প্রচ্ছদ    বিশেষ নিবন্ধ   বাংলাদেশসহ সমগ্র মানবজাতির সংকট ও...

বাংলাদেশসহ সমগ্র মানবজাতির সংকট ও পরিত্রাণের পথ

১ জুলাই ২০২৩ ০৪:০৪ পিএম
বজ্রশক্তি ডেস্ক

▪ মো. মশিউর রহমান
সমস্ত পৃথিবীতে আজ যুদ্ধ-রক্তপাত, খুন, ধর্ষণ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকট- সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের  মধ্য দিয়েই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়ে যেতে পারে। এদিকে লাখো মানুষের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জনের অর্ধশতাব্দি পরও বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার পাঁয়তারা চলছে। একদিকে বিভিন্ন মতাদর্শের উপর গড়ে ওঠা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলছে হানাহানি ও ক্ষমতা দখলের অসুস্থ প্রতিযোগিতা; অন্যদিকে ধর্মকে ব্যবহার করে চলছে বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদী গোষ্ঠীর পেশিশক্তির মহড়া, রমরমা ধর্মব্যবসা, গুজব ও হুজুগনির্ভর ধর্মীয় উন্মাদনা। শান্তিকামী মানুষ স্থিতিশীল পরিবেশ ও শান্তি চান, কিন্তু তারা ঐক্যবদ্ধ নন। এ কারণে কোনো সংকটের স্থায়ী সমাধানেই তারা পৌঁছতে পারেন না। 
মুক্তির একমাত্র পথ
কোন পথে গেলে মানুষ অশান্তিতে পড়বে আর কোন পথে গেলে মানুষ শান্তি পাবে এটা তিনিই ভালো জানবেন যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন (সুরা মুল্ক ১৪)। মানুষ যেন ন্যায়, সুবিচার ও শান্তির মধ্যে থাকতে পারে সেজন্য তিনি যুগে যুগে নবী-রসুলদের মাধ্যমে হেদায়াহ বা সঠিক পথনির্দেশনা পাঠিয়েছেন। এর ধারাবাহিকতায় মহান আল্লাহ আরব ভূখণ্ডে শেষ রসুলকে (সা.) পাঠালেন হেদায়াহ ও সত্যদীন দিয়ে। শেষ জীবনব্যবস্থার (দীন) লক্ষ্যই ছিল ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্র পর্যন্ত সমগ্র জীবনে মানুষ যেন ন্যায়, সুবিচার, শান্তিতে থাকতে পারে তা নিশ্চিত করা। আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থা দিয়েই আজ থেকে দেড় হাজার বছর পূর্বে আল্লাহর শেষ রসুল মোহাম্মদ (সা.) অর্ধ পৃথিবীর মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক তথা সর্বপ্রকার সংকট দূর করেছিলেন। অজ্ঞানতার যুগে আরব সমাজে গোত্রে গোত্রে দাঙ্গা-হাঙ্গামা, সুদ, চুরি-ডাকাতি, নারী-নির্যাতন, দাসপ্রথা, কুসংস্কার, হুজুগ-গুজব, অশ্লীলতা, মাদক, জুয়াসহ যাবতীয় অন্যায় চরম আকার ধারণ করেছিল। এ পরিস্থিতিতে আল্লাহ মহানবীকে (সা.) মানুষের দুর্দশা দূর করার উপায় ও পারলৌকিক মুক্তির পথ প্রদর্শন করলেন। সেটি হচ্ছে ইসলাম। অর্থাৎ মানবজাতিকে আল্লাহর তৈরি জীবনব্যবস্থা ‘ইসলাম’ মেনে চলতে হবে। এজন্য প্রথমে তাদেরকে এই জীবনব্যবস্থার মূলমন্ত্র তওহীদ অর্থাৎ আল্লাহর সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এই তওহীদের অঙ্গীকার হচ্ছে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মোহাম্মাদুর রসুলাল্লাহ (সা.), অর্থাৎ আল্লাহর হুকুম-বিধান ছাড়া আর কারো হুকুম মানি না এবং মোহাম্মদ (সা.) তাঁর প্রেরিত রসুল। 
তওহীদের আহ্বান করার সাথে সাথেই আরবের গোত্রপতি ও ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠী জনগণকে ইসলাম থেকে ফিরিয়ে রাখতে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার ছড়াতে শুরু করল। তাদের হাতে অবর্ণনীয় নির্যাতন সহ্য করে নবগঠিত জাতিটি একদেহ একপ্রাণ হয়ে মানুষের মুক্তির জন্য আল্লাহর সত্যদীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চালিয়ে গেলেন। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম, ত্যাগ-তিতিক্ষা, সংগ্রাম, কোরবানি ও শাহাদাতের বিনিময়ে আরব উপদ্বীপে আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠিত হল। 
আল্লাহর রসুল (সা.) কেমন সমাজ নির্মাণ করেছিলেন?
আল্লাহর দেওয়া সত্যদীন প্রতিষ্ঠার ফলে সমগ্র আরব উপদ্বীপে ন্যায়, সুবিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। জীবন-সম্পদের পূর্ণ নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, আদালতে মাসের পর মাস কোনো মামলা আসত না। রাষ্ট্রের কর্মচারীরা ঘুষ-দুর্নীতি থেকে ছিলেন মুক্ত। মানুষের অভাব দূর হয়ে গেল, মদ্যপান বন্ধ হল, মানুষ সুস্থচিন্তার অধিকারী হল। সালাত, যাকাত, হজ, সওম ইত্যাদি আমলের মাধ্যমে মো’মেনদের ঐক্য, শৃঙ্খলা, আনুগত্য, আত্মিক পরিশুদ্ধি, দানশীলতা, পবিত্রতা, তাকওয়া অর্জন ইত্যাদির প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হল। নব্যুয়তের প্রথম ২৩ বছরে সমগ্র আরবে ও পরবর্তী ৬০/৭০ বছরে অর্ধ পৃথিবীতে এই অনাবিল শান্তি প্রতিষ্ঠিত হল। মাত্র এক শতাব্দির ব্যবধানে পৃথিবীর সবচেয়ে অবজ্ঞাত, মূর্খ, অশিক্ষিত, বিশৃঙ্খল, ঐক্যহীন জনগোষ্ঠীটি শিক্ষা-দীক্ষায়, জ্ঞান-বিজ্ঞানে, প্রযুক্তিতে, সামরিক শক্তিতে, ধন-সম্পদে, ঐক্যে, শৃঙ্খলায়, আত্মিক পবিত্রতায়, নতুন নতুন ভূখণ্ড আবিষ্কারে, ন্যায়ের শাসনে পৃথিবীর সকল জাতির শিক্ষকের আসনে আসীন হয়েছিল। সে সময় উম্মতে মোহাম্মদীর দিকে চোখ তুলে তাকানোর হিম্মত কারো ছিল না। দুইটি বিশ্বশক্তি রোমান ও পারস্য সাম্রাজ্য নবগঠিত মুসলিম জাতির সামনে তুলোর মত উড়ে গিয়েছিল। তাদের এই অভূতপূর্ব বিজয়ের ফলেই সম্ভব হয়েছিল ইসলামের সোনালি যুগ প্রতিষ্ঠা।   
মুসলমানদের পতনের ইতিহাস
দুর্ভাগ্যজনক ইতিহাস হচ্ছে, আল্লাহর রসুল (সা.) ও তাঁর হাতে গড়া জাতিটির সকল সদস্য একে একে চলে যাওয়ার পর একটা পর্যায়ে জাতির আকিদায় বিকৃতি প্রবেশ করতে শুরু করল। সমগ্র পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার যে লক্ষ্য নিয়ে রসুলাল্লাহ (সা.) জাতিটি গঠন করেছিলেন, সাহাবিরাও সে লক্ষ্য নিয়ে সংগ্রাম করে অর্ধ-পৃথিবীতে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করলেন। কিন্তু তারপরে সে লক্ষ্য জাতির সামনে থেকে হারিয়ে গেল। 
জাতির শাসকরা রসুলাল্লাহ ও মহান খলিফাদের আদর্শ ত্যাগ করে, পৃথিবীতে ইসলাম প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বাদ দিয়ে অন্যান্য রাজা-বাদশাহদের মতই সীমাহীন ভোগবিলাসে ডুবে গেলেন। অর্ধ-পৃথিবী বিস্তৃত মুসলিম ভূখণ্ড বহু রাজ্যে বিভক্ত হয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পড়ল। ভোগবিলাসী সুলতান ও আমিরদের অবৈধ কাজের অনুমোদন দেওয়ার জন্য সৃষ্টি হল দুনিয়ালোভী আলেম সমাজ। আরও জন্ম নিল অতি পণ্ডিত শ্রেণি। তারা দীনের ছোটখাটো, অপ্রয়োজনীয় ও অনর্থক বিষয় নিয়ে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ, অতি বিশ্লেষণ, চুলচেরা বিশ্লেষণ, তর্ক-বাহাস, মারামারিতে লিপ্ত হলেন। তাদের বাড়াবাড়ির পরিণামে জাতি শত শত মাজহাব, ফেরকা তরিকায় বিভক্ত হয়ে গেল। অপরদিকে পারস্যের দিক থেকে জাতির মধ্যে বিকৃত সুফিবাদ প্রবেশ করে জাতিকে অন্তর্মুখী, সংগ্রামবিমুখ বানিয়ে দিল। প্রচণ্ড গতিশীল বিস্ফোরণমুখী জাতি গতি হারিয়ে প্রাণহীন স্থবির হয়ে গেল। শুরু হল পরাজয়ের পালা। এই সাবধান বাণী আল্লাহ কোর’আনে করেছেন- যদি তোমরা আমার রাস্তায় সংগ্রামে বের না হও, তবে অন্য জাতিকে চাপিয়ে দেব (সুরা তওবা ৩৯)। যখন ইউরোপের খ্রিষ্টান, মঙ্গোল ও তাতারদের আক্রমণ শুরু হল তখন তা রুখবার মত ঐক্য, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব বা সাহস কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। পুরো মুসলিম বিশ্বই একটা পর্যায়ে ইউরোপের ছোট ছোট খ্রিষ্টান জাতিগুলোর কাছে পরাজিত হয়ে গেল। তখন তারা তাদের আইন, বিধান, আমলাতন্ত্র, শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের উপর চাপিয়ে দিয়েছে। আজও তাদের তৈরি বিধি-ব্যবস্থা দিয়ে আমাদের সমগ্র জীবন পরিচালিত হচ্ছে, আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থা দিয়ে নয়। 
ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সংঘাতের কারণ:
প্রায় তিন শতাব্দি আগে যখন আমাদের এই উপমহাদেশ ব্রিটিশের উপনিবেশে পরিণত হয় তখন তারা মুসলিম জনগোষ্ঠীকে স্থায়ীভাবে পদানত করে রাখার পরিকল্পনা করে। জাতি যেন কোনোদিন ইসলামের আদর্শে ঐক্যবদ্ধ হতে না পারে সেজন্য তারা মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিল। কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসায় দীর্ঘ ১৪৬ বছর ধরে খ্রিষ্টান পণ্ডিতদের তৈরি সিলেবাস ও কারিকুলাম দিয়ে একাদিক্রমে ২৭ জন খ্রিষ্টান পণ্ডিত অধ্যক্ষপদে থেকে সেই বিকৃত, বিপরীতমুখী ইসলাম এ জাতিকে শিক্ষা দিয়েছেন। সে সিলেবাসে জাতীয় জীবনের অতি প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোকে গুরুত্বহীন করে ব্যক্তিগত জীবনের খুঁটিনাটি মাসলা-মাসায়েল, দোয়া-কালাম, আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানকে অত্যধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যে বিষয়গুলো নিয়ে বিতর্ক করে ফেরকা ও মাজহাবগত বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছে সেই বিষয়গুলো সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেন জাতি আর কোনোভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে না পারে। পরিণামে মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে আসা শ্রেণিটি- যাদেরকে আমরা আলেম মওলানা বলে সম্মান করি, তারা কিন্তু ওয়াজের মাঠে, মসজিদে বিভিন্ন ছোটখাটো বিষয়ের মাসলা-মাসায়েল নিয়ে ফেরকা মাজহাবের কূটতর্কে লিপ্ত হয়ে আছেন। এক আলেম আরেক আলেমকে অবমূল্যায়ন করেন, কাফের মুরতাদ ফতোয়া দেন, গালিগালাজ পর্যন্ত করেন, আরেক মতাদর্শের অনুসারীদের উপর হামলার উস্কানি দেন, হুঙ্কার দেন, ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিদেরকে উত্তেজিত করেন, অপ্রয়োজনীয় অনর্থক বিষয় নিয়ে একে অপরের সঙ্গে গলার রগ ফুলিয়ে বাহাস করেন। অথচ তাদের দায়িত্ব ছিল জাতিকে আল্লাহর তওহীদের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করে আল্লাহর দেওয়া দীনুল ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা এবং আল্লাহর হুকুম-বিধান মোতাবেক জাতিকে পরিচালিত করা দুনিয়ার অপরাপর জাতির থেকে মুসলমানদেরকে জ্ঞানে-বিজ্ঞানে, সামরিক শক্তিতে এক কথায় সর্বদিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত করা। কিন্তু বাস্তবে সেটা তো তারা করছেনই না, উল্টো তারা নিজেদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করার জন্য নানা উপায়ে দীনকে ব্যবহার করে স্বার্থ হাসিল করে চলেছেন, এক কথায় ধর্মব্যবসা করে যাচ্ছেন। ব্রিটিশদের তৈরি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য কর্মমুখী বা প্রযুক্তিগত (ঠড়পধঃরড়হধষ) কোনো শিক্ষা দেওয়া হয়নি। এটা ছিল তাদেরকে সাহসহীন, পরনির্ভরশীল জনগোষ্ঠীতে পরিণত করার ব্রিটিশ চক্রান্ত। 
অপরদিকে সাধারণ সেক্যুলার শিক্ষায় শিক্ষিত শ্রেণি তাদের পূর্বতন প্রভুদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সরকার ব্যবস্থার অন্ধ অনুকরণ করতে গিয়ে হাজারো দল-উপদলে খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে আছে। তারাও একে অপরের কার্যালয়ে হামলা চালায়, ভাঙচুর করে, প্রতিপক্ষকে জঘন্য ভাষায় আক্রমণ করে, পিটিয়ে মারে, পরস্পরের উপর প্রতিশোধ নিতে দেশের সম্পদ ধ্বংস করে। তাদেরকে মুসলমানের সন্তান হিসাবে কোর’আন হাদিস থেকে ন্যূনতম নৈতিক শিক্ষাও দেওয়া হয়নি। উপরন্তু ভোগবিলাসী জীবনের জন্য অর্থ উপার্জনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত করে দেওয়া হয়েছে। তারা হয়ে উঠেছে মানবতাহীন, দেশপ্রেমহীন, চরম দুর্নীতিপরায়ণ। স্বদেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে দেশকে দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দিতে তাদের বুক কাঁপে না। 
এ অবস্থায় সামাজিক বিপর্যয় সৃষ্টি হচ্ছে, দুর্ভি¶ ঘনিয়ে আসছে, বাড়ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। দিনকে দিন সামাজিক অপরাধ, নিরাপত্তাহীনতা আরো বাড়বে, বৈদেশিক নির্ভরশীলতা ও খবরদারি আরও বাড়বে। এখন আমরা যদি হাত পা গুটিয়ে বসে থাকি তাহলে আমাদেরকেও আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইরাকের পরিণাম ভোগ করতে হবে।
হেযবুত তওহীদের আহ্বান
অনিবার্য ধ্বংস থেকে বাঁচতে হলে আমাদেরকে অনুধাবন করতে হবে যে, আমরা আল্লাহর দেখানো সহজ-সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছি, সত্যদীন ত্যাগ করেছি। তাই আমাদেরকে আবার সেই তওহীদ ভিত্তিক সত্যদীন, জীবনব্যবস্থা আমাদের জাতীয় জীবনে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমাদের আল্লাহ একজন, রসুল একজন, ঐশী কেতাব একটি, এক কেবলা; সুতরাং আমাদের জাতিও হবে একটি, নেতা হবে একজন। আমাদের মধ্যে এত ফেরকা মাজহাব তরিকার দ্বন্দ্ব সংঘাত থাকতে পারে না। আল্লাহর রসুল (সা.) যেভাবে জাতিটিকে কলেমা-তওহীদের ভিত্তিতে ইস্পাতকঠিন ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন, ঠিক সেভাবেই আমাদেরকেও সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে একজন নেতার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দীন প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করতে হবে।
আমরা হেযবুত তওহীদ বিগত ২৮ বছর ধরে মানুষকে তওহীদের ভিত্তিতে যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান করে যাচ্ছি; এ লক্ষ্যে আমরা সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, ধর্মব্যবসা, অপরাজনীতি, গুজব, হুজুগ, সাম্প্রদায়িকতা, নারী নির্যাতন, মাদক ইত্যাদির বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ জনসচেতনতামূলক সভা, সেমিনার, পথসভা ইত্যাদি করেছি। এছাড়া পত্রিকা, বই, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, অনলাইনে প্রচার করে আল্লাহর সার্বভৌমত্বের আহ্বান মানুষের কানে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে আপনিও মানুষ হিসেবে আপনার জীবনের আসল লক্ষ্য খুঁজে পান এবং উম্মতে মোহাম্মদী হিসাবে আল্লাহর সত্যদীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অংশ নিন- এই শুভকামনা।
 

[লেখক: সভাপতি, রংপুর বিভাগ, হেযবুত তওহীদ; যোগাযোগ: ০১৬৭০১৭৪৬৪৩, ০১৭১১৫৭১৫৮১, ০১৭১১০০৫০২৫]
 

Photocard
টাইটেল সাইজ
লাইন স্পেস
অ্যাকশন
বামে বা ডানে সোয়াইপ করুন

রোববার ঢাকায় আসতে পারেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো!

রোববার ঢাকায় আসতে পারেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো!
আগামীকাল রোববার বাংলাদেশে আসতে পারেন বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ভুটানের রাজধানী থিম্পু সফরে যাওয়ার পথে স্বল্প সময়ের জন্য ঢাকায় ট্রানজিট নেওয়ার…
 ১৭ অক্টোবর ২০২৬    খেলাধুলা

শ্রীল্লভপুর ঘোষপাড়া শ্রীশ্রী কালী মন্দির পরিদর্শনে কৃষিমন্ত্রী আমিনুর রশিদ ইয়াসিন

শ্রীল্লভপুর ঘোষপাড়া শ্রীশ্রী কালী মন্দির পরিদর্শনে কৃষিমন্ত্রী আমিনুর রশিদ ইয়াসিন
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার শ্রীভল্লভপুর ঘোষপাড়া শ্রীশ্রী কালী মন্দির পরিদর্শন করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াসিন। পরিদর্শনকালে তিনি মন্দির প্রাঙ্গণে সনাতন…
 ১৭ অক্টোবর ২০২৬    চট্টগ্রাম

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা আরও বাড়ানো হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা আরও বাড়ানো হবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করতে ভাতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায়…
 ১৭ অক্টোবর ২০২৬    জাতীয়

বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের ৫৪তম বার্ষিক সাধারণ সভা

বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের ৫৪তম বার্ষিক সাধারণ সভা
বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের ৫৪তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের সভাপতি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের…
 ১৭ অক্টোবর ২০২৬    ঢাকা

সাদুল্লাপুরে ব্রিজের নিচের পানিতে ভাসছিল অজ্ঞাত নারীর মরদেহ

সাদুল্লাপুরে ব্রিজের নিচের পানিতে ভাসছিল অজ্ঞাত নারীর মরদেহ
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় একটি ব্রিজের নিচের পানিতে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত নারীর আনুমানিক বয়স ৪০ থেকে ৪৫ বছর।…
 ১৭ অক্টোবর ২০২৬    রংপুর

ইপিডিএবি -এর বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

ইপিডিএবি -এর বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত
ইলেকট্রনিক্স পণ্য পরিবেশক সমিতি বাংলাদেশ তথা ইলেকট্রনিক্স প্রোডাক্টস ডিস্ট্রিবিউটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইপিডিএবি)-এর বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মাধ্যমে সংগঠনটির পথচলায় এক…
 ১৭ অক্টোবর ২০২৬    ঢাকা

ফুলবাড়ীতে বিএনপির সদ্যঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ

ফুলবাড়ীতে বিএনপির সদ্যঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় বিএনপির সদ্যঘোষিত আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন দলটির একাংশের নেতাকর্মীরা। কমিটিতে ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা…
 ১৭ অক্টোবর ২০২৬    রংপুর

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে জেলের জালে ৯০ কেজির বাঘাইড় মাছ

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে জেলের জালে ৯০ কেজির বাঘাইড় মাছ
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের পুটিমারী এলাকায় স্থানীয় এক জেলের জালে ৯০ কেজি ওজনের একটি বিশালাকার বাঘাইড় মাছ ধরা পড়েছে। আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) মাছটির ছবি…
 ১৭ অক্টোবর ২০২৬    রংপুর

রৌমারীতে ট্রাক ও ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৫

রৌমারীতে ট্রাক ও ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৫
শাহ আলম, কুড়িগ্রাম:কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার কর্তিমারী এলাকায় ডিসি সড়কে মালবোঝাই ট্রাক ও ইজিবাইকের সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর)…
 ১৭ অক্টোবর ২০২৬    রংপুর

শিশু হাসপাতালে কক্ষে ধূমপান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বরখাস্ত চিকিৎসক!

শিশু হাসপাতালে কক্ষে ধূমপান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বরখাস্ত চিকিৎসক!
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আকস্মিক পরিদর্শনে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের নিজ কক্ষে ধূমপান করতে দেখা যায় সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে। এ সময় কক্ষের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশও…
 ১৭ অক্টোবর ২০২৬    জাতীয়

কালিয়াকৈর ঔষধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন

কালিয়াকৈর ঔষধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন
মোঃ শফিকুল ইসলামকালিয়াকৈর ( গাজীপুর) প্রতিনিধিগাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুরস্থইবনে সিনা  ফার্মাসিটিক্যাল লিমিটেড  এর হারবাল শাখায় শনিবার বিকেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ওষুধের মেশিন ও গোডাউনে…
 ১৭ অক্টোবর ২০২৬    ঢাকা

নুডলস খাওয়ার পর একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু, রয়েছে ৩ শিশুও!

নুডলস খাওয়ার পর একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু, রয়েছে ৩ শিশুও!
ভারতের গ্রেটার নয়ডায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃতদের মধ্যে রয়েছে তিন শিশুও। শুক্রবার রাতে নুডলস খাওয়ার পর ঘুমাতে যান পরিবারের সদস্যরা।…
 ১৭ অক্টোবর ২০২৬    আন্তর্জাতিক

আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের, জাহাজ চলাচলে কঠোর হুঁশিয়ারি!

আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের, জাহাজ চলাচলে কঠোর হুঁশিয়ারি!
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সাম্প্রতিক সময়ে এই নৌপথে…
 ১৭ অক্টোবর ২০২৬    আন্তর্জাতিক

কক্সবাজারে রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, স্ত্রীসহ পরিবারের ৬ সদস্যকে হারানোর শঙ্কায় আশিকুল!

কক্সবাজারে রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, স্ত্রীসহ পরিবারের ৬ সদস্যকে হারানোর শঙ্কায় আশিকুল!
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রীসহ পরিবারের ছয় সদস্যকে হারানোর শঙ্কায় ভেঙে পড়েছেন আশিকুল ইসলাম। আনন্দঘন ভ্রমণে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে…
 ১৭ অক্টোবর ২০২৬    চট্টগ্রাম

পানামায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ৭৪৬ আফটারশক, উপকূলে উদ্বেগ!

পানামায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ৭৪৬ আফটারশক, উপকূলে উদ্বেগ!
মধ্য আমেরিকার দেশ পানামায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ৭৪৬টি পরকম্পন বা আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ৯ অক্টোবরের ভূমিকম্পের পর দেশটির…
 ১৭ অক্টোবর ২০২৬    আন্তর্জাতিক