপর ও তাঁর অনুসারীদের উপর সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে, বিনা উস্কানিতে তেরটি বছর দিনে রাতে লোমহর্ষক অত্যাচার চালানো হয়েছে, আজ তিনি পূর্ণ প্রতিশোধের ক্ষমতা পেয়েও চরম শত্রুকে ক্ষমা করে দিলেন। উম্মাহর জন্য কেয়ামত পর্যন্ত তিনি সহনশীলতার এই দৃষ্টান্ত, এই সুন্নাহ তিনি স্থাপন করে গেলেন। 
রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহর পথে আমাকে যতটুকু ভয় দেখানো হয়েছে, ততটুকু অন্য কাউকে দেখানো হয়নি। আল্লাহর পথে আমাকে যতটুকু নির্যাতিত করা হয়েছে, ততটুকু অন্য কাউকে করা হয়নি। একবার ত্রিশটি দিবা-রাত্র আমার এমন অতিবাহিত হয়েছে, যখন আমার ও বেলালের জন্যে এমন কোনো আহার্য বস্তু ছিল না, যা কোনো প্রাণী খেতে, সেই বস্তু ছাড়া, যা বেলাল তার নিকটে লুকিয়ে রেখেছিল। (মা’আরিফুল হাদীস; শামায়েল)।
এ ধরনের ক্ষমা, উদারতা, সহিষ্ণুতা, সহমর্মিতার শত শত উদাহরণ মহানবীর পবিত্র জীবনী থেকে দেওয়া যায়। তিনি জেহাদ করেছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অধিকারবঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, নিপীড়িত মানুষকে রক্ষা করার জন্য, মানুষের ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামাজিকসহ সর্বরকমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। জনমনে ত্রাস সৃষ্টি করা তাঁর জেহাদের উদ্দেশ্য ছিল না। তাই মহানবীর প্রকৃত উম্মত হিসাবে আমাদের কর্তব্য হবে যাচাই বাছাই না করে কোনো প্রচারণায় কান না দেওয়া, একের অপরাধে অন্যের ক্ষতিসাধন না করা, কেউ অপরাধ করলে কেবল তাকেই বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দণ্ডিত করা। 
 

[লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট; যোগাযোগ: ০১৬৭০১৭১৪৬৫১, ০১৭১১০০৫০২৫, ০১৭১১৫৭১৫৮১, ০১৬৭০১৭৪৬৪৩]

Photocard
টাইটেল সাইজ
লাইন স্পেস
অ্যাকশন
বামে বা ডানে সোয়াইপ করুন

কুড়িগ্রামে হেযবুত তওহীদের নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

কুড়িগ্রামে হেযবুত তওহীদের নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত
ধর্মান্ধ, কূপমন্ডকতা, বিকৃত ফতোয়াবাজি ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের নারীদের নিয়ে সমাবেশ করেছে হেযবুত তওহীদ কুড়িগ্রাম জেলা শাখা নারী বিভাগ। রবিবার বার  (৮ নভেম্বর) বিকেলে কুড়িগ্রাম…
 ৮ নভেম্বর ২০২৬    রংপুর

অবসর ও কল্যাণের টাকা পাচ্ছেন ১৩ হাজার এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী!

অবসর ও কল্যাণের টাকা পাচ্ছেন ১৩ হাজার এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী!
দীর্ঘদিন ধরে অবসর ও কল্যাণ সুবিধার টাকার অপেক্ষায় থাকা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৩ হাজার এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর পাওনা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ২০২২ ও…
 ৮ নভেম্বর ২০২৬    জাতীয়

দেশে ফিরে শেখ হাসিনাকে বরণ করার স্বপ্ন বাস্তব হবে না: রিজভী

দেশে ফিরে শেখ হাসিনাকে বরণ করার স্বপ্ন বাস্তব হবে না: রিজভী
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বক্তব্যকে ‘দিবাস্বপ্ন’ আখ্যা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, শত শত মানুষ হত্যার পর শেখ হাসিনা…
 ৮ নভেম্বর ২০২৬    নির্বাচিত

সাদুল্লাপুরে ডিবি পুলিশের অভিযান: ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার, তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

সাদুল্লাপুরে ডিবি পুলিশের অভিযান: ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার, তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪২ পিস ইয়াবা ও ৫০০ গ্রাম শুকনো গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে…
 ৮ নভেম্বর ২০২৬    রংপুর

গাইবান্ধার চরাঞ্চলের ৮ হাজার ৫০০ পরিবার পাচ্ছে ৬০ হাজার টাকা করে অনুদান

গাইবান্ধার চরাঞ্চলের ৮ হাজার ৫০০ পরিবার পাচ্ছে ৬০ হাজার টাকা করে অনুদান
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:গাইবান্ধার চরাঞ্চলের দরিদ্র ও অসহায় ৮ হাজার ৫০০ পরিবারকে পরিবারপ্রতি ৬০ হাজার টাকা করে শর্তহীন আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পরিবারের জীবনযাত্রার…
 ৮ নভেম্বর ২০২৬    রংপুর

চিকিৎসায় সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা, তবুও সাত বছরের সংসারের ইতি টানলেন স্বামী!

চিকিৎসায় সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা, তবুও সাত বছরের সংসারের ইতি টানলেন স্বামী!
সাত বছরের দাম্পত্য জীবনে সন্তান না হওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অবহেলা, নির্যাতন ও মানসিক যন্ত্রণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন নরসিংদীর মাধবদীর…
 ৮ নভেম্বর ২০২৬    ঢাকা

আনসার-ভিডিপি সদস্যদের আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানে সাফল্য: প্রথম পরীক্ষায়ই জাপানে চাকরির প্রস্তাব

আনসার-ভিডিপি সদস্যদের আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানে সাফল্য: প্রথম পরীক্ষায়ই জাপানে চাকরির প্রস্তাব
গাজীপুর প্রতিনিধি:বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের জন্য আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় জাপানের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ‘হিরাটা প্ল্যানিং কোম্পানি লিমিটেডে’ সরাসরি চাকরির…
 ৮ নভেম্বর ২০২৬    ঢাকা

‘সুপুরুষ ব্যতীত বিবাহ করতেছি না’, ডাকসু নেত্রীর পোস্ট ঘিরে আলোচনা!

‘সুপুরুষ ব্যতীত বিবাহ করতেছি না’, ডাকসু নেত্রীর পোস্ট ঘিরে আলোচনা!
বিয়ের আগে সম্ভাব্য জীবনসঙ্গী সম্পর্কে ভালোভাবে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু)…
 ৮ নভেম্বর ২০২৬    নির্বাচিত

হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব হতে ইউএফসি প্রধানকে ট্রাম্পের প্রস্তাব!

হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব হতে ইউএফসি প্রধানকে ট্রাম্পের প্রস্তাব!
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব হিসেবে জনপ্রিয় মিশ্র মার্শাল আর্ট প্রতিযোগিতা ইউএফসির প্রধান ডানা হোয়াইটকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। শুধু তাই…
 ৮ নভেম্বর ২০২৬    আন্তর্জাতিক

ইত্যাদির শুটিং দেখতে গিয়ে বিপাকে দর্শক, ২০০ মোবাইল চুরি!

ইত্যাদির শুটিং দেখতে গিয়ে বিপাকে দর্শক, ২০০ মোবাইল চুরি!
জয়পুরহাটে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র দৃশ্যধারণ দেখতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দর্শকেরা। বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমের সুযোগ নিয়ে অনুষ্ঠান চলাকালে দুই শতাধিক দর্শকের মোবাইল ফোন চুরির…
 ৮ নভেম্বর ২০২৬    রাজশাহী

বিয়ের খবর দিলেন পারশা মাহজাবিন, ফুল দিয়ে ঢাকলেন বরের মুখ!

বিয়ের খবর দিলেন পারশা মাহজাবিন, ফুল দিয়ে ঢাকলেন বরের মুখ!
সংগীতশিল্পী ও অভিনেত্রী পারশা মাহজাবিন জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিয়ের ছবি প্রকাশ করে ভক্তদের সুখবর জানিয়েছেন তিনি। তবে বিয়ের খবর প্রকাশ করলেও…
 ৮ নভেম্বর ২০২৬    বিনোদন

কাবা শরিফের সামনে জীবনসঙ্গীকে নিয়ে ছবি, বিয়ের খবর জানালেন নাজনীন নীহা!

কাবা শরিফের সামনে জীবনসঙ্গীকে নিয়ে ছবি, বিয়ের খবর জানালেন নাজনীন নীহা!
ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাজনীন নাহার নীহার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চলা জল্পনার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পর্কের ইঙ্গিত দেওয়ার কয়েক মাস পর এবার পবিত্র কাবা…
 ৮ নভেম্বর ২০২৬    বিনোদন

দুর্নীতির কারণে কার্যকারিতা হারিয়েছে সমবায় সমিতি: রাষ্ট্রপতি

দুর্নীতির কারণে কার্যকারিতা হারিয়েছে সমবায় সমিতি: রাষ্ট্রপতি
দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের অনেক সমবায় সমিতি কার্যকারিতা হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সমবায় খাতের হারানো সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে আইন…
 ৮ নভেম্বর ২০২৬    জাতীয়

উদারতার সুযোগে শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ, আওয়ামী লীগকে হুঁশিয়ারি নুরের!

উদারতার সুযোগে শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ, আওয়ামী লীগকে হুঁশিয়ারি নুরের!
রাজনৈতিক উদারতার সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী এখনো অনলাইনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান…
 ৮ নভেম্বর ২০২৬    বরিশাল

নেত্রকোণায় ‘প্রকৃত ইসলাম প্রতিষ্ঠাই নারী মুক্তির একমাত্র উপায়’ শীর্ষক জেলা নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

নেত্রকোণায় ‘প্রকৃত ইসলাম প্রতিষ্ঠাই নারী মুক্তির একমাত্র উপায়’ শীর্ষক জেলা নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত
নেত্রকোণা হেযবুত তওহীদের নারী বিভাগের উদ্যোগে  অনুষ্ঠিত নারী সম্মেলন ‎আজ রবিবার ( ৮ নভেম্বর) সকাল ১০ টায় নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবে হেযবুত তওহীদের নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত…
 ৮ নভেম্বর ২০২৬    ময়মনসিংহ