প্রচ্ছদ    বিশেষ নিবন্ধ   সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিপ্লবী: বিশ্বনবী মোহাম্মদ...

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিপ্লবী: বিশ্বনবী মোহাম্মদ (সা.)

১৫ মে ২০১৮ ০২:১৯ এএম
বজ্রশক্তি ডেস্ক

মোহাম্মদ আসাদ আলী
প্রাক ইসলামী আরবরা ছিল সারা পৃথিবীর অবহেলা ও অবজ্ঞার পাত্র। ন্যূনতম সামরিক শক্তি, অর্থনৈতিক শক্তি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নৈতিকতাবোধ, সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন, জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা, মানবিক উৎকর্ষতা, পারস্পারিক ভ্রাতৃত্ব, ঐক্যচেতনা ইত্যাদি কিছুই তাদের ছিল না। শুধু ছিল বংশানুক্রমিক গৃহযুদ্ধ, গোত্রে গোত্রে হানাহানি, রক্তারক্তি, শত্রুতা, সীমাহীন অজ্ঞানতা, কুসংস্কার, ধর্মবাণিজ্য, জেনা-ব্যাভিচার, চুরি, ডাকাতি, লুটতরাজ, হুজুগপ্রবণতা, মাদকাসক্তি, দাসপ্রথা, কন্যাশিশু হত্যা, নারী নির্যাতন ইত্যাদি। অর্থাৎ ভালোর মধ্যে কিছু না থাকলেও খারাপের মধ্যে কিছুই বাদ ছিল না তাদের। সেই চরম অনৈতিকতা ও বর্বরতায় লিপ্ত লোকগুলোকেই মাত্র ২৩ বছরের মধ্যে বিশ্বনবী কোথায় নিয়ে দাঁড় করালেন এবং তাঁর দেখানো পথনির্দেশ মোতাবেক তাঁর ওফাতের পর মাত্র কয়েক দশক না পেরোতেই ঐ আরবরাই তরতর করে উন্নতির কোন শিখরে গিয়ে পৌঁছল সে ইতিহাস আমরা সবাই জানি। ভুখা-নাঙ্গা আরবদের এই যে অকল্পনীয় মহাবিস্ফোরণ- এর জ্বালানি যুগিয়েছেন মাত্র একজন মানুষ, তিনি বিশ্বনবী মোহাম্মদ (সা.)। আর তা করতে গিয়ে ঐ মহাবিপ্লবী মানুষটিকে একটি চরম পশ্চাদপদ জাতির প্রতিটি দিকে, প্রতিটি অঙ্গনে প্রচণ্ড ক্ষিপ্রতার সাথে ‘অসম্ভব গতিশীল’ পদচারণা করতে হয়েছে। একটি শিশুর জন্মপ্রক্রিয়া থেকে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পর্যন্ত- মানবজীবনের হেন দিক নেই যা নিয়ে তাঁকে ভাবতে হয় নি, কথা বলতে হয় নি।
তাঁকে ভাবতে হয়েছে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট নিয়ে, পররাষ্ট্রনীতি ও স্বরাষ্ট্রনীতি নিয়ে, অর্থনীতি নিয়ে, সামাজিক স¤পর্ক নিয়ে, পারিবারিক বন্ধন নিয়ে, এমনকি ব্যক্তিগত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সমস্যা নিয়েও। তাঁকে ইহকালের পাশাপাশি সমাধান দিতে হয়েছে পরকালের, দেহের পাশাপাশি আত্মার। হাজারো সমস্যা তাঁর সামনে হাজির করা হত। যার যত প্রশ্ন ছিল তাঁর সামনে অবলীলায় বলে ফেলতে পারত। যার যত দাবি-দাওয়া, প্রত্যাশা থাকত অকাতরে উত্থাপন করত। একেক মানুষের চিন্তাধারা, বিশ্বাস, কর্মজীবন ছিল একেকরকম। ভিন্ন ভিন্ন গোত্রের রীতি-নীতি ছিল ভিন্ন ভিন্ন। ওদিকে শত্রুশিবির গমগম করত ধারাবাহিক যুদ্ধের আয়োজনে। কখনও কখনও জাতির অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়ে যেত, যেমন খন্দকের যুদ্ধ বা অবরোধ! তথাপি শত প্রতিবন্ধকতার প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে তিলে তিলে তিনি একটি জাতি গঠন করলেন। প্রথমত ভিন্নমতের, ভিন্ন বিশ্বাসের, ভিন্ন সংস্কৃতির, ভিন্ন খাদ্যাভ্যাসের ও ভিন্ন জীবিকার মানুষগুলোকে আহ্বান জানালেন যাবতীয় অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে, তারপর যারা ঐক্যবদ্ধ হবার সিদ্ধান্ত নিল তাদের নিয়ে একটু একটু করে গড়ে তুললেন জাতির রাষ্ট্রব্যবস্থা, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা, সামাজিক ব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা, চিকিৎসাব্যবস্থা, বাজারব্যবস্থা, পারিবারিক ব্যবস্থা ইত্যাদি। তাঁকে অনৈক্যপ্রবণ মানুষগুলোর মধ্যে ঐক্যের চেতনা জাগাতে হয়েছে। বিশৃঙ্খল মানুষকে শৃঙ্খলাবোধ শেখাতে হয়েছে। ঔদ্ধত্য ও অবাধ্যপ্রবণদের আনুগত্যপরায়ণ করতে হয়েছে। জ্ঞানচর্চাবিমুখ একটি জাতিকে জ্ঞান-বিজ্ঞানমুখী করতে হয়েছে। যে অস্ত্র ব্যবহৃত হত কেবলই প্রতিশোধমূলক শত্রুতার কাজে, সে অস্ত্রের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হয়েছে মানুষের কল্যাণের পথে।
এ গেল একটি দিক, বাহ্যিক দিক। অন্য দিকটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। জাতির বাহ্যিক পরিবর্তনের চেয়েও আত্মিক পরিবর্তন বেশি জরুরি এটা আল্লাহর রসুল ভালোভাবেই জানতেন। তিনি জানতেন যাদের নিয়ে তাঁর পথ চলা তারা খুব বেশিদিন হয় নি জাহেলিয়াতের যুগ অতিক্রম করেছে। সেই জাহেলিয়াত যাতে পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে তারও নিশ্চয়তা বিধান করতে হয়েছে তাঁকে। ভোগ্য দ্রব্য-সামগ্রির বস্তু হিসেবে বিবেচিত হতো নারীরা। সেই নারীদের প্রাপ্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হয়েছে তাঁকে। কেবল ব্যভিচার নিষিদ্ধকরণই তাঁর শেষ কথা ছিল না, কোন প্রক্রিয়ায় সামাজিক-পারিবারিক জীবন দূষণমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ হবে সে উপায়ও তুলে ধরতে হয়েছে তাকে। যে সমাজে দাসীদেরকে মনে করা হত নিছক যৌন সামগ্রী, মনরঞ্জনের বস্তু, সেই সমাজকেই বিশ্বাস করাতে হয়েছে দাসীরাও তোমাদের মতই রক্ত-মাংসের মানুষ, তাদেরও হৃদয় আছে, তাদেরও দুঃখ-কষ্টবোধ আছে। তারা যন্ত্র নয়। তোমরা যে আল্লাহর সৃষ্টি, তারাও সেই আল্লাহর সৃষ্টি। সব মানুষ এক পিতা-মাতা আদম হাওয়ার সন্তান, আল্লাহর চোখে সবাই সমান। এই বিশ্বাস পোক্ত করার জন্য তিনি নিজেই একজন দাসীকে, মারিয়া কিবতিয়াকে (রা.) বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছিলেন।
আল্লাহর রসুল জানতেন কেবল দাসমুক্তির ব্যবস্থা করাই একমাত্র সমাধান নয়। ঐ মুক্তদাসেরা যতদিন সমাজের আর দশজন মানুষের মতই সমমর্যাদা ভোগ না করছে ততদিন লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। ফলে দাসদের সমমর্যাদা নিশ্চিত করার মনস্তাত্তি¡ক লড়াইতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এই মহামানব এমন কিছু দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন যা বিশ্বের ইতিহাসে স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে চিরদিন। মক্কা বিজয়ের দিনে অর্ধনগ্ন হাবশী বেলালকে (রা.) ক্বাবার ছাদে উঠিয়ে বিশ্বনবী কোরাইশ আভিজাত্য ও অহংকারের মূলে প্রচণ্ড চপেটাঘাত করে বুঝিয়ে দিলেন- ‘‘এই হচ্ছে ইসলাম। এই হচ্ছে ইসলামের মূল্যবোধ। তোমরা যাদেরকে মানুষই মনে করতে না তারা আমার আল্লাহর কাছে এই ক্বাবার চাইতেও বেশি প্রিয়।’’ একইভাবে জীবনের শেষ পর্যায়ে উপনীত হয়ে বাঘা বাঘা কোরাইশ ও আনসারদেরকে রেখে ওসামা বিন যায়েদকে (যার পিতা এক সময় দাস ছিলেন) যুদ্ধের সেনাপতি বানানোর ঘটনাই কি কম তাৎপযপূর্ণ? এর মাধ্যমে রসুল উম্মতের জন্য আরও এক প্রস্থ শিক্ষা রেখে যান যে, ইসলামে নেতৃত্বের যোগ্যতা বংশীয় আভিজাত্য দিয়ে নয়, দক্ষতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। এগুলো নিছক একেকটি ঘটনা নয়, একেকটি মাইলফলক।
এটা ইতিহাস যে, অসম্ভব প্রতিভার অধিকারী কার্ল মার্ক্স সারাটা জীবন অক্লান্ত পরিশ্রম করে মানবজীবনের কেবল অর্থনৈতিক মুক্তির একটি তত্ত¡ আবিষ্কার করেছিলেন। সে তত্ত¡ও ভারসাম্যপূর্ণ নয়, স¤পূর্ণ আত্মাবিবর্জিত সুতরাং অপ্রাকৃতিক। অথচ বিশ্বনবী কেবল অর্থনীতি নয়, কেবল জাতীয় নীতি নয়, কেবল আইন-কানুন-দণ্ডবিধি নয়, কেবল প্রশাসন পরিচালনা নয়, কেবল নারী অধিকার নিশ্চিতকরণ নয়, কেবল শ্রমিক অধিকার নিশ্চিতকরণ নয়, কেবল মানুষের জৈব চাহিদা পূরণ নয়, কেবল আধ্যাত্মিক চাহিদা পূরণ নয়, কেবল ইহকালীন মুক্তি নয়, বরং মানবজাতির ‘সামষ্টিক’ জীবনের ‘পূর্ণাঙ্গ’ ও ‘ভারসাম্যপূর্ণ’ দিক-নির্দেশনা দান করেছেন এবং মাত্র ২৩ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে নিজ হাতে সেটার বাস্তব প্রয়োগ ঘটিয়ে গেছেন। জাহেলিয়াতের সমুদ্র থেকে আস্ত একটি জাতিকে একাই তীরে টেনে তুলেছেন। এ যেন কল্পনার পরিধিকেও ছাড়িয়ে যায়!
ইদানীং একটি শ্রেণি গজিয়েছে তারা অভিমানে গাল ফোলান আল্লাহর রসুল দাসপ্রথাকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন না কেন, বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করলেন না কেন, যুদ্ধ-রক্তপাত নিষিদ্ধ করলেন না কেন ইত্যাদি নিয়ে। আল্লাহর রসুল কী কী করেন নি- এ নিয়ে গবেষণা করে মাথা খারাপ করার দরকার পড়ত না যদি তারা বুঝতে সক্ষম হতেন তিনি কী কী করেছিলেন, কোন অসাধ্যগুলো তাঁকে সাধন করতে হয়েছিল মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে। নারী অধিকারের প্রসঙ্গে বলতে হয়- ইউরোপে ফরাসি বিপ্লব হয়ে যাবার পরও নিছক ভোটদানের অধিকারের দাবিতে আন্দোলন করে নারীদেরকে গিলোটিনে প্রাণ হারাতে হয়েছে। তখন পর্যন্ত ইউরোপের অবস্থাই যদি এমন শোচনীয় হয় তবে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে কী ঘটছিল তা সহজেই অনুমান করা যায়। আর অষ্টাদশ বা উনবিংশ শতাব্দীর নারীরাই যদি এমন ব্রাত্যদশা ভোগ করে তবে আজ থেকে ১৪০০ বছর আগের একটি বর্বরতম জনগোষ্ঠীর মধ্যে নারীরা কত বঞ্চিত ও অবহেলিত দিনাতিপাত করত তাও অনুমেয়। সেই অবস্থা থেকে বিশ্বনবী নারীদেরকে কোন অবস্থানে উন্নীত করেছিলেন তা ইতিহাস। জাতীয় ও সামাজিক জীবনের প্রতিটি অঙ্গনে নারীদের অংশগ্রহণ তো নিশ্চিত হয়েছিলই, এমনকি বিশ্বনবী নারীদেরকে নিয়ে যুদ্ধ পর্যন্ত করেছেন। নারী-পুরুষ একসাথে মসজিদে নববীতে সালাহ কায়েম করত। একসাথে হজ্ব করত। একসাথে বসে রসুলের আলোচনা, বক্তৃতা শুনত, কিছু জানার থাকলে প্রশ্ন করে জেনে নিত। একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়েও রসুলের সাথে নারীদের পরামর্শ করার ঘটনা জানা যায়। মসজিদে নববীর পাশে যুদ্ধাহতদের চিকিৎসা প্রদানের জন্য একটি হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছিল যার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন একজন নারী, রুফায়দাহ (রা.)। হযরত উমর (রা.) এর খেলাফতের সময় বাজার দেখাশোনা করার দায়িত্ব পালন করেছেন একজন নারী, শেফা (রা.)। ওহুদ যুদ্ধে উম্মে আম্মারা (রা.) মুসলিম বাহিনীর পক্ষে যে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন তার বিবরণ দিয়েছেন আল্লাহর রসুল স্বয়ং।
এ ইতিহাসগুলো কীভাবে নারীবাদীদের দৃষ্টি এড়িয়ে যায় আমার বুঝে আসে না। এতবড় বৈপ্লবিক পরিবর্তন করলেন যে মানুষটি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতাসূচক একটি শব্দ উচ্চারণ না করলেও কেন তিনি তেরোটি বিয়ে করলেন- এ নিয়ে হাজার হাজার লাইন লেখা হচ্ছে অবিরত। অথচ রসুল (সা.) না এলে তেরোটি বিয়ে কেন, নিছক একজন গোত্রপতি তেরশত যৌনদাসী রাখলেও কারও কিছু বলার ছিল না। ভুলে যাচ্ছেন কেন, ঐ যুগে দাস-দাসীর পরিমাণ দিয়ে সামাজিক মর্যাদা নির্ণিত হত।
একইভাবে রসুল (সা.) দাসপ্রথাকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন নি বলে যারা চেঁচিয়ে গলা ফাটাচ্ছেন তারাও অতি প্রায়ান্ধ দৃষ্টিভঙ্গি ত্যাগ করতে পারলে তিনি দাসপ্রথার মূলে যে শক্ত কুঠারাঘাত করেছেন এবং মালিক-শ্রমিক স¤পর্ককে ঢেলে সাজিয়ে আধুনিক মূল্যবোধের ছাঁচে নতুনভাবে গড়ে তুলেছেন তা স্পষ্ট দেখতে পেতেন। যে মূল্যবোধ তিনি মানুষকে শিক্ষা দিয়ে গেছেন তা আজকের যুগেও কেউ কল্পনা করতে পারে? মাত্র তিনটি শর্ত-
কাউকে শ্রম দিতে বাধ্য করা যাবে না,
শ্রমিকের প্রাপ্য মজুরি তার ঘাম শুকোনোর আগেই পরিশোধ করতে হবে,
নিজে যা খাবে, পরবে, শ্রমিককেও তা খেতে ও পরতে দিতে হবে।
এই মূল্যবোধের কানাকড়িও কি আজকের কথিত আধুনিক সভ্যতায় বাস্তবায়িত হয়? হয় না। আল্লাহর রসুল দাসপ্রথাকে প্রতিস্থাপিত করেছিলেন মালিক-শ্রমিক ভ্রাতৃত্বমূলক স¤পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে, সেই সাথে ‘আল্লাহর চোখে সবাই সমান’- এই মূল্যবোধ সৃষ্টির মাধ্যমে। অন্যদিকে যারা ইসলামের ভেতর দাসপ্রথার গন্ধ শুঁকে বেড়াচ্ছেন তাদের পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় মালিক-শ্রমিক স¤পর্কে ভালোবাসার, ভ্রাতৃত্বের, ত্যাগের কোনো স্থান নেই। এখানে মালিক-শ্রমিকের স¤পর্ক শত্রুতার, বিদ্বেষের ও তিক্ততার। আদী দাসপ্রথার গায়ে রঙচঙ মেখে স্বাধীনতার মোড়ক পরিয়ে রাখা হলেও এই ভণ্ডামির বিরুদ্ধে যারা একটি বর্ণও লেখার প্রয়োজনবোধ করেন না তারাই যখন ইসলামে দাসপ্রথা আবিষ্কারের অভিলাসে ইতিহাস ছাঁকতে বসেন তখন বিষয়টি হাস্যকর দেখায়। দাসপ্রথা নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেই কি সমস্যার সমাধান হয়ে যেত? আমেরিকায় দাসপ্রথা নিষিদ্ধ ও সাদা-কালোর ব্যবধান আইন করে অস্বীকার করা হয়েছে কয়েক শতাব্দী আগে। তাতে শ্রমিক-মালিক ভাই ভাই হয়ে যায় নি, সাদা-কালোর ব্যবধানও দূর করা সম্ভব হয় নি আজও। আজও সাদারা কালোদের হত্যা করলে বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামতে হয়। মনে রাখতে হবে- আইন করে মানসিক পরিবর্তন ঘটানো যায় না। অথচ বিশ্বনবীর দায়িত্ব ছিল মানুষের বাহ্যিক ও আত্মিক পরিবর্তন ঘটানো।
আল্লাহর রসুলের সংগ্রামী জীবনকে যারা সম্যকভাবে উপলব্ধি করতে পারেন তারা জানেন দাসপ্রথার মূলে ইসলাম কতটা শক্ত আঘাত হেনেছিল। সারা জীবন অক্লান্ত পরিশ্রম করে তিনি যে বিস্ময়কর জাতিটি গঠন করেছিলেন, তাঁর ওফাতের পর অর্ধদুনিয়ায় যে জাতি ন্যায়, সুবিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল, সেই জাতিটি যদি হঠাৎ লক্ষ্য ভুলে না যেত, তাহলে ঐ সময়ই পৃথিবী থেকে দাসপ্রথাসহ যাবতীয় কুপ্রথার কবর রচিত হয়ে যেত তাতে সন্দেহ নেই। আজকে যারা নারীমুক্তির আন্দোলন করছেন তাদেরও স্বপ্নপূরণ হয়ে যেত তখনই। দুর্ভাগ্যক্রমে তা হয় নি। হয় নি যে, তার জন্য কি বিশ্বনবী দায়ী? কতটা অন্ধ হলে, কতটা বিবেকবোধ লুপ্ত হলে, কতটা সংকীর্ণমনা হলে মানবতার কল্যাণে একজন মানুষের সারা জীবনের অকৃত্রিম সাধনা ও অতুলনীয় আত্মত্যাগকে ভুলে গিয়ে, তাঁর নেতৃত্বাধীন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিপ্লবকে পাশ কাটিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত বিয়ে-সাদী ইত্যাদি নিয়ে সমালোচনায় মুখর হওয়া যায়? সত্যিই এ অন্ধত্বের কোনো তুলনা হয় না! কোনো উপমা হয় না!
মোহাম্মদ আসাদ আলী: কলাম লেখক (facebook/asadali.ht)

Photocard
টাইটেল সাইজ
লাইন স্পেস
অ্যাকশন
বামে বা ডানে সোয়াইপ করুন

মাদারীপুরের আলোচিত গৃহবধূ লামিয়া হত্যা মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার

মাদারীপুরের আলোচিত গৃহবধূ লামিয়া হত্যা মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার
মাদারীপুর জেলার আলোচিত গৃহবধূ লামিয়া হত্যা মামলার তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মাদারীপুর জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)…
 ২১ জুলাই ২০২৬    ঢাকা

মাদারীপুর সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের ঘোষণা এমপি জাহান্দার আলীর

মাদারীপুর সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের ঘোষণা এমপি জাহান্দার আলীর
মাদারীপুর সরকারি কলেজের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে…
 ১৪ জুলাই ২০২৬    ঢাকা

শ্রীপুরে পোশাক কারখানায় হঠাৎ অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ, ছুটি ঘোষণা

শ্রীপুরে পোশাক কারখানায় হঠাৎ অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ, ছুটি ঘোষণা
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি এলাকায় অবস্থিত ‘কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড কারখানায় প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় কর্তৃপক্ষ আজ কারখানার…
 ৭ জুলাই ২০২৬    ঢাকা

টাঙ্গাইলে পরিত্যক্ত কূপে ছাগলছানা বাঁচাতে গিয়ে বাবা-ছেলেসহ চারজনের মৃত্যু

টাঙ্গাইলে পরিত্যক্ত কূপে ছাগলছানা বাঁচাতে গিয়ে বাবা-ছেলেসহ চারজনের মৃত্যু
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত কূপে পড়ে যাওয়া ছাগলছানা উদ্ধার করতে গিয়ে একই পরিবারের ও প্রতিবেশীদের চারজন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার (২০…
 ২০ জুন ২০২৬    ঢাকা

কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক জিতলেন পটুয়াখালীর নুর-ই-জান্নাত

কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক জিতলেন পটুয়াখালীর নুর-ই-জান্নাত
পটুয়াখালী প্রতিনিধি: ঢাকার শহীদ নূর হোসেন জাতীয় ভলিবল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘শিহান হুমায়ুন কবির জুয়েল মেমোরিয়াল ৫ম কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬’-এ স্বর্ণপদক জিতেছেন পটুয়াখালীর মেয়ে নুর-ই-জান্নাত। শুক্রবার (১৯…
 ২০ জুন ২০২৬    বরিশাল

বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থার ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থার ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন
বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত এই কমিটিতে শওকত সরদারকে সভাপতি, সোলায়মান পলাশকে সাধারণ সম্পাদক…
 ১৯ জুন ২০২৬    জাতীয়

মহাখালীতে সাবেক ছাত্রনেতাদের আলোচনা ও দোয়া মাহফিল

মহাখালীতে সাবেক ছাত্রনেতাদের আলোচনা ও দোয়া মাহফিল
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের সাফল্য কামনা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য নাজিমুদ্দিন আলমের সুস্থতা কামনায় আলোচনা ও দোয়া…
 ১৯ জুন ২০২৬    ঢাকা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক: যা থাকছে ১৪ দফার চুক্তিতে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক: যা থাকছে ১৪ দফার চুক্তিতে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত এবং কার্যকর হয়েছে। ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ এলাকায় অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট…
 ১৮ জুন ২০২৬    আন্তর্জাতিক

কুমিল্লায় কোদালের কোপে বড় ভাইকে হত্যা, ছোট ভাই গ্রেফতার

কুমিল্লায় কোদালের কোপে বড় ভাইকে হত্যা, ছোট ভাই গ্রেফতার
কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে বড় ভাইকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার আপন ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে উপজেলার জগতপুর…
 ১৮ জুন ২০২৬    চট্টগ্রাম

বিশ্ববাজারে আবার ঊর্ধ্বমুখী স্বর্ণের দাম, নেপথ্যে যে কারণ

বিশ্ববাজারে আবার ঊর্ধ্বমুখী স্বর্ণের দাম, নেপথ্যে যে কারণ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ কমার ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্বর্ণের বাজার। আজ…
 ১৮ জুন ২০২৬    অর্থনীতি

নারীদের বৃহত্তর অংশগ্রহণে জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নারীদের বৃহত্তর অংশগ্রহণে জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক সংকট ও মানবিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে মানবিক সহায়তা জোরদার করা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় নারীদের আরও বেশি অংশগ্রহণ নিশ্চিত…
 ১৮ জুন ২০২৬    আন্তর্জাতিক

নোয়াখালীতে বীর বিক্রম আবদুল মালেকের পরিবারের জমি দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

নোয়াখালীতে বীর বিক্রম আবদুল মালেকের পরিবারের জমি দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ
নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালী সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক বীর বিক্রমের পরিবারের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। এই…
 ১৭ জুন ২০২৬    চট্টগ্রাম

এআইয়ের প্রভাব: চাকরির বাজারে মূল্যহীন ১২ হাজার ডিগ্রি বাতিল করল চীন

এআইয়ের প্রভাব: চাকরির বাজারে মূল্যহীন ১২ হাজার ডিগ্রি বাতিল করল চীন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের কারণে চীন তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রায় ১২ হাজার কলা, মানবিক ও ভাষাবিষয়ক ডিগ্রি বাতিল করেছে। দেশটি এখন প্রযুক্তি ও এআইভিত্তিক…
 ১৭ জুন ২০২৬    আন্তর্জাতিক

প্রথমবার ইউএনএইচসিআর নির্বাহী কমিটির ব্যুরোর সভাপতির দায়িত্বে বাংলাদেশ

প্রথমবার ইউএনএইচসিআর নির্বাহী কমিটির ব্যুরোর সভাপতির দায়িত্বে বাংলাদেশ
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) নির্বাহী কমিটির (এক্সকম) ব্যুরোর সভাপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো দায়িত্ব গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। জেনেভায় জাতিসংঘ কার্যালয়ে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত নাহিদা…
 ১৭ জুন ২০২৬    জাতীয়

আদিতমারীতে নিখোঁজ শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, সন্দেহভাজনের বাড়িতে আগুন

আদিতমারীতে নিখোঁজ শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, সন্দেহভাজনের বাড়িতে আগুন
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর নন্দিনী (৭) নামের এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী…
 ১৬ জুন ২০২৬    রংপুর